Muntasir.Mamun's blog

Muntasir.Mamun's picture

পাকিস্তানী হওয়ার সংগ্রাম

বীর প্রতীক লে. কর্নেল সাজ্জাদ মুক্তিযুদ্ধের একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এক বালুচী সৈন্য পাকিস্তানী সেনা ও তাদের বাঙালী সহযোগীদের [পড়তে হবে গোলাম আযম, নিজামী গং] হত্যাকা-, ধর্ষণ, লুট দেখে দেখে বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠলেন। তিনি ঠিক করলেন, পাকিস্তানী বাহিনী ত্যাগ করবেন। একদিন চুপিসারে তিনি নিজের রেজিমেন্ট থেকে সরে পড়লেন। ধরা পড়লে তার শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। পালিয়ে কুমিল্লার বড়ুরা গ্রামে এসে উপস্থিত হলেন। পথঘাট তো তিনি তখন চেনেন না। এক বাঙালী কৃষক প্রথম তাকে দেখে আঁতকে ওঠেন ভয়ে। বালুচী সৈন্য জানায়, তার ইতিবৃত্ত। আশ্রয় চায়। কৃষক যে বালুচীর সব কথা বুঝেছিলেন তা নয়। তিনি গ্রামের মাতব্বরদের ডাকলেন। সবাই মিলে তাকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। মৃক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ হয়। তিনি তাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ করেন কিন্তু আর যুদ্ধ করতে রাজি হননি। সেই গ্রামেই চালুচী থেকে যান। লাঙ্গল চষা শুরু করেন, সেই কৃষকের মেয়েকে বিয়ে করে খাঁটি বাঙালী হয়ে যান। পাকিরা হেরে যাওয়ার পর রেডক্রসের মাধ্যমে তিনি বেলুচিস্তানে মাকে সব খবর জানান। মা দোয়া করে বলেন, ছেলে যদি বাংলাদেশে থেকে সুখী হয় তা’হলে যেন সেখানেই থাকে। মা তাতেই খুশি।

Muntasir.Mamun's picture

ঘরে ঘরে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা

মার্চের স্মৃতি লেখার জন্য প্রতিবছর এ সময় জোর অনুরোধ আসে মিডিয়ার বন্ধু-বান্ধব, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে। বোঝা যাচ্ছে, বলার লোক কমে আসছে। আজ যারা মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত বা বয়স ৪০-এর নিচে, তাদের কাছে ১৯৭১ সালের মার্চ ধূসর অতীত। আমাদের মনে হয়, ওই দিন না সব ঘটল। কিন্তু, পেরিয়ে গেছে ৪০ বছর। মাঝে মাঝে মনে হয়, চার দশক পরও কেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই মাতামাতি বা কেন এত আবেগ। অনেক ভেবে দেখার পর মনে হলো, এর প্রধান কারণ ১৯৭৫। জেনারেল জিয়াউর রহমান ঐক্যবদ্ধ জাতিকে দ্বিখণ্ডিত করলেন, সৃষ্টি হলো স্বাধীনতার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির। ফলে, তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের জেনারেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এবং সে দর্শনে বিশ্বাসী তরুণ প্রজন্মের একাংশ।

প্রতিরোধের কথা যখন এল তখন তাই দিয়েই শুরু করি। ১৯৭১ সালের মার্চ ছিল প্রতিরোধের এবং একই সঙ্গে স্বপ্ন দেখার মাস। ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হলো আর মানুষ নেমে এল রাজপথে। সেই সময় আমাদের যাদের বয়স ১৮ থেকে ২০-এর মধ্যে তারা প্রায় পুরোটা সময়ই কাটায় রাজপথে। যারা অ্যাক্টিভিস্ট তারা তো ১৯৬৮ সাল থেকেই রাস্তায়।

