Blogs

গায়ে যে কালো দাগ সুবর্ণ পালক কই

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ড. এটিএম শামসুল হুদা নির্বাচন কমিশনের মেয়াদকাল শেষ হবে। নির্বাচন কমিশনের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ২০০৭ সালে জাতীয় সংকটকালীন সময়ে ড. ফখরুদ্দীন সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার আমলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করায় এ কমিশনকে ধন্যবাদ দেয়া সঙ্গত। এ নিবন্ধে ড. হুদা কমিশনকে ধন্যবাদ দেয়ার আগে কমিশনের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করতে চাই। স্বল্প পরিসরে যেহেতু এ কমিশনের পাঁচ বছরের ঘটনাবহুল কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বয়ান সম্ভব নয়, সে কারণে সম্মানিত পাঠকদের জন্য কমিশনের ভালো-মন্দের একটি সংক্ষিপ্তসার এ প্রবন্ধে উপস্থাপন করতে চেষ্টা করবো।

আলোচ্য মূল্যায়নের আগে বলে নেয়া ভালো, বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে শুরু করে গত ৪০ বছরে যে দশটি নির্বাচন কমিশন এ দেশে কাজ করেছে তাদের প্রায় প্রতিটি কমিশনকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। যুগপত্ সামরিক ও বেসামরিক শাসনামলের এ কমিশনগুলো এদের কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

তাঁর প্রদর্শিত পথে ফিরে আসা কি কোনোদিন সম্ভব হবে?

শৈশবে যখন ইস্কুলের নিচের ক্লাসে পড়ি, তখন পরীক্ষায় বাংলা দ্বিতীয় পত্রে রচনা লেখা ছিলো বড় মার্ক পাওয়ার বিষয়। সেজন্য পরীক্ষার সময়ে কয়েকটি বিষয়ে রচনা লেখার জন্য আমরা পূর্ব প্রস্তুতি নিতাম। এসব বিষয়ের মধ্যে একটি প্রধান বিষয় ছিলো মহানবী হযরত মোহাম্মদের (দ.) জীবন নিয়ে লেখা। আমরা ধরেই নিতাম, প্রশ্নপত্রে রচনা লেখার জন্য যেসব বিষয় দেওয়া হবে, তার মধ্যে মহানবীর জীবনকথা থাকবেই। প্রায়ই দেখা যেতো তা আছে। আমরা পরীক্ষার আগেই মহানবীর সংক্ষিপ্ত জীবনকথা মুখস্থ করে ফেলতাম। আর যখনই দেখতাম, প্রশ্নপত্রে বিষয়টি আছে, অমনি লেখা শুরু করে দিতাম, ‘ধূসর ঊষর মরু বক্ষে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে বিবি আমেনার গর্ভে...ইত্যাদি ইত্যাদি।

বড় হয়ে মহানবীর অসংখ্য জীবনীগ্রন্থ পড়েছি। বাংলায় পড়েছি, মওলানা আকরম খাঁর ‘মোস্তফা চরিত’, কবি গোলাম মোস্তফার ‘বিশ্বনবী’। ইংরেজীতে ‘মোহাম্মদ, দি লাস্ট প্রোফেট’সহ কয়েকজন ইংরেজ, এমনকি একজন ইহুদি পন্ডিতের লেখা নবীর জীবনকথা ও জীবনভাষ্যও পাঠ করেছি। আবার নবীকে (দ.) নিয়ে লেখা এইচ জি ওয়েলসের ও সালমান রুশদির কুত্সাপূর্ণ বইও পড়েছি। আর এই মহানবীকে নিয়ে আরবি, ফার্সি, উর্দু, বাংলা, ইংরেজী ইত্যাদি ভাষায় অসংখ্য কবিতা, গান, গজল শুনেছি এবং এখনো শুনছি।

