Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's blog

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কী

গাজায় ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের এক মাস পূর্ণ হল। ৮ জুলাই শুরু হওয়া এ সামরিক আগ্রাসন তথা ‘অসম যুদ্ধে’ ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৯০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে। এ হামলায় এ পর্যন্ত ৪০০ কোটি ডলার বা ৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ‘যুদ্ধ’ বেশকিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে একটা প্রশ্নের মাঝে ফেলে দিয়েছে। প্রথমত, এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে ইসরাইলি নেতারা পশ্চিমতীর নিয়ন্ত্রণকারী আল ফাতাহ গ্র“পের সঙ্গে এক ধরনের সহাবস্থানে যেতে রাজি থাকলেও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে ইসরাইলের জন্য এক ধরনের ‘হুমকি’ বলে মনে করে। পশ্চিমতীর আর গাজা নিয়েই একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু এর কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই। ২০১২ সালে পিএলওকে জাতিসংঘের ‘নন মেম্বার অবজার্ভার স্ট্যাটাস’ দেয়া হয়েছে। ইসরাইল এ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে না।
দকদকদ

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভক্তি প্রসঙ্গে এরশাদের মন্তব্য

মহাজোট সরকারের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে ঢাকাকে এক করা হবে। গত ২৭ জানুয়ারি আইডিইবি মিলনায়তনে 'লোকাল গভর্নমেন্ট ফর দ্য বেটার রুরাল লাইফ অ্যান্ড সাস্টেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট : কনটেক্সট অ্যান্ড ইন্টারভেনশন' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন। দৈনিক যায়যায়দিন-এ সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে গত শনিবার। গত ২৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে 'স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন সংশোধনী) বিল-২০১১ পাস হয়েছে। সংসদে এই বিলটি পাস হওয়ার পর ঢাকা এখন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণে দুভাগে ভাগ হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ডিসিসির বিভক্তির প্রতিবাদে গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালও পালন করেছে। শুধু তাই নয়, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ডিসিসির মেয়র সাদেক হোসেন খোকা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছেন। হাইকোর্ট সরকারকে এই সিদ্ধান্ত কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে ৪ সপ্তাহ সময়ও দিয়েছেন। তারপরও যা বাস্তবতা তা হচ্ছে সরকার ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের জন্য দুজন প্রশাসক নিয়োগ করেছে। বলতে দ্বিধা নেই সরকারের সমর্থক বেশকিছু বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বও ঐতিহ্যম-িত ঢাকার এই বিভক্তিকে মেনে নেননি। সভা-সেমিনারে তারা এর সমালোচনা করেছেন। এখন করলেন এইচএম এরশাদ। এই বিভক্তির ফলে এখন ডিসিসির দক্ষিণে পড়েছে ৫৬ ওয়ার্ড, আর উত্তরে পড়েছে ৩৬টি।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত্

গত ২৫ জানুয়ারি সকালের খবর পত্রিকায় প্রথম পাতায় যে ছবিটি ছাপা হয়েছে, তাতে করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবিষ্যত্ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ছাত্রলীগের কয়েক সশস্ত্র কর্মী হাতে বঁটি নিয়ে ছাত্রলীগেরই অপর পক্ষকে ধাওয়া করছে। কোনো কোনো পত্রিকায় কাটা রাইফেল হাতে ছাত্রলীগ কর্মীর ছবিও ছাপা হয়েছে। এই যে ছবি, এই ছবি কী বলে? জগন্নাথ একসময় যখন কলেজ ছিল, তার একটি ‘চরিত্র’ ছিল, যা উচ্চ শিক্ষার পরিবেশের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ছাত্রনেতাদের দাপটে শিক্ষক, অধ্যক্ষ কিংবা স্থানীয় জনগণ ছিল অসহায়। ‘ভর্তি বাণিজ্য’ ছিল অর্থ অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। একসময় জগন্নাথ কলেজ যখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নীত হল, তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। একটি নতুন বিশ্ববদ্যালয় অনেক সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটে চলেছে এবং ছাত্ররাজনীতি যে পর্যায়ে চলে গেছে, তা যদি নিয়ন্ত্রণের মাঝে আনা না যায়, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত্ অন্ধকার। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সেই পুরনো ঐতিহ্য থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। তথাকথিত ‘ছাত্ররাজনীতি’ অতীতে জগন্নাথ কলেজের ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

