Kazi.Siraj's blog

Kazi.Siraj's picture

সংকট উত্তরণে সংশোধনী আনুন

মে মাসের প্রথম দিকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিষয়গুলো ক্রমানুসারে সাজালে দাঁড়ায় ১. জাপানের উপ-প্রধানমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদার বাংলাদেশ সফর ২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর ৩. ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফর ৪. ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাবনা ৫. পদ্মা সেতু নিয়ে আবারও বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ_ সবক'টি ঘটনাই ক্ষমতাসীন লীগ সরকারের জন্য অস্বস্তির, এমনকি আতঙ্কেরও। সরকার ও সরকারি দলের রি-অ্যাকশন দেখে মনে হয় তারা অস্থির হয়ে পড়েছে। মন্ত্রী-মিনিস্টার এবং লীগদলীয় নেতাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা বেশ স্পষ্ট। তিন দেশের যে তিনজন নেতা অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে গেলেন তারা স্ব-স্ব দেশের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবেই বিবেচিত। ওই হাইপ্রোফাইল সফরগুলোর আগে শাসকমহলে এমন একটা প্রত্যয়ী ভাব ফুটে উঠেছিল যে, বিরোধী দলকে জব্দ করে দলীয় সরকারের অধীনে 'পরিকল্পিত নির্বাচন ব্যবস্থায়' আবারও ক্ষমতা দখলের অভিযাত্রাটা নিষ্কণ্টক হয়ে যাবে। কিন্তু হলো না।সরকারের দুর্নীতি, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আগামী নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয় অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে সফরকারী নেতাদের আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি বিভিন্ন পরিষেবায় ব্যাপক দুর্নীতি বিদেশিদের রুষ্ট করেছে। দুর্নীতির কারণে তারা বিপর্যস্ত ও বিরক্ত বলেই মনে হয়। এ দুর্নীতির মাত্রা আমাদের দেশে এতটাই বেশি বলে বিবেচিত যে, গত সাত-আট বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ কোনো সাহায্য নিতে পারেনি। এ ব্যাপারে অর্থ ছাড় করলে তা আসল কাজে ব্যবহৃত না হয়ে কারও কারও পেটে চলে যাবে_ এ আশঙ্কাই যে এর পেছনে কাজ করেছে তা বলাই বাহুল্য।

Kazi.Siraj's picture

ইলিয়াস ইস্যুতেই কি সরকার ফেঁসে গেল!

দেশের সর্বত্র এখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। মানুষের মনে ভয়, কখন কি জানি কি হয়! প্রধান শাসক দল আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি একেবারে মুখোমুখি অবস্থানে। বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ইলিয়াস আলী নিরুদ্দিষ্ট হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। কোনো একটি বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ অর্থাৎ যিনি বা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং যারা ক্ষতিগ্রস্ত নন অথবা যাদের দ্বারা বা যাদের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অপরের এই ক্ষতিসাধন_ এই দুই পক্ষের ভূমিকা ও আচরণ এক রকম হবে এমন প্রত্যাশা করা যায় না। প্রথম পক্ষের মধ্যে আবেগ, ক্ষোভ এমনকি ক্রোধ থাকাও স্বাভাবিক। এমন ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পক্ষের আক্রমণাত্দক হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। ইলিয়াস আলী নিরুদ্দিষ্ট/নিখোঁজ বা গুম হয়ে যাওয়ার পর বিএনপির প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে মানুষ। বরং তাৎক্ষণিকভাবে কেন দলটি রি-অ্যাক্ট করেনি তাতে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। প্রথম দুই দিন লীগ সরকার ও শাসক লীগের ভূমিকা প্রশংসনীয়ই ছিল বলা চলে। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইলিয়াস আলীর বাসায় যাওয়া, তার স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং তাকে উদ্ধারে সরকারি আশ্বাস ইতিবাচক বলেই মনে হয়েছে। কিন্তু দুই দিন পরই এ ব্যাপারে সরকারের ইউটার্ন খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে ইলিয়াস আলী তার নেত্রীর নির্দেশে পালিয়ে থাকতে পারেন বলে মন্তব্যটি দায়িত্বশীল ও রাষ্ট্রনায়কোচিত বলে কোনো মহলেই বিবেচিত হয়নি। সর্বোচ্চ মহল থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য প্রদানের পর সরকারের মন্ত্রী-মিনিস্টার ও দায়িত্বশীল নেতারাও একই সুরে 'কীর্তন' গেয়ে চলেছেন। তাদের বক্তব্যের নির্গলিতার্থ হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য বিএনপিই এই গর্হিত কাজটি করেছে, ইলিয়াস আলীকে লুকিয়ে রেখেছে।

