Debabrata.Chakrabarty.Bishnu's blog

কিবরিয়া হত্যা মামলা : শুধু তদন্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে!

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি নিজ জেলা হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে এক রাজনৈতিক জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা মানুষ শাহ এ এম এস কিবরিয়া রক্তাক্ত হন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইরত শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে বাঁচানোর জন্য এর পর পরই ঢাকায় নিয়ে আসা হলেও সব ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। তিনি চিরবিদায় নেন বৈরী সময়ের হিংস্র ছোবলে, ওই দিনই রাত প্রায় ১২টায়। অভিযোগ আছে, কিবরিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় যখন হবিগঞ্জের জেলা সদর হাসপাতালে কাতরাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে ঢাকায় আনতে বা পাঠাতে স্থানীয় এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসন অনেক কালক্ষেপণ করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তখনই তিনি প্রায় চলে যান জীবনের শেষ প্রান্তে। তৎকালীন (২০০১-২০০৬) সরকারের শাসনামলে বিরোধীদলীয় অসংখ্য নেতা-কর্মী অপশক্তির নির্যাতন-হামলার শিকার হন। সেসব নির্যাতন-হামলার পেছনে তৎকালীন শাসক জোটের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ আছে। শুধু নির্যাতন-হামলাই নয়, প্রাণও কেড়ে নেওয়া হয় অনেকেরই। শাহ এ এম এস কিবরিয়া এবং আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ড তারই সাক্ষ্য বহন করছে। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর জনবহুল এলাকায় এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যে জনসভায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা করছিলেন। শেখ হাসিনা তখন অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় আইভী রহমানসহ ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এখনো বহু মানুষ ওই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সবই জানা কথা, পুরনো কথা।

তৈরি পোশাক শিল্প খাত সম্পর্কিত আশা-জাগানিয়া প্রতিবেদন

বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সময় অতিক্রম করছে। অর্থনীতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট খাতগুলো বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলেছে। দেশের অর্থনীতির বর্তমান চালচিত্র নানা মহলে খুব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সঙ্গে পর্যালোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাত অর্থনীতির বড় জোগানদার। নানা রকম প্রতিকূলতা-প্রতিবন্ধকতা (বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা-অস্থিতিশীলতা) ডিঙিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা একটি সুনির্দিষ্ট জায়গা করে নিতে পেরেছেন। বিগত বিশ্বমন্দা পরিস্থিতির সময়ও আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ কোনো ধাক্কা লাগেনি। কিন্তু আমাদের সৃষ্ট নানা রকম সমস্যা-সংকট দেশ-জাতির অগ্রগতির পথে কখনো কখনো এমন অন্তরায় সৃষ্টি করছে, যা সামগ্রিক সম্ভাবনার দরজায় কুঠারাঘাত করে চলেছে। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে ইতিমধ্যে এমন আঘাত লেগেছে বহুবার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর জন্য আমাদের এ খাতের ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট খেসারতও দিতে হয়েছে। এর বিরূপ ধাক্কা লেগেছে জাতীয় অর্থনীতিতে।

আসকের প্রতিবেদন : যেসব কারণে কাটে না আঁধার

২০১২ সালের প্রথম দিন ২০১১ সালের দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তাদের গবেষণা কিংবা পর্যবেক্ষণমূলক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর (২০১১) দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন না করে সামাজিকভাবে শক্তিশালী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়া কিংবা গুপ্তহত্যা এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কৌশল পাল্টে গেছে। আগে ক্রসফায়ার হতো, এখন গুম হচ্ছে। অভিযোগগুলো বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

আসক তাদের প্রতিবেদনে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে, এসব নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই নানা মহলে কথা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিশেষ কিছু উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে উল্টো তাদেরই পক্ষাবলম্বন করে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। এই চিত্র পুরনো। এই বৃত্ত থেকে এ দেশের কোনো সরকারই এ যাবৎ বেরিয়ে আসতে পারেনি বিধায় আইনি সংস্থাগুলোর বেআইনি তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে প্রকাশ, পুলিশ মারাত্মকভাবে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। চেকপোস্ট বসিয়ে নতুন করে রাস্তায় মানুষকে হয়রানি শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির নামে স্বেচ্ছাচারিতা চালাচ্ছে তারা।