Muntasir.Mamun's picture

বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার মওদুদের অভিযোগ

সক্রিয় রাজনীতিবিদ মানেই ফন্দিবাজ, ধুরন্ধর, দ্বৈত চরিত্রের এ ধরনের একটা ইমেজ পাবলিকের মধ্যে গড়ে উঠেছে বিশেষ করে ১৯৭৫ সালের পর। ১৯৭৫ সালের পর যাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন এবং এখনও সক্রিয় তাঁদের দেখুন। বিএনপি-আওয়ামী লীগে এ ক্ষেত্রে সামান্য তারতম্য থাকতে পারে কিন্তু ইমেজটা ঐ রকমই। তবে হ্যাঁ, বিএনপিতে এর সংখ্যা বেশি, জাতীয় পার্টিতেও। জামায়াতের কথা আর বললাম না। তারা কি সে সম্পর্কেও মোটামুটি সবার একটা ধারণা আছে। ১৯৭৫ সালের পর রাজনীতিবিদদের দেখুন জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, কাজী জাফর, মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার একেকটা নাম। এসব নাম শুনলে মনে কি ধারণাটা জন্মে। খুনী, চোর, চিনিঅলা, প্রতারক, ভ-। তাদের সৌভাগ্য আর আমাদের দুর্ভাগ্য যে, এদেরও অনুসারী আছে এবং উল্লিখিতরা এখনও রাজনীতিতে সক্রিয়। বাঙালীর খাছলত খারাপ এ কথাটা অনেকবার শুনেছি, কিন্তু এখন কেউ বুক ফুলিয়ে বলে, আমি মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযোদ্ধার ছেলে, তারপর সেøাগান দেয় খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ। এখন বুঝি এসব প্রচলন একেবারে মিথ্যা নয়।

যে ক’জন বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতি করেছেন তার মধ্যে মওদুদ একজন। রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি তাঁকে বর্জ্য মনে করি। অবশ্য তাতে তার কিছু আসে যায় না। কিন্তু তিনি যখন লেখেন তখন বাংলাদেশের যে কোন ভাল একামেডিশিয়ানের চেয়ে থেকে খারাপ লেখেন না, সঙ্গে সঙ্গে ভাবি, তাঁর যদি উচ্চাশা কম থাকত তাহলে তিনি আজ সামাজিক স্বীকৃতি পেতেন উঁচুমানের গবেষক হিসেবে। কারণ, আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যা লিখেছেন তার অনেক কিছু মওদুদের ধারেকাছেও আসে না। ডা. জেকিল এ্যান্ড মিস্টার হাইড বলতে যা বোঝায় মওদুদ আহমেদ ঠিক তাই।

Muntasir.Mamun's picture

জবানে লেবাসে বাঙালী, দিল হ্যায় পাকিস্তানী

বেগম খালেদা জিয়া পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাঁচ কোটি রুপী নিয়েছেন, মানে নিয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। তিনি আইএসআইয়ের এজেন্ট। এ ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশ্ন করা যেতে পারে, তাতে কি হয়েছে? খালেদা জিয়া টাকা খেয়েছেন, প্রয়োজনে আরও খাবেন তাতে প্রধানমন্ত্রীর খারাপ লাগছে কেন? রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার একটি মুখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে টাকা খাওয়া। সোর্স যাই হোক না কেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের সময় কোন কোন দূতাবাস টাকা বিতরণ করে বলেও শোনা যায়। মানুষজন এতে খুব একটা গা করে না। এটি স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছে। আমরা তা মানতে পারিনি, আমাদের লেখালেখি বক্তব্যের মাঝেও তা প্রকাশ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর খারাপ লাগছে কিনা বা খারাপ লাগলেও কেন লাগছে তা জানি না। জানার দরকারও বোধ করি না। কিন্তু, একটি স্বাধীন দেশে, বিরোধী দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি অভিযোগ গুরুতর অভিযোগ।
বিএনপি-জামায়াতের ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচীর ঠিক আগে এই অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার অবাক লেগেছে যে, দৈনিক জনকণ্ঠ ছাড়া অন্য কাগজগুলো এই অভিযোগে তেমন গুরুত্ব দেয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে। তারা কি মনে করে অভিযোগটি গুরুতর নয়? এটির সঙ্গে কি বাংলাদেশের নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত নয়? পৃথিবীর একমাত্র আইনী সন্ত্রাসী সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট যদি হন একজন রাজনীতিবিদ তাহলে দেশের নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকে না। তবে, প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগ তুলেছেন তার পেছনে অবশ্যই রাজনীতি আছে। প্রশ্ন সেটি গ্রহণযোগ্য কিনা?

