mutasimbillahnasir's blog

mutasimbillahnasir's picture

ছাত্রলীগের তান্ডবলীলা! ছাত্র রাজনীতিকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ???

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তিটি দিয়েই শুরু করতে চাই। তিনি ছাত্রলীগ সম্পর্কে বলেছিলেন ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙ্গালীর ইতিহাস, ছাত্রলীগের ইতিহাস স্বাধীনতার ইতিহাস’ সেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের ইতিহাস বর্তমানে এক লজ্জাজনক ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। যে ছাত্রলীগ নিয়ে জাতির হৃদয়ে আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও গৌরবের প্রকাশ ঘটত সেই ছাত্রলীগ জাতির জন্য আতঙ্ক, ভয়, রাহাজানীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে। ২০০৯ সালে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ কিংবা অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে নিজেদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, মারামারি, চাদাঁবাজি, টেন্দারবাজি, তদবির-বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, কমিটি-বাণিজ্যের মতো নানা বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি।
আমাদের প্রত্যাশা ছিল ছাত্রলীগ তাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, দিয়ে সকলের হৃদয়ে স্থান করে নেবে। কিন্তু না! সকলের ধারণাকে পাল্টে দিয়ে, তাদের কতিপয় বিতর্কিত কর্মকান্ড ছাত্ররাজনীতিতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে । বিতর্কিত কর্মকান্ডে বর্তমান মেধাবী শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতিতে যেমন নিরুৎসাহিত হচ্ছে তেমনিভাবে তারা ছাত্ররাজনীতির যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা নিয়েও হতাশায় ভূখছে। সর্বশেষে বলতে পারি ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন হিসেবে তাদের প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকান্ড, প্রচলিত ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজনীয়তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে।

mutasimbillahnasir's picture

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবীদের বৃদ্ধাশ্রম

øাতক পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার সুবিধার জন্যই গেল শতকের নব্বইয়ের দশকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হয়। এটি ইংল্যান্ডের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে গঠিত হলেও বর্তমানে তার সাথে কাজের কোন অংশেরই মিল নেই। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তি হওয়ার পর থেকে সেশনজট আতঙ্ক কাজ করে। দেশের কল্যানে বেশী সংখ্যক শিক্ষার্থীর গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে এটি মেধাবীদের জন্য বৃদ্ধাশ্রমের ন্যয়। যেখান থেকে কেউ আর মুক্তির পথ দেখতে পায়না। তার স্বপ্ন ভঙ্গের প্রবেশ পথ যেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এটাকে মেধাবীদের জন্য জেলখানা বললেও খুব বেশি বাড়িয়ে বলা হবেনা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। ফলে বাবা-মায়ের ইচ্ছা থাকে তার সন্তান যেন দ্রুত শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সেশন জটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। কেউ অনৈতিক, অসামাজিক, অবৈধ পথে পা বাড়ায়, কেউ চাদাবাজিঁ কেউবা ছিনতাই আবার কেউ হয় সন্ত্রীসীদের গডফাদার। এ পথে যারা না যায় তারা আবার পরিবারের কাছে বোঝা না হওয়ার জন্য ডেসটিনি, ব্রাভো, মিথস, ডলেনসারের মতো কোম্পানির দারস্থ হয়। এক সময় তার জীবন এ সকল ফাকিবাজ কোম্পানির জালে বন্দি হয়ে পড়ে। তার শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য তার কাছ থেকে বিদায় নেয়, তাদের এই দীর্ঘসময়ের অসহায়ত্বর জীবনকে নিয়ে বিভিন্ন চক্র তাদের বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখিয়ে তার গন্তব্যর যাত্রা পাল্টে দেয়।

Syndicate content