পরে যেন পস্তাতে না হয়

বেশ কিছুদিন আগে এই একই বিষয়ে একটি লেখা আমি লিখেছিলাম। তবে এর কোনো প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। কেননা, যাদের উদ্দেশ করে সেই লেখা, তাদের মধ্যে কোনো রকম আলোড়ন যে সেটা একেবারেই তুলতে পারেনি গত তিন বছরের ঘটনাবলির আলোকে প্রসঙ্গটির একেবারে হারিয়ে যাওয়া থেকে তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। আমার সেই লেখার বিষয়বস্তু ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া, এবারও যে একই বিষয়ের ওপর আরও একটু বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করতে আমি প্রয়াসী।
বাংলাদেশের গত চারটি সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ত্রুটিপূর্ণ যে একটি বিষয় সহজেই আমাদের সামনে ধরা দেয় তা হলো, ভোটের ফলাফল জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সব সময় সুবিচার করছে না। বিগত চার নির্বাচনে প্রধান দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হার ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাশার আলোকে বলা যায় যে তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এমন একটি সংসদ তাঁরা দেখতে চেয়েছিলেন, একক একটি দলের একচেটিয়া প্রাধান্য থেকে মুক্ত থেকে জনপ্রতিনিধিত্বের সঠিক প্রতিফলন যে সংসদ তুলে ধরবে। তবে আমাদের সমকালীন বাস্তবতা বলছে, নাগরিকদের সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা ব্যর্থ হয়েছি ত্রুটিপূর্ণ একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল ব্যবস্থা চালু থাকার কারণে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দুই দশক ধরে ত্রুটিপূর্ণ সেই দিকটি বলা যায় আমাদের দৃষ্টির বাইরেই থেকে গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে সেভাবে কোথাও আলোচনা হতে শোনা যায়নি।

» Topics:

জীবন থেকে নেয়া

মহান ভাষা আন্দোলন ও রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারির চাওয়া-পাওয়ার ঘটনা যে চলচ্চিত্রে প্রকাশিত হয়েছে, সেটি জহির রায়হান পরিচালিত জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০)। তৎকালীন সারা পাকিস্তানের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে (১৯৪৭-১৯৭০) জীবন থেকে নেয়াই একমাত্র ব্যতিক্রমী চলচ্চিত্র, যাতে একটি পারিবারিক কাহিনিনির্ভর মেলোড্রামার আড়ালে সমকালীন রাজনীতি, গণ-আন্দোলন, ছাত্র-আন্দোলন, পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, একনায়কতন্ত্র সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছে। এই চলচ্চিত্রেই প্রথমবারের মতো তুলে ধরা হয়েছে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা, নগ্নপদে প্রভাতফেরি-মিছিল, পোস্টার-ফেস্টুন-ব্যানারসহ শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য প্রদান ও সমবেত কণ্ঠে অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’।

চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে জহির রায়হানকে কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়েছিল। উল্লেখ্য, জহির রায়হান ছিলেন ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকরী এবং কারাবরণকারী প্রথম ১০ জনের মধ্যে একজন। এ ছাড়া ছিলেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী, ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় লিখেছিলেন গল্প ‘পোস্টার’ ও উপন্যাস আরেক ফাগুন।

» Topics:

শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগসংক্রান্ত নাটকীয় ঘটনা

১৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কর্মচারীদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তে দেখা যায়, বিদ্যমান আচরণবিধির অধিকতর প্রচার করতে হবে। হঠাৎ করে এ বিষয়টি কেন উত্থাপিত হলো, তার কোনো বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে যে শেয়ারবাজারে সরকারি কর্মচারীরা বিনিয়োগ করছেন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সব সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কিছু দেশে এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের বিষয়টি যে ঝুঁকিপূর্ণ এ কথা স্পষ্ট করে মিডিয়ায় প্রচার করে। বাংলাদেশে এটা করা হয় না। এ বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হলে ভালো হবে। যেকোনো বিনিয়োগকারী জানতে পারবে যে বিনিয়োগটি হবে ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ বিনিয়োগে লাভও হতে পারে, লোকসানও হতে পারে। ১৭ জানুয়ারি প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় যে এ বিষয়টি সম্পর্কেই প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে বিনিয়োগকারীকে লাভ করলে ক্ষতিরও দায়ভার নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের বিনিয়োগে বিধিনিষেধ সম্পর্কেও জানতে চান। তিনি জানতে পারেন যে ১৯৭৯ সালে প্রণীত সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধিতে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, বিধিটি নতুন করে প্রচার করতে হবে। প্রাসঙ্গিক যে আচরণবিধির প্রেক্ষাপট বহু পুরনো। ব্রিটিশ আমল থেকেই পর্যায়ক্রমে এ ধরনের আচরণবিধি সময় সময় প্রণীত হয়। পদমর্যাদা নির্বিশেষে সব সরকারি কর্মচারীর আচরণবিধি জানা বাধ্যতামূলক।