টিআইর প্রতিবেদন : প্রত্যাখ্যানের গতানুগতিক ধারা

পুলিশ যেকোনো রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় প্রমাণ মেলে, প্রচার কিংবা সাফাই গাওয়ার সব রকম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এ দেশে পুলিশ সংস্থাটি ব্যাপক প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। 'পুলিশ জনগণের বন্ধু'_এই আপ্তবাক্যের অসারতাও চোখে পড়ে প্রায় পদে পদেই। পুলিশ এ দেশে এখন পর্যন্ত জনগণের বন্ধু হতে পারেনি_এটা দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও সত্য। পুলিশ যদি কোনো দেশে জন-আতঙ্কের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সে দেশে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা যত রকম ইতিবাচক কথা বলারই চেষ্টা করুন না কেন, তা ধোপে টেকে না। আমরা বিশ্বাস করি কিংবা এই বিশ্বাস লালনও করতে চাই, পুলিশ বাহিনীতে নীতিনিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী, দক্ষ, দূরদর্শী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি এ প্রশ্নও দাঁড়ায়, সে সংখ্যা কত? উত্তর সন্ধানের আগেই মাথা হেঁট হয়ে যায়, লজ্জার ছায়ায় মুখ ঢেকে যায়।

কয়েক মাস আগে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের কিঞ্চিৎ অগ্রগতির খবর মিললেও এর রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি টিআইর 'ডেইলি লাইভস অ্যান্ড করাপশন : পাবলিক অপিনিয়ন ইন সাউথ এশিয়া' জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনটি আবার আমাদের পেছনের দিকে নিয়ে গেছে।

» Topics:

গুপ্তহত্যা : নিরাপত্তার চাদরে ছিদ্র বাড়ছে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অপহরণ, গুম ও খুন ঘটেই চলছে। গুম ও লাশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন নাম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সও (এএফডি) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ব্যাপারে তাদের চরম উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গুমের ঘটনার সাম্প্রতিক বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনক। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা, দায়মুক্তির চর্চা ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার দিকগুলোই ফুটে উঠেছে। গুপ্তহত্যা বিষয়ে এএফডির বিবৃতিতে অতিরঞ্জন কিছু রয়েছে_বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। এখানে-সেখানে মিলছে লাশ। দৃশ্য হিসেবে, সংবাদ হিসেবে হত্যার নৃশংসতার বিচারে ঘটনাগুলো কোনোভাবেই সাধারণ ঘটনা নয়, বরং ভয়ংকর। এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর বর্ণনা থেকে কিংবা হত্যার ধরন এবং এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর রহস্যজনক মৌন ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের আড়ষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য শোনার পর মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে_গড়পড়তা হত্যাকাণ্ড থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের নকশা একেবারেই আলাদা কিংবা ভিন্ন।

অতীতেও লক্ষ করা গেছে, দেশে যখনই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তখনই সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড বেপরোয়া গতি লাভ করেছে এবং অপহরণ, গুম, খুনের মতো ঘটনাও বেড়েছে। এবারও এমনটিই লক্ষ করা যাচ্ছে। কোনো দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যদি বলেন, পত্রপত্রিকা পড়ে এসব বিষয় তিনি জ্ঞাত হচ্ছেন কিংবা হয়েছেন, তাহলে খুব সহজেই ধারণা করা যায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে যেসব আইনি সংস্থা রয়েছে, তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কিংবা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে উদাসীনতা চরম পর্যায়ে পেঁৗছেছে। কারণ একজন মন্ত্রীর এসব বিষয় পত্রপত্রিকা পড়ে জানার কথা নয়, এর অনেক আগেই তাঁর কানে পেঁৗছে যাওয়ার কথা।

» Topics:

কবীর চৌধুরী : 'রাষ্ট্রদ্রোহী'র নৈতিকতার জয়

১৩ ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল সাড়ে ৮টা। অগ্রজ সহকর্মী আলী হাবিব ভাই প্রথমে কবীর স্যারের প্রয়াণের মর্মন্তুদ খবরটা দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মনে হলো, এ তো শুধু একটি জীবনের অবসান নয়, মহাজীবনের অবসান বলাটাই শ্রেয়তর। কয়েক প্রজন্মের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব কবীর স্যারের পরিচয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া ভার। জাতীয় অধ্যাপক, সাহিত্যিক, অনুবাদক, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, শিক্ষাবিদ, গবেষক, দক্ষ প্রশাসক ইত্যাদি শব্দ তাঁর নামের অগ্রভাগে যোগ করার পরও আরো কিছু বাকি থেকে যায়। তবে সব কিছুর ঊধর্ে্ব তিনি সর্বাগ্রে একজন পাহাড়সম মানুষ, যাঁর পুরো দেহটাই ছিল যেন হৃৎপিণ্ড। প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন অন্ধকারে বাতিঘর। আজ জীবন-মরণের সীমানা ছাড়িয়ে সব কিছুর ঊধর্ে্ব তিনি চলে গেলেন বটে, কিন্তু তাঁকে ভুলে থাকা অসম্ভব। এ শক্তিই বা আছে কার? না, তাঁকে ভুলে থাকা তো নয়ই, বরং আমাদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতি আমরা টের পাব সাংঘাতিকভাবে। এ জন্যই আমরা তাঁর কাছে থাকব তাঁর জন্যই চিরঋণী হয়ে।

মনে পড়ছে একটি ঘটনা। ওই ঘটনাটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অবশ্যই ঐতিহাসিকও বটে। রাষ্ট্রের দায় শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যাঁরা কাঁধে তুলে নিয়ে গণ-আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন, তাঁরা জাতির বিবেক। তাঁরা তৎকালীন বিএনপি সরকারের চোখে 'রাষ্ট্রদ্রোহী' বনেছিলেন এবং সেই ২৪ জনের অন্যতম ছিলেন কবীর চৌধুরী। আমাদের জানামতে, বিস্ময়কর ও বিশ্বে বিরল আরো একটি ঘটনার কথাও মনে পড়ছে। বিষয়টি হলো, একজন বিচারাধীন 'রাষ্ট্রদ্রোহী'র প্রয়াণে দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ।

» Topics:

মন্ত্রিসভায় রদবদল : চমক নয় মানুষ চায় সুফল

দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল। জনপ্রত্যাশা ছিল অন্য রকম, অর্থাৎ মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল। কিন্তু আপাতত তা হলো না। তবুও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটানো হলো ৫ ডিসেম্বর, ২০১১। নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই মন্ত্রীর দপ্তর বণ্টনের পাশাপাশি কয়েকজনের দপ্তর অদলবদল হয়েছে। গুঞ্জন আছে, শিগগিরই মন্ত্রিসভায় ফের বড় ধরনের রদবদল হবে। আগামী ৫ জানুয়ারি, ২০১২ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের তিন বছর পূর্তি হচ্ছে। 'মন্ত্রীদের আমলনামা প্রধানমন্ত্রীর হাতে'_এ রকম একটি সংবাদও খুব চাউর। গত তিন বছরে সরকারে স্থান পাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন হবে এরই ভিত্তিতে এমন

» Topics:

ছায়ানট : যেন আমাদের শান্তিনিকেতন

আমরা যাঁরা এ প্রজন্মের সদস্য, তাঁদের অনেকের কাছেই ছায়ানট শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ছায়ানট তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপ্তিতে কতটা বিস্তৃত এবং আমাদের সাংস্কৃতিক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনে কতটা শক্তিদাতা_এটুকু প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়জন তেমনভাবে জানেন? এ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সংস্কৃতির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন একটি দেশের সমাজ, রাজনীতি ও সামগ্রিক ক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এর নজির আমাদের সামনে আছে। যেমন_উদীচী, ক্রান্তি, সৃজনী, উন্মেষ প্রভৃতি। এই সংগঠনগুলো এ দেশের সামগ্রিক ক্ষেত্রে জাতির ক্রান্তিলগ্নে মানুষকে জাগিয়ে তুলতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে। আর ছায়ানট সাংস্কৃতিক বোধসম্পন্ন জাতি গঠন ও শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। ছায়ানট তার স্থির প্রত্যয়ে যাত্রার ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। এ পথ কখনো ছিল বন্ধুর, কখনো বা প্রতিবন্ধকতার কাঁটাযুক্ত।