Kazi.Siraj's picture

আমার কৈফিয়ত ও 'সমুদ্রজয়ের' প্রসঙ্গ কথা

গত ১ এপ্রিল এ কলামে প্রকাশিত লেখার শিরোনামে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল। প্রস্তাবিত শিরোনাম ছিল "সংসদে 'কোল'-কাব্য ও 'র'-আইএসআই টাকা কাহিনী।" শিরশ্ছেদ হওয়ার পর তা দাঁড়িয়েছে সংসদে ও 'র'-আইএসআই টাকা কাহিনী। সংসদে থেকে 'ও'টা দূরে থেকে যাওয়ায় বিভ্রান্তিটা তৈরি হয়েছে। পুরানা পল্টন থেকে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা রফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসা করেছেন, 'ও'র আগে কি অন্য কিছু লেখা ছিল, যা বাদ পড়েছে, কিন্তু 'ও'টা সংসদের সঙ্গে ক্লোজ করে 'সংসদেও' করে দেওয়া হয়নি ভুলক্রমে! হ্যাঁ, তাহলে শিরোনামটা উৎরে যেত। আমার মনে হয়, 'কোল'-কাব্য শব্দযুগল কর্তৃপক্ষের পছন্দ হয়নি। সম্পাদক এ ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। এটা সম্পাদকের বা সম্পাদনা কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। তবে শিরোনামে ব্যবচ্ছেদ হলেও লেখাটা প্রায় অক্ষতই ছিল। কয়েকটা মুদ্রণপ্রমাদ থাকলেও তাতে অসুবিধা তেমন ছিল না পাঠোদ্বারে। কিন্তু একটা শব্দ অদল-বদল হয়ে যাওয়ায় বক্তব্যটাই পাল্টে গেছে। 'ইকনোমিস্টে' ২০১১ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত 'ভারতীয় বস্তাভর্তি টাকা ও সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে' শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার বিভাগের মহাপরিচালকের স্বাক্ষরে প্রেরিত মামুলি একটি প্রতিবাদের নামে 'ধান ভানতে শিবের গীত'টি ওই পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে দেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালের ৫ আগস্ট। কিন্তু ইকনোমিস্টের পরবর্তী সংখ্যায় তা ছাপানো হয়নি।

