Maskwaith.Ahsan's blog

Maskwaith.Ahsan's picture

রাজনীতির উচ্ছিষ্ট

যতদূর মনে পড়ে গত বিএনপি-জামাত জোট শাসনের সময়ে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো যখন জঙ্গী অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল, হাওয়াভবনের ছায়া সরকার প্রধান তারেক রহমান এক প্রকাশ্য জনসভায় তাদের ধমক দিয়ে বলেছিলেন, হাত কেটে নামিয়ে দেব। ইউটিউবে সে আদিম ধমকের ফুটেজ মজুদ আছে। সম্প্রতি এক টিভি টকশোতে আওয়ামী লীগের নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বিএনপির বৃদ্ধনেতা রফিকুলের চোখ তুলে নেবার ধমক দিলেন প্রকাশ্যে। হাত কেটে নেবার ধমকের প্রেক্ষিতে চোখ তুলে নেবার এই ধমক বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূলধন। আমরা সাধারণ মানুষ এটা দেখে ভয় পাই। আবার প্রবোধ দিই ভারত-পাকিস্তানের নেতারাও তো টকশোতে হাতাহাতি করে। অন্যদেশের খারাপ জিনিসগুলোর সঙ্গে প্রতিতুলনা করে নিজেদের প্রবোধ দেবার যে অসাধারণ ক্ষমতা, সেকারণেই হয়তো আমরা গোলকের ১১তম সুখী মানুষের দেশ। এই হ্যাপিয়েস্ট নেশনের তালিকায় পাকিস্তান ১৬ তম। এই তালিকায় বৃহত্তর গণতন্ত্রের দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থান ভালো নয়।

Maskwaith.Ahsan's picture

মিনার মাহমুদ এবং সাগর হত্যার প্রতিশোধ আমরা নেবোই

সম্প্রতি ঢাকায় বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদ ও সাংবাদিক সাগর সরওয়ার খুন হয়েছেন।
মিডিওকার সাংবাদিক ও তাদের মালিক মিডিয়া ব্যাপারীর রোষানলে পড়েছিলেন এই দুই মেধাবী সাংবাদিক।ঢাকা মিডিয়ার জুরাসিক পার্কে এই দুই নদী মানুষকে ছিঁড়েফুঁড়ে ক্যানিবাল উতসব করেছে কতিপয় চাটার দল এবং চোরের খনির ভাডেরা, নব্য ধণিক ঠিকাদার সমাজ।

মিনার মাহমুদ এবং সাগর সরওয়ার উভয়েই মিডিওকার বামন সমাজে গ্যালিভার ভাবনার উচ্চতার দুরন্ত সহিস, যারা সুষম সমাজ দেখতে চেয়েছেন।অথচ বামন সাংবাদিক ও তাদের মালিক ডাইনোসর মহল তাদের চেয়ে বেশী খ্যাতিমান ও সক্ষম সাংবাদিকদের সহ্য করতে পারেনি।তাই মিনার মাহমুদকে তিলে তিলে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিয়েছে ঐ অশিক্ষিত বলদ সমাজ।মিনারের উচ্চতা মাপার মতো স্পনসর আমাদের মৃত্যুর শহরে নেই।স্পনসররা রেড কার্পেট খোঁজে,মিডিয়ার মনন নয় শরীর খোঁজে,ক্ষমতাসীন রাজনীতির গন্ধ খোঁজে।

Maskwaith.Ahsan's picture

২০১৪ নাগাদ প্রধানমন্ত্রী পদে পাত্র চাই

শনিবার লাল গোলাপ রহমান চপলমতি বালিকাকে ভারতে যাইবার হিতোপদেশ দেয়ায় ও অতীতে
লগি হানাফীরা গম্ভীর বালিকাকে পাকিস্তানে হিজরতের সদুপদেশ দেবার প্রেক্ষিতে অদ্য আমজনতার নেতাশূণ্যপদ ঘোষিত হওয়ায় ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে একজন পুরুষ প্রার্থীর নিয়োগ অত্যাবশ্যক হইয়া দাঁড়াইয়াছে।নারীপ্রধানমন্ত্রীদের নির্যাতনে অতিষ্ট আমজনতা ও জননীরা মুজিব এবং তাজের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত একজন সত্যিকার পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর জন্য আকুলি ও বিকুলি করিতেছে।বিধায় ষাটোর্ধ প্রকৃত বাংলাদেশের নাগরিকদিগের কাছ হইতে আবেদন পত্র আহবান করা যাইতেছে।