Muntasir.Mamun's picture

কেন মনে থাকে ৭ মার্চ

মার্চ এলেই স্বপ্নেরা হানা দেয়। আমি, আমার বন্ধুরা প্রতিবছর এ মাসে ১৯৭১-এর মার্চে ফিরে যাই। তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, আমাদের যৌবনের শুরু। চারদিকে শুধু স্বপ্ন। আর মনোভাব, অজেয় কিছু নেই। ১৯৭১ সালের পর আমাদের বয়সের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও চল্লিশ বছর। তখনকার তরুণ এখন বৃদ্ধ। কিন্তু মার্চ এলেই ফিরে যাই ১৯৭১-এ, মার্চ এলেই মনে হয় সবকিছু জয় করা সম্ভব। মার্চ এলেই আমি স্মৃতি জাগরুক করতে চাই। এই স্মৃতিগুচ্ছ ১৯৭৫-১৯৯০, ১৯৯১-৬, ২০০১-৮ পর্যন্ত শাসকরা বিভিন্নভাবে মুছে দিতে চেয়েছে। দুঃশাসনের মূল স্ট্র্যাটেজিই হলো স্মৃতি মুছে দেয়া। মার্চের স্মৃতিগুচ্ছের অন্যতম ৭ মার্চ। বাকিগুলো হলো ১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শাসকরা স্থগিত করার পর ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’ সেøাগান নিয়ে মানুষের রাজপথ ভরিয়ে তোলা, কারফিউতে গুলি খেয়ে ‘জয়বাংলা’ বলা, অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, গণহত্যা শুরু আর স্বাধীনতার ঘোষণা। এক জীবনে স্বচক্ষে এত ঘটনা দেখা ও অংশগ্রহণ বিরল ব্যাপার। আমরা ভাগ্যবান কারণ আমরা এসব ঘটনার সঙ্গে কোন না-কোনভাবে জড়িত। মার্চ আমার যৌবন।

মার্চ আমাদের জন্য স্বপ্ন দেখারও মাস। এ মাসেই আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম ভবিষ্যতের, ভবিষ্যত জয়ের। আর এই মার্চের অনেক ঘটনাবলী থেকেই শক্তি আহরণের চেষ্টা করি বর্তমানকে বুঝবার জন্য। স্মৃতি জাগরুক রাখি আর দেখি, বর্তমানের প্রতিবন্ধকতা কিছুই নয়, আমরা এগোচ্ছি জয়ের দিকে।

Muntasir.Mamun's picture

ভণ্ডদের রাজনীতি আর কতদিন সহ্য করতে হবে

ভণ্ডদের রাজনীতি যে আর কতদিন সহ্য করতে হবে কে জানে? এইসব রাজনীতিবিদ মুখে যা বলে, তা বিশ্বাস করে না। যা বিশ্বাস করে তা বলে না। বিশেষভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে নিজ স্বার্থে। ধর্ম ব্যবসায়ীও বলা যায় তাদের। ধর্মীয় ভাষায় এদের বলা হয় মোনাফেক। আমি ধর্ম সম্পর্কে তেমন জ্ঞানী নই দেখে ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করব না। কিন্তু বাংলাভাষায় এদের ভ- বলতে আমার দ্বিধা নেই। এদের অন্যতম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জেনারেল জিয়ার পর যিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন।

লে. জে. জিয়ার সঙ্গে লে. জে, এরশাদের খুব একটা তফাৎ নেই। জিয়া উর্দু এ্যাকসেন্টে বাংলা বলতেন। এরশাদ কিন্তু পরিষ্কার বাংলা বলেন, এটা স্বীকার করতেই হবে। জিয়ার নারী প্রীতি তেমন ছিল না। এরশাদের আছে। যে কারণে কবিতা লেখার মকশো করেন। কবিদের নাকি নারী প্রীতি থাকতে হয়। এ ছাড়া দু’জনের প্রকৃতি একই রকম। দু’জনই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছেন, সেনাবাহিনীর যাবতীয় ইমেজ নষ্ট করেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন এবং সে দূরত্ব ঘোচার সম্ভাবনা কম। দু’জনই দেশ লুণ্ঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে, জিয়া পারিবারিকভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এরশাদ পরিবার পরিজন, স্থায়ী-অস্থায়ী বান্ধবী নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে পত্রপত্রিকার মারফত জানা যায়।

» Topics:
Muntasir.Mamun's picture

বেগম জিয়ার বচন আর কাজ

বাংলাদেশের এক সময়ের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম সামরিক স্বৈরশাসক লে.জে.জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বর্তমানে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে সাধুবাদ জানাই। সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে যেখানে আওয়ামীবিরোধী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের সমাবেশ ছিল সেখানে বক্তৃতা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে, এই জনকণ্ঠেই, সাংবাদিক সাহিত্যিক স্বদেশ রায় তাঁর বক্তব্যের প্রবল সমালোচনা করেছেন। তিনি সেই বক্তৃতায় ইতিবাচক কিছুই খুঁজে পাননি, আমি পেয়েছি।
তিনি এই প্রথম রাজনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলেছেন। প্রতিবেদন পড়ে মনে হলো গলার স্বরও তীব্র ছিল না। হয়ত তার একটা পরিবর্তন হচ্ছে। অবশ্য, যদি পরিবর্তন হয়ে থাকে তাহলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ হবেন। কারণ, ভারতে খালেদা জিয়া দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন তিনি। কোন আলোচনার আগেই বলে দেন না। গত চার বছর বেগম জিয়াও সবকিছুতে বলেছেন না।

পত্রিকাগুলোর শিরোনাম ‘রাজনীতিতে মেধাবীদের আমন্ত্রণ খালেদা জিয়ার।’ [যায়যায়দিন. ২১.২.১২]। ডেইলি স্টারেরও তাই। কিন্তু প্রতিবেদনের কোনো অংশে সরাসরি এই শব্দগুলো উদ্ধৃৃত হয়নি। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হয়েছে ‘আপনারা রাজনীতি বিমুখ না হয়ে রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নিন। তাহলে রাজনীতিকে আরও দ্রুত শুদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন,‘নিরাপদ দূরত্বে থেকে রাজনীতির সমালোচনা করা বা বিরোধিতা করা খুবই সহজ।

Muntasir.Mamun's picture

ধর্মবিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের শেষ কোথায়?

বাংলাদেশ হওয়ার পর আমাদের অনেকের ধারণা হয়েছিল, এ ‘গল্পের’ বোধ হয় সমাপ্তি হলো। এক শ’ বছর ধরে এ ‘গল্প’ চালু ছিল। মসজিদের সামনে দিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে যাচ্ছে হিন্দুরা, মুসলমানরা বাধা দিচ্ছে। লেগে গেল কাজিয়া। ‘গল্প’ বলছি বটে কিন্তু ঘটনা সত্য। তবে এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেন না, সংখ্যাগুরুরাও সংখ্যালঘুদের ধর্মাচরণে কেন সহিষ্ণু হবেন না সে প্রশ্নও তোলা হয় না। কারণ এ ধরনের প্রশ্ন যিনি করবেন তিনিই ধর্মদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হবেন।

সমস্যাটা বোধ হয় ধর্মের নয়, মানসিকতা ও জীবন চর্চার। উনিশ শতকে যখন বাজনা ও গরু জবাই নিয়ে দাঙ্গার শুরু তাতে ব্রিটিশ প্রশাসনের প্রশ্রয় ছিল, হিন্দু-মুসলমান রাজনীতিবিদদের উস্কানি ছিল। এসব দাঙ্গায় নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কম হয়নি। হতো না, যদি রাজনীতিবিদরা মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতেন। ভোটের সময় ছাড়া রাজনীতিবিদদের কাছে মানুষের মূল্য খুবই কম। মানসিকতা ও জীবনচর্চার কথা বলছিলাম এ কারণে যে, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের আগে এসব বিষয় নিয়ে ঘন ঘন দাঙ্গা হয়েছে তার কোন বিবরণ পাওয়া যায়নি। সেই সময় থেকে বলা যেতে পারে এটি চলছেই, বলা যেতে পারে, যে গল্পের শেষ নেই।

