Abu.Ahmed's blog

Abu.Ahmed's picture

সমাজ কি দুর্নীতি মেনে নিয়েছে!

দুর্নীতি থেকেও বেশি হতাশাজনক বিষয় হলো সমাজের দুর্নীতি মেনে নেওয়া। এর অর্থ হবে এই ধারণা সমাজের লোকদের পেয়ে বসা যে সমাজে দুর্নীতি আছে, থাকবে এবং এটাই স্বাভাবিক। এর অন্য অর্থ হলো, একটা অস্বাভাবিক বিষয়কে স্বাভাবিক মনে করা। এই ধারণা যতই বদ্ধমূল হবে, এরা যতই ছড়াতে থাকবে, ততই দুর্নীতিকে হয় দেখেও না দেখা এবং বিভিন্নভাবে দুর্নীতিকে গৌরবান্বিত করা হবে। একসময় দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের সমাজের অন্য লোকেরা ঘৃণা করত। এখন সেই ঘৃণাটা সাধারণ্যে দেখা যায় না। অনেক সাধারণ লোককে এও বলতে শুনি যে ওই সঙ্গে অন্য অনেক সুবিধা আছে। এবং দুর্নীতি করা যায় এমন পদগুলোতে চাকরি নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। সমাজে ঘুষখোর লোকদের ঘরে মেয়ে বিয়ে দিতে বা দুর্নীতিবাজ লোকদের মেয়েকে বউ করে ঘরে আনতে এখন কারো তেমন বাধে না। অর্থ হয়ে পড়েছে সম্মান ও প্রভাবের বড় নিয়ামক।
abu ahmed
কিন্তু সেই অর্থটা অমুক লোকের কাছে কিভাবে এলো, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার লোক অনেক কমে গেছে। একজনকে দেখা গেল কোনো পদে পদায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেকটা দীনহীন। কিন্তু পদ পাওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার ঠাটবাট আকাশচুম্বী হয়ে গেল। পদের ফলে প্রভাব তার অধীনে চলে এলো।

Abu.Ahmed's picture

যে নির্বাচন শুধু সংঘাতই বাড়াবে

যে আলোচনাটা বর্তমানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং সরকারের প্রধান দল আওয়ামী লীগের মধ্যে হচ্ছে, সেই আলোচনাটা আরো এক মাস আগে হলে জাতি জানমালের অনেক ক্ষতি থেকে বেঁচে যেত। দুর্ভাগ্য হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সমস্যা যতটা সৃষ্টি করতে জানেন, সমস্যার সমাধান করতে তার থেকে অনেক কম জানেন। আরেকটা কাজে তাঁরা পারদর্শী, সেটা হলো দেশের মানুষকে বিভিন্নভাবে ভাগ করো এবং এক ভাগকে অন্য ভাগের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দাও। ভাগ করার মধ্যে অনেকে কৃতিত্ব দেখেন।

Abu.Ahmed's picture

বাংলাদেশ কখন চরমপন্থার দিকে যেতে পারে

শুধু একটি অর্থবহ সংলাপই বাংলাদেশকে বর্তমানের অচলাবস্থা থেকে রক্ষা করতে পারে। সংলাপটা হতে হবে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দলের। বিরোধী দল বলতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে। কেন বিরোধী দলের সঙ্গে আপস করতে হবে? এর প্রধান কারণ হলো- এক. গণতান্ত্রিকভাবে দেশ চালাতে গেলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হয়; দুই. এ মুহূর্তে বিরোধী দল ৬০-৭০ শতাংশ লোকের মতামতকে ধারণ করছে।

Abu.Ahmed's picture

এক যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমাদের এই দেশ

আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ স্বাধীনতা-উত্তর সবচেয়ে বড় দুর্যোগ অতিক্রম করছে। এই দুর্যোগ মানুষের সৃষ্টি, সেটি এই স্বদেশের রাজনীতিবিদদের সৃষ্টি। কারো মনে শান্তি নেই। এক অব্যক্ত অপ্রকাশিত শঙ্কা সবাইকে পেয়ে বসেছে। যে দেশ হতে পারত সমাজ বিনির্মাণের রোল মডেল, সে দেশের জনগণ আজকে বিদ্বেষপূর্ণভাবে বিভক্ত। সেই বিভক্তিটার জন্য দায়ী সম্পূর্ণভাবে বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরের শাসন।

Abu.Ahmed's picture

দুদককে কেন ক্ষমতাহীন করা?

