Ataus.Samad's blog

Ataus.Samad's picture

দা প্লট থিকেন্স

একটা মজার খবর দিয়ে শুরু করি। মার্কিন জাতীয় কর কর্তৃপক্ষ (IRS) ব্র্যাডলি বার্চেনফেল্ড নামে এক দাগি কর-অপরাধীকে সম্প্রতি ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার পুরস্কার দিয়েছে। তারা এটা করেছে কর ফাঁকিদাতাদের ধরিয়ে দেয়ার পুরস্কার আইনের আওতায়। কর ফাঁকি মামলায় জেল খাটা ব্র্যাডলি বার্চেনফেল্ড সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক টইঝ মার্কিন নাগরিকদের কর ফাঁকি দেয়ার যে সুবিধা করে দিয়েছে বছরের পর বছর, তার সব তথ্য জোগাড় করে দেয় IRS-কে। ফলে টইঝ বাধ্য হয়েছে মার্কিন সরকারকে ৭৮ কোটি ডলার জরিমানা প্রদান করতে। বড় চোরদের ধরতে মার্কিন সরকার এখন ছোট চোরদের ব্যবহার করছে।
২.
সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় তফসিলি ব্যাংক। এই ব্যাংকের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি এটি সরকারের ট্রেজারি বা খাজাঞ্চিখানার কাজও করে দেশজুড়ে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক কখনও ডুববে না। তাদের ধারণা, সরকার যেভাবেই হোক এই প্রতিষ্ঠান দুটি টিকিয়ে রাখবে, না হলে দেশের অর্থনীতির এত ক্ষতি হবে যে, ওই পরিস্থিতিতে সরকারকেই বিদায় নিতে হবে। এদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের যে কোনো সরকারের উচিত কাজ হতো এই দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠান যাতে সবচেয়ে দক্ষ এবং সত্ভাবে চলে তা দেখা।

Ataus.Samad's picture

হারিয়ে যাওয়া ট্রেন

ট্রেন নিয়ে একটা ছড়া আর একটা গান মনে পড়ছে। ছড়াটা বাচ্চাদের, ইংরেজি ভাষায়। ইউ টিউবে পাওয়া। ছড়ার দুটি পঙ্ক্তি হলো-
This train is going to the city, this train
This train is going to the city where the lights are all so perelty.
('এই ট্রেন চলেছে শহরে, এই ট্রেন/
ট্রেনটা চলেছে নগরে যেখানে বাতিগুলো কী যে সুন্দর।')
দুর্বল অনুবাদটি অক্ষম এই লেখকের। নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন।
গান যেটা মনে পড়ছে তা বাংলা পপ গানের প্রবর্তক বিখ্যাত গায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা আজম খান গেয়েছিলেন। সেটির প্রথম দুটি পঙক্তি : 'রেল লাইনের বস্তিতে ছেলেটা কাল জন্মেছিল/ছেলেটা মরে গেছে, মা তার কাঁদছে।'
গানের লাইন দুটি স্মৃতি থেকে লিখেছি। তাই এই উদ্ধৃতিতে ভুল থাকতে পারে। সে জন্যও মাফ চেয়ে নিচ্ছি। এই দুটি ছড়া আর গানে আমাদের দেশের স্বপ্ন আর বাস্তবতায় যে বিরোধ তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

Ataus.Samad's picture

সেকাল ও একালের একটি ছোট গল্প

হলমার্ক নামের একটি আমেরিকান কোম্পানি আছে। বাংলাদেশেও এই প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি আছে। এই হলমার্ক শুভেচ্ছা কার্ড বানায়। নানান উত্সবে সব বয়সের লোকের জন্য উপযুক্ত হরেক রঙের, নানা আকারের এবং দৃষ্টিনন্দন নকশার কার্ড তৈরি করে হলমার্ক। দুনিয়াজুড়ে তাদের গ্রিটিং কার্ড বিক্রি হয়। উপহার সামগ্রীও আছে তাদের। বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয় এই হলমার্ক। কিন্তু বাংলাদেশ বলে কথা। এখানে সুখ-শান্তি কিছুতেই বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। মনে পড়ে, বেশ কয়েক বছর আগে এক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছিল যে, দুনিয়ার সব দেশের মধ্যে যে দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি মনের সুখ-শান্তিতে আছে তা হলো বাংলাদেশ। ওই গবেষণা বা জরিপে সুখের মাপকাঠি ছিল যার যার নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি। বাংলাদেশের মানুষ তখন দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেতে পারলেই নিজেকে সুখী মনে করত। এখন বাংলাদেশে এমন সব মানুষে গিজগিজ করছে যাদের লোভের শেষ নেই। তাদের হাত ধরে এসেছে দুর্নীতি এবং অনৈতিকভাবে হাতিয়ে নেয়া ধনদৌলতের নির্লজ্জ প্রদর্শনী।

এই অপসংস্কৃতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের এমন এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যার নাম ‘হলমার্ক গ্রুপ’।

Ataus.Samad's picture

বিরোধী দলবিহীন কোনো জাতীয় সংসদ বাংলাদেশে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি

অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যে মোড় নেবে তা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউই বুঝে উঠতে পারছেন না, কী হতে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে জনসাধারণের মনে শঙ্কা আর হতাশা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, তাই যার যার নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। ওষুধ আর খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতি সবার জন্যই গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে। জীবনযাত্রার সার্বিক ব্যয় বেড়েই চলেছে এবং এর ফলে শহরের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে গ্রামের কৃষক ও কৃষি-শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ায় এবং যোগাযোগের অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। দুর্নীতি ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি গ্রাস করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সরকার হারিয়ে ফেলেছে বলেই মনে হয়। শোষককুল ও তাদের হাতের পুতুলরা ছাড়া এই করুণ পরিস্থিতিতে আপামর জনগণ দুশ্চিন্তিত।

বিদ্যমান এত সব জটিলতার সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। বর্তমান জাতীয় সংসদের পাঁচ বছর মেয়াদ সম্পূর্ণ হতে আর মাত্র ১৬ মাস বাকি। নির্বাচনী হাওয়া এখনই কিছুটা অনুভব করার কথা। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, সে নির্বাচন আদৌ হবে কি-না।

Ataus.Samad's picture

ঈদযাত্রা ও একটি প্রার্থনা

আর মাত্র এগারো কী বারো দিন পর ঈদুল ফিতর। আজ ১৮ রমজান। এবার যদি ঊনত্রিশটি রোজার পর ঈদ হয় তাহলে হাতে আছে এগারো দিন, আর ত্রিশটি রোজা হলে থাকছে বারো দিন। রোজা ঊনত্রিশটি হবে না ত্রিশটি, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ সে হিসাব কষা শিখে উঠতে পারিনি। অর্থাত্, কোনো বছর কেন যে ঊনত্রিশ রোজার শেষে চাঁদ দেখা যাবে আর অন্য কোনো বছর ত্রিশ রোজার সন্ধ্যায় তা হবে, সেই কারণগুলো আমার পক্ষে রপ্ত করা সম্ভব হয়নি। আমি শুধু দেখতে পাই যে, কোনো বছর উনত্রিশ রোজা হলেই ঈদ এসে যায়, আবার কোনো বছর ত্রিশ রোজা পুরো হওয়ার পর ঈদ হয়। তাই বললাম এগারো দিন অথবা বারো দিন পর ঈদ। একান্তই ব্যক্তিগত কারণে আমি সব সময় কামনা করি যে ত্রিশ রোজা করেই যেন ঈদ হয়। আমি খুবই আলসে মানুষ। আলসেমি এখন এতই পেয়ে বসেছে যে, ঈদের নামাজ জামাতে পড়ার জন্য ঈদগাহ তো দূরের কথা, পাড়ার মসজিদেও যেতে ইচ্ছা করে না। আমি এখন এমন কাউকে খুঁজি, যিনি আমাকে একটা ধর্মীয় বিধান বা ব্যাখ্যা জোগাড় করে দেবেন যে, হ্যাঁ, বাড়িতে বসেও জামাতে অংশ নেয়া যায়। কথাটা হলো কী যে, আমাদের ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে পাড়ার মসজিদের একটা অংশ দেখা যায়। ঈদের জামায়াতে মসজিদ ভর্তি হয়ে যায় বলে ওই অংশে আসন গ্রহণকারীদের আমাদের বারান্দা থেকে দেখা যায়। তাই জানতে চাচ্ছি, আমি যদি এই বারান্দা থেকে মুসল্লিদের দেখে তাদের অনুসরণ করে মসজিদের নামাজে অংশ নিই, তা বিধি-বিধান সম্মত হবে কি-না।

Ataus.Samad's picture

অবক্ষয়ী কালের কবলে দেশ

মাত্র চল্লিশ বছরের মধ্যে কত যে বদলে গেল বাংলাদেশ! একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানি দখলদাররা যখন আত্মসমর্পণ করল, তখন কি শুধুই ভেবেছি যে, তাদের চরম নৃশংসতার হাত থেকে এবার রেহাই পেলাম? পাকিস্তানি বর্বর সৈন্যরা বাংলাদেশে যেভাবে নারী-পুরুষ, শিশু-তরুণ-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বাছ-বিচার না করে গণহত্যা চালিয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস, বিশ্বের ইতিহাসে সেরকম জঘন্য দৃষ্টান্ত খুব কমই আছে। তাই তাদের হাত থেকে সাড়ে সাত কোটি লোক মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন ফেরত পাওয়া যেমন ছিল এক ঐতিহাসিক ও বিরল ঘটনা, তেমনি তা ছিল যুগপত্ভাবে বাঁধনহারা আনন্দ ও গভীর স্বস্তির বিষয়। কিন্তু সেদিন নিরেট অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে আমরা কি কেবলই আলোর জোয়ারে গা ভাসিয়েছিলাম?

না, তা নয়। আমরা সেদিন স্বপ্নও দেখেছিলাম। আমরা অবশ্যই মনে করেছিলাম যে, সেনাদের গুলি এবং অপশাসকের পদলেহী গুণ্ডাপাণ্ডাদের পেশিশক্তি দিয়ে বাংলাদেশ শাসিত হবে না আর কোনোদিন। বাংলাদেশ চলবে সভ্যতার পথ ধরে। এদেশে সবার বাঁচার সমান অধিকার থাকবে, প্রাণের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকবে।

Ataus.Samad's picture

যে আলো জ্বেলে গেল

১৯৮৯ সালের কথা। চিকিত্সার জন্য বিলাত গিয়েছিলাম। একটা অপারেশন দরকার ছিল। সেই সঙ্গে থাকতে হবে হৃিপণ্ডের তদারকি। আমার সম্বন্ধি মুক্তিযোদ্ধা ডা. আনোয়ারুল হক তখন ইংল্যান্ডের ইপসউইচ শহরের সবচেয়ে বড় হাসপাতালে কাজ করছিলেন। তার ওখানে চিকিত্সা করালে তিনটা সুবিধা পাব। প্রথমত, তিনি ঐ হাসপাতালেই সব ব্যবস্থা করে দেবেন ও সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকদের পরামর্শ দেবেন। দ্বিতীয়ত, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয় ছিল ওই হাসপাতালে (ঠিক ওই সময়টাতে ঢাকায় তা ছিল না, তবে এখন আছে)। তৃতীয়ত, ডা. হকের সুবাদে হাসপাতালের বিলে কিছু ছাড় পাব। অন্য যে সুবিধাটা সবচেয়ে বড় ছিল সেটা হলো, তার বাড়িতে সস্ত্রীক থেকে চিকিত্সা করাতে পারব।

ডা. আনোয়ারুল হক মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে হানাদার পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হন। মুক্তি পান ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। জেলখানা থেকে হেঁটে বাড়িতে ফিরে জানলেন যে, সে দিনই তার স্ত্রী ডেইজি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিজয়ের স্মরণে তারা মেয়ের নাম রাখলেন জয়া। ডা. হক ছিলেন প্রাণবন্ত মানুষ।

Ataus.Samad's picture

দুর্নীতি যখন প্রত্যাশিত

মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজারো রকম কষ্ট আর চরম বিপদের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার মাঝেও আমরা অনেকেই কখনও না কখনও ভাবতাম যে স্বাধীন বাংলাদেশ কেমন হবে। আমরা তখন মনে করতাম, বর্বর, নৃশংস, নিপীড়ক, লুটেরা, শোষক ও মূল্যবোধহীন পাকিস্তানিদের আমাদের জন্মভূমি থেকে তাড়াতে পারলে মুক্ত দেশটিতে স্বতঃসিদ্ধভাবেই শান্তি বিরাজ করবে, পূর্ণ গণতন্ত্রের প্রচলন হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দুর্নীতি দূর হবে। বলা বাহুল্য যে, বাংলাদেশে আমরা এখন ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছি। দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে গণতন্ত্র খতম করে জনগণের ওপর একনায়কতন্ত্র চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি কিন্তু শাসকরা গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ ও ন্যায়বিচার ধ্বংস করছিলেন তার আগে থেকেই। এর কিছু করা হয়েছে অগণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারবিরোধী আইনকানুন তৈরি করে আর কিছু করা হয়েছে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। তাদের করা স্বজনপ্রীতি, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার জন্য আমদানি করা হয়েছিল ‘সমাজতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার স্লোগান। তারপর আরও প্রাণহানি, রক্তপাত, সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থান, সশস্ত্র বিদ্রোহ (সামরিক বাহিনীতে ও তার বাইরে) ও গদি ওলট-পালটের মতো দুঃখজনক ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্রের ঐতিহ্য সৃষ্টিই হতে দেয়নি। ওইসব গণতন্ত্রহীন অবস্থাকে বিদায় দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বার বার, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে আমরা এই অবস্থায়ও যা দেখছি তাকে গণতন্ত্র বা বহুমতের বিবেক-বিবেচনাভিত্তিক চর্চা না বলে ভোটের রাজনীতি বললেই যথার্থ হয়।

