Fakir.Abdur.Razzak's blog

Fakir.Abdur.Razzak's picture

রাজনীতির পথে প্রান্তে : দিন বদলের চার বছর

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি বর্তমান সরকার শপথ নিয়েছিল। সেই হিসাবে চার বছর পূর্ণ হয়েছে মহাজোট সরকারের। যেদিন লিখতে বসেছি সেদিন ছিল ৬ জানুয়ারি ২০১৩। এ দিনের পত্র-পত্রিকায় সরকারের চার বছর পূর্তির নানা খবর ছাপা হয়েছে। সফলতা ও ব্যর্থতার চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে পত্রিকা ও মিডিয়াগুলোর নিজ নিজ নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিতে। একই দিনে দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে 'দিন বদলের চার বছর' শিরোনামে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই সরকারি প্রচারে তাদের ব্যর্থতার দিকটি আড়াল করা হয়েছে, সাফল্যই তুলে ধরা হয়েছে সমুজ্জ্বল করে।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন বিলম্বিত ও সংক্ষিপ্ত একটি পর্যালোচনা

দেশের সবচেয়ে পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কয়েকদিন আগে। ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২ ছিল একদিনের অনুষ্ঠান। এখন ২০১৩ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ। প্রশ্ন উঠতে পারে, এত বিলম্বে এ পর্যালোচনা কেন? বেশ কয়েকজন পাঠক অনুরোধ করেছেন। কয়েকজন পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী তাগিদ দিয়েছেন। তারপরও ভেবেছিলাম_ এড়িয়ে যাব। কী হবে এসব লিখে। একবার লেখার বিষয় হিসেবে মনে হয়েছিল_ আকবর আলি খানের ফর্মুলা নিয়ে লিখব। ভদ্রলোক মাঝে মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক দল_ বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে জ্ঞান দেন। সরকারকে অযাচিত পরামর্শ দেন।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

ফরমালিনমুক্ত রাজনীতির বাসনা

'আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পেশাজীবীদের ভাবনা' শীর্ষক এক আলোচনা সভা সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন_ রাজনীতি ফরমালিন যুক্ত হয়ে পড়েছে এবং ফরমালিনমুক্ত করার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। এতদিন আমরা মাছ ও অন্যান্য অনেক খাদ্যসামগ্রীতে ফরমালিন মিশ্রিত করার কথা জানতাম। এবার জাতি ড. কামালের বদৌলতে জানতে পারল রাজনীতিতে ফরমালিন মিশেছে। ড. কামালের সঙ্গে ওই সভায় তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন দেশের বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। রাজনীতিতে ফরমালিন যুক্ত হওয়ার এ আবিষ্কার একেবারে নতুন নয়। তবে দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে যখন মাছ-তরিতরকারিতে ফরমালিন মেশানোর বিরুদ্ধে সরকার অভিযান চালাচ্ছে এবং এরই মধ্যে ঢাকার কয়েকটি বাজার ফরমালিনমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে আর জনগণকে ফরমালিন নামক কোন ক্ষতিকর ওষুুধ মিশিয়ে পচা বা নষ্ট জিনিসকে অবিকল সতেজও জীবন্ত রাখার পরিবর্তে স্বাভাবিক-সতেজ জিনিসপত্র আহারের স্বাস্থ্যকর উপায় অনুসরণ করার জন্য জনগণকে আগ্রহী করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তখনই ড. কামাল জাতীয় রাজনীতিতেও ফরমালিনের প্রসঙ্গ অবতারণা করে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

নির্বাচনকালীন সরকার : নিরপেক্ষ ব্যক্তির খোঁজ!

কয়েকদিন আগেই পত্রিকায় দেখেছিলাম ব্যারিস্টার রফিক-উল হক নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধান হতে আগ্রহী। এরপর রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি খোলামেলাই বলেছেন, দেশের স্বার্থে সব ধরনের দায়দায়িত্ব নিয়ে তিনি কাজ করতে রাজি। একই সময়ে আরেকটি খবর প্রকাশ পেয়েছে, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে দুই ঘণ্টা আলাপ করেছেন। তাদের মধ্যে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা বিস্তারিত জানা না গেলেও বোঝা যায় নির্বাচনের সময় যে অন্তর্বর্তী সরকার হবে তার প্রধান হতে তিনি রাজি, যদি খালেদা জিয়া তাতে সম্মতি দেন। এরপর ধরেই নেওয়া যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি আদায়েরও চেষ্টা করবেন তিনি। স্বাভাবিক নিয়মে জাতীয় পার্টি, জামায়াতের নেতারাও বাদ পড়বেন না। এহেন তত্পরতার মধ্য দিয়ে রফিক-উল হকের এক ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেলেও তিনি যে আগামী নির্বাচনকালে সম্ভাব্য সঙ্কট মোচনে আগ্রহী এবং সেই সময় দেশের জন্য তিনি যে সাধ্যমতো অবদান রাখতে চান সেটাও লক্ষ করা যাচ্ছে। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন আইনজ্ঞ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সর্বমহলে সমাদৃত একজন সজ্জন ব্যক্তি। তিনি একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোতে লড়েছেন। এখনও খালেদা জিয়া এবং তার সন্তান, নেতা ও বন্ধুদের মামলাগুলোতে লড়ে চলেছেন। তিনি একজন ভালো মানুষ। তার আইন ও বিচারালয়ের জীবনের গতিবিধি তত্পরতা যদি পর্যালোচনা করা যায় তাহলে দেখা যাবে, খালেদা জিয়া এবং বিএনপির দিকেই তার সহমর্মিতার পরিমাণ বেশি।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