হায়রে দুর্ভাগা দেশ, তোমার মধ্যে চোরেরা চারদিকে গিজ গিজ করছে, কিন্তু তাদের ধরার কেউ নেই। চোরগুলো প্রতিনিয়ত সৎ মানুষদের পকেট কাটছে, কিন্তু সৎ লোকগুলো এতটাই অসহায় যে তারা কোথাও গিয়ে অভিযোগ দায়ের করবে- এমন স্থান এই দেশে আর নেই। অবস্থা হলো, তোমাকে শাসন করবে চোর-বদমাশরা, তোমার সম্পদ লুটে নেবে তারা, কিন্তু তোমার ১৬ কোটি সন্তানের এই ব্যাপারে কিছুই বলার থাকবে না। ওই ১৬ কোটি ভেতরে ভেতরে যতই রাগ করুক না কেন, তাদের অসহায়ের মতো চলতে হবে। তারা দেবে ট্যাক্স, সেই ট্যাক্সের অর্থ দুর্নীতিবাজ আমলা-রাজনীতিক একত্র হয়ে জনস্বার্থের কথা বলে নিজেদের পকেটে পুরবে। অনেক আশা নিয়ে এই দেশের ১৬ কোটি মানুষ ব্যাপক দুর্নীতির নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বা এসিসি বা দুদক নামের একটি সংস্থা স্থাপন করেছিল।

Abu.Ahmed's picture

নৌকা ভোট করবে কার বিরুদ্ধে?

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আওয়ামী লীগের একটা অংশও বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো রকম অর্থবহ সংলাপ হোক তা চায় না। যারা সংলাপ চায়, তারা অনেকটাই চুপচাপ আছে। আর যারা অতিকথনে অভ্যস্ত, তাদের কথা শুনলে মনে হবে তারা ওপরে যত সংলাপ চাওয়ার কথা বলে, কিন্তু যে ভাষায় তারা কথা বলে তাতে জনগণ সহজে বুঝে নিতে পারে, অন্তর থেকে তাদের সংলাপে যেতে যেন কোথায় একটা পিছুটান আছে। সরকারে আছেন- এমন নেতাদের এখনকার বক্তব্য হলো, দাওয়াত তো দেওয়াই আছে। বিরোধী দল আসলেই তো পারে। এটা সংলাপের জন্য আন্তরিক কোনো বক্তব্য হলো না।

Abu.Ahmed's picture

ইসলামী আর্থিক বাজার

গত ২৯ অক্টোবর লন্ডনে বিশ্ব ইসলামী ইকোনমিক ফোরামের (World Islamic Economic Forum) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলাদেশ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ওই সম্মেলনে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আমরা খুশি যে আমাদের রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে আমাদের অর্থমন্ত্রী কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। আমি জানি না যেখানে তাঁরা অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন-সভায় উপস্থিত থাকেন, সেখানে WIEF-এর শীর্ষ সম্মেলনে কেন উপস্থিত থাকলেন না? বিশেষ করে যে সম্মেলনে অন্য অনেক দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা উপস্থিত ছিলেন।