Ataus.Samad's picture

সাংবাদিকরা মার খেতেই থাকবেন

সাংবাদিকতা সম্পর্কে ব্রিটেনের একটা বইতে পড়েছিলাম, গণমাধ্যমের দায়িত্বগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটা কর্তব্য হচ্ছে 'ধফাবত্ংধত্রধষ ত্ড়ষব' বা প্রতিপক্ষের ভূমিকা পালন করা। এ ক্ষেত্রে অপর পক্ষ বলতে মূলত সরকারকে বোঝানো হচ্ছিল। কারণ একটা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে সাধারণত দেশের সরকার।

তবে দেশে দেশে সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, সরকার ছাড়াও গণমাধ্যমকে অন্য আরও কয়েকটি মহলের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়, যেমন রাজনীতিবিদদের, কারণ তারাই একটি দেশের প্রধান নীতিনির্ধারক, বড় ব্যবসায়ীদের বা ব্যবসায়িক করপোরেশনগুলোর, কারণ এরা মুনাফা কামাতে গিয়ে অনেক সময়ই জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, আর ক্রাইম সিন্ডিকেট বা অপরাধী চক্রের, কারণ এরা অস্ত্র ও নিষ্ঠুরতার দ্বারা ত্রাস সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। এও দেখা গেছে যে, অপরাধী চক্র বা ক্রাইম সিন্ডিকেটগুলো পুলিশ বাহিনী ও বিচার বিভাগের কিছু লোককে কিনে রাখে, যাতে তারা আইন ও আদালতের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে।

অন্যদিকে গণমাধ্যমগুলোর কাজের মূল ক্ষেত্রই হচ্ছে জনগণ এবং তাদের কাজ হচ্ছে জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করা। তাই শুধু বিনোদন পরিবেশনকারী মাধ্যমগুলো ছাড়া অন্য সব ধরনের পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও এবং অন-লাইন সাইটগুলোকে প্রায় রোজই কারও না কারও প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়াতেই হয়। এর কারণ খুব সোজা। ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, দুর্নীতিপরায়ণ, অন্যায়কারী এবং জঘন্য অপরাধীদের বেআইনি কাজকর্মের তথ্য ফাঁস করা মানেই প্রকৃত সত্য প্রকাশ করা।

Ataus.Samad's picture

অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

গত পরশু (রোববার) বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ ও মিছিল শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছিল বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘর্ষে। গুম হয়ে যাওয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তার গাড়ির ড্রাইভার আনসার আলীকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং ওই দাবিতে এর আগে যে হরতাল হয়েছে তখন ঢাকায় গাড়ি পোড়ানো ও সরকারের সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করে জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব ফৌজদারি মামলা হয়েছে সেগুলো তুলে নেয়ার, ধর-পাকড় বন্ধ করার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে ওই সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি নিয়েছিলেন জোট নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকার সম্ভবত অনুমান করতে পেরেছিল যে, চট্টগ্রামে বিরোধী জোটের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অনেক মানুষ যোগ দেবেন। আর তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ভণ্ডুল করার জন্য সরকার যুত্সই পুলিশি বন্দোবস্ত নিয়ে রেখেছিল। অতঃপর দেখা গেল পুলিশ বাদানুবাদের অজুহাতে একটি মিছিলকে বাধা দিল। পুলিশের বাধা ভাঙার জন্য অন্য প্রতিবাদকারীরা এগিয়ে এলেন। পুলিশ তখন চণ্ড মূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করল। শুরু হলো লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাস। এবার বিক্ষোভকারীরাও রুদ্র রূপ ধারণ করলেন। পুলিশের লাঠি, টিয়ার গ্যাস শেল, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি বনাম বিক্ষোভকারীদের ইট-পাটকেল। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এ লড়াই। চট্টগ্রাম শহরের প্রায় অর্ধেক অংশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আর তা হয় কারণ, পুলিশ-রাজনৈতিক কর্মী সংঘর্ষের একপর্যায়ে সাধারণ জনগণও বিক্ষোভে যোগ দেন।

Syndicate content