পদ্মা সেতুর ভাগ্য কি এখন অনিশ্চিত?

২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন। ভাষণটি দিয়েছেন তিনি বাংলায়। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে। সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার আগেই নাকি প্রধানমন্ত্রী শর্তজুড়ে দিয়ে বলেছিলেন_ পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক নিয়ে কেউ কোন কথা বলতে পারবে না। সভায় বক্তারা সেই শর্ত মেনে চলেছিলেন। তবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক পেঁৗছেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই এক মন্তব্যে বলেছিলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করার ব্যাপারে যারা কাজ করেছেন সরকার তাদের খুঁজে বের করবে। ধারণা করা হয়, তার সেই মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু তার নামটি সরাসরি তিনি উল্লেখ করেননি। দেশে সেই মন্তব্য নিয়ে নানা কথা হয়েছে, হয়েছে লেখালেখি। উল্লেখ্য, ড. ইউনূস ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছিলেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ফিরে আসার ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীর ওই ধরনের মন্তব্য না করাই উচিত ছিল বলে দেশের বিশিষ্টজনেরা বলেছেন। এদিকে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের প্রশ্নে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসার ব্যাপারে তাদের প্রথম ঘোষণাপত্রটি ছিল বেশ পরিষ্কার। তাতে কয়েকটি শর্তের বিষয় উল্লেখ থাকলেও তা তেমন কঠিন ছিল না।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

শিক্ষাঙ্গনে এত অস্থিরতা কেন?

বুয়েট সঙ্কট ‘শেষ হয়েও কি হইল তা শেষ?’ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর বুয়েটের শিক্ষক-ছাত্ররা অনেকখানি আশ্বস্ত হওয়ার কথা নিজেরাই ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু মন্ত্রীর আশ্বাসের বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চেয়েছিলেন তারা। মন্ত্রী বলেছিলেন পর্যায়ক্রমে ওগুলো বাস্তবায়িত হবে। প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষকরা বাস্তবায়ন শুরু দেখে তারা ক্লাসে ফিরতে রাজি হয়েছেন, ফিরেছেনও। তবে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে যাননি। উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। কিন্তু মূল সঙ্কট যে উপাচার্যকে নিয়ে তা নিয়ে তেমন কোনো উচ্চবাচ্য এখন লক্ষ করা যাচ্ছে না। মন্ত্রী উপাচার্যের ব্যাপারে কী বলে ছাত্র-শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছিলেন তা কোনো পক্ষই দেশবাসীকে জানায়নি। মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখেই ছাত্র-শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে ফিরে গেছেন। তবে ক’দিনের জন্য? বিশেষ করে ছাত্র-শিক্ষকদের বিশ্বাস, উপাচার্যের পদত্যাগ নিশ্চিত করা হলেই বুয়েট সঙ্কটের চলমান সমস্যা দূর হবে। সর্বশেষ অবস্থা হল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও অগ্রগতি অনেকটাই এখন ভালোর দিকে। ছাত্র-শিক্ষকরা ক্লাসে যোগ দিয়েছেন।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

পদ্মা সেতুর জটিলতা দূর হচ্ছে!

পদ্মা সেতু হবেই’-একটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম। এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এমন কথা তিনি আগেও বলেছেন কিন্তু হয়নি। বরং বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি বাতিল করায় সঙ্কট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ‘পদ্মা সেতু হবেই’ অর্থমন্ত্রী যখন বলেছেন তখন বিশ্বব্যাংকের আগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার মতো একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মনে হচ্ছে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে, আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী ওই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বব্যাংক তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করুক এর পক্ষে পৃথিবীর অনেক প্রভাবশালী দেশ বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজিনা নিজেই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইংল্যান্ড, ভারতসহ বেশ কিছু দেশ ও সংস্থা ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনা করার পক্ষে কাজ করছে। এদিকে এডিবির মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) বাংলাদেশ সফর করতে এসে অর্থমন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করার পর বলেছেন আমি নিশ্চিত যে পদ্মা সেতু হবেই। ৩১ আগস্ট ছিল এডিবি ও জাইকার ঋণচুক্তির মেয়াদের শেষ তারিখ। ওইদিন তারা আরও কয়েক সপ্তাহ তাদের মেয়াদ বাড়িয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে দেনদরবার করার জন্য কয়েক সপ্তাহ সময় হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। তাতে আমাদের অর্থমন্ত্রী আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। আর তাই তিনি ওই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন পদ্মা সেতু হবেই।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হতে পারে

