Abdul.Mannan's blog

Abdul.Mannan's picture

বিএনপির ঘাড়ে সিন্দবাদের বুড়ো

আরব্য রজনীর গল্পে আছে, সিন্দবাদ সাতটি সমুদ্রযাত্রা করেছিল। প্রতিটি যাত্রায় তার যত সব রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। সিন্দবাদের পঞ্চম যাত্রার গল্পে আছে, তার কাঁধে এক বুড়ো সওয়ার হয়েছিল। বুড়ো আবার কাঁধে এমন প্যাঁচ কষে বসেছিল যে সিন্দবাদ বস্তুতপক্ষে বুড়োর ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছিল। শেষে সিন্দবাদ বিশেষ সুরা তৈরি করে বুড়োকে পান করিয়ে তাকে হত্যা করে। সিন্দবাদ তো বুড়ো থেকে নিস্তার পেতে একটা উপায় বের করেছিল। কারণ, সে বুড়োর জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বিএনপির ঘাড়ে জামায়াত নামের যে বুড়ো বা দৈত্যটি গেড়ে বসেছে, সবার প্রশ্ন, তার কী হবে? কারণ, বিএনপি নামের সিন্দবাদ তো এই দৈত্যটিকে বধ করতে নারাজ।

Abdul.Mannan's picture

দেশ নিয়ে বিদেশে কী হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করছি

কাকতালীয় কি না বলা মুশকিল, তবে দু-এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশে অনেকের অগোচরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল। যে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে, সেটি দিয়ে শুরু করি। ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কংগ্রেসের বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির এক উপকমিটিতে বাংলাদেশ বিষয়ক একটি শুনানি হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের এই রকম ২১টি কমিটি আছে; যার আবার একাধিক উপকমিটিও আছে। যে উপকমিটির শুনানি নিয়ে আলোচনা করছি এটি এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বা শুনানি করে।

Abdul.Mannan's picture

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নয়, নৈরাজ্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন

বুধবার ১৮ দল তথা বিএনপির ডাকা চুরাশি ঘণ্টার হরতাল নামক হত্যা, অগ্নিসংযোগ, মানুষের গায়ে পেট্রোল আর গানপাউডার মেরে হত্যা ও হত্যাপ্রচেষ্টা আর জাতীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আর একটি দফা শেষ হলো। এ কর্মসূচী যদিও বেগম জিয়া ১৮ দলের নামে ডেকেছিলেন, বাস্তবে মাঠে জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা ছাড়া তেমন একটা কেউ ছিল না। ইদানীং জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা ছাড়াও প্রচুর সংখ্যক ভাড়াটে সন্ত্রাসীরাও বিরোধী দলের এ সব সন্ত্রাসী কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে। বলা যেতে পারে বিএনপি বেশ মুন্সিয়ানার সঙ্গে এ সব ধ্বংসাত্মক কর্মকা- ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের কাছে ‘আউটসোর্স’ করে দিয়ে নিজেরা ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোটাকে অনেক বেশি ফলপ্রসূ মনে করেছে। এটা তাদের এক বড় সফলতা বলতে হয়।

Abdul.Mannan's picture

বাংলাদেশ নিয়ে বহির্বিশ্বে উৎকণ্ঠা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ এখন নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। মনে হচ্ছে, হঠাৎ করে এই দেশটির প্রতি ভিনদেশের সাংবাদিক, আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বেশ মনোযোগ দেওয়া শুরু করেছেন। সর্বশেষ তাতে যোগ দিয়েছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের যে শহরটিতে পড়ালেখা করতে গিয়েছিলাম, সেই শহর থেকে দুটি মাত্র পত্রিকা বের হতো। পত্রিকাজুড়ে থাকত ওই শহর আর পার্শ্ববর্তী এলাকার খবর।

Abdul.Mannan's picture

আর ক’জন মনিরের লাশ পড়লে দেশে শান্তি ফিরবে?

সাভারের অদূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বড়কাঞ্চনাপুর গ্রামের মনির হোসেন। কতইবা হবে তার বয়স? পরিবার বলে তেরো। অপুষ্টির কারণে মনে হতে পারে আরও কম। একেবারে একজন শিশু। এবার প্রাথমিক স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিত। ভ্যানগাড়ি চালক বাবার কাছে বায়না ধরেছিল ঢাকা দেখতে যাবে। মনিরকে তার ভ্যানগাড়িতে করে বাবা রমজান আলী গত সোমবার নিয়ে এসেছিল প্রাণহীন ও নির্দয় শহর ঢাকা দেখাতে। ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছার আগেই হরতালের নামে বিরোধী দলের ডাকা সন্ত্রাসী কর্মকা- তখন শুরু হয়ে গেছে। গাড়িটা গাজীপুর চৌরাস্তার পাশে পার্ক করতে হলো রমজানকে। মনির তখন গাড়ির ভেতর ঘুমাচ্ছে। ততক্ষণে বিরোধী দলের বর্গীরা পথে নেমে পড়েছে যারা তাদের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে যানবাহন রাস্তায় বের করবে তাদের যানবাহনে এবং চালক বা যাত্রীর গায়ে আগুন দিতে।