Muntasir.Mamun's picture

তেজগাঁও যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা এখন আর নেই

সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরেই এই চেষ্টা। সুতরাং, দুয়ে দুয়ে যোগ করলেই বোঝা যায় কেন এত জোরের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী একথা বলেছিলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য না হয় নাই মানলাম। বলতে পারি বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য ও বর্তমান ঘটনা কাকতালীয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলা জরুরী যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনার অবকাশ কম। তবুও না হয়, খালেদা জিয়াকে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া গেল।

চট্টগ্রামে খালেদা জিয়া কী বলেছিলেন? যদ্দুর মনে পড়ে হঠাৎ তিনি সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ এনেছিলেন বক্তৃতায়। বলেছিলেন, সেনা সদস্যদের গুম করা হচ্ছে। এ ধরনের চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য এর আগে কোন দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা করেননি। তিনি কেন এ উক্তি করেছিলেন? এর কারণ একটিই, তিনি এক ধরনের উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি একথাও বলেছিলেন, যারা চাকরিচ্যুত হবে, তাদের বিএনপি চাকরিতে পুনর্বহাল করবে। এর উদ্দেশ্যও একটি। যদি সেনাবাহিনীর কোন সদস্য কোন ঝুঁকি নেয় এবং চাকরিচ্যুত হয় তা হলে বিএনপি তার দায়িত্ব নেবে।

Muntasir.Mamun's picture

আন্দোলন যখন প্রতিষ্ঠান

গত শতকে, আশির দশকের মাঝামাঝি এক অপরাহ্ন। সিদ্ধেশ্বরীতে আমিনাবাদ কলোনির একটি ফ্ল্যাটে একটি সভা আহ্বান করা হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি কি কর্নেল নূরুজ্জামান বীরোত্তমের ছিল এখন তা মনে করতে পারছি না। আমি আর শাহরিয়ার কবির একত্রে গেলাম সে সভায়। আলোচনার বিষয়বস্তু একাত্তরের ঘাতক দালাল ও কর্মকাণ্ড। এদের নিয়ে আলোচনা আগেই শুরু হয়েছিল এর ওর বাসায়। উলেস্নখ্য, তাঁদের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্ত ছিলেন মেজর জিয়া ও মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে। তাঁদের দু'জনের প্রতি তাঁদের আলাদা একটা আবেগও ছিল। অন্য যাঁরা ছিলেন তাঁরা কেউ বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগার ছিলেন না। ইতোমধ্যে জিয়া ও মোশাররফ নিহত হয়েছেন। সেই আবেগও সত্মিমিত। এরশাদ নিজে একটি উপাধি নিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এরশাদের হয়ে কাজ করছে। গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঘাতকরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা ৰোভ সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের মনে। সে কারণেই ঐ সভা।

বিস্তারিত আমার মনে নেই। তবে, খেয়াল আছে গঠিত হয়েছিল, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ কেন্দ্র।' কর্নেল নূরুজ্জামান বোধহয় ছিলেন সভাপতি, শাহরিয়ার সম্পাদক। আমরা অনেকেই জড়িত ছিলাম। তবে, সাংগঠনিক কাজকর্ম করতেন মূলত শাহরিয়ার। কেন্দ্রের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় সভা করতে গিয়েছি বলেও মনে পড়ে। একবার কর্নেল জামানের সঙ্গে গিয়েছিলাম কুমিলস্না, ফঙ্ওয়াগনটা উনিই চালিয়ে নিয়েছিলেন। অধ্যাপক আহমদ শরীফও সক্রিয় ছিলেন মনে পড়ে।

» Topics: