Badruddin.Umar's blog

Badruddin.Umar's picture

সাম্রাজ্যবাদী সাহায্য ও আন্তর্জাতিক নীরবতার কারণেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা

হিটলারের ইহুদি নিধন যজ্ঞের (holocaust) হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জীবিত ৪০ জন এবং সেই আক্রমণে নিহত অন্যদের ২৮৭ জন বংশধর গাজায় ইসরায়েলি হামলায় দুই হাজারের বেশি প্যালেস্টাইনের মৃত্যুকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দিয়েছেন। International Jewish Anti-Zionist network ইসরায়েলবিরোধী এই ইহুদিদের একটি চিঠি নিউইয়র্ক টাইমস একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে (ডেইলি স্টার, ২৫.৮.২০১৪)। সংবাদের পরিবর্তে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বিবৃতিটি প্রচারের কারণ যে সংবাদ হিসেবে এটি প্রকাশে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার আপত্তি এতে সন্দেহ নেই। যে বিষয়টি অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও উপরোক্ত পত্রিকাটি সংবাদ হিসেবে না ছেপে বিজ্ঞাপন হিসেবে ছাপার থেকেই তা বোঝা যায়। এর থেকে আরও বোঝা যায় এই ধরনের পত্রিকার চরিত্র। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের সংবাদ ছাপতে রাজি না হলেও অর্থের বিনিময়ে তা ছাপতে এদের আপত্তি নেই! এই হলো পুঁজিবাদী সংবাদমাধ্যমের নৈতিক চরিত্র!
gaza
ইসরায়েলবিরোধী ইহুদিদের এই চিঠিতে বলা হয়েছে, 'বিশ্বের নীরবতার থেকেই গণহত্যার শুরু হয়। প্যালেস্টাইনি জনগণের চলমান গণহত্যা থেকে নিয়ে সব ধরনের জাতিবিদ্বেষের অবসান ঘটানোর জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তুলতে হবে এবং আমাদের সম্মিলিত শক্তি ব্যবহার করতে হবে।' ইসরায়েলি সমাজে যেভাবে প্যালেস্টাইনিদের অমানবিকীকরণ ঘটানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে শঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইসরায়েলে অর্থ এবং কূটনৈতিক সাহায্য প্রদানেরও সমালোচনা এই চিঠিতে করা হয়েছে।

Badruddin.Umar's picture

বর্তমান সরকার বাকশাল সরকারেরই নতুন সংস্করণ

'সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই বিচারক অপসারণ বিল' শীর্ষক একটি রিপোর্ট সমকালের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ হয়েছে (১৭.৮.২০১৪)। এতে বলা হয়েছে, 'বিচারক অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে জাতীয় সংসদ। এ জন্য সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। খসড়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, 'সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং অপর দু'জন জ্যেষ্ঠ বিচারকের সমন্বয়ে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭-এর পরিপন্থী। অভিযুক্ত বিচারক ও কাউন্সিলের সদস্যরা একই সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে কাউন্সিলের দেওয়া সুপারিশের নিরপেক্ষতা ও যথার্থতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে

Badruddin.Umar's picture

বাংলাদেশে লঞ্চ ও সড়ক দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ব্যাপার

বাংলাদেশের মতো ‘অভিশপ্ত’ দেশ দুনিয়ায় কমই আছে। এখানে এমন কোনো দুর্ঘটনা নেই যা নিয়মিতভাবে ও বড় আকারে ঘটে না। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সড়ক ও নৌ দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য। বছরে হাজার হাজার লোক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। বস্তুতপক্ষে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে যত লোক নিহত হন, তার সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম হবে না। আমেরিকার আফগান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানেও বছরে এত লোকের মৃত্যু হতো না। এখনও ইরাকে যে গৃহযুদ্ধ হচ্ছে, তাতেও নিহতের সংখ্যা এত নয়। অথচ বাংলাদেশে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই নিয়মিতভাবে বছরে হাজার হাজার মৃত্যুর যে ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে সরকারের কোনো উদ্বেগ নেই এবং প্রকৃত উদ্বেগ না থাকার জন্য এটা বন্ধের কোনো ব্যবস্থা তাদের দিক থেকে নেই।
hkhkh
‘স্বাভাবিক’ ব্যাপার হিসেবে ধরে নিয়ে তারা এই মৃত্যু বন্ধ বা অন্তত মৃত্যুর হার কমিয়ে আনার কোনো ব্যবস্থাই করে না। ব্যবস্থার নামে যা তারা করে সেটা ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। কাজেই হিসাব নিলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসার পরিবর্তে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

Badruddin.Umar's picture

গার্মেন্ট শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদী ক্রেতারা

গার্মেন্ট শ্রমিকদের মতো শোষিত ও নির্যাতিত শিল্প-কারখানা শ্রমিক অন্য কোনো কারখানায় নেই, কখনও ছিল না। ছোট ছোট কারখানায় শ্রমিক, বিশেষত শিশু শ্রমিকদের ওপর যে শোষণ-নির্যাতন হয়, সেটা ভয়াবহ। তার ওপর স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা দরকার, যা দেখা যায় না বললেই চলে। হাজার হাজার শ্রমিক এক-একটি কারখানায় কাজ করলেও দীর্ঘদিন, এই শিল্প শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই, গার্মেন্ট শ্রমিকদের অবস্থা নানা ধরনের ছোট ছোট কারখানা শ্রমিকদের মতোই থেকেছে। তাদের মজুরি গোড়ার দিকে এমন ছিল, যাতে একটি ছোট পরিবারের লোকদের নুন-ভাত খাওয়াও ছিল প্রায় অসম্ভব। তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি, ওভারটাইম, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, নিয়োগপত্র, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ কোনো অধিকারই ছিল না। নিজেদের এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কেউ আন্দোলন করলে তাকে তাৎক্ষণিক ছাঁটাই করা হতো।

Badruddin.Umar's picture

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্বেগ

সিরিয়ায় সামরিক হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের মুখ রক্ষা করতে ব্যস্ত। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা যেসব কথা বলেছেন, তার মধ্যে যথেষ্ট ঔদ্ধত্য থাকলেও এই ব্যর্থতার প্রতিফলনও তার মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বিশ্ব নেতৃত্বে শূন্যতার সৃষ্টি হবে (দৈনিক বর্তমান, ২৬.৯.২০১৩)। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই বলা দরকার যে, এ ধরনের কথা বলা সম্ভব হয় তখনই, যখন এই সম্ভাবনা দূরবর্তী হলেও দৃষ্টিগোচর হয়।

Badruddin.Umar's picture

ফেলানীকে হত্যা করেছে কারা?

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলায় বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ১৫ বছর বয়স্ক ফেলানী খাতুন বিএসএফের কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত হয়। মৃত্যুর পর বেশ কিছু সময় ফেলানীর দেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরই ঝুলে ছিল। এ ঘটনার বিষয় পত্রপত্রিকাসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এভাবে ঝুলন্ত মৃতদেহের ছবি দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলেও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর হাতে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনা সেটাই প্রথম ছিল না।

Badruddin.Umar's picture

দেশ ও জনগণের পুরাতন শত্রুদের শাসনই মিসরে ফিরে এসেছে

১৪ আগস্টের গণহত্যার পর থেকে প্রত্যেক দিনই মিসরে সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে সে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত কায়রোয় একশ'র কাছাকাছি লোক নিহত হচ্ছেন। এরা সবাই সামরিক বাহিনীর অভ্যুত্থান ও ক্ষমতা দখলের বিরোধী প্রতিরোধকারী ও নিরীহ জনগণের বিভিন্ন অংশ। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে হাজারের অনেক বেশি এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি, বলা চলে অসংখ্য। আপাতদৃষ্টিতে মিসরের এই সামরিক অভ্যুত্থানকে শুধু মিসরের সামরিক বাহিনীর কাজ মনে হলেও সম্ভবত এটা এমন এক চক্রান্তের পরিণতি যে চক্রান্তের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও গভীরভাবে জড়িত। দুনিয়াজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীকে দিয়ে 'গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার' যে খেলা চালিয়ে এসেছে এবং এখনও চালিয়ে যাচ্ছে মিসরের সামরিক অভ্যুত্থানও সে রকম এক প্রচেষ্টা।

Badruddin.Umar's picture

ভারতে বাংলাদেশের সব টিভি চ্যানেলের প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন?

নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মুদ্রিত ও বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতি না থাকার বিষয় উল্লেখ করে তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সিএনএন, বিবিসি ইত্যাদি নির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা পরিচালিত হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত সে ধরনের কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারার কারণে প্রত্যেকটি সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেল তাদের নিজস্ব নীতি অনুযায়ী কাজ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদকালের শেষ পর্যায়ে এসে প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে, তথ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি!

Badruddin.Umar's picture

আমার বন্ধু সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ

আমি ও আমার পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে ঢাকা এসেছিলাম ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম ওই বছরই। ঢাকা আমার কাছে সে সময় ছিল একেবারেই অপরিচিত জায়গা। ঢাকার সমাজের সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় ছিল না, যদিও ১৯৪৪ সালের ডিসেম্বরে আমি এদিকে একবার বেড়াতে এসেছিলাম। সেই অবস্থায় এখানকার সমাজে আমার পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম দিনে এ ক্ষেত্রে অবস্থান ও বিচরণ করেই আমি গড়ে তুলেছিলাম আমার নিজের সমাজ।

Badruddin.Umar's picture

স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব

জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা যেসব বিবেচনায় ভোট দেন তার সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনের পার্থক্য বরাবরই দেখা গেছে। কারণ, স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় সমস্যাগুলোই সামনে আসে এবং সেসব সমস্যার সমাধান যে কীভাবে করতে পারে তাকে কেন্দ্র করেই ভোটযুদ্ধ হয়। ইউনিয়ন, উপজেলা, মিউনিসিপ্যাল বা করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে যারা ক্ষমতায় থাকে বা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের কাজকর্মের বিচার হয় এসব নির্বাচনে। এ ক্ষেত্রে যে কোন দলের লোক এটার বিশেষ কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের সময় কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কোন দলের ক্ষমতাসীন লোক কী করেছে, তার থেকে কোন সরকার ও দল কী করেছে বা করতে পারে সেটাই হয় মূল বিবেচনার বিষয়। সেই বিবেচনা অনুযায়ী তারা প্রার্থীকে ভোট দেয়।

Syndicate content