faruk.wasif's blog

faruk.wasif's picture

দুই নারী, দুটি ধর্ষণ এবং দুটি দল

ক্ষমতাকেন্দ্র রাজধানীতে বসে দুই নারী যুদ্ধ করছেন; জনগণের হাত-পা বাঁধা। যশোরে মা ও মেয়ে একত্রে ধর্ষিত হয়েছেন, বাবা-ভাই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তা সহ্যকরেছেন। আত্মরক্ষার কোনো সহায় তাঁদের ছিল না। যদি সিনেমার মতো সমান্তরালে জাতীয় ও পারিবারিক দুটি কাহিনি দেখি, তাহলে হয়তো ঘটনা দুটিকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হবে না।

faruk.wasif's picture

‘আবার তোরা মানুষ হ’

পোড়ার দেশে জীবন জিয়ে না। মরার দেশে ইনসাফ বা ন্যায়ও বাঁচে না। আজ বাংলাদেশে জীবিত ও মৃতের মধ্যে পার্থক্য এতটুকুই যে মৃতের যন্ত্রণা ও ভয়ের সমাপ্তি হয়েছে; জীবিতরা এখনো ভুগছে। সেমেটিক সৃষ্টিতত্ত্বে আমরা সবাই খুনির বংশধর। আদমের দুই সন্তানের একজন আরেকজনকে খুন করেছিল। নিঃসন্তান হাবিলকে খুন করার পর কাবিলের বংশধরেরাই পৃথিবী ভরিয়ে ফেলে। ধর্মীয় মিথে ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যা মানবজাতির আদি পাপ। আর বাংলাদেশে বাস্তবিকই সেই আদি পাপের অভয়ারণ্য।

faruk.wasif's picture

সাম্প্রদায়িকতার রিংমাস্টারগণ

সাঁথিয়ার ঘটনায় গুন্ডা-বদমাশদের নাম যতটা আসে ততটা আসে না তাদের রিংমাস্টারদের নাম। হিন্দু সমাজের ঘরবাড়িতে যারা হামলে পড়েছিল, নিঃসন্দেহে তারা সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। কিন্তু তারা একা ছিল না। তাদের পায়ের ছাপ ধরে এগোলে যে ‘উৎকৃষ্টদের’ নামনিশানা পাওয়া যায়, তাঁরা আমাদের নেতা-অভিভাবক-প্রশাসক। এঁদের ছাড়া ওই নিকৃষ্টরা বড়জোর লুম্পেন-চাঁদাবাজি করে দিন কাটাত, হিন্দু পাড়া তছনছ করার ‘হিরো’ হতে পারত না।

faruk.wasif's picture

আজও পরাজিত নূর হোসেন!

২৪ বছরের নূর হোসেন আর বড় হননি। তাঁর সে সময়ের সহযোদ্ধারা ধনে-প্রাণে অনেক বড় হয়েছেন। অন্তত দুজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মন্ত্রী-সাংসদ-আমলা-মিলিয়নিয়ার কতজন হয়েছেন, তা গুনতে শুরু করলে হাত-পায়ের সব আঙুলেও কুলাবে না। পিঠে ও বুকে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ লিখে তিনি নিজেকে পুলিশের বন্দুকের নিশানা করেছিলেন। কবরে নামানোর সময় অনেক ঘষাঘষি করেও তাঁর গায়ে লেখা বাংলাদেশের সেই ললাটলিখন ওঠানো যায়নি। পুলিশের যে গুলিটি তাঁর পাঁজরে রক্তজবা ফুটিয়েছিল, সেটিও সেখানেই থেকে গেছে। নূর হোসেনের যে আয়ু আত্মসাৎ করে নিয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি, সেই রাজনীতি আজও গণতন্ত্রকে নূর হোসেনের মতোই বাড়তে দেয়নি।

faruk.wasif's picture

কাবিলার বাইরের সেই মানুষেরা কোথায়?

আমরা পালাচ্ছি, জ্বলছি, পথ খুঁজছি: হরতালের আগের দিন দুপুর। মানুষভর্তি অনেক বাস। মাইক বাজছে, স্লোগান হচ্ছে। স্কুল-কলেজের ছাত্রদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, পোশাকশ্রমিকদের আনা হয়েছে। বস্তিবাসীদের হাঁটাপথে রওনা করানো হচ্ছে। মহাসমারোহে সবাই যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়। এবং মহাসমারোহে ঢাকার রাজপথ থমকে আছে। কিংকর্তব্যবিমূঢ় মানুষ, জনসভার মানুষ, কাজকর্মে বেরোনো মানুষ, কেউই চলতে পারছে না। হরতালের আগের সন্ধ্যার প্রস্তুতি ছিল, ভরদুপুরে থমকে যেতে হবে কে ভাবতে পেরেছিল? বিরোধী দল যেমন হরতালের আগে হুমকি দেয়, সরকারি দলও মহাসভার দিন সেভাবে হুঁশিয়ার করলেই পারে!

faruk.wasif's picture

দানব বনাম একজন পোকামানব

ভুলে যাওয়ার মধ্যে যে শান্তি আছে, সেই শান্তি নিহত সন্তানের মায়ের নয়। তাঁর বসার ভঙ্গিতে, মৃদু কণ্ঠের ভাষায়, কথা বলতে বলতে সোফায় বুলানো হাতে, তাঁর চুড়িতে, তাঁর আঁচলে ‘দুঃখ তার লেখে নাম।’ কবি শামসুর রাহমান লিখেছিলেন, ‘আমাদের বারান্দার ঘরের চৌকাঠে/কড়িকাঠে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে/দুঃখ তার লেখে নাম।’ সাত মাস আগে যেদিন শীতলক্ষ্যার কাদাপানিতে ত্বকীর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া গেল, বাড়িটায় সেদিনই দুঃখের মিহি প্রলেপ পড়ে গিয়েছিল। আজও তা অটুট। ত্বকীর বাড়িতে শান্তি নেই। নারায়ণগঞ্জ শহরে শান্তি নেই। এর জন্য দায়ী ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের শিশু; কাউকেই ভুলতে দেননি যে একটি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, মাসুমের প্রাণ হরণ করা হয়েছিল; আর সেই নিষ্পাপের নাম ছিল ত্বকী।
বেঁচে থাকলে গত শনিবারই আঠারোতে পা রাখত ত্বকী।

faruk.wasif's picture

সুমাইয়া থাকবে না, থাকবেন দেলোয়ার!

সুমাইয়া মারা যাবে। ১৬ বছর বয়স ওর। এই বয়সে কত কী প্রিয় থাকে কিশোরীর। সুমাইয়ার কোনো প্রিয় রং নেই, ও জানে মানুষ ৪০-এর বেশি বাঁচে না। ওর কোনো স্বপ্ন নেই; ওর মায়ের বয়স এখন ৩৩। মা যদি ৪০ পর্যন্ত বাঁচেনও, ও বাঁচবে না। সুমাইয়ার মায়ের একটি স্বপ্ন ছিল। ইটভাটায় যতই তিনি হাড়জ্বালানো খাটুনি খাটতেন, ততই স্বপ্নটা তীব্র হতো। বাচ্চা মেয়েটি পোশাক কারখানায় অনেক ওভারটাইম করে কিছু বাড়তি টাকা যখন পেত, তখন স্বপ্নটা সম্ভব মনে হতো। মায়ে-ঝিয়ে মিলে তাঁরা টাকা জমাচ্ছিলেন, ঘর তুলবেন গ্রামে। তারপর দুজনে মিলে চলে যাবেন, এই শহরে আর ভাল্লাগে না। সেই স্বপ্নটাও ধসে গেছে রানা প্লাজার মতো, পুড়ে গেছে তাজরীন ফ্যাশনসের মতো।

faruk.wasif's picture

বিদায় জাহাঁপনা!

ইতিহাসের ট্র্যাজিক নায়ক নবাব সিরাজকে কম মানুষই জানে, সিনেমার সিরাজউদ্দৌলাকে চেনে না এমন মানুষ কম। দুটি ভিন্ন সময়, দুটি ভিন্ন মানুষ, দুই ভিন্ন ট্র্যাজেডি, কিন্তু যেখানে তাঁরা এক হয়ে যান তা জাতীয় দুঃখ ও আবেগ। আমরা সবাই সিরাজের দুঃখ জানি, তাঁর ট্র্যাজেডি জানি, ব্যক্তি আনোয়ার হোসেনের জীবনে তাই আমাদের আগ্রহ নেই। সিরাজের জীবনকেই আমরা তাঁর জীবন বলে মেনে নিয়েছি যখন, সিরাজের হতাশা ও আক্ষেপকে যখন আনোয়ারের আবেগ থরথর কণ্ঠ আর অভিনয় দেখে বিশ্বাস করেছি, তখন আর পর্দার পেছনের আনোয়ার হোসেন কেমন, তা জানার আগ্রহ হবে কেন? হয়ওনি।

faruk.wasif's picture

সিরিয়ায় পোস্টপেইড নোবেলজয়ীর প্রিপেইড যুদ্ধ!

বারাক ওবামার নোবেল পুরস্কার ছিল ইতিহাসের প্রথম পোস্টপেইড নোবেল পুরস্কার। তিনি কী করেছেন তার জন্য নয়, ভবিষ্যতে কী করবেন, তার জন্যই তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। নোবেল কমিটির বিনিয়োগ বৃথা যায়নি। ইরাক ও আফগানিস্তানে বুশের শুরু করা যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ে এবং সোমালিয়া ও পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় নিরীহ মানুষ হত্যা করে নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক দেনা শোধ করেছেন। বাকি অর্ধেক শোধের জন্য সিরিয়ায় হামলার আয়োজন চলছে। ইরানকে ঘায়েলের অংশহিসেবে এটা তাঁকে করতেই হবে। যুগে যুগে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই যুদ্ধবাজ ছিলেন, ওবামারও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।

faruk.wasif's picture

‘তফাত যাও, সব ঝুট হ্যায়’

খলিফা হারুন অর রশীদ তাঁর রাজ্যের মানুষের অবস্থা জানতে ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন। রাতের বেলায় কান পাততেন কারও জানালার কাছে। কিন্তু রাতের বেলা কেন? রাতের কথার বেশির ভাগই ব্যক্তিগত হওয়ার কথা। তা জেনে শাসক কী করবেন? আধুনিক কালে রাতের কথা কমে গেছে মানুষের। খোলা মনে কথা বলা বিপদেরও বটে। তাই সন্ধ্যার পর বাসাবাড়িতে মানুষ চুপ থাকে, কথা বলে টেলিভিশন। আজকের যুগে খলিফা হারুন মানুষের হালচাল জানতে ঘরে ঘরে কান পাতলে হিন্দি সিরিয়াল কিংবা দেশি টক শোর সংলাপ ছাড়া কিছুই শুনতে পেতেন না। মানুষের কথা জানতে তাই দিনের বেলা সদর রাস্তায় কান পাতাই ভালো।

Syndicate content