Badruddin.Umar's blog

Badruddin.Umar's picture

গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদী ক্রেতারা

গার্মেন্ট শ্রমিকদের মতো শোষিত ও নির্যাতিত শিল্প-কারখানা শ্রমিক অন্য কোনো কারখানায় নেই, কখনও ছিল না। ছোট ছোট কারখানায় শ্রমিক, বিশেষত শিশু শ্রমিকদের ওপর যে শোষণ-নির্যাতন হয়, সেটা ভয়াবহ। তার ওপর স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা দরকার, যা দেখা যায় না বললেই চলে। হাজার হাজার শ্রমিক এক-একটি কারখানায় কাজ করলেও দীর্ঘদিন, এই শিল্প শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই, গার্মেন্ট শ্রমিকদের অবস্থা নানা ধরনের ছোট ছোট কারখানা শ্রমিকদের মতোই থেকেছে। তাদের মজুরি গোড়ার দিকে এমন ছিল, যাতে একটি ছোট পরিবারের লোকদের নুন-ভাত খাওয়াও ছিল প্রায় অসম্ভব। তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, নিয়োগপত্র, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ কোনো অধিকারই ছিল না। নিজেদের এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কেউ আন্দোলন করলে তাকে তাৎক্ষণিক ছাঁটাই করা হতো।

Badruddin.Umar's picture

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্বেগ

সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের মুখ রক্ষা করতে ব্যস্ত। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে যথেষ্ট ঔদ্ধত্য থাকলেও এই ব্যর্থতার প্রতিফলনও তার মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্ব নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হবে (দৈনিক বর্তমান, ২৬.৯.২০১৩)। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই বলা দরকার যে, এ ধরনের কথা বলা সম্ভব হয় তখনই, যখন এই সম্ভাবনা দূরবর্তী হলেও দৃষ্টিগোচর হয়।

Badruddin.Umar's picture

ফেলানীকে হত্যা করেছে কারা?

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলায় বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ১৫ বছর বয়স্ক ফেলানী খাতুন বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয়। মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় ফেলানীর দেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরই ঝুলে ছিল। এ ঘটনার বিষয় পত্রপত্রিকাসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এভাবে ঝুলন্ত মৃতদেহের ছবি দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলেও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর হাতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রথম ছিল না।

Badruddin.Umar's picture

দেশ ও জনগণের পুরাতন শত্রুদের শাসনই মিসরে ফিরে এসেছে

১৪ আগস্টের গণহত্যার পর থেকে প্রত্যেক দিনই মিসরে সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত কায়রোয় একশ'র কাছাকাছি লোক নিহত হচ্ছেন। এরা সবাই সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান ও ক্ষমতা দখলের বিরোধী প্রতিরোধকারী ও নিরীহ জনগণের বিভিন্ন অংশ। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাজারের অনেক বেশি এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি, বলা চলে অসংখ্য। আপাতদৃষ্টিতে মিসরের এই সামরিক অভ্যুত্থানকে শুধু মিসরের সামরিক বাহিনীর কাজ মনে হলেও সম্ভবত এটা এমন এক চক্রান্তের পরিণতি যে চক্রান্তের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও গভীরভাবে জড়িত। দুনিয়াজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীকে দিয়ে 'গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার' যে খেলা চালিয়ে এসেছে এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছে মিসরের সামরিক অভ্যুত্থানও সে রকম এক প্রচেষ্টা।

Badruddin.Umar's picture

ভারতে বাংলাদেশের সব টিভি চ্যানেলের প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন?

নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মুদ্রিত ও বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকার বিষয় উল্লেখ করে তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সিএনএন, বিবিসি ইত্যাদি নির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত সে ধরনের কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারার কারণে প্রত্যেকটি সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী কাজ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদকালের শেষ পর্যায়ে এসে প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি!