পৃথিবীর যে সকল দেশে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ধারাবাহিকভাবে দেশ শাসন করে থাকে এবং শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে সকল দেশে দলীয় সরকার বা ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। গণতান্ত্রিক শাসনের যতগুলো সুন্দরতম দিক রয়েছে তার মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের এই নিয়মটি অন্যতম একটি দিক। ওই সকল দেশে কখনই নির্বাচনের সময় নির্দলীয় অনির্বাচিত বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয় না। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্দলীয় বা অনির্বাচিত সরকারের কোনো অস্তিত্ব নেই। যারা গণতন্ত্রের জ্ঞান রাখেন তারাও এই সত্য জানেন। ’৯৫-৯৬ সালে যখন আমাদের দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন তুঙ্গে এবং বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলের দাবি মেনে ’৯৬ সালে আইন পাস করে তা প্রতিষ্ঠিত করে তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে বেশ কয়েকটি কলাম লিখেছিলাম অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায়। আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষের সেই দ্বিমতের কথা কারও চোখে পড়েছে বলে মনে হয় না। কিন্তু যারা সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন তাদের ওই সরকার ব্যবস্থার প্রশ্নে দ্বিমত পোষণ করতে ১৭-১৮ বছর লেগেছে। তারাই অর্থাত্ মহাজোট ক্ষমতায় এসে সেই ব্যবস্থা সংসদে বাতিল করেছে, যা নিয়ে আজ সৃষ্টি হয়েছে নতুন সঙ্কট।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

‘ভালোমন্দ যাহাই আসুক-সত্যরে লও সহজে’

এখন আর অস্বীকার করার উপায় নেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সরকার এক জটিলতার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে খুব শিগগির এই আবর্ত থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে পারবে না। কেউ পছন্দ করুক আর নাই করুক ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই সহজ ও বাস্তব সত্যটা মেনে নেওয়াই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। হতে পারে কারও কারও দৃষ্টিতে ব্যক্তি ইউনূস বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। তার গ্রামীণ ব্যাংক এবং ওই ব্যাংকের ব্যবসাও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু তিনি যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন এই সত্য সরকার ও দেশের একটি মহল মেনে নিতে না পারলেও বিশ্বের জনগণ ও ইতিহাস তাকে অস্বীকার করতে পারবে না। পৃথিবীতে অনেক নোবেল পুরস্কারই বিতর্কিত হয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। নোবেল পুরস্কার পাওয়া অনেক ব্যক্তি অন্য অপরাধের কারণে তাদের দেশে কারাগারে যেতে বাধ্য হয়েছেন। চীন-রাশিয়ায় তো একাধিক নোবেল লরিয়েট নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে তাদের নোবেল বিজয়ের ইতিহাস মুছে যায়নি। অস্বীকার করার উপায় নেই গত প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশ্বের নোবেল পুরস্কারই সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার। নানা বিতর্কের জটাজালে জড়িয়ে গেলেও নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ও গুরুত্ব কমে যায়নি।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

আলোচনায় বসাই মঙ্গলজনক

সরকারের পক্ষে শেখ হাসিনার দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। দলীয় এক ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো কিছুই মেনে নেওয়া হবে না। অন্য কোনো সরকারের অধীনে দেশে নির্বাচনও হতে দেওয়া হবে না। বিএনপিই ’৯৫-তে তত্কালীন আওয়ামী লীগসহ বিরোধী জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিয়েছিল। সংসদ ভেঙে দিয়ে বিরোধী মহলের অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করাতে হয়েছিল।
খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ‘অন্তর্বর্তী’ সরকারের প্রস্তাব। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার স্বাভাবিক সুযোগ আর নেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও জাতীয় সংসদ কর্তৃক ওই ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র আবার সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে তা পুনর্বহাল করা সম্ভব। আর সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ ও মহাজোটেরই রয়েছে। বিএনপি বা তাদের জোট এখন পর্যন্ত দেশে এমন বিশাল কোনো গণআন্দোলন তৈরি করতে পারেনি যে সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে বিরোধী দলের দাবি মেনে নেবে। বিএনপিকে সার্বিক পরিস্থিতি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। তা হলে তারা দেখতে পাবে-আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল যার তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে তাদেরকে আন্দোলনের দ্বারা ক্ষমতাচ্যুত করা বা তাদের দাবি মানতে বাধ্য করার ক্ষমতা তাদের নেই।

Syndicate content