Maskwaith.Ahsan's picture

জিহাদের শেকড় অনুসন্ধানঃ একটি সরজমিন রোজনামচা

যুদ্ধাপরাধী নয় বা বাংলাদেশ কালে গ্রেনেড হামলা,খুন-ধর্ষণ বা অন্য কোন মানবাধিকার লঙ্ঘন করেনি এমন রক্ষণশীল শরীয়া আইনের ধ্যানে বিভোর তরুণের সংখ্যা কিন্তু অনেক, ছাত্রশিবির বা হিজবুত তাহরীরের তরুণদের মুখগুলো মনে করুন।জার্মানীর ধর্মান্ধ নব্যনাতসীদের তুলনায় তাদের মাথার ও হাতের সংখ্যা অনেক বেশী।কারণ বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬কোটি। অন্যদিকে জার্মানীর জনসংখ্যা ৮ কোটি।

এইসব ধর্মান্ধ তরুণদের মধ্যে যারা নেহাত ধর্মব্যবসায়ীদের টাকার লোভে জিহাদ ব্যবসা প্যাকেজে যুক্ত, তাদের নিয়ে চিন্তা কম, টাকার জন্য এরা টেন্ডারবাজির জন্য দলবদল করে বা সহি কায়দায় ফেনসিডিল বিক্রী করে।কিন্ত যাদের আসলেই ব্রেন ওয়াশড হয়েছে, তাদের প্রশিক্ষণ একটি জীবনদর্শন।তারা ভুল বিপ্লবের আলেয়ায় হাতে গ্যাস বোমা নিয়ে ঘুরছে, মুক্তসমাজ গুঁড়িয়ে দিয়ে শরীয়া আইন প্রচলন করতে।এখন বুঝতে চেষ্টা করা যাক কিভাবে এই নিষ্পাপ তরুণদের মগজ ধোলাই হয়েছে।

ওয়াজিরিস্তানের জঙ্গী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো নিসর্গের বেহেশতের স্যুটিং স্পটের মত। সেইখানে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক আধুনিক জীবনের বিরুদ্ধে ব্রেণওয়াশ করার সময়, আফঘান বা পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী থেকেবহিষ্কৃত বা চাকরি ছেড়ে টাকার লোভে পালিয়ে যাওয়া মার্সিনারী যুদ্ধ প্রশিক্ষকরা আলোচনার আবেগীমুহূর্তে চরস ধোয়ায় আচ্ছন্ন করেন চারপাশ, তরুণদের ঝরণার ধারে নিয়ে গিয়ে বলেন, এই নহরের চেয়েও সুন্দর নহর পাবে জান্নাতুল ফেরদাউসে।তারপর সিডি চালিয়ে হলিউডের নায়িকা এঞ্জেলিনা জোলি বা বলিউডের বিপাশা বসুদের মতো পার্থিব হুর দেখিয়ে বলে, আরও সুন্দর তারা জান্নাত হুরেরা।