Kazi.Siraj's picture

দুই মহাসমাবেশের হিসাব-নিকাশ

সব জল্পনা-কল্পনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে ১২ ও ১৪ মার্চ ঢাকায় বিরোধী চারদলীয় জোট ও সরকারি ১৪ দলীয় জোটের সমাবেশ দুটি কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। দুটি সমাবেশেই যথেষ্ট লোকসমাগম হয়েছিল। তবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটের 'চলো চলো ঢাকা চলো' কর্মসূচি পালিত হয়েছে সরকারের নানা কূটকৌশল, প্রশাসন-পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি এবং প্রধান শাসক দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, লালবাহিনীসহ নানা রং-বেরঙের বাহিনীর প্রচণ্ড বাধা ও প্রতিরোধ উপেক্ষা করে। লাঠিসোঁটা, রামদা-কিরিচসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১২ মার্চ বিরোধী জোটের মহাসমাবেশে যোগদানরতদের ওপর ছাত্রলীগ, লালবাহিনীসহ অন্যদের হামলে পড়ার দৃশ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। তবে বিরোধী জোটকে যেহেতু গাড়ি-ঘোড়া ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, সেহেতু তাদের খরচ হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। আদর-আপ্যায়ন, এক শ্রেণীর নেতা-কর্মীর কয়েক দিনের 'সার্ভিস চার্জ' বাবদ কোনো জোটের খরচই অবশ্য কম হয়নি। এসব খরচাপাতির ব্যাপারে দলের কেন্দ্র, মহানগর ও স্থানীয় নেতাদের পকেট থেকে খরচের ব্যাপারটা ধরা হয়, কিন্তু দল না করলেও একটু পয়সাওয়ালা, মুদি দোকানদার, চা দোকানদারসহ ছোটখাটো ব্যবসায়ী-চাকরিজীবীদের বাধ্যতামূলক খরচের হিসাবটা করা বা ধরা হয় না। বাধ্যতামূলক খরচ মানে চাঁদা বাবদ আদায় করা অর্থ। এটা উভয় বড় দলই করে।

Kazi.Siraj's picture

সংসদে ও 'র'-আইএসআই টাকা কাহিনী

আজ পহেলা এপ্রিল। মনে আছে বালক বেলায় এই দিন বন্ধু-বান্ধবদের 'এপ্রিল ফুল' করে বেশ মজা পেতাম। এখন ভাবি, ছিঃ! না জেনেশুনে কী খারাপ কাজই না করেছি তখন। সপ্তাহখানেক আগে আমার এক বয়ঃকনিষ্ঠ সাংবাদিক বন্ধু তার বিয়ের দাওয়াত দিয়ে বলল, তারিখটা নিশ্চয়ই মনে থাকবে_ 'এপ্রিল ফুলের' দিন। বিস্ময় বিস্ফারিত চোখে তার দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকলাম খানিকক্ষণ। 'এপ্রিল ফুল' নিয়ে তার বিভ্রমটা কাটিয়ে দেব যখন ভাবছিলাম, তখনই সে বিদায় নিয়ে ছুটে গেল আরেকজন বন্ধুর দিকে দাওয়াত কার্ড হাতে। বাংলাদেশে এখনো বালক-বালিকা বেলা পেরিয়ে আসছে অনেকের মধ্যেই এই বিভ্রম আছে। অথচ এই দিনটি শুধু একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই নয়, মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত জঘন্য অপরাধের এক ভয়ঙ্কর কালদিন। ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক ও নিষ্ঠুর প্রতারণার স্মৃতিবিজড়িত দিন এই পহেলা এপ্রিল। ঘটনাকাল ১৪৯২ সাল। ১৪৬৯ খ্রিস্টাব্দে এরাগনরাজ ফার্ডিন্যান্ড এবং ক্যাস্টাইলের রানী ইসাবেলার পরিণয়ের পর স্পেনে খ্রিস্টানরা শক্তিশালী হতে থাকে। মুসলমানদের মধ্যে দেখা দেয় বিশ্বাসঘাতকতা, সৃষ্টি হয় আত্দঘাতী ভ্রাতৃযুদ্ধ ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। কর্ডোভা, সেভিল, ভেলেন্ত্রিয়া ইত্যাদি পতনের পর সম্মিলিত খ্রিস্টানশক্তি মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্রস্থল গ্রানাডা রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। গ্রানাডার শেষ রাজা আবুল হাসানের পুত্র আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ (বুয়াবদিল নামে কুখ্যাত) এক যুদ্ধে বন্দী হয়ে ফার্ডিন্যান্ডের প্রতারণায় তারই সঙ্গে যোগ দিয়ে পিতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ফার্ডিন্যান্ড-ইসাবেলার বন্ধুরাজ হিসেবে ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারি গ্রানাডা দখল করে ফার্ডিন্যান্ডের হাতে তুলে দেয়।

