Muhammad.yahya.Akhtar's blog

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে সংলাপ জরুরি

বাং লাদেশ এখন জাতীয় সঙ্কটকাল অতিক্রম করছে। এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে দেশের বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার অভাব থেকে। দশম সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ততই দূরত্ব বাড়ছে। এ কারণে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি। রাজনীতির এ উত্তাপে মাত্রা যুক্ত হয়েছে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়ার পর। কারণ নতুন সংবিধান দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করায় বিরোধী দল তা মানতে রাজি নয়। নতুন সংবিধানে আরও অনেক অসঙ্গতি আছে। তবে সে সব অসঙ্গতির কথা বাদ দিয়ে যদি নির্বাচনের কথা ধরি তাহলে বলা যায়, উচ্চ আদালতের যে অপ্রকাশিত ও বিভক্ত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের একাংশের ওপর ভিত্তি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয় বলে সরকার দাবি করে, সে রায়ের আলোকেই আরও দু’টি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে এ ব্যাপারে বিরোধী দল, অ্যামিকাস কিউরি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, মহাজোটের অংশীদার অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং নাগরিক সমাজের মতামত উপেক্ষা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বিপন্ন হতে পারে। সেজন্য গণতন্ত্রের কার্যকারিতার স্বার্থে, শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে এখন এ সংঘাতের পথ থেকে পরিত্রাণের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সংলাপ আয়োজন করা।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

মূল সমস্যা অন্তরালে গণতন্ত্র হাসপাতালে

অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও এ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন সম্ভব হয়নি। এজন্য সাধারণ মানুষকে দোষ না দিয়ে দোষারোপ করা উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। কারণ, রাজনৈতিক দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের কারণেই এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের দেশে গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের অগ্রযাত্রা যুগপত্ সামরিক ও বেসামরিক শাসনামলে বারবার হোঁচট খেয়েছে। গণতান্ত্রিক আদর্শের জন্য যুদ্ধ করার চল্লিশ বছর পর গণতন্ত্রের অবস্থা আজও অত্যন্ত নাজুক। গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। গণতন্ত্রের প্রাণ ভোমরা আইনের শাসন আজ অকার্যকর। সামরিক শাসনোত্তর বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আমলেও গণতান্ত্রিক চর্চা গতি পায়নি। তবুও গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ বারবার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

সরকারি অবস্থানের যৌক্তিকতা কোথায়?

এ নিবন্ধে দলীয় সরকারাধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মহাজোট সরকার গৃহীত অবস্থানের যৌক্তিকতা পরীক্ষা করা হবে। প্রসঙ্গত, গত বছর জাতীয় সংসদে উচ্চ আদালতের একটি অলিখিত, অপ্রকাশিত ও বিভক্ত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের একাংশের ওপর ভিত্তি করে অ্যামিকাস কিউরি, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি ভঙ্গিমায় পাসকৃত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হলে সরকার এ অবস্থান গ্রহণ করে। তখন থেকে সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে ওই সরকারের বিপক্ষে যুক্তি দিতে থাকে যা এখনও অব্যাহত আছে। এখানে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে উত্থাপিত ওইসব সরকারি যুক্তিগুলোর গ্রহণযোগ্যতা পরীক্ষা করবো।

