Monjurul.Haque's blog

বাংলাদেশ-জাপান: চার দশকের মৈত্রী

স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে জাপান স্বীকৃতি দিয়েছিল ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, আমাদের দেশ শত্রুর রাহুকবল থেকে মুক্ত হওয়ার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। ওই সময়ের আগে পর্যন্ত ভারত ও ভুটানের বাইরে পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত বলয়ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ ছাড়া অন্য আর কোনো দেশ আমাদের স্বাধীন অস্তিত্ব মেনে নেয়নি। সেই হিসেবে জাপান হচ্ছে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ, যে কিনা স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছিল স্বাধীন দেশের মর্যাদায় আমাদের গ্রহণ করতে। সেদিক থেকে জাপানের স্বীকৃতি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, যে স্বীকৃতি আমাদের মনোবলকেই কেবল চাঙা করে তোলেনি, একই সঙ্গে অন্যান্য অগ্রসর দেশকেও শক্তিধর কিছু রাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব মেনে নেওয়ায় অনুপ্রাণিত করেছিল।

জাপানের পথ ধরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় উত্তর ইউরোপের এগিয়ে আসা ওই সময়ের সেরকম বাস্তবতার প্রতিফলন তুলে ধরে। অথচ তখনকার আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশের আলোকে যে ছবি আমরা পাই, তা কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলে দেয় যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া জাপানের জন্য সহজ মোটেও ছিল না। কেন তবে জাপানের সেরকম আগ বাড়িয়ে এগিয়ে আসা? প্রশ্নের উত্তর এক বাক্যে দেওয়া সম্ভব নয়।

পরে যেন পস্তাতে না হয়

বেশ কিছুদিন আগে এই একই বিষয়ে একটি লেখা আমি লিখেছিলাম। তবে এর কোনো প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। কেননা, যাদের উদ্দেশ করে সেই লেখা, তাদের মধ্যে কোনো রকম আলোড়ন যে সেটা একেবারেই তুলতে পারেনি গত তিন বছরের ঘটনাবলির আলোকে প্রসঙ্গটির একেবারে হারিয়ে যাওয়া থেকে তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। আমার সেই লেখার বিষয়বস্তু ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া, এবারও যে একই বিষয়ের ওপর আরও একটু বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করতে আমি প্রয়াসী।
বাংলাদেশের গত চারটি সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ত্রুটিপূর্ণ যে একটি বিষয় সহজেই আমাদের সামনে ধরা দেয় তা হলো, ভোটের ফলাফল জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সব সময় সুবিচার করছে না। বিগত চার নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশার আলোকে বলা যায় যে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এমন একটি সংসদ তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন, একক একটি দলের একচেটিয়া প্রাধান্য থেকে মুক্ত থেকে জনপ্রতিনিধিত্বের সঠিক প্রতিফলন যে সংসদ তুলে ধরবে। তবে আমাদের সমকালীন বাস্তবতা বলছে, নাগরিকদের সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা ব্যর্থ হয়েছি ত্রুটিপূর্ণ একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থা চালু থাকার কারণে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দুই দশক ধরে ত্রুটিপূর্ণ সেই দিকটি বলা যায় আমাদের দৃষ্টির বাইরেই থেকে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে সেভাবে কোথাও আলোচনা হতে শোনা যায়নি।

এই ঘোষণা পরাধীনতার

আমরা যারা পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বড় হয়ে উঠেছি, তাদের সবাই প্রায় স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে সুপরিচিত। পঞ্চাশ ও ষাটের দশককে আখ্যায়িত করা হয় বিশ্বজুড়ে সেই সময়ে চলতে থাকা বিভিন্ন জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের বিজয়ের দুই দশক হিসেবে। এশিয়া মহাদেশজুড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সেই সময়ে আবির্ভাব হয় সদ্য স্বাধীনতা অর্জনকারী অনেক দেশের, যে তালিকায় আমাদের অঞ্চলের অন্তত চারটি দেশ—ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও তৎকালীন বর্মা অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে একমাত্র আফ্রিকা মহাদেশেই তখন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নিজ পরিচয় ঘোষণা করে আত্মপ্রকাশ করেছে অন্তত ৫০টি নতুন দেশ, যে দলে লিবিয়াও অন্তর্ভুক্ত।

১৯১১ সালে ইতালির দখলাধীন হওয়ার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালি পরাজিত হলে ১৯৫১ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্স লিগ অব নেশনসের ম্যান্ডেটের আওতায় লিবিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনার সাময়িক নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছিল। পশ্চিমের সেই দুটি দেশ পরবর্তী সময়ে ১৯৫১ সালে বাদশাহ ইদ্রিসের নেতৃত্বে লিবিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার জাতিসংঘের একটি পরিকল্পনা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও তিনি দেশের সমৃদ্ধ তেল সম্পদের অধিকারের ওপর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও পরবর্তী সময় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য মেনে নিয়েছিলেন।

আজুমা: বঙ্গপ্রেমী অনন্য এক বিদেশি

বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকার অর্থে যাঁরা গভীর মমত্ব পোষণ করেন, সে রকম বিদেশির সংখ্যা বলা যায় একেবারেই হাতেগোনা। বিদেশিদের মধ্যে অনেকেই অবশ্য বাংলাদেশকে ভালোবাসা কিংবা দেশটিকে হূদয় দিয়ে অনুধাবন করতে পারার কথা বলে থাকেন। তবে সে রকম বক্তব্য কতটা আন্তরিক এবং কতটা তা কেবল বলতে হয় বলে বলা, সেই প্রশ্ন এখানে থেকেই যায়। কেননা, বছরের পর বছর ধরে কোনো রকম প্রাপ্তির ভাবনা-চিন্তা মাথায় না এনে আমাদের দেশকে যাঁরা ভালোবেসেছেন, তেমন বিদেশির খোঁজ যে খুব সহজে মেলে, তা তো নয়। সে রকম এক বিরল চরিত্রই ছিলেন জাপানের সদ্যপ্রয়াত রবীন্দ্র গবেষক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কাজুও আজুমা। অধ্যাপক আজুমার প্রথম ভালোবাসা ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গুরুদেব সম্বোধন ছাড়া অন্য কোনোভাবে কবিকে উল্লেখ করা তাঁর মুখ থেকে কখনো শোনা যায়নি। রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসার সেই সূত্র ধরেই বাংলাদেশকে তাঁর জানা এবং সময়ের বিবর্তনে দেশটির প্রতি অনেকটা একই রকম ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়া।

জাপান: দুর্যোগের তিন মাস পর

জাপানের দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি এখন সংবাদমাধ্যমের মূল আলোচ্য বিষয় থেকে সংগতভাবেই সরে দাঁড়িয়েছে। ত্রিমুখী দুর্যোগ আঘাত হানার পরবর্তী দুই সপ্তাহ সংবাদ শিরোনামের অনেকটা জুড়েই ছিল জাপানের খবরাখবর। শুরুতে ভূমিকম্প আর সুনামির ধ্বংসযজ্ঞের ওপর আলোকপাত করা হলেও অল্প দিনেই দৃষ্টি সরে যায় ফুকুশিমা জেলার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার ওপর, যে দুর্ঘটনার প্রভাব জাপান এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা নিয়ে জাপানেও অনেককেই অনেক দিন ধরে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকতে হয়েছে। দুর্ঘটনার ব্যাপ্তি পারমাণবিক চুল্লির সম্পূর্ণ গলে যাওয়া, নাকি চুল্লির আংশিক ক্ষয়ক্ষতিতে সীমিত—সেই বিতর্ক জাপান ছাড়াও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হলো, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানি টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার বা টেপকোর সঠিক তথ্য ঢেকে রাখতে চালিয়ে যাওয়া অশুভ তৎপরতা।

এশীয় শতাব্দীর অপেক্ষায় বিশ্ব ও বাংলাদেশের সাফল্য-ব্যর্থতা

বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশেষ কোনো অঞ্চল কিংবা দেশকে বিশেষ একটি শতকের অগ্রবর্তী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখার প্রবণতা বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য। অগ্রবর্তী রাষ্ট্রের এ রকম অবস্থানগত সংজ্ঞা গ্রহণযোগ্য হওয়ার পর থেকে প্রায় পুরো সময় বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন আধিপত্য বজায় থাকতে দেখা গেছে। তবে অর্থনীতির চালিকাশক্তির বিভিন্ন সূচকের মাপকাঠিতে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কিছুদিন ধরে রুগ্ণ একটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রুগ্ণ যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত কে হতে পারে, তা নিয়ে অনেক দিন থেকেই অর্থনীতিবিদ ও মুদ্রা বিশেষজ্ঞরা নানা রকম পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন।

আশির দশকের শেষ দিকে জাপানের কথা বলা হলেও জাপানের অর্থনীতির দুর্বল দিকগুলো অচিরেই দেশটিকে আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত করায় পরবর্তী সময় প্রথমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এরপর চীনের দিকে বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠা আর্থিক খাতের ত্রুটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হতে পারায় দুই প্রার্থীর দুর্বলতা তুলে ধরে।

» Topics:

