Mostafa.Kamal's blog

Mostafa.Kamal's picture

মোদির প্রতিবেশী ভাবনা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দর কুমার গুজরালের মতবাদ সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই ধারণা আছে। তিনি যখন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নতুন একটি মতবাদ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে বড়ভাইসুলভ আচরণ করবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখবে না। ভারতের নীতি হওয়া উচিত, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নেবে না, দেবে। প্রতিবেশীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেশীরা ছোট রাষ্ট্র হলেও সমান দৃষ্টিতে দেখবে এবং কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করবে না।
mostofa kamal
পরে গুজরাল ভারতের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর মতবাদ নিয়ে বিস্তর কাজ করেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে একটি বইও লেখেন। তাতেও তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়ে ভারতীয় নীতি কী হওয়া উচিত, তা উল্লেখ করেন। সেই নীতিই গুজরাল ডকট্রিন বা মতবাদ হিসেবে গুরুত্ব পায়। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ ব্লক যাতে চানক্য কূটনীতির প্রভাব-বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে জন্যই গুজরাল তাঁর মতবাদ নিয়ে অগ্রসর হন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পরই তাঁর মতবাদটি একেবারে কার্পেটের নিচে চলে যায়।

Mostafa.Kamal's picture

বিএনপির গলার কাঁটা জামায়াত

বলতে দ্বিধা নেই, বিএনপির হাত ধরেই স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জামায়াতের উত্থান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। তারপর সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাঁধে ভর করে জামায়াতের রাজনীতি বিস্তার লাভ করে। তবে জামায়াত সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে বিএনপির কাছ থেকে।

Mostafa.Kamal's picture

মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ করুন

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্প্রতি দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। বহুল আলোচিত ওই জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি অনেক এগিয়ে আছে। এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভোট বেশি পাবে। এর ফলে সরকার ভীষণভাবে মানসিক চাপে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাও মাঠ ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা। আর বিরোধী দল বিএনপি স্বস্তির ঢেঁকুর তুলছে।

Mostafa.Kamal's picture

টানেলের ওপাশে আলো আছে আলো নেই

দেশে আদৌ নির্বাচন হবে কি না তা নিয়ে সংশয় ও হতাশার অন্ত নেই। দেশ নিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি হতাশ, তাঁরা বলছেন, দেশে কোনো নির্বাচনই হবে না। তাঁরা টানেলের ওপাশে কেবল অন্ধকারই দেখছেন। কোনো আলোর নিশানা নাকি নেই! আবার কেউ বলছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করার জন্য নানা ফন্দিফিকির করছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে ছাড়াই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে। আর সর্বোচ্চ আশাবাদীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে হলেও সব জটিলতার অবসান ঘটবে এবং সব দলের অংশগ্রহণে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

Mostafa.Kamal's picture

সবার দৃষ্টি নিউ ইয়র্কের দিকে

সবার দৃষ্টি এখন নিউ ইয়র্কের দিকে। কী ঘটবে নিউ ইয়র্কে? সেখান থেকে দেশের নীতিনির্ধারণী বিষয়, বিশেষ করে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে না হবে, সে সম্পর্কে কি কোনো সিদ্ধান্ত আসবে? দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি কি পাল্টে যাবে? এসব প্রশ্ন এখন সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এ বৈঠক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ তাকিয়ে আছেন বৈঠকের দিকে। নিশ্চয়ই জাতিসংঘ মহাসচিব কোনো দিকনির্দেশনা দেবেন।

Mostafa.Kamal's picture

দুই নেত্রীর সমঝোতা না হলে মহাবিপদ!

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য অবিলম্বে সংলাপে বসুন। আলোচনায় বসতে না চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করুন। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।

বিরোধীদলীয় নেতার এই আহ্বানে সরকারপক্ষ সাড়া দেবে কি না তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ সরকার এরই মধ্যেই টের পেয়ে গেছে যে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে; যদিও তারা যেকোনো মূল্যে আরেকবার ক্ষমতায় থাকতে চায়। সে জন্য এমন একটি নির্বাচন প্রয়োজন, যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে। এটা মাথায় রেখেই সরকারপক্ষ সংলাপ চায়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি এজেন্ডায় রাখতে চায় না।

Mostafa.Kamal's picture

বন্ধুহীন শেখ হাসিনা উভয় সংকটে

বিষয়টি পুরনো হয়ে গেছে। তার পরও প্রসঙ্গটি তুলতে চাই। ২৯ জুন। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগের কথা। অধিবেশন কক্ষে দুই নেত্রী বসে আছেন। সবার দৃষ্টি তাঁদের দিকে। দেশ ও জাতির জন্য তাঁরা কী দিকনির্দেশনা দেন তা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বক্তব্য দিয়েছেন। পরে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টিভি মিডিয়ার সুবাদে দুজনের বক্তব্যই সরাসরি উপভোগ করেছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছি।

Mostafa.Kamal's picture

সিটি নির্বাচন, আওয়ামী লীগের ভরাডুবি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইস্যু

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা। রাজশাহীতে সদ্যবিদায়ী মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। খুলনায় জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আবদুল খালেককে হারিয়ে বিজয়ী হন মনিরুজ্জামান মনি। বরিশালে জনপ্রিয় সদ্যবিদায়ী মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে হারিয়ে বিজয়ী হন আহসান হাবিব কামাল। সিলেটে বদরউদ্দিন আহমদ কামরান দীর্ঘ সময় ধরে নগরপিতার দায়িত্ব পালন করেও বিএনপির এক দুর্বল প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন।

Mostafa.Kamal's picture

পাকিস্তানও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ কি পেছাবে?

২০০৪ সালের কথা। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সম্মেলন কাভার করতে পাকিস্তানে গিয়েছিলাম। আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল, সম্মেলন শেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করব। সে অনুযায়ী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই দুই দেশের মানুষ, সমাজব্যবস্থা, সরকার, রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, অর্থনীতি প্রভৃতি বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেওয়া।

Mostafa.Kamal's picture

বিরোধীদের নিপীড়ন, হরতাল এবং সংলাপ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা

দেশের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের একটি মন্তব্য দিয়েই লেখাটি শুরু করছি। তিনি গত ২০ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে দুই নেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, 'তাঁরা সতীনের মতো আচরণ করেন। তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন না, দেখা হলেও মুখ ঘুরিয়ে নেন। এটা খুবই বেদনাদায়ক।'

আমরা জানি, ওয়ান-ইলেভেনপরবর্তী প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। আদালতে সেই মামলা মোকাবিলার জন্য দুই নেত্রীর পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। তাঁকে দেশের মানুষ বিশেষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন। দুই নেত্রীও তাঁকে নিশ্চয়ই সম্মান করেন।

Syndicate content