Abdul.Mannan's picture

তস্করদের থেকে সাবধান

আমার অত্যন্ত এক পরিচিতজন, কমলেশ দাশ, গত রোববার সকালে পাবনা থেকে ফোন করে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে জানাল, আগের দিন তাদের গ্রামের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড এক মানবসৃষ্ট ঝড় বয়ে গেছে এবং তাদের বাড়িঘর আর অক্ষত নেই। সকালের পত্রিকা খুলে দেখি, সব পত্রিকা এই ঘৃণ্য সংবাদ গুরুত্বসহকারে প্রথম পৃষ্ঠায় ছেপেছে। ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির গুজব ছড়িয়ে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় গত শনিবার বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এই ঘটনায় ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি, দুটি মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

Abdul.Mannan's picture

জেলহত্যা আওয়ামী লীগ ধ্বংসের চলমান প্রক্রিয়া

বিংশ শতকে যে কয়টি রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে তার মধ্যে আছে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, উত্তর-উপনিবেশ পর্বে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেশ কিছু নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম, ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং সেই যুদ্ধে আমেরিকার শোচনীয় পরাজয়। সেই সঙ্গে আছে দুই ভিয়েতনামের একত্রীকরণ, বার্লিন দুর্গের পতন শেষে দ্বিখণ্ডিত জার্মানির একত্রীকরণ আর বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙন। তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই শতকে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। বিশ্লেষকদের কাছে এ কারণেই বাংলাদেশের অভ্যুদয় তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে, যেটিকে বলা হয় পাকিস্তানের পক্ষে এক ধরনের গণভোট, অর্থাৎ যে প্রদেশে মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হবে ধরে নেওয়া হবে সেই প্রদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী।

Abdul.Mannan's picture

নিজের মঙ্গল নিজেকেই বুঝতে হবে

দেশে এখন ক্ষমতার জন্য একরকম মরণপণ যুদ্ধ চলছে। খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট নিয়ে সামনের নির্বাচনে যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মরিয়া। এই ১৮ দলকে জনগণ সমর্থন দিলে বেগম জিয়ার বিএনপিই ক্ষমতায় যেতে পারে। বাকিদের মধ্যে জামায়াত ছাড়া অন্যরা হচ্ছে ওয়ানম্যান পার্টি। কোনো কোনোটিতে আসলে ওয়ানম্যানও নেই। জামায়াতের এই মুহূর্তে ক্ষমতায় যাওয়ার বা তার অংশীদার হওয়ার তেমন খায়েশ নেই। তারা চায়, তাদের বড় মিত্র বিএনপি ক্ষমতায় যাক এবং তা যদি সম্ভব হয়, তাহলে তাদের শীর্ষপর্যায়ের যেসব নেতা বর্তমানে মানবতাবিরোধী আর যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেশের শীর্ষ আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হয়ে কারা ভোগ করছেন, তাঁরা মুক্তি পাবেন। খালেদা জিয়া একাধিকবার পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে একাত্তরের এই ঘাতকদের (রাজবন্দীদের) মুক্তি দেবেন এবং এঁদের বিচারকার্য বন্ধ করে দেবেন।

Abdul.Mannan's picture

অতঃপর পর্বতের মুশিক প্রসব

১৮ অক্টোবর, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসির উদ্দেশ্যে প্রত্যাশিত একটি ভাষণ দিলেন। প্রত্যাশিত এই কারণেই যে ভাষণটি অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতিয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে একটি সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে সরকারের সর্বশেষ দৃষ্টিভঙ্গি কী এবং সেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠে সামনের নির্বাচনটি কী ভাবে সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে হতে পারে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী কী পথ বাতলে দেবেন তা শোনার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করেছিল। একটি গণতান্ত্রিক দেশে জাতিয় নির্বাচন সেই দেশটির সংবিধান অনুযায়ী হয়ে থাকে। একটি রক্তক্ষয়ি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট বাংলাদেশে তা হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দেশ স্বাধীন হওয়ার একবছরের মাথায় একটি অসাধারণ সংবিধান রচনা করেছিলেন এবং সেই সংবিধানেই জাতিয় নির্বাচন কী ভাবে হবে তা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা আছে।

Abdul.Mannan's picture

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চাই

প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে যে ভাষণটি দিয়েছেন, তার জন্য দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে। কারণ সংবিধানের বাধ্যবাধকতায় ২৪ অক্টোবরের পরের ৯০ দিনের মধ্যে দশম সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। বিরোধী দল ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে ২৫ অক্টোবর তারা, তাদের ভাষায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যা অসাংবিধানিক, তার অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। না হলে তার ফলে উদ্ভূত সব পরিস্থিতির জন্য সরকারি দলকে দায়ী থাকতে হবে। এরই মধ্যে তাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা সাদেক হোসেন খোকা প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি, যেন তারা ২৫ অক্টোবর সরকারি দলকে মোকাবিলা করার জন্য দা-কুড়াল হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।

Syndicate content