গ্যাস ব্যবহারে বৈষম্যমূলক নীতি

সস্তায় বা মুফতে পাওয়া বস্তুর অপব্যবহার বাংলাদেশে আজ নতুন নয়। মুদ্রাস্ফীতির এই বাড়-বাড়ন্ত সময়ে বাংলাদেশের যেসব অঞ্চলে পাইপলাইনে জ্বালানি গ্যাস পাওয়া যায়, এবং তা যে দামে পাওয়া যায়, তা বোধ করি বিশ্বের অন্যসব দেশের তুলনায় 'পানির দর'! মাসের ৩০ দিনে ২৪ ঘণ্টা দুটি বার্নারের চুলা জ্বালিয়ে রেখে সরকারকে দিতে হয় মাত্র ৪৫০ টাকা। ডলারের হিসাবে মাত্র ৬.৪২ ডলার। এই ছয় ডলারে সারা মাস রান্না থেকে শুরু করে কাপড় শুকানো এবং ম্যাচের কাঠি সাশ্রয় করাসহ ৭২০ ঘণ্টা ডাবল বার্নার চুলা জ্বালিয়ে রাখা যায়! এটা আসলেই বিরল এক ঘটনা। তবে তা শুধু সেসব সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য, যারা পাইপলাইনের আওতায় বসবাস করে। অর্থাৎ ঢাকাসহ দেশের যেসব অঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তারাই কেবল এই সুযোগ পেয়ে থাকে। এর বাইরে সারা দেশে আর যারা রান্নার জন্য গ্যাস ব্যবহার করে, তাদের তা কিনতে হয় ঠিক পাইপলাইনের সংযোগের তুলনায় ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে প্রায় ১৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

স্বাভাবিক হয়ে আসছে জাপানের নাগরিক জীবন

ভূমিকম্প, সুনামি ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জাপানকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে ধরে রেখেছিল। ভূমিকম্পের প্রচণ্ডতা এবং এর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার আগেই শুরু হয় সুনামি-জলোচ্ছ্বাস, যা কিনা ভূমিকম্পের চেয়েও ভয়াল আকার ধারণ করে একে একে গ্রাস করে ফেলে জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুর পূর্ব উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন জনপদ। জাপানের টেলিভিশন যখন ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি আর পাহাড়সম ঢেউয়ের প্রচণ্ডতায় বাড়িঘর, গাছপালা, জাহাজ, মোটরগাড়ি, বাস ও ট্রেনের মতো যানবাহন আর দোকানপাটের খেলনা-পুতুলের মতো ভেসে যাওয়ার ছবি প্রচার করার মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরায় ব্যস্ত, অনেকটা ঠিক সময়েই শোনা যায় আরও এক মহা দুর্যোগের পদধ্বনি, অন্য সব খবরকে ছাপিয়ে যা কিনা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে সারা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সংবাদ। গত শুক্রবার আবারও ভূমিকম্প জাপানে আঘাত হানলেও তাতে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

» Topics:

সংকট মুক্তিতে জাপানের ত্রিমুখী সংগ্রাম

ঠিক এক সপ্তাহ আগে গত শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দুইটা ৪৬ মিনিটে আঘাত হানা প্রচণ্ড ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল জাপানে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ত্রিমুখী সংকট। ভূমিকম্পের আঘাতে হতবিহ্বল মানুষ দুর্যোগের ব্যাপকতা বুঝে ওঠার আগেই ধেয়ে আসে সুনামির ঢেউ, যা ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘর, গাছপালা, যানবাহন, দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা রকম জিনিসপত্রসহ উপকূল এলাকায় বসবাসরত কয়েক হাজার নারী-পুরুষ আর শিশুকে। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সুনামির ব্যাপকতা ছিল ভূমিকম্পের চেয়ে অনেক বেশি। বিশাল সেই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে শোকাহত মানুষের চোখের জল ঝরতে থাকার মুখেই এসে যায় তৃতীয় আঘাত, যার আপাত দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি তেমন ব্যাপক না দেখালেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে মোটেও খাটো করে দেখা যায় না। দুর্যোগ আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর জাপানকে তাই এখন পুনরুদ্ধারের পথে ত্রিমুখী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

দূতাবাস বন্ধের ঘোষণায় আমরা চ্যাম্পিয়ন

জাপানের নাগরিক জীবনে আসলেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিচ্ছে কি না, তা জানতে পারার সহজ একটি উপায় হচ্ছে দেশের শিশু-কিশোরেরা কীভাবে দিন কাটাচ্ছে সেদিকে তাকানো। শুধু জাপানই নয়, বিশ্বের যেকোনো দেশেই সংকটের মুখে শুরুতে যেসব প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই তালিকায় সর্বাগ্রে হচ্ছে স্কুলের অবস্থান।আজ দুপুরে আমি যখন এই লেখার কাঠামো ঠিক করে নেওয়ায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই কানে ভেসে আসে একদল বালক-বালিকার প্রাণোচ্ছল কথাবার্তা। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, স্কুলের পাঠ শেষ করে ওরা বাড়ির পথে ফিরছে। তাৎক্ষণিকভাবে যে চিন্তা আমার মনে তখন খেলে যায় তা হলো, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায় না এই দৃশ্য!

» Topics: