স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে জাপান স্বীকৃতি দিয়েছিল ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, আমাদের দেশ শত্রুর রাহুকবল থেকে মুক্ত হওয়ার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে। ওই সময়ের আগে পর্যন্ত ভারত ও ভুটানের বাইরে পূর্ব ইউরোপের সোভিয়েত বলয়ভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ ছাড়া অন্য আর কোনো দেশ আমাদের স্বাধীন অস্তিত্ব মেনে নেয়নি। সেই হিসেবে জাপান হচ্ছে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ, যে কিনা স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছিল স্বাধীন দেশের মর্যাদায় আমাদের গ্রহণ করতে। সেদিক থেকে জাপানের স্বীকৃতি ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, যে স্বীকৃতি আমাদের মনোবলকেই কেবল চাঙা করে তোলেনি, একই সঙ্গে অন্যান্য অগ্রসর দেশকেও শক্তিধর কিছু রাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব মেনে নেওয়ায় অনুপ্রাণিত করেছিল।
জাপানের পথ ধরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ায় উত্তর ইউরোপের এগিয়ে আসা ওই সময়ের সেরকম বাস্তবতার প্রতিফলন তুলে ধরে। অথচ তখনকার আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশের আলোকে যে ছবি আমরা পাই, তা কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলে দেয় যে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া জাপানের জন্য সহজ মোটেও ছিল না। কেন তবে জাপানের সেরকম আগ বাড়িয়ে এগিয়ে আসা? প্রশ্নের উত্তর এক বাক্যে দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশাল সেই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে শোকাহত মানুষের চোখের জল ঝরতে থাকার মুখেই এসে যায় তৃতীয় আঘাত, যার আপাত দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি তেমন ব্যাপক না দেখালেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে মোটেও খাটো করে দেখা যায় না। দুর্যোগ আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর জাপানকে তাই এখন পুনরুদ্ধারের পথে ত্রিমুখী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
আজ দুপুরে আমি যখন এই লেখার কাঠামো ঠিক করে নেওয়ায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই কানে ভেসে আসে একদল বালক-বালিকার প্রাণোচ্ছল কথাবার্তা। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, স্কুলের পাঠ শেষ করে ওরা বাড়ির পথে ফিরছে। তাৎক্ষণিকভাবে যে চিন্তা আমার মনে তখন খেলে যায় তা হলো, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায় না এই দৃশ্য!
Recent comments
2 min 19 sec ago
2 min 48 sec ago
3 min 29 sec ago
3 min 45 sec ago
5 min 1 sec ago
7 min 43 sec ago
8 min 38 sec ago
8 min 59 sec ago
9 min 24 sec ago
10 min 11 sec ago