Abu.Ahmed's picture

সংবাদমাধ্যমকে কেন লোক বিশ্বাস করে না

এখন সংবাদমাধ্যম যেসব নিউজ অ্যান্ড ভিউজ দিচ্ছে, এগুলোকে মানুষ সামান্যই বিশ্বাস করে। এর মূল কারণ হলো, সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলগুলো তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এসব সংবাদপত্র ও টিভি চ্যানেলে যেসব সংবাদ ছাপা ও প্রচারিত হয়, সেগুলোয় যারা ওই সব সংবাদমাধ্যমে কাজ করে, তাদের মতামতই অনেকটা প্রতিফলিত হয়। পেশাদার সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝায় বাংলাদেশ থেকে এই মুহূর্তে তা বিদায় নিয়েছে। পেশাদার সাংবাদিকতা বলতে কী বোঝায়? ১০০ পার্সেন্ট সততা ও নিরপেক্ষতা। কিন্তু আজকে দৈনিক কাগজগুলো যেসব সংবাদ দিচ্ছে, সেগুলো পক্ষপাতিত্বে ভর্তি। আরো লক্ষণীয় যে ওই সব সংবাদের সঙ্গে সাংবাদিক নিজের মতামত যোগ করে যা ঘটেছে সেটাকে নিজের মনে যা আছে সেই রঙে রাঙিয়ে সংবাদপত্রে ছাপাচ্ছে। সাংবাদিক যদি নিউজ লিখত, সেই নিউজে তার নিজস্ব ভিউজ থাকার কথা নয়।

Abu.Ahmed's picture

বিদ্যুৎ, রামপাল এবং ভারতের স্বার্থ

বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তবে সরকার যে পথে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে, সে পথের প্রতি জনগণের সমর্থন নেই। সরকারের কাছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম পছন্দ হলো রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্লান্টের মাধ্যমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করা। কিন্তু এটা করতে গিয়ে সরকার জনগণের ওপর স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় গুণ বেশি মূল্য চাপিয়ে দিয়েছে। গ্যাস ও অন্য বিকল্প থেকে যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রতি ইউনিট ২ থেকে আড়াই টাকা, সেখানে সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মালিকদের দিচ্ছে প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১৪ টাকা। সরকার ব্যক্তি খাতে স্থাপিত এসব ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি দিচ্ছে, আবার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ কেনার গ্যারান্টিও দিয়েছে। ব্যক্তি খাতে স্থাপিত এসব ভাড়াভিত্তিক ছোট বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার অন্য বৈশিষ্ট্য হলো, বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনা না হলেও তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ নামের একটা মূল্য দিতে হবে।

Abu.Ahmed's picture

এ দেশে গরিবরাই বেশি ট্যাক্স দেয়

হ্যাঁ, এটাই সত্য। আয়ের বিষয়টি চিন্তা করলে দেখা যাবে গরিব লোকেরা বেশি ট্যাক্স দিচ্ছে। তারা অবশ্য আয়কর, সম্পদ কর ইত্যাদি দেয় না। কিন্তু তারা তো মূল্য সংযোজন কর তথা ভ্যাট ঠিকই দিচ্ছে। যেসব দ্রব্যের ওপর ভ্যাট বসানো আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই গরিবরাও কিনে আবার ধনীরাও কিনে। কিন্তু গরিবের আয় কম বলে ওই অপ্রত্যক্ষ কর বা ভ্যাটের বোঝাটা (burden) গরিবের ওপর বেশি পড়ে। এ ক্ষেত্রে আয় অনুযায়ী ভ্যাট বসানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। আর ভ্যাট ছাড়া যেসব পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে যেমন- খোলা শাক-সবজি, দেশীয় ফলমূল ইত্যাদি। এগুলোর সমান ক্রেতা ধনী লোকেরাও। অর্থনীতি শাস্ত্রে ভ্যাটের মতো যে ট্যাক্স আয়ের বিষয়কে হিসাবে না নিয়ে ধনী-গরিবের ক্ষেত্রে একই হারে বসানো হয়, সে ট্যাক্সকে বলা হয় রিগ্রেসিভ ট্যাক্স (Regressive tax)।

Syndicate content