» Topics:

অস্ট্রেলিয়া’স স্টোলেন জেনারেশনস্ – ৩য় খণ্ড

th_stolen-generations-postcard-1.pngth_stolen-generations-postcard-2.png

এ জীবনে মায়ের সাথে বুঝি আর দেখা হবে না। আমার মায়ের চেহারাটাও তেমন মনে নেই। সামনা সামনি দেখলে মা’কে এখন আর চিনতে পারব কিনা জানিনা। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে মা বুঝি আর বেঁচে নেই। সত্যি কথা বলতে কি মায়ের জন্য এখন আমার আর তেমন কোন অনুভূতই যেন অবশিষ্ট নেই। এখন আমি মাকে নিয়ে কিছুই ভাবি না।

কিবরিয়া হত্যা মামলা : শুধু তদন্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে!

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি নিজ জেলা হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে এক রাজনৈতিক জনসভা শেষে গাড়িতে ওঠার সময় দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা মানুষ শাহ এ এম এস কিবরিয়া রক্তাক্ত হন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইরত শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে বাঁচানোর জন্য এর পর পরই ঢাকায় নিয়ে আসা হলেও সব ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। তিনি চিরবিদায় নেন বৈরী সময়ের হিংস্র ছোবলে, ওই দিনই রাত প্রায় ১২টায়। অভিযোগ আছে, কিবরিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় যখন হবিগঞ্জের জেলা সদর হাসপাতালে কাতরাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে ঢাকায় আনতে বা পাঠাতে স্থানীয় এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসন অনেক কালক্ষেপণ করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তখনই তিনি প্রায় চলে যান জীবনের শেষ প্রান্তে। তৎকালীন (২০০১-২০০৬) সরকারের শাসনামলে বিরোধীদলীয় অসংখ্য নেতা-কর্মী অপশক্তির নির্যাতন-হামলার শিকার হন। সেসব নির্যাতন-হামলার পেছনে তৎকালীন শাসক জোটের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ আছে। শুধু নির্যাতন-হামলাই নয়, প্রাণও কেড়ে নেওয়া হয় অনেকেরই। শাহ এ এম এস কিবরিয়া এবং আহসানউল্লাহ মাস্টারের হত্যাকাণ্ড তারই সাক্ষ্য বহন করছে। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীর জনবহুল এলাকায় এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যে জনসভায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা করছিলেন। শেখ হাসিনা তখন অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় আইভী রহমানসহ ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এখনো বহু মানুষ ওই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সবই জানা কথা, পুরনো কথা।

Rita Roy Mithu's picture

'লিপ ইয়ারের টুকিটাকি

স্বাভাবিক নিয়মে সাত দিনে এক সপ্তাহ, ত্রিশ দিনে একমাস ও ৩৬৫ দিনে হয় এক বছর। তবে সব মাসই ত্রিশ দিনে হয়না, কিছু কিছু মাস হয় একত্রিশ দিনে এবং একমাত্র ফেব্রুয়ারী মাস হয় আটাশ দিনে। কিনতু আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী প্রতি চার বছরে একবার একটি ফেব্রুয়ারী মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ হয় এবং আটাশ দিনের পরিবর্তে সেই ফেব্রুয়ারী মাসটি হয় ঊনত্রিশ দিনে, বছরটি হয় ৩৬৬ দিনে। এই ঊনত্রিশতম দিনটিকে বলা হয় ‘লীপ ডে’ এবং ঐ বছরটিকে বলা হয় লীপ ইয়ার।

২০০০ হাজার বছর আগে জুলিয়াস সীজার সর্ব প্রথম লীপ ইয়ারের ধারনা দেন সবাইকে। তাঁর হিসেব অনুযায়ী যে কোন বছর যদি চার দিয়ে সম্পূর্ণ বিভাজ্য হতো, সেই বছরটিই লীপ ইয়ার হিসেবে গন্য হতো। এতে করে লীপ ইয়ারের সংখ্যা অনেক বেশী হতো। পরবর্তীতে জুলিয়াস সীজারের সময় থেকে আরও ১৫০০ বছর পরে গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারে শুদ্ধভাবে লীপ ইয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়। গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডারেও লীপ ইয়ারের হিসেব হয় তিনটি সূত্র অনুযায়ী।

Kazi.Siraj's picture

নির্বাচন কমিশন তত্ত্বাবধায়ক ও থলের বিড়াল

নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে দেশের ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিলেন মহামান্য প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও সেই সংলাপে অংশগ্রহণ করে। বৈঠক শেষে প্রতিটি দলই সাংবাদিকদের মাধ্যমে জাতির কাছে স্ব স্ব অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, এ ছাড়া আগামী দশম সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতার নিরসন হবে না। বিএনপির সঙ্গে আন্তরিক আলোচনায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান এ ব্যাপারে তার সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা অসংকোচে প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়টি তিনি সরকারের কাছে উত্থাপন করবেন বলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুটিকে তিনি আলোচনার টেবিলের বাইরে ফেলে দেননি। প্রেসিডেন্টের সে সংলাপটি ব্যর্থই হয়েছে বলা চলে। নতুন নির্বাচন কমিশন (প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের চাকরির মেয়াদ আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ শেষ) গঠনের জন্য প্রেসিডেন্ট যে সার্চ কমিটি গঠন করেছেন প্রথমেই তার গ্রহণযোগ্যতা বা সার্বজনীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে মহাহিসাব নিরীক্ষণ কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত সার্চ কমিটির তিন সদস্যই দলীয় আনুগত্য-বিতর্কের ঊধের্্ব নন।

» Topics:
Pijush.Bandyapadhya's picture

দামী অস্ত্রটি হাতছাড়া না করলেই ভাল

গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা ছাত্রাবস্থায় পড়েছি। প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার প্রতিফলনও দেখেছি। আমার ছাত্রাবস্থায় টেলিভিশনের পাতে খুব একটা ভাত জুটত না। ছিলও মাত্র একটি সরকারী চ্যানেল। সেই সরকারী চ্যানেলে প্রচারিত খবরে মানুষের আকর্ষণ কম ছিল। এখনও যেমন নেই। নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠানগুলো সবাই দেখত। এখনকার মতো জনপ্রিয় মসলাদার টকশো ছিল না তখন। গণমাধ্যমে প্রধান দাপট ছিল সংবাদপত্রের। সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িতরাও ছিলেন গুণীজন, দায়িত্বশীল, শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। আদর্শের ব্যাপারটি তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই স্বভাবতই তাদের আদর্শ এবং ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন পড়ত প্রকাশিত সংবাদপত্রে। আজও যে কিছু অবশিষ্ট নেই, তা নয়। তবে বাণিজ্যের বিষয়টা এখন বড় প্রকট। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তো বাণিজ্যই প্রধান এখন। রগরগে ছবিসহ খবর প্রচারে বাণিজ্য, গলাবাজির টকশোতে বাণিজ্য। নাটক এবং অন্যান্য বিনোদন অনুষ্ঠানে চটজলদি আনন্দ বিক্রির বাণিজ্য। এই প্রবণতা মোটেই শুভ নয়। দেশ, জাতি, সমাজ, ঐতিহ্য, উন্নয়ন, গণতন্ত্র সর্বোপরি মানুষের শুভবোধ সৃষ্টিতেও সেগুলো অন্তরায়। বাণিজ্যে অধিক মুনাফা লাভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ পণ্য হচ্ছে সরকারের বিরোধিতা। খবর এবং টকশোগুলো দেখলে মনে হবে যত দোষ নন্দ ঘোষের কথা। অথবা ‘কেষ্টা বেটাই চোর।’ দেশের সকল অমঙ্গলের জন্য বুঝি সরকার কিংবা সরকার প্রধানই দায়ী।