Kazi.Siraj's picture

২৫ মার্চের বর্বরতা : ফিরে দেখা

আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা, নৃশংসতা ও নির্বিচার গণহত্যার পশুতাণ্ডবে কলঙ্কিত এ ২৫ মার্চের কালরাত। সারা দিনের কর্মক্লান্ত দেহে বাঙালি জাতি যখন গভীর ঘুমে অচেতন, ঠিক তখনই অপ্রস্তুত, অসংগঠিত ও নিরস্ত্র জনতার ওপর হিংস্র হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি নরঘাতক বাহিনী। ২৫ মার্চ আসলেই ছিল এক ভয়াল রাত। যারা দেখেনি, তারা কল্পনাও করতে পারবে না কি ভয়ঙ্কর ছিল সেই রাত। কেন এ নৃশংসতা? এটা জানার জন্য নতুন প্রজন্মকে একটু ঘুরে আসতে হবে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের সেই অগি্নক্ষরা দিনগুলো থেকে।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট প্রায় দেড় হাজার মাইল দূরত্বের দুটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত অসম রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই এর শাসন কর্তৃত্ব কুক্ষিগত থাকে 'পশ্চিম পাকিস্তান'-এর অবাঙালিদের হাতে। শুরু থেকেই ষড়যন্ত্র ডানা মেলে 'পূর্ব পাকিস্তান'কে দাবিয়ে রাখার জন্য। ওরা জানত, একটা জাতিকে দাবিয়ে রেখে শোষণ-লুণ্ঠন চালানোর জন্য সে জাতির ভাষা ও সংস্কৃতিকে পঙ্গু করে দিতে হয়। নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ঐতিহ্য-বিস্মৃত একটি জাতি তার আত্দপরিচয় ভুলে যায়, আত্দঅনুসন্ধানের দিশা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-তরুণ-যুব-জনতা পাকিস্তানিদের সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেয়। পাকিস্তানের জন্মের আগে থেকেই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৮ মে মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলিমদের উদ্যোগে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত উর্দু সম্মেলনে যুক্ত প্রদেশের মুসলিম লীগ নেতারা ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন।

Kazi.Siraj's picture

জনস্রোত রুখেছেন জনমত কি রুখতে পেরেছেন

বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে ১২ মার্চ 'ঢাকা চলো' কর্মসূচি সম্পর্কে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ একটা উপভোগ্য কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মহাসমাবেশে আশানুরূপ লোকসমাগম না হওয়ায় বিএনপির লোকজন হতাশ। মহাসমাবেশ যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের অনেকেই একমত যে, লোকসমাগমের ব্যাপারে লীগ নেতা একটা খাঁটি কথা বলেছেন। তবে 'আশানুরূপ' লোকসমাগম না হওয়ার স্থলে যে পরিমাণ লোকসমাগম হওয়ার 'কথা ছিল' কথাটি বললে তার কথায় একটা অর্থ খুঁজে পাওয়া যেত। বস্তুতপক্ষে 'চলো চলো ঢাকা চলো' কর্মসূচিটি শেষ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর একটা অঞ্চলের সমাবেশে পরিণত হয়েছিল। মহানগরীর আশপাশের থানাগুলো, এমনকি নয়াপল্টনের সমাবেশস্থল থেকে মহানগরীর দূরবর্তী ওয়ার্ডগুলোর যোগদানেচ্ছু লোকজনও মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারেনি। তারপরও বিএনপির মুখপত্র দৈনিক দিনকাল এবং জামায়াতে ইসলামীর পত্রিকা দৈনিক সংগ্রাম, জামায়াতপন্থি দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক নয়াদিগন্ত বাদ দিয়ে অন্যসব প্রিন্ট মিডিয়ার ১৩ মার্চের প্রধান সংবাদ শিরোনামই ছিল 'তারপরও জনসমুদ্র', 'চারদলীয় জোটের মহাসমাবেশে মানুষের ঢল' এমন সব সত্যাশ্রয়ী সংবাদে শোভিত। সবাই জনতার ঢল দেখলেন, দেখলেন না শুধু মাহবুব-উল আলম হানিফের মতো দলকানা লীগ নেতারা। অনেক সমালোচকের তির্যক মন্তব্য : দলে ডাক্তার মোদাচ্ছেরের মতো নামি-দামি চক্ষুবিশেষজ্ঞ থাকতে 'দৃষ্টি প্রতিবন্ধী' লীগ নেতাদের উচিত কালবিলম্ব না করে তার শরণাপন্ন হওয়া।