১. সরকারের পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে একটি অনির্বাচিত সরকার আখ্যা দিয়ে এ সরকারের অধীনে দেশ পরিচালনাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ব্যাখ্যা করা হয়। তথ্যগতভাবে এ যুক্তিটি শুনতে ভাল লাগলেও প্রশ্ন ওঠে, যে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালনকারী অর্ধ ডজনাধিক সম্মানিত উপদেষ্টারাই অনির্বাচিত, মন্ত্রিসভার আইনমন্ত্রীসহ একাধিক সম্মানিত মন্ত্রী অনির্বাচিত, ডিসিসিকে দু’ভাগ করে গণ-নির্বাচিত মেয়র হটিয়ে নিয়োগকৃত দু’জন প্রশাসক অনির্বাচিত, সব জেলা পরিষদে নিযুক্ত প্রশাসক অনির্বাচিত,এমনকি নির্বাচন কমিশনের মত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সিইসি এবং ইসি কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাছাই কমিটি গঠনেও নির্বাচিত ব্যক্তিত্বদেরকে প্রাধান্য না দিয়ে যে সরকার নিয়োগ করে কতিপয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অনির্বাচিত প্রধানকে, সে সরকারের সম্মানিত মন্ত্রী-নেতাদের কণ্ঠে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনির্বাচিত সরকার বলে সমালোচনা করা শোভনীয় বিবেচনা করা যায় না।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

নিয়োগ দুর্নীতির স্বরূপ ও রেলের কালো বিড়াল

একটি দেশ কত ভালভাবে চলবে তা ওই দেশের প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের ওপর নির্ভর করে। প্রশাসনের যেহেতু হাত-পা নেই, সে কারণে প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নির্ভর করে এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেধা, সততা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ওপর। এ কারণে দেশে দেশে গণসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের মেধা ও যোগ্যতা যাচাই করে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ক্যাডারভুক্ত সরকারি পদে চাকরি দেওয়ার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) রয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সিলেকশন বোর্ড তৈরি করে বিভিন্ন রকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই করে যোগ্য ও দক্ষদেরকে সরকারি চাকরি দেওয়ার বিধান প্রচলিত আছে। লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার সঙ্গে আপোষ করে দলীয় বিবেচনা বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগের কোন সুযোগ না থাকলেও বাস্তবে এ ক্ষেত্রে দেখা যায় চরম অনিয়ম। এ নিবন্ধে আমরা মহাজোট সরকারা আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে লোক নিয়োগের বাস্তব অবস্থা ও অন্যায়-অনিয়মের কিছু নমুনা তুলে ধরতে চেষ্টা করব। বলে রাখা ভাল, এ আলোচনা মহাজেটামালে সীমাবদ্ধ রাখার অর্থ এ নয় যে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় নিয়োগ পরিস্থিতি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ছিল।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

ডিসিসি নির্বাচন এবং সিইসির বক্তব্য

নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ বছর পর ৯ এপ্রিল দ্বিখণ্ডিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করে।

সিডিউল ঘোষণার অনেক আগেই এ নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী সরকারি দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়। তবে বিভক্ত ডিসিসির মেয়র পদের গুরুত্ব কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় উভয় বড় দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের এ পদে দাঁড়াবার আগ্রহে ঘাটতি লক্ষিত হয়। প্রথমদিকে এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নিষ্ক্রিয় থাকায় অনেকে ভাবেন, যদি এ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে আওয়ামী লীগ ও সরকারে শরিক দলগুলোর সমর্থিত প্রার্থীদের ফাঁকা মাঠে গোল দিতে সুবিধা হবে। কিন্তু বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীরা সে সুযোগ পাচ্ছেন না। নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার মাসাধিককাল আগে থেকে আওয়ামী লীগ ও সরকারে শরিক অন্য দলগুলোর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা নিজেদের প্রার্থিতা জাহির করে পোস্টার এবং বিলবোর্ড টানিয়ে নির্বাচনী এলাকা রঙিন করে তোলেন।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

প্রশাসনের অসুখে ইসি নির্বিকার কেন

গণতান্ত্রিক বিশ্বে নির্বাচনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ, নির্বাচনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক দল বা জোট জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এসব দেশে সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। আর যে নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হয়, সে নির্বাচন পরিচালিত হয় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কাজ করতে পারে সেজন্য কমিশনকে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বাধীনতা দেওয়া হলেও এ দেশে কমিশন এ স্বাধীনতা সমুন্নত করতে পারছে বলে মনে হয় না। নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কমিশন যেভাবে সরকারি সমর্থন চাইবে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো কমিশনকে সেভাবে সহায়তা প্রদান করা। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তেমনটি হতে দেখা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়, অতি সমপ্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিরাজিত পরিস্থিতি বিবেচনা করার পর কমিশন সরকারকে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিলেও সরকার কমিশনের সে অনুরোধ না শুনে সংবিধান লঙ্ঘন করে এবং কমিশনের চিঠির জবাব না দিয়ে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে। এভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন নামে স্বাধীন হলেও এর কাজে তার প্রতিফলন দৃষ্ট হয় না।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

ঢাকা চলো কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব

মহাজোট সরকারের তিন বছরের দেশ পরিচালনা সাধারণ মানুষকে প্রত্যাশিত মাত্রায় সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ সরকারকে দোষ না দিয়ে বলা যায়, ১৬ কোটি মানুষের দেশে যে সরকারই ক্ষমতাসীন হোক না কেন সরকারে থেকে নাগরিক সমাজের সকল চাহিদা পূরণ করার মধ্য দিয়ে গণমানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করা বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে সরকারের সমালোচনা করার ব্যাপারে এ দেশের নাগরিক সমাজও কিন্তু যথেষ্ট ধৈর্যশীল। এরা কিন্তু সহজেই ক্ষমতাসীন সরকারকে সমালোচনা করতে চান না। অল্পতেই সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করতে চান না। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে নাগরিকরা সরকারকে সময় দেন। আরও সময় দেন। তারপরও সরকার দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় কাজ করতে না চাইলে তখন তারা সরকারের বিরোধিতা করেন। তবে একবার বিরোধিতা শুরু করলে তাদেরকে নির্যাতন- পীড়ন করে দমন করা যায় না। আর এ দেশে সঙ্গত কারণে সরকারবিরোধিতা শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি মহাজোট সরকার গঠিত হওয়ার পর নাগরিক সমাজ এ সরকারের সমালোচনা বা বিরোধিতা করেনি। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক সুনামির পর দমন-পীড়ন আর জেল-জুলুমে পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় এসে চলমান রুগ্ন রাজনীতিতে পরিবর্তন আনবেন বলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সমঝোতার সুবাতাস প্রবাহিত হবে। জনগণ প্রথমে সেরকম লক্ষণও দেখেছিলেন।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে শয়নকক্ষে কেমনে এগুবে জাতি উন্নয়ন লক্ষ্যে!

বাংলাদেশের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত একজন রাজনৈতিক নেতা। বিরোধীদলীয় নেতা এবং সরকার প্রধান হিসাবে একাধিকবার দায়িত্ব পালনকারী নেতা হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও পরিপক্বতাও অনেকটা বেড়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা হওয়ায় তিনি সকল বাংলাদেশি নাগরিকের কাছে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে মর্মান্তিকভাবে নিহত হবার পর আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিনে দেশে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরে শেখ হাসিনা ঐতিহ্যবাহী এ দলটিকে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হন। তাঁর নেতৃত্বে ২১ বছরের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। পরে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেও উদ্যম না হারিয়ে আবারও নবম সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি মহাজোট সরকার গঠনে সক্ষম হন।

এহেন একজন সম্মানিত নেতার কথাবার্তা ও বক্তব্য-বিবৃতিতে যে পরিপক্বতা ও ওজন থাকা প্রয়োজন, সত্য স্বীকার করে বলতে হয়, সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলায় সে ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি মনে যা আসে অকপটে তা বলে ফেলেন। নিজ অবস্থানে থেকে এমন কথা বলার কী পরিণতি হতে পারে সেসব ভেবে দেখেন না।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

এ কেমন পরিহাস! ইতিহাসের ছাত্র বলেন ভুলে যেতে ইতিহাস!!

সাংঘর্ষিক রাজনীতির সূত্র ধরে কিছু পথভ্রষ্ট রাজনীতিবিদ, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনকারী কতিপয় বিদেশি কূটনীতিক এবং কয়েকজন উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তার ষড়যন্ত্রে সংঘটিত ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক ভূমিকম্পে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাসীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের লেবাসধারী সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার কর্তৃক মনোনীত সিইসি এবং ইসি কমিশনারদের পাঁচ বছরের মেয়াদকাল ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হল। ৪ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে সিইসি এবং ইসি কমিশনারদেরকে ফুল এবং ক্রেস্ট দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায় দেয়া হয়। ড. হুদা কমিশন জাতীয় সঙ্কটকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং অনেক গুরুত্বপর্ণ কাজ করায় এ কমিশনকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সে জন্য লেখক-বুদ্ধিজীবীরাও এদের কার্যক্রম নিয়ে উল্লেখযোগ্য আলোচনা-সমালোচনা ও মূল্যায়ন করেছেন এবং এখনও করছেন। সম্মানিত পাঠকদের হয়তো ‘গায়ে যে কালো দাগ সুবর্ণ পালক কই’ শীর্ষক আমার লেখা (ইত্তেফাক: ৫-২-১২) এ কমিশনের মূল্যায়নধর্মী একটি নিবন্ধ নজরে এসে থাকবে।

বাংলাদেশে কাজ করা ১০টি নির্বাচন কমিশনের প্রতিটিকে নিয়ে সমালোচনা-বিতর্ক হয়েছে এবং ড. হুদা কমিশনও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তবে অন্য কমিশনগুলো থেকে ড. হুদা কমিশনের কিছু বিশেষত্ব ছিল। কারণ, এ কমিশনটি জাতীয় সঙ্কটকালে একটি অনির্বাচিত সেনা সমর্থিত অসাংবিধানিক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হয় এবং এ কমিশনকে প্রথমবারের মত ছবিসংবলিত ভোটার তালিকা, নতুন আরপিও, নির্বাচনের জন্য অপ্রয়োজনীয় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রভৃতি নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়। কমিশন এর আয়ুষ্কালের শেষদিকে এসে প্রথমবারের মত ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদের অনীহা উপেক্ষা করে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে উদ্যোগী হয়। কর্মকাণ্ডকেন্দ্রিক বিষয় ছাড়া ব্যবহারিক দিক থেকেও এ কমিশন ছিল প্রচারপ্রিয় এবং গণমাধ্যমের ক্যামেরামুখী। অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের মধ্যে যে রকম প্রচারবিমুখতা লক্ষ্যণীয়, এ কমিশন ছিল তার বিপরীত ধরনের।

Muhammad.yahya.Akhtar's picture

গায়ে যে কালো দাগ সুবর্ণ পালক কই

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ড. এটিএম শামসুল হুদা নির্বাচন কমিশনের মেয়াদকাল শেষ হবে। নির্বাচন কমিশনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ২০০৭ সালে জাতীয় সংকটকালীন সময়ে ড. ফখরুদ্দীন সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার আমলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করায় এ কমিশনকে ধন্যবাদ দেয়া সঙ্গত। এ নিবন্ধে ড. হুদা কমিশনকে ধন্যবাদ দেয়ার আগে কমিশনের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করতে চাই। স্বল্প পরিসরে যেহেতু এ কমিশনের পাঁচ বছরের ঘটনাবহুল কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বয়ান সম্ভব নয়, সে কারণে সম্মানিত পাঠকদের জন্য কমিশনের ভালো-মন্দের একটি সংক্ষিপ্তসার এ প্রবন্ধে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করবো।

আলোচ্য মূল্যায়নের আগে বলে নেয়া ভালো, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে শুরু করে গত ৪০ বছরে যে দশটি নির্বাচন কমিশন এ দেশে কাজ করেছে তাদের প্রায় প্রতিটি কমিশনকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। যুগপত্ সামরিক ও বেসামরিক শাসনামলের এ কমিশনগুলো এদের কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।