Asif.Nazrul's blog

Asif.Nazrul's picture

বিএনপি ও ব্লেম গেম

বিএনপির প্রতি অভিযোগ আর উপদেশের বন্যা বইছে দেশে। সঙ্গে আছে হুমকিও। বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে, ছাড়তে হবে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা আর সহিংসতা। বিএনপিকে ক্ষমা চাইতে হবে, খেসারত দিতে হবে, নেতৃত্বের কমান্ড ঠিক করতে হবে। বিএনপি গণতন্ত্রের ক্লাব থেকে বের হয়ে গেছে, সাম্প্রদায়িক হামলায় ইন্ধন দিচ্ছে, বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, বিএনপির নেত্রীর বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহমূলক। ৫ জানুয়ারি একটি প্রহসনমূলক ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন করার পর আওয়ামী লীগ নয়, বেশি করে তোপের মুখে পড়ছে উল্টো বিএনপি।

Asif.Nazrul's picture

এরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি (!)

২৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে এসেছি। দেখি ব্যাডমিন্টন কোর্টের পাশে ম্লানমুখে বসে আছেন ঢাবি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আলমগীর হোসেন। আমাকে দেখে তাঁদের ওপর কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটে যাওয়া হামলার কথা বলেন। টি-শার্ট উঁচু করে পিঠের আঘাত দেখাতে চান—‘স্যার, একটু দেখবেন, কীভাবে মেরেছে আমাদের!’ ফিজিকসের অধ্যাপক আমিনুল তাঁর পাশে বসা। তিনি বলেন, ‘শাহবাগের ওসিকে বললাম, আমরা তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, খালি হাতে এখানে বসে আছি।

Asif.Nazrul's picture

শাবাশ আওয়ামী লীগ

একজন মানুষও ভোট দেয়নি। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আসেনি। তবু আওয়ামী লীগ ও তার মহাজোটের মিত্ররা আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে গেছে! ভোটহীন, প্রার্থীহীন ও নির্বাচনহীন নির্বাচনে জেতার এই অনন্য রেকর্ড এই ভূবিশ্বে একটি দলই করতে পেরেছে। সেটি আমাদের প্রিয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নেতারা আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করুন।

Asif.Nazrul's picture

ভোটের অধিকার, মৃত্যুর দায়ভার

আবার অবরোধ ডেকেছে বিএনপি। আবারও হয়তো মানুষ পুড়বে, মৃত্যুর থাবা কেড়ে নেবে কারও জীবন, হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকবেন আরও মানুষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এঁরা হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য। টেলিভিশন আর সংবাদপত্র সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এসব যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষ আর তাঁর পরিবারের ওপর।

Asif.Nazrul's picture

আবার আওয়ামী লীগ সরকার

বাংলাদেশে আশাবাদী লোকের সংখ্যা প্রচুর। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে আলোচনা শুরু করতে বলেছেন। তাঁর এই দেড় মিনিটের মামুলি আহ্বানের পর আমার কাছে বিস্ফোরিত কণ্ঠে ফোন আসে কয়েকটি টিভি চ্যানেল থেকে। তাদের ধারণা, বিরাট এক ঘটনা ঘটে গেছে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের কারণে। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে কেউ কেউ পরামর্শ দিলেন যে এমন একটা মাহেন্দ্রক্ষণে কিছু একটা অবশ্যই বলা উচিত।

Asif.Nazrul's picture

দুই নেত্রীর নিয়ত

প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছেন বিরোধী দলের নেত্রীকে। নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেছেন। হরতাল প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। টিভি স্ক্রলে এসব দেখে আমারও আশাবাদী হতে ইচ্ছে করে। আমি ভাবি, এমন হয় যদি একটু পর টিভি স্ক্রলে দেখি, বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীরা হরতাল প্রত্যাহার করেছে (বা অন্তত ২৮ তারিখে নৈশভোজের আমন্ত্রণের সম্মানে সেদিনের হরতাল প্রত্যাহার করেছে) এবং বলেছে, নৈশভোজের আলোচনায়
কোনো অগ্রগতি না হলেই কেবল তারা আন্দোলনের পথে যাবে।

Asif.Nazrul's picture

কে হবেন ‘সর্বদলীয় সরকারের’ প্রধান?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৮ অক্টোবরের ভাষণ শুনে আমাদের শ্রদ্ধেয় কিছু ব্যক্তি খুবই আশাবাদী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। গতকাল প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, এর চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। বিরোধী দলের উচিত হবে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব গ্রহণ করা।’

Asif.Nazrul's picture

অনন্ত জলিল: কিছু আত্মজিজ্ঞাসা

অনন্ত জলিলের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ছবিটি দেখতে গিয়ে এক অভাবিত অভিজ্ঞতা হয় আমার। এমনিতে ছবি দেখলে আমি দেখি বন্ধুর বাড়ির হাই ডেফিনেশন প্রজেক্টরে। সেখানে ব্লু-রে টেকনোলজি এবং লিংকন বা আরগোর মতো চলচ্চিত্রের সহজলভ্যতার কারণে সিনেমা হলে যাওয়ার ইচ্ছে আর অবশিষ্ট থাকে না। তারেক মাসুদের মাটির ময়নার পর কোনো ছবি হলে গিয়ে তাই দেখা হয়নি। নিঃস্বার্থ ভালোবাসাও দেখার কথা ছিল না।
সারা দেশে তুমুল আলোড়ন তোলা এই ছবি সম্পর্কে তাই বলে অজ্ঞ ছিলাম না। জানতাম যে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ছবিটি দেখার জন্য। বাংলা ছবির ব্যবসার আকালের সময়ে এটি একটি ভালো খবর। কিন্তু ছবিটি বেশি আলোচিত হয়েছে মূলত ভিন্ন কারণে।

Asif.Nazrul's picture

আওয়ামী লীগকে হারানো অসম্ভব?

প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারানো অসম্ভব। তবে এ জন্য তিনি দুটো শর্তের কথা বলেছেন। এক: আওয়ামী লীগের ভোটার এবং সমর্থকদের এগিয়ে আসতে হবে। দুই: আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

জয় বাংলাদেশে এসেছেন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উজ্জীবিত করার জন্য। এই উজ্জীবনের প্রয়োজন ছিল। পর পর পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে, বিশেষ করে গাজীপুরে পরাজয়ের পর দলটির মনোবল ভেঙে পড়েছিল। গোপালগঞ্জের পর দেশে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি ছিল গাজীপুর।

Asif.Nazrul's picture

বন্ধুত্ব, নাকি দানসত্র

অবশেষে ভারতের সমালোচনা করলেন বর্তমান সরকারের কোনো মন্ত্রী। ২৮ আগস্ট ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের উপস্থিতিতে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সমালোচনা করেন। তিস্তা চুক্তি, স্থলসীমান্ত চুক্তিসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভারতকে মনে রাখতে হবে, আমাদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। বন্ধুত্ব একপক্ষীয় হয় না। দুই পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হয়।’প্রকৃত অর্থে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দুই পক্ষের এগিয়ে আসা কখনো হয়নি।

Syndicate content