Kazi.Siraj's picture

বিরোধী দল সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের বিল আনুক

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোটেই ভালো নয়। ১২ মার্চ যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে অস্বস্তি, সঙ্গে আতঙ্ক। শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনই নয়, সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া অস্বস্তি ও আতঙ্ক থেকে নাগরিক সমাজও মুক্ত নয়। অন্যান্য দাবির সঙ্গে মূলত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রায় আড়াই মাস হাতে রেখে ১২ মার্চ 'ঢাকা চলো' কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকার অধ্যায়ের ৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধসাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।' ঢাকা চলো কর্মসূচি ঘোষণা করে বেগম জিয়া অসাংবিধানিক বা বেআইনি কোনো কাজ করেননি। একই ধরনের সভা-সমাজেশ ও মানববন্ধন করার মৌলিক অধিকার অন্যান্য দল-মতের মানুষের মতো শাসকদল আওয়ামী লীগেরও নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিরোধী দলের বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী-প্রতিপক্ষের কোনো প্রতিবাদী বা দাবি আদায়ের কর্মসূচির দিনে-ক্ষণে-স্থানে শাসকদলও কেন কর্মসূচি ঘোষণা করবে? বিরোধী দলের কর্মসূচি ঘোষণার প্রায় এক মাস পর শাসকদলের কর্মসূচি ঘোষণাকে অপরের মৌলিক অধিকার হরণের অশুভ প্রয়াস বলে চিত্রিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং কোনো কোনো দায়িত্বশীল লীগ নেতা মাঠ দখলে রাখার যে ধরনের 'রণহুঙ্কার' দিয়েছেন, আম জনতার তাতে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ারই কথা। আমাদের দেশের ক্ষমতার কাঙালদের লাঠিসোঁটা, লগি-বৈঠা আর রাম দা-কিরিচ-পিস্তলের 'খেলা' অতীতে দেশ-বিদেশের মানুষ অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেছে। তাই ১২ মার্চকে ঘিরে শান্তিপ্রিয় দেশবাসীর মনে অতীতের মতো হত্যা-সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের ভয়ংকর দৃশ্যাবলী ফের জেগে ওঠা অমূলক নয়।

