Abdul.Gaffar.Chowdhury's blog

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

ভাসানী থেকে হাসিনা:আওয়ামী লীগ রাজনীতির চার অধ্যায়

সম্প্রতি আমি একটি মজার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলাম। প্রশ্নটা করেছিলেন এক বিদেশি সাংবাদিক বন্ধু। তিনি বলেছেন, 'ইংরেজের জাতীয় চরিত্রের সবচেয়ে বেশি প্রতিফলন ঘটে কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল দলের মধ্যে। ইংরেজ চরিত্রের রক্ষণশীলতা আধিপত্য লিপ্সা এবং সহিষ্ণু সামাজিকতার সবচেয়ে বেশি প্রকাশ ঘটেছে কনজারভেটিভ দলের মধ্যে। এ জন্য বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়েও ব্রিটেনের দুটি প্রধান দলের একটি হয়ে কনজারভেটিভ পার্টি এখনও টিকে আছে।' এই বক্তব্যটি আমাকে জানানোর পর বিদেশি বন্ধুর প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি_ কোন দলটির মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক চরিত্র এবং তার বিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রতিফলন ঘটেছে?
awami league
প্রশ্নটির জবাব দিতে আমাকে ভাবতে হয়নি। তাকে বলেছি, আওয়ামী লীগের মধ্যে। এই দলটির মধ্যে বাঙালি চরিত্রের পতন, উত্থান, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি ধারাবাহিকতা পাবেন। বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক চাহিদা ও রাজনৈতিক প্রয়োজন থেকে আওয়ামী লীগের জন্ম। 'পান-বিড়িওয়ালাদের পার্টি' (রেহমান সোবহানের ভাষায়) থেকে আজ বাংলাদেশি নব্য বুর্জোয়াদের দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তাই গড়ে উঠতে পেরেছে।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

বিদ্রোহের অগ্নিবীণায় বিপ্লবের বজ্রকণ্ঠ

২০১৪ সালের ২৯ আগস্ট। ৩৮ বছর আগে ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বহু বছর আগে থেকে কবি স্মৃতিভ্রষ্ট ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক ইচ্ছায় বিদ্রোহী কবিকে ঢাকায় সপরিবারে আনা হয়। অবশ্য তার আগেই কবিপত্নী প্রমীলা নজরুলের মৃত্যু হয়। কবি তখন কলকাতায়। প্রমীলা নজরুলকে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় (কবির জন্মস্থানে) সমাহিত করা হয়।
nazrul islam
কবি যদি স্মৃতিভ্রষ্ট না হতেন তাহলে মৃত্যুর আগে হয়তো বলে যেতে পারতেন তিনি কোথায় সমাহিত হতে চান। ঢাকায়, না পশ্চিমবঙ্গে পত্নী প্রমীলার সমাধির পাশে? তার জ্যেষ্ঠপুত্র কাজী সব্যসাচীসহ পরিবারের কারও কারও ইচ্ছা ছিল কবির মরদেহ পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে চুরুলিয়ায় সমাহিত করার। তাদের এই ইচ্ছাপূরণে বাধা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের তখনকার সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান একটি হীন পন্থার আশ্রয় নেন। ঢাকায় আসার জন্য কাজী সব্যসাচী ও নজরুল পরিবারের কতিপয় সদস্যকে ভিসা দিতে কলকাতার বাংলাদেশ হাইকমিশন গড়িমসি করে তাদের ভিসা প্রদান বিলম্বিত করে। ফলে কবির মৃত্যুর সময় তারা ঢাকায় এসে পৌঁছতে পারেননি। এমনকি তারা ঢাকায় এসে পৌঁছার আগেই কবির মরদেহ তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। ফলে কাজী সব্যসাচীসহ কবি পরিবারের অনেকেই কবিকে শেষ দেখা দেখতে পারেননি।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

ঝড়ের আগের স্তব্ধতা, না ঝড়ের পরের শান্তি?

বাংলাদেশে এখন এক ধরনের শান্তি ও শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এই শান্তি কি স্বাভাবিক ও ঝড়ের পরের শান্ত আকাশ, না ঝড়ের আগের স্তব্ধতা? এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। জামায়াত-শিবির অনেকটাই নিষ্ক্রিয় এবং বিএনপি আন্দোলনের হাঁকডাক দিচ্ছে বটে, কিন্তু আগের রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে না বা করতে পারছে না।
abdul gaffar
অনেকে বলছেন, এটা ৫ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের অবদান। এই নির্বাচনকে একদলীয়, অবৈধ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে যাঁরা লম্ফঝম্প করছিলেন, তাঁরা এখন দেশে শান্ত অবস্থা বিরাজ করায় নিজেরাও কিছুটা শান্ত। তাঁদের কানে কানে বলে দেওয়া উচিত, গত নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যোগ না দেওয়া সত্ত্বেও দেশের মানুষ এই নির্বাচন মেনে নিয়েছে। ফলে জনগণ শান্ত এবং দেশও। বহুকাল পর দেশের মানুষ তাদের বহু আরাধ্য শান্তি ও স্বস্তি উপভোগ করছে। জনগণের অধিকারের নামে জনগণের এই শান্তি ও স্বস্তি নষ্ট করার কোনো অধিকার দেশের ও বিদেশের অতি উৎসাহীদের নেই।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

আগস্টের দুটি তারিখ ও বিএনপির রাজনীতি

এবার ২১ আগস্টের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া কিছু কথা বলেছেন। ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার প্রকাশ্য জনসভায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলায় অতি অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে যান। কিন্তু অসংখ্য নিরীহ নরনারী আহত-নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম নেত্রী আইভি রহমানও। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাই কমবেশি আহত হন। সেই থেকে প্রতিবছর নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং আহত ও পঙ্গুরা ওই দিনটির স্মরণে ঢাকায় সমবেত হন। তারা নিহতদের স্মরণবেদিতে ফুল দেন এবং এই বর্বরতাকে ধিক্কার জানান।
21 august
হাসিনার জনসভায় এই বর্বর গ্রেনেড হামলার সময় খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় ছিল। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে। শেখ হাসিনা তাতে রাজি হননি। গ্রেনেডের টুকরোর আঘাতে তখন তার একটা কান দিয়ে রক্ত ঝরছে এবং তার কাপড়চোপড় রক্তাক্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরোধী দলের আহত ও মর্মাহত নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশের আগে তার উচিত ছিল এই বর্বর হামলা কারা ঘটিয়েছে, অবিলম্বে তাদের ধরার নির্দেশ দেওয়া এবং এর তদন্ত অনুষ্ঠানে ঢিলেমি করে যাতে সভা প্রাঙ্গণ থেকে অপরাধের সব আলামত মুছে ফেরার সুযোগ অপরাধীরা না পায়, তার দ্রুত ব্যবস্থা করা।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

ইসরায়েলের বর্বরতায় বিশ্ব-প্রতিক্রিয়া আগের মতো তীব্র নয় কেন?

ব্রিটেনে সব সময়ই নানা দেশের নানা জাতির আশ্রয়প্রার্থীর ভিড় থাকে, এখনো আছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। আবার অনেকে এসেছেন কর্মসংস্থান ও আর্থিকভাবে ভাগ্য ফেরানোর আশায়। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য এসেছেন ব্রিটেনে এমন বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গুনে শেষ করা যাবে না। নেপোলিয়ন ইংরেজদের সম্পর্কে বলেছিলেন, 'এ নেশন অব শপকিপার্স' (দোকানদারের জাতি)। দীর্ঘকাল লন্ডনে বাস করে কথাটা আমার কাছে মাঝে মাঝে সঠিক মনে হয়।
agc
ব্রিটিশদের উদারনৈতিক রাজনীতির বড় উদ্দেশ্যই মনে হয় ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানদারি। অর্থাৎ ব্যবসায়ের খাতিরে শত্রু-মিত্র সবার সঙ্গে গলাগলি করতে ব্রিটেনের কোনো সরকারের আপত্তি নেই। সম্ভবত সে জন্যই গাজায় ইসরায়েলের চরম বর্বরতার বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবাদ জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় টোরি দলের প্রভাবশালী সদস্য ব্যারোনেস সাইয়েদা ওয়ারসি পদত্যাগ পর্যন্ত করেছেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনও অনড়। অন্যদিকে তাঁর সরকারের নাকের ডগাতেই পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস বারার (যে বারার মেয়র বিতর্কিত বাংলাদেশি লুতফর রহমান) কাউন্সিল অফিসে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে; কিন্তু সরকারের শীর্ষ মহলে তেমন উচ্চবাচ্য নেই। সম্ভবত সাম্রাজ্য হারানোর পর ব্রিটেনের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলেরই (টোরি ও লেবার) নীতি হচ্ছে, গাছের ওপরেরটা খাব, নিচেরটাও কুড়াব।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

দুঃখ বলি কারে?