আস্থার একটা জায়গা তৈরি হয়েছে

ছাত্রীকে যৌনকর্মী সাব্যস্ত করায় ইউএনওকে হাইকোর্ট তলব করেছেন। এ ধরনের একটি সংবাদ ছাপা হয়েছে সকালের খবর-এ, গত ১৮ জানুয়ারি। একজন ইউএনও একজন স্নাতক ছাত্রীকে পতিতা হিসেবে রায় দিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল জাতীয় দৈনিকে। ওই রিপোর্টটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের নজরে আনা হলে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ইউএনওকে তলব করেন। গত ২৩ জানুয়ারি ইউএনও হাইকোর্টে উপস্থিত হন। মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতীতে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এমন অনেক রায় দিয়েছেন, যা আমাদের আশান্বিত করেছে। আমরা একটা আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছি। ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সেদিন উপাচার্য ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেননি। কিন্তু হাইকোর্টের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছিল ওই সংবাদে। তখন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিলেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেও জাবিতে ফেইসবুক সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলাম। সেদিন উপাচার্যকে লিখিতভাবে জানানোর পরও উপাচার্য অভিযোগটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেননি। হাইকোর্টের ওই রায়ের পর (ফেইসবুক সংক্রান্ত) আমি আশা করব জাবির উপাচার্য ফেইসবুক কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত করবেন। হাইকোর্ট বিষয়টি দেখবেন, সেটাও আমি আশা করব। কেননা আমাদের আস্থার জায়গাটা তো ওই হাইকোর্ট।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি

শেষ পর্যন্ত যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা-ই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির সার্চ কমিটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রপতি ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে এই সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। এর আগে বিএনপি বলে আসছিল নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনঃ প্রবর্তন। বিএনপি তার এই দাবির সপক্ষে চারটি লংমার্চ পর্যন্ত করেছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামে লংমার্চ শেষে অনুষ্ঠিত জনসভায় লাখ লাখ লোকের উপস্থিতিতে বিএনপি নেতারা যে উৎসাহী হবেন, তা তো অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একটি সমঝোতা কিভাবে সম্ভব, সেটাই বড় প্রশ্ন এখন। সরকার একটি সার্চ কমিটি গঠন করবে। যদিও সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ে রাষ্ট্রপতির অধিকার সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রপতির এ ধরনের 'বিশেষ অধিকারের' কোনো কথা বলা নেই। সংবিধানের ৪৮(৩)-এ বলা আছে, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করবেন, যেখানে তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এর বাইরে তিনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন (এ ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত), তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে বাধ্য। আইনি ব্যাখ্যায় রাষ্ট্রপতি এখন সার্চ কমিটি গঠনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। আমি এতে আপত্তির কিছু দেখি না। রাষ্ট্রপতি আমাদের, এ জাতির অভিভাবক। আইনি ব্যাখ্যায় যা-ই থাকুক, রাষ্ট্রপতি একটি উদ্যোগ নিয়েছেন।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

অধ্যাপক মামুন আমায় ক্ষমা করবেন

অধ্যাপক এএ মামুন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমতিরি নবনির্বাচিত সভাপতি। গত ১৩ জানুয়ারি সমকালসহ প্রতিটি জাতীয় দৈনিকে অধ্যাপক মামুনের কান্নার ও লাঞ্ছনার কাহিনী ছাপা হয়েছে। মামুনের এ কান্নার ছবি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার দুঃখ হয়, আমরা মামনুকে লাঞ্ছনার হাত থেকে বাঁচাতে পারলাম না। যারা তাকে লাঞ্ছনা করেছে, তারা আমার সহকর্মী, শিক্ষক। তারা ওই ঘটনায় কতটুকু দায়ী আমি বলতে পারব না। কেননা শিক্ষক সমিতির ওই সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু একজন শিক্ষক যখন লাঞ্ছিত হন, এর ভাগীদার আমিও। কেন একজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হবেন? তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি। সাধারণ শিক্ষকদের ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি হিসেবে তার একটি দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের ক্ষোভ থাকবে, ওটা স্বাভাবিক। জুবায়ের তো আমাদের সন্তানের মতো। আমার সন্তানকে যদি কেউ হত্যা করে, আমার তাতে রিঅ্যাক্ট করার কথা। সাধারণ শিক্ষকরা সেই কাজটিই করেছেন। তারা প্রতিবাদী হয়েছেন। হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেছেন। আর শিক্ষকদের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তিনি একটি দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে তিনি লাঞ্ছনার শিকার হবেন, এটা কাম্য হতে পারে না।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

একুশ শতকের বিপ্লব

সনাতন বিপ্লবের ধারা বদলে যাচ্ছে। একুশ শতকে বিপ্লব পরিচালিত হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে, নতুন প্রেক্ষাপটে। নিউইয়র্কের ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলন সম্পর্কে যারা খোঁজখবর রাখেন, তারা জানেন গত ৩ জানুয়ারি (২০১২) এই আন্দোলন তার ১০৭ দিন অতিক্রম করেছে। এটা বিপ্লবের একটা নতুন দিক। অসমতা আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে মানুষ বিপ্লব করেছে। এটা সনাতন। এতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৮১৫) সংগঠিত করেছিল কৃষকরা। রুটির দাবিতে প্যারিসে রুটির দোকান আক্রমণ করেছিল। ফরাসি সমাজে বৈষম্য ছিল। রাজার স্বৈরাচারী মনোভাব ছিল। সাধারণ মানুষ ছিল অবহেলিত, নিষ্পেষিত, শোষিত। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই জনতা স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে বিপ্লবের সূচনা করেছিল। ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গে রাশিয়ার বিপ্লবের (১৯১৭) মিল নেই। ফ্রান্সে বিপ্লবের পর যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তার সঙ্গে বিপ্লব-পরবর্তী রাশিয়ার সমাজ ব্যবস্থার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু মিল আছে এক জায়গায়-অসমতা, দারিদ্র্য আর বৈষম্য যে বিপ্লবের জন্ম দিয়েছিল ফ্রান্সে, সেই মানসিকতাই রাশিয়ায় কৃষক ও শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করেছিল বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে। আজ এত বছর পরও নিউইয়র্ক থেকে শুনতে পাচ্ছি বৈষম্যের কাহিনী। এই ‘অকুপাই মুভমেন্ট’ নতুন এক বিপ্লবের সূচনা করেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে। এই ‘মুভমেন্ট’ ছড়িয়ে যাচ্ছে এক শহর থেকে অন্য শহরে। আজ ‘আরব বসন্ত’ আরব বিশ্বে যে পরিবর্তন ডেকে এনেছে, তার সঙ্গেও মিল আছে আমেরিকার ‘অকুপাই মুভমেন্ট’-এর। নিউইয়র্কের ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আর ওয়াশিংটনের October ২০১১ Movement একই সূত্রে গাঁথা।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

পররাষ্ট্রনীতি : তুলনামূলক বিচারে সফলতা কম

মহাজোট সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে গত তিন বছরে যে অভিযোগটি পুষ্ট, তা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা ও ভারতীয় স্বার্থের ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর (২০১০) ও ফিরতি সফরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় আসা (২০১১) ছিল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। শুধু তা-ই নয়, সোনিয়া গান্ধী এবং একাধিক ভারতীয় মন্ত্রীর ঢাকা সফর গেল বছর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে একটি উচ্চমাত্রায় পেঁৗছে দিয়েছে। অন্যদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে এই তিনটি দেশের অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই জাতীয় স্বার্থ সব সময় রক্ষিত হয়নি, এমন অভিযোগ উঠেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টা যখন মুখ্য ভূমিকা পালন করেন, তখন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিগত বছরে এ প্রশ্নটি বারবার উঠেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এর ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, যিনি গত তিন বছরে সবচেয়ে বেশি দিন বিদেশে কাটিয়েছেন।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