Kazi.Siraj's picture

রাজনীতিবিদরা রাজনৈতিক দল দখল করুন

বাংলাদেশ প্রতিদিনের ২২ ফেব্রুয়ারির প্রধান সংবাদ শিরোনাম ছিল 'ব্যবসায়ীদের দখলে রাজনীতি'। এ সংবাদে চমক না থাকলেও কিছু তথ্য ছিল। বর্তমান নবম সংসদে শাসক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের ব্যবসায়ী সদস্যদের নামের তালিকাসহ আগামী নির্বাচনে বড় দুই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৫৩ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর একটি তালিকা পাওয়া গেছে তাতে। আমার মনে হয়, তালিকাটি অসম্পূর্ণ। বর্তমান সংসদে ৩৮ জনের চেয়ে বেশি ব্যবসায়ী শিল্পপতি আছেন এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে উভয় দলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশি মনোনয়ন পাবেন অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও শিল্পপতি ব্যবসায়ী এবং কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ মনোনয়ন পকেটস্থ করবেন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা। রাজনৈতিক নেতার পরিচয়ে উভয় দলে এমনকি জাপা-জামায়াতেও এমন কিছু লোকের মনোনয়ন অবধারিত, যারা এখন প্রকৃত অর্থে ব্যবসায়ী। সব মিলিয়ে ধরলে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমানের পরিসংখ্যানটাই যথার্থ যে, বর্তমান সংসদে ৬৬ ভাগ সদস্যই অরাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী। পর্যবেক্ষরা মনে করেন, আগামী সংসদে এ সংখ্যা ভয়ঙ্করভাবে বেড়ে প্রায় ৮০ ভাগ স্পর্শ করতে পারে। 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' বর্তমান সংসদের সদস্য ও আগামী সংসদে মনোনয়ন প্রত্যাশী যেসব শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর নাম ছেপেছে, দেশের সচেতন মানুষ তাদের সবাইকে চেনেন এবং পরিচয়ও জানেন। অনেকেই আশা করেন, পত্রিকাটি বর্তমান সংসদ সদস্য ও আগামীতে মনোনয়ন পেতে পারেন এমন রাজনীতিবিদদের একটি তালিকাও ছাপাবে_ যাদের জনগণ রাজনীতিবিদ হিসেবে চেনেন এবং রিকগনাইজ করেন।

Kazi.Siraj's picture

যে খেলা খেলোয়াড়কেও খায় সে খেলা থামান

আমার ভাগ্নে কানাডা থাকে স্থায়ীভাবে। সে আমার বড় বোনের ছেলে। এ বোন ছিলেন আমাদের কাছে মায়ের মতো। দুঃখে-সুখে, আনন্দ-বেদনায় জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন আমাদের সঙ্গে। আমাদের হাসিতে তিনি হেসেছেন; আমাদের কান্নায় কেঁদেছেন অঝোরে। আমাদের সব ভাইবোনের জন্য একা তিনি যা করেছেন, আমরা সবাই মিলেও তার জন্য সমপরিমাণ কিছু করতে পারিনি। ভাইবোনদের মধ্যে আমাকে তিনি অত্যধিক স্নেহ করতেন। সে স্নেহের ঋণ কোনো দিন শোধ হওয়ার নয়। স্নেহময়ী সে বোন মনিজা খাতুন আমাদের ছেড়ে এ সুন্দর পৃথিবীর, সুন্দর আলো-বাতাস ছেড়ে চলে গেছেন চিরতরে, পরপারে। পরম করুণাময় সেখানে তাকে পরম শান্তিতে রাখুন। আমার লোকান্তরিত বোনের আত্দার শান্তির জন্য প্রিয় পাঠকদের কাছে আমি দোয়া প্রার্থনা করছি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার চেহলাম উপলক্ষে ভাগ্নে জসিম উদ্দিন চৌধুরী সস্ত্রীক দেশে এসেছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি আমার বাসায়ই কথা হচ্ছিল তার সঙ্গে। চেহলামটা মূলত তাদের উদ্যোগে হলেও অনুষ্ঠানস্থলটা আমাদের বাড়িতে অর্থাৎ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া কাজী বাড়িতে। তাই চেহলাম কর্মসূচি আলোচনার প্রধান বিষয় থাকলেও রাজনীতির প্রসঙ্গও এসে গেল। সে আবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার সহ-সভাপতি। তার দৃষ্টিতে দেশে কোনো সমস্যা নেই। মানুষ দিব্যি খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে, আরামে আছে। আধা ঘণ্টায় গুলশান থেকে বনশ্রী আসতে পেরে সে বলল, কই যানজটই তো নেই। অর্থাৎ সুখের নহর বইছে লীগ শাসনে। বড় আপার চেহলামের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে বাড়ি চলে যাব এবং ফিরব ১৮ তারিখ।