Mujahidul.Islam.Selim's blog

Mujahidul.Islam.Selim's picture

টিকফা :গলায় আরেকটি গোলামির ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্র নাছোড়বান্দা। বাংলাদেশকে সে এবার 'বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার কাঠামোগত চুক্তি' বা Trade and Investment Coopera-tion Framework Agreement (TICFA) স্বাক্ষর না করিয়ে ছাড়বে না বলেই মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুতর! কারণ, এই চুক্তি স্বাক্ষর হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিশ্ব পরিসরে অনুন্নত দেশগুলোর আপেক্ষিক দরকষাকষির ক্ষমতায় এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাবে। ফলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বহুলাংশে হাতছাড়া হয়ে যাবে।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

এই 'হরতাল' সেই হরতাল নয়

জামাত-শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসী এ্যাজেন্ডা এবং বাজার অর্থনীতির বদৌলতে আমাদের দেশে এখন চলছে 'হরতালের' পিলে চমকানো এক বিপজ্জনক খেলা।

একটি দেশে 'বাজার অর্থনীতির' আধিপত্য স্থাপিত হওয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হলো সে দেশে রাজনীতির ক্ষেত্রেও 'বাজার' সংস্কৃতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা পাওয়া। 'বাজারের' লাভ-ক্ষতির হিসেব কষে ও তার উপাদান-উপকরণের দ্বারা যখন রাজনীতি চালিত হয়, তখন তাকে আখ্যায়িত করা যায় 'বাজার রাজনীতি' রূপে।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন

এটি একটি আনন্দের সংবাদ যে, স্থানীয় সরকার নিয়ে আমাদের দেশে আবার 'হাই প্রোফাইল' আলোচনা হচ্ছে। ২০ ও ২১ মার্চ ঢাকায় দু'দিনের 'আন্তর্জাতিক স্থানীয় সরকার সম্মেলন-২০১৩' অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন। সমাপনী দিনে বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও, সেদিন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে শোক দিবসের কর্মসূচি থাকায় তিনি সম্মেলনে গিয়ে বক্তৃতা করেননি। তবে প্রতিনিধিরা তাঁর সাথে দেখা করে তাঁর বক্তব্য জেনে নিয়েছেন।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

সরকারের মনোভাবে নাটকীয় পরিবর্তন

মানবতাবিরোধী অপরাধে ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তার পরও ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়নি। দেশের মানুষ ভেবেছিল এবং মনে করে, কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। একাত্তর সালে স্বাধীনতাযুদ্ধকালে কাদের মোল্লার যে ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ, তা সর্বজনবিদিত। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সেটা আদালতে প্রমাণও হয়েছে। এ রায়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এর বাইরে রায় সম্পর্কে আর বেশি কিছু বলার নেই। কাদের মোল্লার হাতে যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের আত্মীয়স্বজনরা এ রায় নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। শুধু তাঁরাই নন, এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সব মানুষই হতাশ হয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, তাঁরা ন্যায্য বিচার পাননি। তার চেয়ে বড় কথা, আমরা লক্ষ করছি, জামায়াতের প্রতি সরকারের মনোভাবে নাটকীয়

Mujahidul.Islam.Selim's picture

পঁচাত্তরের তেসরা নভেম্বর

আজ থেকে ৩৭ বছর আগের কথা। সেদিন দেশের বুকে ঘটেছিল মর্মান্তিক ও বর্বর এক ট্র্যাজিক ঘটনা। ১৯৭৫ সালে ৮০ দিনের ব্যবধানে দেশে পর পর দুটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। প্রথমটি ছিল ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে ও আরো দুটি স্থানে প্রায় একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রায় সবাইকে হত্যা করার ঘটনা। পরেরটি ছিল ৩ নভেম্বর ঢাকা জেলের অভ্যন্তরে দেশের শীর্ষস্থানীয় চার জাতীয় নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন (অব.) মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানের হত্যাকাণ্ড। এলএমজি, স্টেনগান, রাইফেলের তপ্ত বুলেটে একেকজনকে ঝাঁঝরা করে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। অধিকন্তু মনসুর আলীকে জেলখানায় উপর্যুপরি বেয়নেট চার্জ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। এর আগে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুপুত্র, নবপরিণীতা পুত্রবধূ, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, খোঁজখবর নিতে আসা ঊর্ধ্বতন সামরিক অফিসার- কেউই ঘাতকদের হাত থেকে নিস্তার পায়নি।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

রাজনীতিতে রণনীতি ও রণকৌশল প্রসঙ্গে

রাজনীতিতে চূড়ান্ত লক্ষ্য (ultimate goal), রণনীতি (strategy) ও রণকৌশল (tactics) বলে তিনটি ভিন্ন ভিন্নভাবে বিবেচনাযোগ্য বিষয় রয়েছে। রাজনৈতিক দল ও দলের নেতা-কর্মীরা অনেক সময় সচেতনভাবে এগুলো নির্ধারণ করে অগ্রসর হয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব বিবেচনার বালাই না করেই রাজনীতি করা হয়। রাজনীতি চলে ‘এ্যাডহক’ অর্থাত্ ‘যখনকারটা তখনকার মতো’ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে।

দেশের কথিত ‘বড়’ দু’টি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তো বটেই, এমনকি অধিকাংশ বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল ও নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রে, ‘ক্ষমতায় যাওয়াটাই’ বা ক্ষমতার ভাগ পাওয়াটাই মোক্ষম লক্ষ্য বলে গণ্য করে, সেই অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। সেখানে ‘নীতি-আদর্শ-কর্মসূচি’ ইত্যাদি বিষয়গুলো হলো নিতান্তই তুচ্ছ। তাদের ক্ষেত্রে মূলমন্ত্র হলো অনেকটা “সবার উপরে ‘গদিই’ সত্য, তাহার উপরে নাই।” গদির বিবেচনার সামনে অন্য সবকিছুই হলো তাদের কাছে গৌণ। সেটা নীতি, আদর্শ, মানবিকতা, দেশপ্রেম ইত্যাদি যা হোক না কেন! এটাই হলো ‘গদির রাজনীতি’।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যু

আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক শেষ হলো না। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ হওয়ার পরেও জটিলতা কাটেনি। মহাজোট সরকারসহ অনেক মহল বলছে, আদালতের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধান পরিপন্থি বলে আখ্যায়িত করে তা বাতিল করায় সে বিষয়ে বিতর্কের সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নটি উত্থাপন করাটা হবে তাই এখন সংবিধান লঙ্ঘন করার মতো বিষয়। তাই, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যেতে হবে। তার বিকল্পে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে। সেরূপ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফর্মুলা নিয়ে আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের সুযোগই কেবল সংবিধানসম্মত হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে না। সরকার, বিরোধী দল বিএনপিকে, অসাংবিধানিক বলে ঘোষিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি পরিত্যাগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ফর্মুলা নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য পরামর্শ দিয়েছে।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

পদ্মা সেতুর অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের ফিরে আসা :সুসংবাদ না দুঃসংবাদ

পদ্মা সেতু নির্মিত হবে, নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় সুসংবাদ। কিন্তু তার অর্থায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে কথা থেকে যায়। যদিও বিশ্বব্যাংক আবার বলতে শুরু করছে, সরকারি কর্মকর্তারা ব্যাংকের অবস্থান নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী এরপরই আবার জাতিকে আশ্বস্ত করেছেন, বিশ্বব্যাংকের এই বিবৃতি পদ্মা সেতুর অর্থায়নে কোন প্রভাব ফেলবে না। তারপরই যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে আর কোন কথা নয়।

পদ্মা সেতুর অর্থায়নের চুক্তি বিশ্বব্যাংক বাতিল করে দিয়েছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক আবার জানিয়েছে যে, পদ্মা সেতুর জন্য শর্তসাপেক্ষ অর্থায়ন করতে রাজি। এই ঘোষণাকে একটি সুসংবাদ হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আনন্দ মিছিলও হয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা গেল না বলে বিএনপি ভেতরে ভেতরে মর্মাহত হলেও প্রকাশ্যে একে একটি সুসংবাদ বলেই আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু, পদ্মা সেতু নির্মিত হবে, —এটি গভীর আনন্দের খবর হলেও নিজেরাই তার অর্থায়ন করার বদলে প্রকাশ্য ও গোপন নানা শর্ত মেনে আমরা যে আবার বিশ্বব্যাংকের ফাঁদে বাঁধা পড়তে যাচ্ছি, সেটি মোটেও কোনো সুসংবাদ নয়। বরঞ্চ তা হচ্ছে, প্রকৃত সুসংবাদ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মতো একটি দুঃসংবাদও বটে। তাছাড়া, এখনো অর্থ ছাড় দেয়ার বিষয়টি ষোল আনা নিশ্চিত নয়। পদ্মা সেতু অর্থায়নে ফিরে আসছে বলে ঘোষণা দেয়ার পরে, ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক নতুন নতুন আরো শর্ত আরোপ করতে শুরু করে দিয়েছে।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

রাজনীতিতে কী ঘটতে যাচ্ছে, কে জানে

কোন পথে ধাবিত হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী? কি ঘটতে চলেছে আগামী দিনগুলোতে? এসব নিয়ে মানুষের জিজ্ঞাসা আগ্রহ ও উদ্বেগের শেষ নেই। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাবলীর কারণে ভবিষ্যত্ নিয়ে ধোঁয়াসা বেড়েছে। অনিশ্চয়তার লক্ষণগুলোও প্রকটতর হয়েছে। ষোল আনা নিশ্চয়তা নিয়ে কেউ বলতে পারছে না যে, কি ঘটতে যাচ্ছে দেশের রাজনীতিতে। সবকিছুকে গোলক ধাঁধার মাঝে ফেলে দিয়ে দেশকে অনিশ্চয়তার বাতাবরণে নিমজ্জিত করে রাখাটাই হয়তো মাস্টার প্ল্যানের অংশ। নিয়ন্ত্রিত নৈরাজ্য (controlled chaos)-এর মধ্যে বাংলাদেশকে আটকে রাখাটাই পর্দার আড়ালে থেকে দেশের ভাগ্য যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের স্থায়ী স্ট্র্যাট্যাজি হতে পারে। তাই জটিলতর হয়ে উঠতে থাকা রাজনৈতিক গোলক ধাঁধার কুঞ্জটিকার মাঝ থেকে কি হতে যাচ্ছে আগামীতে, এই প্রশ্নের জবাব বের করা কষ্টকরই শুধু নয়— অসম্ভবও বটে। হয়তো এটাই শুধু নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, কি হতে যাচ্ছে তা এখনো অনিশ্চিত। অনেক বিকল্প (option) খোলা রেখেই রাজনীতির মাঠের দেশি-বিদেশি প্লেয়াররা খেলে চলেছে।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

যে অসঙ্গতি সহসা নজরে আসে না

সমাজ-বাস্তবতাই সামাজিক চেতনার স্বরূপ নির্ধারণ করে থাকে। উল্টোরকম ঘটে না। ইতিহাসের বিজ্ঞানসম্মত পাঠ আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয়। তবে একথাও একই সাথে সত্য যে, সমাজ-বাস্তবতার গঠন, আপেক্ষিক স্থায়িত্ব, গতিধারা ও রূপান্তর বিদ্যমান সমাজ-চেতনা দ্বারা প্রভাবিত হয়। সমাজ-বাস্তবতাকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে তার সেই সক্ষমতা অনেক সময় বেশ তাত্পর্যপূর্ণও হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ‘প্রভাবিত’ করার সক্ষমতা আর ‘নির্ধারক’ হওয়ার সামর্থ্য—এ দু’টি বিষয় এক নয়।

আদিকালে মানুষ যখন যূথবদ্ধভাবে গুহাবাসী শিকারী জীবন যাপন করতো তখন সমাজে কোনো শোষণ ছিল না। ছিল না শোষক ও শোষিত হিসাবে শ্রেণিবিভাজন। সমাজের প্রতিটি সদস্যের স্বাধীন অস্তিত্বের জন্য অত্যাবশ্যক শর্ত ছিল, সমাজের অপরাপর সব সদস্যের স্বাধীন অবস্থান। বিরূপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার জন্য উত্পাদনের উপকরণের ওপর সমষ্টিগত ও যৌথ মালিকানা বজায় থাকাটা ছিল অপরিহার্য। এরূপ সমাজ বাস্তবতায় শোষণ, মালিকানা, ব্যক্তিমালিকানা ইত্যাদি ধারণাগুলো সামাজিক চেতনায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। সে সময়ের সমাজ ব্যবস্থার মৌলিক চরিত্র ছিল ‘আদিম সাম্যবাদী’।

Syndicate content