ঢাকার এক স্বনামখ্যাত বুদ্ধিজীবী, যিনি আমার বয়োকনিষ্ঠ, কিন্তু খুবই ঘনিষ্ঠ, হঠাৎ টেলিফোনে আমাকে তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আপনি বিদেশে তো বেশ ভালোই আছেন। আপনার লেখায় সরকারের প্রশংসাই থাকে বেশি। তাহলে সরকারকে দুচারটে ভালো পরামর্শ দেন না কেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। ইফতার পার্টিতে ডেকে পাশে বসান। তাকে দুএকটা ভালো পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেন না কেন? তাহলে তো দেশটা ভালো চলে।
abdul gaffar
প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্মান করেন, যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেন এ কথা সত্য। কিন্তু আমি পরামর্শ দিলেই তিনি তা শোনেন এমন দাবি করি না। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরামর্শ দিই না। নিজের লেখালেখির মাধ্যমে তাকে এবং তার সরকারকে যেটুকু বলার তা বলি। তিনি শুনলে শুনবেন, না শুনলে শুনবেন না। তাতে আমার কোনো দায় নেই। দেশ চালানোর দায়িত্ব তার। আমার নয়। সুতরাং আমার কথা শুনে তিনি দেশ চালাবেনই বা কেন?

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

জোহরা ভাবী চলে গেলেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক সহকর্মী তাজউদ্দীন আহমদকে প্রায়শ বলতেন, 'তাজউদ্দীন, তুমি বাংলার মানুষের মাথার তাজ (মুকুট) হতে পার; কিন্তু জোহরা হচ্ছে সেই নারী, যার হাতে সবসময় আলোর বাতি জ্বলে। কথাটা বঙ্গবন্ধু বহুদিন আগে বলতেন_ সেই ছয় দফা আন্দোলনের সময়। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছিল সদ্য প্রয়াত জোহরা তাজউদ্দীন সম্পর্কে কথাটা কতটা সঠিক।
tajuddin
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) আমাদের এই আলোর প্রদীপ নিভে গেল। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। কিছুদিন আগে খবর পেয়েছিলাম, সম্ভবত ২২ নভেম্বর তিনি পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে দিলি্লতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর তাকে দেশে নিয়ে আসা হয়। তিনি কোমায় চলে যান। শেষ পর্যন্ত ৮০ বছর বয়সে তার জীবনাবসান হলো। বাংলাদেশে মুজিব যুগের আওয়ামী রাজনীতির শেষ উজ্জ্বল নক্ষত্রটি নিভে গেল। জানি না, তার কোনো ছেলে অথবা মেয়ে (তার এক মেয়ে তো এখন সংসদ সদস্য) মায়ের আলোকবর্তিকাটি বহন করার সাহস ও যোগ্যতা দেখাবেন কিনা! আমার প্রার্থনা, তাদের কেউ না কেউ তা যেন দেখাতে পারেন।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

নতুন উষার স্বর্ণদ্বারে, না ভয়ঙ্কর পতনের চূড়ায়?

উপমহাদেশের তিনজন জাতির জনকের কাছে ক্ষমা চেয়ে আজ এ লেখাটি শুরু করছি। এই তিনজন জনক হলেন ভারতের মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেই পরিচিত; পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যাকে পাকিস্তানিরা বলেন কায়েদে আযম এবং বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু বলেই এখন তাকে একডাকে অনেকে চেনেন। তাদের তিনজন সম্পর্কে লোকমুখে প্রচারিত একটি গল্প দিয়েই আজকের লেখার অবতারণা করছি। শেষ বিচারের দিন যারা স্বর্গে যাওয়ার তারা স্বর্গে গেছেন এবং যারা নরকে যাওয়ার তারা নরকে চলে গেছেন। কিন্তু তিন দেশের তিন জাতির জনক তারা অপেক্ষমাণ। তাদের স্বর্গে গমন সুনিশ্চিত এবং সেটা ধরেই অপেক্ষা করছেন ডাক আসার। কিন্তু স্বর্গের দরজা তখনও খোলা হয়নি তাদের জন্য। গান্ধী, জিন্নাহ এবং শেখ মুজিব নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করছেন। এমন সময় দেবদূত এসে জানালেন, আপনাদের স্বর্গে নয় নরকে যেতে হবে। স্রষ্টার সে রকমই আদেশ। এটা শুনে তিনজনই পরম বিস্মিত হলেন।
bangabandhu
এ রকম অদ্ভুত আদেশের কারণ জানতে চাইলেন দেবদূতের কাছে। দেবদূত বলেন, আপনারা স্রষ্টাকেই সেটা জিজ্ঞেস করুন। তিনজনে একসঙ্গে জানতে চাইলেন_ কেন তাদের প্রতি এই অদ্ভুত আদেশ! স্রষ্টা প্রথমে কথা বলেন গান্ধীর সঙ্গে। তাকে বললেন, তোমার অপরাধ গুরুতর। তুমি অহিংসার নামে যে দেশ গড়ে এসেছ, সেই দেশের অবস্থা এখন কী হয়েছে দেখ। সেখানে কোথাও অহিংসা আছে কি? তোমার কারণে অহিংসা ভারতবর্ষ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদ।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

নেহরু থেকে নরেন্দ্রনাথ মোদি

পৃথিবীতে বহু মানুষ আছেন, যাঁরা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করেন। মৃত্যুর পর মানুষ আবার নতুন করে জন্ম নেয়- এটাই জন্মান্তরবাদের কথা। আমি সংশয়বাদী। এক মানুষ বহু জন্মের অধিকারী হয় কি না তা আমি জানি না। কিন্তু একটি দেশ বা জাতির যে পুনঃ পুনঃ মৃত্যু ও জন্ম হতে পারে তার সাক্ষ্য তো ইতিহাস। চীন সাম্রাজ্য ধ্বংস হওয়ার পর আমিংখোর চীনা জাতির মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন। সেই চীন সমাজতন্ত্রী চীন হিসেবে আবার নবজন্ম নিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে তার একটি সুপারপাওয়ার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খুব বেশি দিনের কথা নয়, সুপারপাওয়ার হিসেবে স্ট্যালিন-ক্রুশভের রাশিয়ার মৃত্যু হয়। দুই দশক না যেতেই পুতিনের নেতৃত্বে সেই রাশিয়া আবার নববলে বলীয়ান হয়ে উঠেছে।
nehru
এই জন্মান্তরের দিক থেকে ভারতবর্ষের ইতিহাসকে আমি বলব অদ্বিতীয়। সেই বৈদিক যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত যুগে যুগে ভারতবর্ষের রূপান্তর, ধ্বংস ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বারবার তার নতুনভাবে বেঁচে ওঠা বিস্ময়কর। রবীন্দ্রনাথ ভারতকে বলেছেন 'মহামানবের মিলনতীর্থ'। এই পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ভারতের আর কোনো বড় পরিচয় নেই। ভারতীয় সভ্যতার মিশ্রণ প্রাচীন গ্রিক ও পারসিক সভ্যতার চেয়েও বিশাল ও ব্যাপক। দেশ ও জাতি হিসেবে ভারতের নব নব জন্মের পরিচয়ও বৈচিত্র্যময়। অনার্য ভারত, বৈদিক ভারত, বৌদ্ধ ভারত, মুসলিম ভারত (পাঠান ও মোগল), ব্রিটিশ ভারত, গান্ধীর অহিংস ভারত, নেহরুর স্বাধীন ও সমাজবাদী ভারত, তারপর ইন্দিরা-রাজীব, বাজপেয়ি ও সোনিয়ার যুগ পেরিয়ে নরেন্দ্র মোদির 'হিন্দুত্ববাদী' ভারতের নব উত্থান এই উপমহাদেশের বিস্ময়কর ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাস। এর সমতুল্য ইতিহাসের সন্ধানলাভ দুষ্কর।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

রাজা রিচার্ডের ক্রুসেডের ডাক ওবামার কণ্ঠে?

আবার পশ্চিমা জগতে ক্রুসেডের যুদ্ধবাজনা বেজে উঠেছে। এবার মুসলিম খেলাফতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দেননি মধ্যযুগের ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড। বহু শতাব্দী পর এই ডাক দিয়েছেন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম পিতার সন্তান বারাক ওবামা; যিনি এখন নিজেকে খ্রিস্টান বলে দাবি করেন। কেবল গায়ের রঙটা তিনি পাল্টাতে পারেননি, কিন্তু মনের রঙ, বিশ্বাসের রঙটা সুবিধামতো পাল্টে ফেলেছেন।
াবা্বাবা
মানুষ মুখে যাই বলুক, মনের কথা সব সময় গোপন রাখতে পারে না। গোটা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে অতীতের ক্রুসেডের মতো যুদ্ধ পরিচালনার ইচ্ছা যে পশ্চিমা খ্রিস্টান জগতের আছে এ কথা একবার মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল ওবামার আগের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ জুনিয়রের ঠোঁট থেকে। আফগানিস্তানে তালেবান-শাসন উৎখাত করার জন্য যুদ্ধ শুরু করার প্রাক্কালে তিনি বলে ফেলেছিলেন, আমরা আবার ক্রুসেডে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছি।

Syndicate content