Maskwaith.Ahsan's picture

সফল কামাল মজুমদার বনাম ব্যর্থ ড: কামাল হোসেন

একি নামের দুজন মানুষ।একজন কালো, আরেকজন সাদা (গাত্রবর্ণ অর্থে নয়)।কিন্তু আমজনতার পছন্দ কালো। ভোট দিয়ে তারা কালোকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে হয়তো মাত্র এক হাজার টাকা বা অন্ধ দলীয় আনুগত্যের কারণে। এখন বাচ্চাকে মণিপুর স্কুলে ভর্তি করে আমজনতার হাজার হাজার টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। আমজনতা যেন এক হর্ষকামী সোসাইটি, দিয়ে যাও বাঁশ, মিটিছেনা আঁশ।ডঃ কামাল হোসেনকে তারা ভোট দেননি, একঃ কামাল হোসেন একহাজার টাকা দিয়ে একটি ভোট কেনার রাজনীতি করেন না।দুইঃ উনি বঙ্গবন্ধুর সততার রাজনীতিতে অবিচল।অন্যদিকে কামাল মজুমদার কেবল বঙ্গবন্ধুর ছবি-রাজনীতিতে সচল। মিরপুরবাসীর এখন আয়নায় নিজের মুখ দেখা উচিত, সত্যিই এই আপনিই কী এই কামাল মজুমদারকে ভোট দিয়েছিলেন?

সুতরাং আজকের রাষ্ট্রীয় দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসিনা এবং খালেদার মৃত্যুকামনা করে যারা ফেসবুক স্টেটাস দিয়ে ছয় মাসের কারাদন্ড পাচ্ছেন তাদের প্রতি অনুরোধ আগে আত্মসমালোচনা করুন তারপর অন্যের সমালোচনা করতে যাবেন।বৃটিশ আমলের দাস মনোবৃত্তি নিয়ে আমরা আমজনতা শক্তের ভক্ত নরমের জম হয়ে রয়ে গেলাম। কামাল মজুমদারের মতো একজন রাজনৈতিক স্থলদস্যুর অঙ্গুলি হেলন ছাড়া এখন মণিপুর বিদ্যালয়ের একটি পাতাও নড়েনা।আমজনতা হতাশায়, বিপন্নতায় আবার তাহলে বিএনপির বাঁশের অপেক্ষমান, আবার রাজনৈতিক স্থলদস্যু তারেক রহমান।বাংলাদেশের আমজনতা দোয়া নিয়ে তারেক রহমানের অঙ্গুলি হেলনে ২০১৪ থেকে বাংলাদেশের সমস্ত পাতা নড়তে শুরু করবে।মিরপুরবাসীর দোয়া নিয়ে স্থলদস্যু খাম্বা মামুন কামাল মজুমদারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করবে।একটি ভোট এবার দুহাজার টাকা।অন্তত চারটি ফেনসিডিলের বোতল সাবাড় করে একদল তারুণ্য দেশের সেরা মণিপুরের স্কুলটি কামাল মজুমদারের তালুক থেকে নিয়ে খাম্বা মামুনের তালুকে উপহার দেবে।

Maskwaith.Ahsan's picture

দলীয় পরিচয় সম্পদ,পেশী ও স্ট্যাটাস অর্জনের কামসূত্র

ব্লু ব্যান্ড কলের প্রথম আহবানে বিকল্পধারার রাজনীতির উদ্ভাস চোখে পড়ে।তরুণ রাজনীতিক মাহী বি চৌধুরী বলেছেন আমরা মন্ত্রী এমপি হতে চাইনা।কিন্তু পরিবর্তন চাই।হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রফেশনালি দেশ চালাও,নইলে অবসরে যাও।

শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সরকারী চাকুরীর অবসরের বয়েস পেরিয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধু এবং জিয়ার আইকন সামনে রেখে ডিভাইড এন্ড রুলের বস্তাপচা ঔপনিবেশিক ফর্মূলা হাতে নিয়ে পালাকরে উপর্যুপরি বাংলাদেশ শাসন করে চলেছেন।

রাজনীতি ছিল সৎ দেশ সেবার মন্ত্র। শেরেবাংলা,সুহরোয়ার্দী, ভাসানী,বঙ্গবন্ধু,তাজউদ্দীনের সাদাকালো ছবি সম্ভবত বাংলাদেশে সৎ রাজনীতির শেষ চিহ্ন।তারপর বাংলাদেশের সরল জনপদগুলোর প্রান্তিক মানুষের ভোট কিনে নিতে এরশাদ,খালেদা জিয়া অতঃপর শেখ হাসিনা বণিকের মানদন্ডকে রাজদন্ডে পৌঁছে দিলেন।

Syndicate content