ইরাক নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই গেল

যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আগ্রাসনের ৯ বছর পর ১৭ ডিসেম্বর ইরাক থেকে তার সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ইতিহাসে এই ইরাকি আগ্রাসন এখন কিভাবে চিহ্নিত হবে? ২০০৩ সালের ২০ মার্চ ইরাকের কাছে তথাকথিত WMD (Weapons of Mass Destruction) আছে, এই অভিযোগ তুলে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী ইরাক আক্রমণ করেছিল। ৯ এপ্রিল তারা দখল করে নিয়েছিল বাগদাদ। তখনো জীবিত ছিলেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেননি। ডিসেম্বরে নিজ শহর তিকরিতের পার্শ্ববর্তী একটি ছোট্ট শহর আদদাওরে মাটির নিচে একটি গর্তে লুকানো অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারে তার ফাঁসি হয়েছিল। ২০০৩ থেকে ২০১১_সময়টা দীর্ঘ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্জনটা কী? কিংবা ইরাকিরাই বা এই আগ্রাসন থেকে কী পেল?

ইরাক আগ্রাসনের ঠিক তিন দিন আগে ১৭ মার্চ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টিভি ভাষণে সম্ভাব্য ইরাক আক্রমণের একটা যুক্তি দিয়েছিলেন এভাবে, 'We will deliver the food and medicine you need. We will tear down the apparatus of terror and we will help you to build a new Iraq that is prosperous and free'। ইরাকি জনগণকে বুশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তাদের খাদ্য ও ওষুধপত্র দেবেন। একটি সমৃদ্ধিশালী ইরাক তিনি উপহার দেবেন।

Dr.Tareque.Shamsur.Rahman's picture

অনেক কার্বন নিঃসরণ হলো বটে...

আরও একটি ব্যর্থ জলবায়ু সম্মেলন হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। কপ-১৭ নামে পরিচিত এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল ১৯৫টি দেশ। বিশ্বের উষ্ণতা রোধকল্পে জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটোতে ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বিশ্বের উষ্ণতা রোধকল্পে একটি চুক্তি করেছিলেন। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। এ কারণেই নতুন একটি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে সাগরঘেঁষা দেশগুলোর জন্য ডারবান সম্মেলন ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেখা গেল উন্নত তথা শিল্পোন্নত দেশগুলোর অসহযোগিতার কারণে ডারবানেও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস করার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হলো না। গত কয়েক বছর ধরেই কপ (কমিটি অব দ্য পার্টিস) সম্মেলন হয়ে আসছে। প্রতিটি সম্মেলনের আগেই সম্মেলন নিয়ে অনেক আশার কথা শোনানো হয়। কিন্তু সম্মেলন শেষে দেখা যায়, বিশ্বের উষ্ণতা হ্রাসের ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে অতি সামান্যই। অথচ এসব সম্মেলনে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে তারা চেষ্টা করেন একটি চুক্তিতে উপনীত হতে। মজার কথা, সম্মেলনে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাসের কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হলেও, সম্মেলনে অংশ নেওয়া হাজার হাজার প্রতিনিধির আসা-যাওয়াতে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হয়। ডারবান সম্মেলন শেষে যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কমাতে একটি সর্বসম্মত চুক্তি করতে বিশ্বের সব দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। আগামী বছর থেকে এ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে এবং ২০২০ সাল থেকে ওই চুক্তিটি কার্যকর হবে। তবে একটি গ্রিন ফান্ড গঠনের ব্যাপারে শিল্পোন্নত দেশগুলো রাজি হয়েছে। এই ফান্ডের পরিমাণ হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার। ৪০ বিলিয়ন ডলার দিয়ে এই ফান্ড যাত্রা শুরু করবে। বিশ্বব্যাংক এই ফান্ডের ব্যবস্থাপনার তদারক করবে।

Syndicate content