Mostafa.Hussain's blog

Mostafa.Hussain's picture

আর কত নূরজাহানের জন্ম দেবে এই সমাজ

জীবিত একজন মানুষকে গলা অবধি মাটিতে পুঁতে পাথর ছুড়ে মারা, জোর করে নারীর চুল কেটে তার গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে গ্রামে ঘোরানো, সন্তানের সামনে বাবার মাথায় চুনকালি মেখে মজলিসের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা তরুণীর আর্তনাদকে উপেক্ষা করে বেতের আঘাতে জর্জরিত করার মতো বর্বরোচিত দৃশ্যগুলো এখনো আমাদের সমাজে অতীত হয়ে যায়নি। আরো দুঃখজনক হচ্ছে, এগুলো প্রায় সবই হয় ফতোয়ার নামে। যার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় পবিত্র ধর্ম ইসলাম। ব্যবহার হয় দুর্বল শ্রেণী বিশেষ করে নারীর ওপর, ব্যবহার করে প্রভাবশালী আর নির্যাতকরা। কী দুর্বিষহ চিত্র একেকটি আমাদের দেখতে হয় আজও। আজও আমাদের আত্মজিজ্ঞাসিত হতে হয়- সর্বোচ্চ আদালতের রায়ও কি আমাদের নিবৃত্ত করতে পারে না? ২০০১ সালে আদালতের রায় ঘোষিত হয় ওই ধরনের ফতোয়ার বিরুদ্ধে। তারপর ফতোয়াবাজদের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে সেখানেও স্পষ্টত বলে দেওয়া হয়, ফতোয়ার নামে কোনো নাগরিককে এমন কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না, যা তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত হানে। কিংবা এমন কোনো ফতোয়া দেওয়া যাবে না, যা অভিযুক্ত ব্যক্তি মানতে বাধ্য হয়। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, তার পরও আমাদের দেখতে হয় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ দামগারা গ্রামের আবদুর রশিদ ও তাঁর পুত্রবধূ সালমা বেগমকে মাথা মুড়িয়ে মারধর করে গ্রামময় ঘোরানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বোঝা যায় স্পষ্টত। আবদুর রশিদের ছেলে জাকির মণ্ডল এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বলেছেন, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর বাবা সম্পর্কে অনৈতিক কাজের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জাকির মণ্ডলের এই বক্তব্যের পর প্রমাণিত হয় এ ঘটনাটি 'যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়া-পড়শির ঘুম নাই' প্রবাদের মতো। যে বা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা; তাদের কোনো অভিযোগ নেই, মাঝখান থেকে পাড়া-পড়শিরা এসে ফতোয়া বা মেল-মাহফিল করে আবদুর রশিদকে শাস্তি দিয়ে বসেছে। এ ঘটনা ঘটেছে এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে।

Mostafa.Hussain's picture

অসুস্থ স্বাস্থ্য খাত, কে সারাবে তাকে

মন্ত্রী যাচ্ছেন পটুয়াখালী। পথে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে গাড়ি ঘুরিয়ে নিলেন। অনেক রোগী সেখানে চিকিৎসা লাভের আশায়। জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, এই হাসপাতালে আপনারা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন তো ঠিকমতো? একটি থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা রোগীদের কী জবাব হতে পারে, তা বোধ করি খুলে বলার দরকার নেই। একটু ভিন্ন দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক।

মন্ত্রী কী মনে করে গেলেন এক্স-রে কক্ষে। অবাক কাণ্ড! মন্ত্রী যে মুহূর্তে এক্স-রে কক্ষে পা রেখেছেন, অমনি বিদ্যুৎ চলে গেল ওই হাসপাতালের। মন্ত্রীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি যান বিদ্যুৎ সরবরাহ কক্ষে। সেখানে যেতেই মন্ত্রীর সন্দেহের সত্যতা মিলল। তিনি দেখলেন, কেউ একজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ আবার চালু করতেই এক্স-রে যন্ত্রটি সচল হয়ে উঠল।

