Ahmed.Rafiq's blog

Ahmed.Rafiq's picture

পোশাকশিল্পে ট্র্যাজেডি : জরুরি উত্তরপর্বের ব্যবস্থাপনা

ইচ্ছা ছিল বহির্বিশ্বের সমস্যা, বিশেষ করে সিরিয়া নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্ন উন্মাদনা প্রসঙ্গে কিছু লেখা। কারণ অনেক। সবচেয়ে গুরুতর কারণ আপাত-বিভাজিত বিশ্বে এতটা অন্যায় কথিত-সমাজবাদী ও গণতন্ত্রীরা নির্বিবাদে হজম করছে। কিন্তু আমাদের ঘরের সমস্যাই তো পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। একদিকে হেফাজতিদের তাণ্ডবের জের ও রাজনৈতিক নৈরাজ্য, অন্যদিকে আশুলিয়ার পর সাভার ট্র্যাজেডি ও তার উত্তরপর্বের সমস্যা।

Ahmed.Rafiq's picture

ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকথা

হেফাজতে ইসলামের আকস্মিক উত্থান এবং মতিঝিল শাপলা চত্বরে দু'দুবার মহাসমাবেশ (কারো ভাষায় 'শোডাউন') বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আলোচনা, বক্তব্য ও লেখালেখির মাধ্যমে এর প্রকাশ এবং সেসব আলোচনা ও নিবন্ধ বক্তা বা লেখকের নিজ নিজ তরিকা অনুযায়ী। হাটহাজারীর কওমি মাদ্রাসা তো নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, সেখান থেকে হঠাৎ করেই ইসলামী শাসন কায়েমের জন্য এত বড় আয়োজনের দরকার পড়ল কেন? এর নেপথ্য রহস্য কী? ক্ষমতার রাজনীতি?

Ahmed.Rafiq's picture

অথ শওকত ওসমান-কথা

বহুমাত্রিকতায় বিশিষ্ট সাহিত্যিক শওকত ওসমান বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেহ নেই ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। কথাশিল্পী, কবি-ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার 'সব্যসাচী' লেখক। তিনি সমাজসচেতন, অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদী, আধুনিক, প্রগতিশীল ঘরানার এমন একজন সাহিত্য স্রষ্টা, যার চৈতন্যে শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিয়ে জেগে থাকে। জাতীয়তাবাদী হয়েও তিনি নিরীশ্বরবাদী এবং ধর্মীয় রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াকু সৈনিক। কথায় বা আলাপচারিতায়ই নয়, তার রচনায় তেমন প্রমাণ অজস্র।

Ahmed.Rafiq's picture

তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি

পশ্চিমা প্রেসের বড়সড় অংশ বা অধিকাংশই কী দু’মুখো নীতির অনুসারী? একদিকে তারা ইসলামী জঙ্গিবাদবিরোধী, বিশেষভাবে তালেবান এবং ওসামা ও আল কায়েদাবিরোধী। আবার বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী বা জঙ্গিবাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্র বা মানবিক হিসাব-নিকাশ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। এ বিষয়ে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ সবার সেরা, সবাইকে পেছনে ফেলে যুক্তিহীন একপেশে মন্তব্য প্রচারে এক পায়ে খাড়া। সেটা কি বিশেষ দলের প্রতি বীতরাগ বা অন্যের প্রতি অনুরাগের কারণে। বুশ-ব্লেয়ার যখন মানববিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মিথ্যা অজুহাত তুলে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ইরাক আক্রমণ করেন, তখন এ জাতীয় সংবাদপত্র সত্যের পক্ষে সরব হয়নি।

Ahmed.Rafiq's picture

শান্তির ধর্ম নিয়ে অশান্তি, কার কী লক্ষ্য

ঢাকার মানুষ ভয়াবহ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছিল। গত কয়েক দিনে 'টক অব দ্য টাউন' ছিল একটাই- কী হবে ৫ তারিখে? বাংলাদেশে কি ভয়ংকর কিছু রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে মে মাসের ৫ তারিখে? হেফাজত আর জামায়াত-শিবিরের মধ্যে তো কোনো ফারাক নেই। আর এ দুইয়ে মিলে দেশটাকে পুড়িয়ে ছারখার করবে না তো? সম্ভবত আগেকার নানা অভিজ্ঞতা থেকে এসব কথা। অল্প দু-চারজনের কথা- হঠাৎ করে উদয় হেফাজতের, এত চিন্তার কী আছে!

Ahmed.Rafiq's picture

একুশ শতকের বাংলায়ও রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক

এ বছর রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির সম্মাননা শতবর্ষে পা রেখেছে। যে উপলক্ষে এই সম্মাননা সেই ইংরেজি গীতাঞ্জলির (ংড়হম ড়ভভবৎরহমং) বয়সও শতবর্ষ পার হলো মাত্র। আর বাংলা গীতাঞ্জলির প্রথম প্রকাশ ১৯১০ সালে। পঁচিশে বৈশাখে এবার আমরা রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করছি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গর্ব ও অহঙ্কার নিয়ে। আমার মনে পড়ছে, তখনকার দূর-দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চল কালিগ্রাম পরগনার কৃষকপ্রজা ও জনসাধারণের কথা, যারা রীতিমতো অভিনন্দনপত্র ছাপিয়ে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে এবং কবিকে সম্মান জানিয়ে তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও ভক্তির প্রকাশ ঘটায় (২৯ পৌষ, ১৩২০)।

Ahmed.Rafiq's picture

নোবেল পুরস্কার রবীন্দ্রনাথের জন্য ছিল এক অশান্তি

বাঙালির জন্য ১৯১৩ সালের ১৩/১৪ নভেম্বর স্মরণীয় দিন এবং তা তৎকালীন ভারতের জন্যও। কারণ এই প্রথম একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন। সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা ১৩ নভেম্বর, পত্রপত্রিকায় ১৪ নভেম্বর সে সংবাদ পড়ে বিশ্বের তাবৎ সাহিত্যামোদী মানুষ অবাক- একজন বাঙালি কবির নোবেল পুরস্কার পাওয়া যেন অত্যাশ্চর্য ঘটনার একটি। প্রসঙ্গত একটি অপ্রিয় কথা বলতে হয় : তখন এমনই ছিল বিশ্ব, উপনিবেশবাদী বিশ্ব।
মূলত গীতাঞ্জলি অর্থাৎ ইংরেজি গীতাঞ্জলি (Song Offerings) এ সম্মান বয়ে আনে।

Ahmed.Rafiq's picture

হরতাল, সহিংসতা ও রাজনীতির অভিশাপ

হরতাল বা বন্ধ অথবা অন্য যে নামেই হোক, উপমহাদেশে প্রতিবাদের সর্বাধিক প্রচলিত এক ধরনের তৎপরতা। প্রতিবেশী দেশের কথা থাক, বাংলাদেশে পঞ্চাশের দশক থেকে এ পর্যন্ত কম হরতাল দেখিনি আমরা। হরতাল এক সময় প্রতিবাদের চরম ব্যবস্থা হিসেবে পালিত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ হরতাল, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে মিছিল, স্লোগানের, সভা-সমাবেশে বক্তৃতা-ভাষণের হরতাল। তাও বিশেষ কর্মসূচির ভিত্তিতে, যার সঙ্গে রয়েছে জাতীয় বা রাষ্ট্রিক পর্যায়ের লক্ষ্য।

Ahmed.Rafiq's picture

রাজনৈতিক নৈরাজ্য প্রতিহত করার উপায় সুষ্ঠু নির্বাচন

বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য যে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী চেতনানির্ভর রক্তাক্ত স্বাধীনতাযুদ্ধের পরও একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক সমাজ সেখানে গড়ে ওঠেনি। ৪২ বছরেও গড়ে ওঠেনি। তাই থেকে থেকে সেখানে উগ্র ধর্মীয় চেতনার রাজনৈতিক প্রকাশ এক ধরনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাকে বলে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি। সবচেয়ে বিস্ময়কর উগ্র বাম রাজনীতিতে একদা-বিশ্বাসী কেউ কেউ ওই পথ ধরে হাঁটছেন ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার খোঁড়া অজুহাতে।
কারণ হিসেবে এ বিষয়ে নানা জন নানা মত প্রকাশ করে থাকেন। তবে সংখ্যাগুরু অভিমত হলো, দুর্নীতির প্রবল প্রভাব এবং সুশাসনের অভাব এ জন্য দায়ী।

Ahmed.Rafiq's picture

নববর্ষের তাৎপর্য বাংলায় ও বিশ্বজুড়ে

মানুষ সময়কে জড়িয়ে ধরে পথ চলে, হয়তো অসচেতনভাবেই। তবে কখনো কখনো বিশেষ কারণ তাকে সচেতন হতে সাহায্য করে। যেমন নতুন বছরের নতুন বা প্রথম দিন- ইরানি ঐতিহ্যের ভাষায় 'নওরোজ'। আর সে উপলক্ষে পেছনে কী রেখে এলাম, বিগত বছরের দিনগুলো থেকে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলানোর কথা বোধ হয় ক্ষণিকের জন্য হলেও তার মনে হয়। স্বভাবতই ভাবনা, আগামী দিনগুলো কেমন কাটবে।

Syndicate content