Mizanur.Rahman.Khan's blog

Mizanur.Rahman.Khan's picture

ইইউতে বাংলাদেশ বিতর্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টের ফ্লোরে আধা ঘণ্টার বিতর্কে ১৯ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। এই নির্বাচিত রাজনীতিবিদেরা সমস্বরে বাংলাদেশে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ললাটে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় আনতে বলেছেন। কিন্তু ইউরোপের এই বার্তাটি বাংলাদেশের জনগণের কাছে খুব স্পষ্ট করে পৌঁছায়নি। ওই বিতর্কের পরে ইসলামি মৌলবাদী জামায়াত নিষিদ্ধকরণ, বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে এবং আগাম নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে প্রস্তাব পাস হয়েছিল।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

‘তথাকথিত বিরোধী দল’ ও বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি

একজন আর্জেন্টাইন বিচারকের কথা মেনে আজকের সংসদ অধিবেশন সামনে রেখে এই লেখা। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটলে বিচারক কী করবেন? দুটো বিকল্প—ইস্তফা দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন, না-হয় স্বপদে বহাল থেকে আইনের শাসনের ঝান্ডা যদ্দুর সম্ভব আগলানোর চেষ্টা চালাবেন। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে আমার কাছে দ্বিতীয় বিকল্পই ভরসা।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

জামায়াত: আর হাইকোর্ট দেখাবেন না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুশোচনা করলেন না, বরং তাঁর প্রকাশভঙ্গিতে আত্মতৃপ্তিই ফুটল। তিনি অন্তত বলতে পারতেন, জনগণ যতটুকু দিয়েছে, ততটুকুতে তিনি সন্তুষ্ট বটে। কিন্তু এতে তাঁর আত্মতৃপ্তির অবকাশ কম। বিজয় আছে, বিজয়ের গৌরব নেই। এই নির্বাচন তিনি চাননি। এমন নির্বাচনের পুনরাবৃত্তিও তিনি চান না। এটা নিতান্তই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সত্যিকারের একটি প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন দিয়ে তিনি প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে উত্তরণ চান। সংবিধানের বাইরের লোকেরাও জনগণের মন ভরাতে এটা বলেন। অবশ্য নির্বাচিতের তকমা থাকায় সেটা তাঁকে বলতে হলো না।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

সুপ্রিম কোর্ট যখন সংবিধানবিচ্যুত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। অবিরাম জলকামান দাগিয়ে ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ ভন্ডুলের পটভূমিতে তিনি গতকাল বলেছেন, ‘এক-এগারোর কুশীলবেরা আবার সক্রিয়। একশ্রেণীর বুদ্ধিজীবী অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চান।’ এটা সত্যি, নাকি গোয়েবলসীয় প্রচারণা?
একজন রহস্যময় আবু সাফার লড়াইটা ছিল এইট পাসের তথ্য প্রকাশ না করা।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

দশম সংসদের বৈধতা ও একাদশের ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে নির্বাচনের’ যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় বলেই প্রতীয়মান হয়। তখন উভয় দল অনানুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ব্যাপারে একমত হয়েছিল। কিন্তু দশমে যে কারণে হচ্ছে না, সেটা একাদশে হবে কী? তবে গণতন্ত্রিক প্রক্রিয়া ধরে রাখতে চাইলে নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সংবিধানে একটা উপযুক্ত সংশোধনী লাগবে। বিএনপির উচিত হবে কেবল নির্বাচনকালীন নয়, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানোর ফর্মুলাসমন্বিত একটি গুচ্ছ প্রস্তাব নিয়ে জনগণের সামনে হাজির করা।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

জামায়াতবাদ কেন অবৈধ হবে না?

হিটলারের নাৎসিবাদের মূলমন্ত্র ছিল জার্মানদের বর্ণ উন্নততর। তাই অন্যদের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদীও প্রকারান্তরে একই নীতির প্রবক্তা। বাহাত্তরের সংবিধানের ভুল ছিল ইসলামি দল হিসেবে জামায়াতসহ ইসলামের নামে সব দল নিষিদ্ধ করা।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

স্পিভাকের টেলিগ্রামে জামায়াত দায়ী

জামায়াতের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ আছে। এটা সংগ্রহে বাংলাদেশ সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সম্পর্কে ডেইলি স্টার প্রতিবেদন দেখে এটা মনে পড়েছে সর্বাগ্রে। ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি হলে নির্বাচনে বিচ্যুতি ঘটবে’ বলে কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোনে উল্লেখ করেছেন বলে ১২ ডিসেম্বর ডেইলি স্টার-এ খবর বেরোয়। কেরির ওই ফোনসূত্রে সৈয়দ বদরুল আহসানের একটি সংবাদ ভাষ্যও ওই দিন ছাপা হয়।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

রুদ্ধশ্বাস নাটক ও দুই প্রতিমন্ত্রী

যুদ্ধাপরাধীদের যথাবিচারিক শাস্তি কার্যকর দেখতে লক্ষ-কোটি মানুষ যখন অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন, তখন ক্ষমতাসীন দলের অতি-উৎসাহীরা একটি শ্বাসরুদ্ধকর নাটকের জন্ম দিলেন। অনেকের কাছে মেনে নেওয়া কষ্টকর হলেও চেম্বার জজ ও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সরকারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। সরকার অহেতুক দোষী সাব্যস্ত হতো। সেই দায় থেকে তাঁরা বাঁচিয়ে দিলেন। যথাযথ বিচার-প্রক্রিয়া নিঃশেষিত হওয়া ছাড়াই কাদের মোল্লার ফাঁসি বিতর্ক ভুল-বোঝাবুঝি ও বিভেদ বাড়াতে উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হতো।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টই শেষ ভরসা

রাষ্ট্রপতি যে মুহূর্তে মনে করবেন সংলাপ ও সমঝোতার পথ রুদ্ধ, সেই মুহূর্ত থেকে তিনি একটি অসাধারণ প্রতিকারের কথা ভাবতে পারেন। এই বিশেষ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির যে আছে তার একটা আলোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা সমাজে এখনই সৃষ্টি হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টের কোনো ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ পদক্ষেপ যে স্বীকৃত সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের বাইরের যেকোনো পদক্ষেপের চেয়ে উন্নত, সেটা আগে মানতে হবে। খালি দুই নেত্রীকে আলোচনা করতে বলবেন না।

Mizanur.Rahman.Khan's picture

আবার কালো সোমবার!

রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের ভাষণে ‘সংবিধান রক্ষার’ অঙ্গীকার ২০০৬ সালের নভেম্বরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। সাধারণভাবে সমঝোতার কথা বললেও তাঁর ভাষণে স্পষ্ট যে বিএনপির অংশগ্রহণের আশা তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সাহস দিয়েছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আবার প্রকারান্তরে নির্বাচনী যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বানের সুরও চাপা রাখেননি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘দেশের ঋণ শোধ করার ডাক এসেছে।’

Syndicate content