Badruddin.Umar's picture

আমার বন্ধু সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ

আমি ও আমার পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম ওই বছরই। ঢাকা আমার কাছে সে সময় ছিল একেবারেই অপরিচিত জায়গা। ঢাকার সমাজের সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় ছিল না, যদিও ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বরে আমি এদিকে একবার বেড়াতে এসেছিলাম। সেই অবস্থায় এখানকার সমাজে আমার পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দিনে এ ক্ষেত্রে অবস্থান ও বিচরণ করেই আমি গড়ে তুলেছিলাম আমার নিজের সমাজ।

Badruddin.Umar's picture

স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব

জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা যেসব বিবেচনায় ভোট দেন তার সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনের পার্থক্য বরাবরই দেখা গেছে। কারণ, স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় সমস্যাগুলোই সামনে আসে এবং সেসব সমস্যার সমাধান যে কীভাবে করতে পারে তাকে কেন্দ্র করেই ভোটযুদ্ধ হয়। ইউনিয়ন, উপজেলা, মিউনিসিপ্যাল বা করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে যারা ক্ষমতায় থাকে বা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের কাজকর্মের বিচার হয় এসব নির্বাচনে। এ ক্ষেত্রে যে কোন দলের লোক এটার বিশেষ কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের সময় কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কোন দলের ক্ষমতাসীন লোক কী করেছে, তার থেকে কোন সরকার ও দল কী করেছে বা করতে পারে সেটাই হয় মূল বিবেচনার বিষয়। সেই বিবেচনা অনুযায়ী তারা প্রার্থীকে ভোট দেয়।

Badruddin.Umar's picture

ভাষা আন্দোলন ও পিয়ারু সরদার

ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সঠিক পরিচয় ও সে বিষয়ে সঠিক ধারণা খুব অল্প মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, যদিও নানা ঘটনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন এবং এ নিয়ে উচ্ছ্বাস ও আবেগ প্রকাশ এক সাধারণ ব্যাপার। প্রথম দিকে প্রায় সকলেই মনে করত, ভাষা আন্দোলন শুধু ছাত্র ও কিছু শিক্ষিত লোকের আন্দোলন। এখনও অধিকাংশ লোকের ধারণা তাই। ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা আন্দোলন মুষ্টিমেয় ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীর দ্বারা শুরু হলেও ১৯৪৮ সালেও এতে সাধারণ মানুষ ও রেল শ্রমিকদের কিছু অংশগ্রহণ ছিল। তবে ওই প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার স্থানীয় জনগণের বিশেষ কোনো সমর্থন ভাষা আন্দোলনের প্রতি ছিল না। উপরন্তু তার প্রতি তাদের ছিল এক ধরনের বিরূপ মনোভাব।

Badruddin.Umar's picture

কালো হাতির কালো মাহুত

অর্থমন্ত্রীর অবস্থা দাঁড়িয়েছে কালো হাতির কালো মাহুতের মতো। তিনি দুই লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে অনেক উদ্ভট ও অবাস্তব বিষয় থাকলেও কালো টাকা সাদা করার যে ব্যবস্থা তিনি এই বাজেটে করেছেন তার মধ্যে তাদের সরকারের, শুধু তাদের সরকারেরই নয়, বাংলাদেশের শাসকশ্রেণীর চরিত্র ভালোভাবেই খুলে দেখিয়েছেন। এ চরিত্র নতুন বা অপরিচিত নয়। উপরন্তু এর সঙ্গে এ দেশের জনগণের ভালো পরিচয়ও আছে। এ ক্ষেত্রে তিনি তাদের পুরনো মদ নতুন বোতলে ঢেলে পরিবেশন করা ছাড়া আর কিছুই করেননি।

Badruddin.Umar's picture

ভোট দিয়ে জনগণ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি কেন পাঠান?

আজ ৩ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, এই অধিবেশনে বিএনপি যোগদান করবে। ১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দলের দ্বারা সংসদ অধিবেশন বর্জনের যে সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে তা বিগত বাইশ বছর ধরে জায়মান আছে। ক্ষমতায় যেতে না পারলেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একইভাবে মনে করে যে, জাতীয় সংসদ ক্ষমতাসীন দলের জমিদারি এবং বিরোধী দল হিসেবে সংসদে তারা প্রজাতুল্য! কাজেই বিরোধী দলে থেকে জাতীয় সংসদে বসার অর্থ হলো সেখানে প্রজার ভূমিকা পালন করা!

Syndicate content