এই কাহিনী শুনে যদি কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান সাজানো গল্প মনে করে, তাদের কালের কণ্ঠ পত্রিকার ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করব। মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন মেশিনের টেকনিশিয়ান দেওয়ান সোহেলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। বাংলাদেশের একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মন্ত্রী মহোদয়ের পা পড়েছিল বলে পত্রিকার পাতায় এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছিল। ছোট সংবাদ ছিল এটি। কিন্তু বড় আকারের দাগ দিয়ে রেখেছে আমাদের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রগুলো। এই অবহেলা ও দুর্নীতি যে শুধু টেকনিশিয়ান কিংবা চিকিৎসকরাই করছেন, তা নয়, বরং তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হচ্ছে, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোও করছে এবং অবহেলার সঙ্গে ঊর্ধ্বতন মহলের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়।

Mostafa.Hussain's picture

'তোমাদের আমরা এই শিক্ষা দিয়েছি?'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রতিষ্ঠার ৯১ বছর পূর্ণ হবে আগামী ১ জুলাই। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। বাংলার তৎকালীন গভর্নর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন সমাবর্তন ভাষণ দেন। প্রতি বছরই বিদায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন হওয়ার কথা। কিন্তু আজ ৩১ মার্চ ৪৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ তথ্য থেকেই স্পষ্ট বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদায় অভিষিক্ত এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি দুই বছরে একটি সমাবর্তনের আয়োজন করতে পেরেছে। মাঝে অনেক বছর অনিয়মিত আয়োজনের জন্যই এ সমাবর্তনজট। এ কারণে সমাবর্তনের সময় আবেগ-আনন্দের পাশাপাশি আমার ব্যক্তিগত আক্ষেপও প্রকাশ পায়। প্রচলিত মানদণ্ডে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও আমি সমাবর্তন মঞ্চ থেকে পরম সম্মানিত কোনো অতিথির কাছ থেকে শিক্ষা সনদ ও পদক গ্রহণ করতে পারিনি। যারা মাননীয় চ্যান্সেলরের কাছ থেকে সনদ নেবেন, তাদের গর্ব-অহংকার আমি উপলব্ধি করতে পারি।

তবে হাল আমলে নিয়মিতই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কোনো অজুহাতেই যেন এর ব্যত্যয় না ঘটে। পৃথিবীর সর্বত্র উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ গ্রহণ শিক্ষার্থীদের অধিকার হিসেবে গণ্য হয়। গাউন ও মর্টারবোর্ড বা বিশেষ চৌকা টুপি পরে ছবি তোলা ও আনন্দে ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য প্রকৃতপক্ষে দেশকাল মানে না। ক্যাম্পাসে যারা নতুন আসে, তারা এমন অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার স্বপ্ন দেখে।

Mostafa.Hussain's picture

মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বিদেশিদের প্রতি আমাদের দায়

যুদ্ধ করতে করতে বাংলাদেশের অনেক ভেতরে ঢুকে গেছে মিত্রবাহিনী। চূড়ান্ত লক্ষ্য তাদের ঢাকা। বুকভরা আশা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোহাগপুরে পৌঁছে গেছে অমিততেজ সৈনিকরা। এমন সময় ঘটল বিপর্যয়। পাকিস্তানি বাহিনীর আর্টিলারি শেলিং হতে থাকল বৃষ্টির মতো। ঘেরাওয়ে পড়ে যায় মিত্রবাহিনী। স্বল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক শ সৈনিক শাহাদাত বরণ করলেন ওখানে। আরেকটি জায়গার কথা বলি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ারই কসবা উপজেলার লতুয়ামুড়া ও চন্দ্রপুরের ঘটনা। অপূর্ব দেখতে জায়গাটা! তিন দিকে পাহাড়, মাঝখানে কিছুটা সমতলভূমি। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে কাভারিং ফায়ার করতে এগিয়ে আসছে মিত্রবাহিনী। কিন্তু বিপাকে পড়ে যায় ওখানে। সোহাগপুরের মতোই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল সেখানে। দেখতে না দেখতে শহীদ হয়ে গেলেন দেড় সহস্রাধিক ভারতীয় সৈনিক (স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী)। সংগত কারণেই প্রত্যাশিত, সেই বীর সৈনিকদের আমরা স্মরণ করব। প্রশ্ন হচ্ছে, করেছি কি? লজ্জাজনক হলেও বলতে হচ্ছে, সোহাগপুর কিংবা গোপীনাথপুর এলাকার সেই স্থানে একটি সাইনবোর্ডও লাগেনি গত চার দশকে। মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) আইনুদ্দীনের লেখায় মাঝেমধ্যে বিবৃত হয় সেই স্মৃতি। মর্মান্তিক সেই স্মৃতিবাহী কতজন মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন জানা নেই। তারপর কে মনে রাখবে সেই বিশাল অবদানের কথা? কী হতে পারে অবস্থা তারই একটি লক্ষণ দেখেছি তথ্য সংগ্রহকালে। ঘটনাস্থলের এক ইউপি মেম্বারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হতবাক হতে হলো। তিনি জানালেন, অনেক ভারতীয় সৈনিক মারা গেছেন বলে শুনেছেন। তবে কোন জায়গাটায় বলতে পারছেন না। চলি্লশোর্ধ্ব বয়সের এই মেম্বার অবশ্যই ওই এলাকার তুলনামূলক সচেতন মানুষের একজন। তাঁর পক্ষেই কিছু বলা সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন আসে, এর পরের অবস্থা কী হবে?

Mostafa.Hussain's picture

স্বাস্থ্যনীতির পাশাপাশি সুস্থ মানসিকতাও চাই

টেলিভিশনের ক্যামেরা যায় হাসপাতালের বিছানায়। রোগী আর ইয়া বড় কালো বিড়াল মিলেমিশে শুয়ে আছে এক জায়গায়। রোগীর হাতে স্যালাইনের সুই, বিছানায় পাশে পড়ে আছে পাউরুটির থাল। হয়তো রোগীর অ্যাটেনডেন্ট কেউ খেতে খেতে রেখে গেছে আধছোলা কলাসহ। সেখানেই মাছি ভন ভন করছে গণ্ডাকয়েক। এটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের একটি চিত্র। বাংলাদেশের একটি সরকারি হাসপাতালের। কয়েক দিন আগে প্রচারিত। এটা বিদেশি টেলিভিশনে প্রচারিত চিত্র মাত্র। কিন্তু নিজের চোখে দেখা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালের চিত্রগুলোর কথা লিখতে গেলে স্থান দেওয়া হবে কঠিন। দু-একটি এখানে উল্লেখ্য। প্রথম চিত্র_ঢাকার গ্রিন রোডে বড় দুই ক্লিনিকের মাঝামাঝি জায়গায় একটি ক্লিনিকের অবস্থান। ভেতরে যদি কেউ ঢোকেন তাহলে মাথা ঘুরবে নিশ্চিত। মানুষ বসতির অযোগ্য একটি ঘিঞ্জি বাড়িতে ক্লিনিকের ব্যবসা করার অনুমতি পায় কিভাবে_যে কারো মনেই এ প্রশ্ন আসতে পারে। প্লাস্টিকের কৌটা, পলিথিন ব্যাগ ইত্যাদি মাড়িয়ে ভেতরে গেলে দেখা যাবে, রান্নাঘরের নেটের বেড়াও অক্ষত আছে সেই ওয়ার্ডের। ওখানেই পাতা হয়েছে কয়েকটি বিছানা। প্যাডেস্ট্যাল ফ্যান দিয়ে ঘর ঠাণ্ডা করার চেষ্টা চলছে ঘর-ঘরর শব্দের মাঝে। ভ্যাপসা গরম, নোংরা পরিবেশ। এটা কিছুদিন আগের ঘটনা।

Mostafa.Hussain's picture

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হওয়া না হওয়া

গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকের ঘটনা। সময়টা সন্ধ্যার পরপর। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হলো অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে। স্নেহের ভাতিজি ইমার্জেন্সিতে। কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে মারাত্মক আহত হয়ে ভর্তি হয়েছে। পৌঁছে জানা গেল, রোগী অপারেশন থিয়েটারে। কোথায় অপারেশন থিয়েটার? সে যে লঙ্গরখানা! মাথায় সেলাই করছেন চিকিৎসক। আয়া, বুয়া, রোগিণীর সহযোগী মিলে জনা দশেক মানুষ অপারেশন থিয়েটারের ভেতর। অপারেশন থিয়েটারের দরজার সামনে লঙ্গরখানার মানুষদের মতো খাবার নিয়ে হৈচৈ, হুড়োহুড়ি। করিডোর দিয়ে মানুষ চলাচল বন্ধ খাবার রাখা টেবিল থাকার কারণে।

রোগিণীকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হবে দ্রুত। ডিএমসিএইচএ জায়গা খালি নেই। দালাল এলো একজন- ১৫ হাজার টাকা চাইলো আইসিইউতে সিট ব্যবস্থা করে দেবে বলে। রুচিতে মেলেনি আমাদের। সিদ্ধান্ত হলো, প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু স্ট্রেচার বের করা যাচ্ছে না খাবারপ্রত্যাশী মানুষগুলোর জটলা আর হৈচৈয়ের কারণে। এর মধ্যে দুজন ভাতের গামলা নিয়ে দ্রুতবেগে ঢুকলো অপারেশন থিয়েটারের ভেতর।

Mostafa.Hussain's picture

এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন বদলানো দরকার

এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেবে তারা। ভাবনা থাকতে পারে, এখন কিভাবে ভালো পরীক্ষা দেওয়া যায় তাই নিয়ে। সাধারণ মানুষ, অভিভাবক, সবার দৃষ্টি সংগত কারণেই ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে একটু বেশি মাত্রাতেই পড়বে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা কল্পনা করে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কিভাবে লেখাপড়া করছে ইত্যাদি জানা দরকার। অথচ হালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে গেছে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। এই কাতারে শামিল হয়েছে ঢাকার নটর ডেম, ভিকারুননিসা, আইডিয়াল স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্র্থীরাও। সাধারণত এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কঠোর নিয়মনিষ্ঠার মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। শিক্ষার্থীরাও অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় একটু বেশি সচেতন হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বিনা কারণে সময় অপচয় করার মতো কোনো কাজ করার কথা নয়। এবার সেই ধারণাও ভুল প্রমাণিত হলো। স্পষ্টত দেখা গেল, ঢাকায় তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের মতো প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবি সংগত। পরীক্ষার রুটিনের অসংগতি দূর করতে হবে। যে কারণে তাদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

» Topics:
Mostafa.Hussain's picture

সাংবাদিকের স্বাধীনতা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে

শহরের রাস্তা মেরামত হয় না। প্রশাসনের চোখ বন্ধ। মানুষ তাই প্রতিবাদ করল অভূতপূর্ব কায়দায়। রাস্তার মাঝখানে লাগিয়ে দিল ধানগাছ। সেই সংবাদই ছবিসহ ছাপতে দিয়েছিলেন ফরিদপুরের গৌতম দাস। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর সেই গৌতম দাসই পত্রিকার পাতায় ছবি হয়ে গেলেন। নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো গৌতমকে।

গৌতম হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি তাঁর বাবা। শাস্তি হয়েছে কি কারো? জবাবটা যে কোথা থেকে আসবে, তাও বোঝা যাচ্ছে না। বরং প্রশ্ন আরো করা যায়, হুমায়ুন কবীর বালু খুন হলেন ২০০৪ সালের ২৭ জুন খুলনায়, একই বছর ১৫ জানুয়ারি খুলনায় খুন হন মানিক সাহা, ২০০০ সালের ১৬ জুলাই শামছুর রহমান নিহত হলেন যশোরে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট যশোরে নিহত হলেন সাইফুল আলম মুকুল। তাঁদের মতো আরো কিছু সাংবাদিক জীবন হারালেন এই দেশে। তাঁদের খুনের বিচার কি হয়েছে এ পর্যন্ত? খুলনার হুমায়ুন কবীর বালু হত্যা মামলার সব আসামিকে খালাস হয়ে যেতে আমরা দেখলাম। অতিসম্প্রতি ১১ ফেব্রুয়ারি, নিজ বাসভবনে নিহত হলেন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর সরওয়ার কাজ করতেন টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙায় নিউজ এডিটর হিসেবে আর মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলায় সিনিয়র প্রতিবেদক হিসেবে।

» Topics:
Mostafa.Hussain's picture

শিক্ষা যেন পণ্য বলে গণ্য না হয়

সবাই চায় তার সন্তানটি দেশের সেরা স্কুলগুলোর একটিতে ভর্তির সুযোগ পাক। উদ্দেশ্য সেখানে ভর্তি হতে পারলে শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত হবে। আখেরে ভালো ফল করাও সম্ভব হবে। শুধু ফলই নয়, কোনো কোনো স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারলে অভিভাবক নিশ্চিন্ত হন, অন্তত তাঁর সন্তানটি খারাপ পরিবেশে মেশার তেমন সুযোগ পাচ্ছে না। সংগত এ আকাঙ্ক্ষাকেই কাজে লাগাচ্ছে বড় শহরগুলোর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারা ভর্তির সময় বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় করে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। আদায়ের সূত্র হিসেবে কখনো বলা হয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কখনো বলা হয় শিক্ষাব্যয় ইত্যাদির কথা। অভিভাবকমহলে এ নিয়ে ক্ষোভ আছে অনেক দিন ধরে। কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। যিনি সন্তান ভর্তি করানোর জন্য এনেছেন, তাঁকে তো মুখে তালা দিয়ে রাখতে হচ্ছে। এটা সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে। আর যাঁর সন্তানের পক্ষে ভর্তি হওয়া সম্ভব হলো না, তাঁর আসলে কিছু বলার ক্ষমতাই থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। আবার যাঁর সন্তান ভর্তি করানোর সুযোগ পাননি, তিনি জানেন এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেও কোনো লাভ হবে না। তাঁর সন্তানকে সেখানে ভর্তি করাতে হলে প্রয়োজন হবে নির্ধারিত টাকা। ফলে দেশের ভালো স্কুলগুলোতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে বিত্ত একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিত্তবানরা টাকা দিয়ে ভর্তি করাতে গিয়ে অনেকেই আবার এটাকে স্বাভাবিক ভাবছেন। শুধু তা-ই নয়, নিজের সন্তানকে সেখানে ভর্তি করাতে পারছেন_এটা ভেবেই অধিক তৃপ্তি পান তিনি।

Mostafa.Hussain's picture

এমন নৃশংসতাও কি বন্ধ হবে না!

ফর্সা এক তরুণকে দুই হাত বেঁধে পেটাচ্ছে বিএসএফ। ইয়া লম্বা লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত হানা হচ্ছে যুবকটির শরীরে। একবার মনে হলো, যিশুর মতো তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে বুঝি! দুই হাত প্রসারিত দুদিকে। খাড়া হয়ে আছে যুবকটি। বেদম পিটিয়ে চলছে জওয়ানরা। স্পষ্টতই বোঝা যায়, পিটুনি খেয়ে আর সইতে পারছে না সে। নেতিয়ে পড়ে নিচের দিকে। ঝুলে পড়েছে দড়ি কিংবা তারে_যাতে তার হাত বাঁধা ছিল। নেতিয়ে পড়া যুবকটির গায় তখনো বাঁশ কিংবা বড় সেই লাঠির আঘাত চলতে থাকে। যুবকটি শুয়ে পড়তে চায়। জওয়ানের জোয়ানকি যেন তর সয় না! আঘাতের পর আঘাত চলে যুবকের গায়। সইতে পারে না যুবক। পা জোড়া শূন্যে উঠে যায়। এবার মারের কৌশল বদলে যায়। শূন্যে ঝুলে থাকা পায়ের তালুতে চলে আঘাতের পর আঘাত। এর আগে যে মুহূর্তে যুবকটি নেতিয়ে পড়েছিল, ওই সময় তার পরনের কাপড়চোপড় খুলে ফেলা হয়। একেবারে বিবস্ত্র করা হয় তাকে। টেলিভিশনের পর্দায় তখনো স্পষ্ট দেখা যায়, উলঙ্গ যুবকটিকে পিটিয়ে চলেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কতিপয় সদস্য। ভারতের এনডিটিভি কর্তৃপক্ষ ছবিতে অস্পষ্টতা আনে যুবকটির উলঙ্গতা রক্ষা করতে। দুর্বিষহ চিত্র দেখে যে কেউ মনে করতে পারেন একাত্তরের কথা। সে সময় আমাদের ওপর এভাবেই নৃশংসতা চালিয়েছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। কিন্তু যদি কেউ ভারতের ভূমিকার কথা তুলতে চান, তুলতেই পারেন। একাত্তরে তারা আমাদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিল। আমরা ৪০ বছর পরও সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামীতেও প্রকাশ করে যাব। কিন্তু সম্প্রতি কী হচ্ছে?