২৫ ও ২৬ নভেম্বর ২০১১ ছায়ানট আয়োজন করেছিল দুই দিনব্যাপী বর্ণিল অনুষ্ঠানমালার। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সময়ে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল পুনর্মিলনীর, যেখানে 'নস্টালজিয়া' সংগত কারণেই খুব জেঁকে বসেছিল। রাজধানীর ধানমণ্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডের প্রায় বিপরীতে লাল-খয়েরি ইটের যে বিশাল ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা বাঙালি সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে এর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই।

» Topics:

নবাগত এমপিরা আবার সংবাদ শিরোনাম!

নবাগত সংসদ সদস্যরা আবারও নেতিবাচক অর্থে সংবাদ শিরোনাম হলেন। ক্ষমতার জোরে তাঁদের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি এখন আর রাখঢাকের মধ্যে নেই। ক্ষমতাবানরা ভুলে যান_ক্ষমতা, ক্ষমতার শত্রু-মিত্র, দুই-ই হতে পারে। এ কথাটি নতুন নয় বটে, কিন্তু ক্ষমতাবান রাজনীতিক কিংবা রাজনীতির নিয়ন্ত্রকরা এ সত্যটি আমলে নিতে চাননি, এখনো চান না। তবে এর মূল্য দলকে দিতে হয়। ক্ষমতাসীন অথবা ক্ষমতাবহির্ভূত ক্ষমতাবানদেরও দিতে হয়_এমন নজির আমাদের সামনেই আছে বিস্তর। ইতিহাস থেকে এ দেশে শিক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে যে অনাগ্রহ, উদাসীনতা কিংবা উপেক্ষা পরিলক্ষিত হয়, এর বিরূপ প্রভাব পড়ে জনজীবনে। কয়েক দিন ধরে পত্রপত্রিকায় নবাগত সংসদ সদস্যদের অনেকেই (বিশেষ করে ক্ষমতাসীন মহলের সংসদ সদস্যরা) নেতিবাচক অর্থে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছেন। ১৩ নভেম্বর ২০১১ কালের কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় 'প্রথমবার এমপি হয়েই ধরাকে সরা জ্ঞান' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুনর্বার যে তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তাতে সহজেই প্রতীয়মান হয়, এই নবাগতরা (তবে এর ব্যতিক্রমও আছেন, যদিও তাঁরা সংখ্যায় নগণ্য) সরকার, দল ও মহাজোটের ললাটে শুধু কলঙ্কতিলকই এঁকে দিচ্ছেন না, তাঁরা ক্রমেই দলের বোঝা এবং অবহনযোগ্যও হয়ে উঠছেন।

কারা প্রশাসন : পতনের শুরুটা জানা, কিন্তু শেষটা?

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মানবতা-সভ্যতা কাঁপানো যে মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটেছিল, তা বিশ্ববাসীর অজানা নয়। তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একদল বিপথগামী সেনা সদস্য ওই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চার অগ্রনায়ক তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, কামরুজ্জামান ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করেছিল। স্বঘোষিত, আত্মস্বীকৃত খুনিদের পরবর্তী সময়ে কিভাবে পুরস্কৃত করা হলো, ইনডেমনিটি দেওয়া হলো, সে ইতিহাসও সচেতন মহলের অজানা নয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ওই ইনডেমনিটি বাতিল করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করলেও তা আজ পর্যন্ত চূড়ান্ত রূপ পায়নি। কোনো অপরাধ বা হত্যাকাণ্ড যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়, তখন এর সুদূরপ্রসারী পরিণাম কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, বাংলাদেশ হলো এরই দৃষ্টান্ত। কারা প্রশাসনের পতনের শুরুটা সেখান থেকেই। এরপর ক্রমেই কারা প্রশাসনে অনাচার, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচার, দুর্নীতি আর ক্ষমতার অপব্যবহারের আস্ফালন যেভাবে বেড়ে চলে, তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ এত বড় অনাচার যেখানে দীর্ঘদিন থেকে যায় প্রতিকারহীন, সেখানে তো সব ঘটনাই নস্যি।

» Topics: