মনে আছে নিশ্চয় অনেকের গতবার অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ প্রথম সাড়ে তিন বছর বেশ ভালোই চালিয়েছিল। কিন্তু পরের দেড় বছরে টেন্ডারবাজিসহ লুণ্ঠনবৃত্তির বাড়াবাড়ির ফলে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এর ফলে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হারতে হয় আওয়ামী লীগকে। বিএনপি-জামায়াত জোট অবশ্য শুরু থেকেই সাম্প্রদায়িক নির্যাতন, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গি তোষণ এবং লুটপাটের ধারা শুরু করে দেয়। এই সরকারের মেয়াদ শেষে পরবর্তী নির্বাচনের আগেকার ভয়ংকর রাজনৈতিক সংঘাত এবং ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রসঙ্গ এখানে টানছি না। আজকের আলোচনার মূল বিষয় অন্য।
২০০৮-এর ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিশাল বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এবারও প্রথম তিন বছর ভালোভাবে চালানোর পর আওয়ামী লীগ-যুবলীগ, ছাত্রলীগ বা সেই নামধারীদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। একে নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষকে জীবন ধারণ নিয়েই বেশ চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে, তার ওপর যদি ক্ষমতাসীনদের চোটপাট ও লুটপাট বাড়তে থাকে তাতে তাদের মন তো বিরূপ হবেই।
মানুষের মনের খবর ক্ষমতাসীন মহল রাখে কি না আমরা জানি না, তবে সমাজ জীবনের নানা স্তরে মানুষের আলাপ, মন্তব্য, কথাবার্তা শুনলে যে বারতা মেলে তাতে ক্ষোভ, উষ্মা ও বিরূপতার ভাবটা বাড়ছে বলে মনে হয়। প্রথম আলোর জরিপে এই আলামত অনেকটাই উঠে এসেছে, আর সম্প্রতি যুগান্তর পত্রিকা সরাসরি আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে যে জরিপ চালিয়েছে তাতেও কেবল পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহের ধারাবাহিকতায় সরকার পরিবর্তনের রায় এসেছে তা নয়, বিএনপির বিরাট বিজয় ও আওয়ামী লীগের বিশাল পরাজয়ের ইঙ্গিতই এসেছে।
নির্বাচনের আরও দুই বছর বাকি আছে। শেষ পর্যন্ত ফলাফল কী হবে তা আমরা জানি না। কিন্তু এই সূত্রে কয়েকটি কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি।
ক্ষমতায় বসে চোটপাট ও লুটপাট চালানোর ক্ষমতা ও প্রবণতা দুই বড় দলেরই প্রায় সমান। এ নিয়ে সচেতন মানুষের মনে আফসোস, উদ্বেগ, হতাশা এবং ক্ষোভের কোনো শেষ নেই। অসংখ্য গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে এ দেশের মানুষ বারবার অপশক্তিকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে জনগণের শক্তি তথা প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু চোটপাট ও লুটপাটের রাজনীতি বারবার এই সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করেছে। ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণমুখিতার মানের উন্নতি হয়নি, সেই সঙ্গে দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনাও একইভাবে চলছে। সংসদ অকার্যকর হয়ে থাকল, সংঘাতময় রাজনীতির ধারা অব্যাহত রইল। তবে সমাজ জীবনে নানা পরিবর্তন ও উন্নতি হয়েছে, উৎপাদন ও অর্থনীতিতেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আছে। কিন্তু রাষ্ট্র ও রাজনীতি সংঘাত ও দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার পুরোনো খাতে প্রবাহিত হতে থাকায় দেশের আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছে না।
এখন একটি দেশের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কেবল অর্থনীতি বা সামাজিক ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন হলে হবে না। তার রাজনৈতিক দর্শন ও চিন্তাভাবনায় অগ্রগতি হতে হবে। নয়তো যেকোনো ব্যবস্থাই যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সম্প্রতি আরব বিশ্বে যেসব ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা দেখি শক্ত স্বৈরাচার, সফল শাসক, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মতো বাস্তবতাও যথাযথ রাজনৈতিক দর্শন বা লক্ষ্যাদর্শের শূন্যতার ফলে সৃষ্ট দুর্বলতা ঠেকাতে পারেনি। পশ্চিমারা কলকাঠি নেড়েছে অবশ্যই। কিন্তু তা নাড়ানোর সুযোগটা পায় রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে। ইরানে বা কিউবায় হাত দিতে সাম্রাজ্যবাদ ভয় পায়, কারণ সেসব দেশে সরকারের রয়েছে শক্ত দুটি ভিত্তি—রাজনৈতিক দর্শন এবং তার ভিত্তিতে জনগণের ঐক্য। ঐক্যবদ্ধ ভিয়েতনাম বা বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রুখতে পারেনি। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব বা বিএনপি-পন্থীদের অভিযোগ হলো এঁরা আওয়ামী পন্থী। আবার যাঁরা এই সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন তাঁরা এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ হতে পারেন না যখন দেখেন বিএনপি কেবল ক্ষমতা নয় আদর্শিকভাবেও ধর্মভিত্তিক মুসলিম জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকেই সামনে নিয়ে আসছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়া আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল রাজনীতিকে কোণঠাসা করার জন্য কাজে লাগাতে চাইলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। জামায়াতকে পুনর্বাসিত করলেন, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতার অংশীদার করলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বেগম জিয়ার সরকার ইসলামি জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।
দেশের রাজনীতিকে এই জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া বা ফেরানোর যে রাজনীতি তা কোনোভাবেই দেশ ও মানুষের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না। এ দেশের সব আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কিন্তু বরাবর একই। ভাষা আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনগুলোর লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচার এবং ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও উদার মানবতার ধারাকে বিজয়ী করা, এগিয়ে নেওয়া। সেটা বায়ান্ন বলুন, একাত্তর বলুন, নব্বই বলুন বারবারই অর্জিত হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন বা সংগ্রামের বিজয়কে জনগণের জীবনে সফল করে তুলতে চাই এই রাজনীতিকে ধারণ করে দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার গঠন।
কিন্তু বিষয়টা ভুললেও চলবে না, রাজনীতি ও সরকারের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মানুষ অগ্রাধিকার নির্ণয়ে তারতম্য করে থাকে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, বঙ্গবন্ধুর মূল্যায়ন ইত্যাদি যত গুরুত্ব পায় সরকারের পারফরমেন্সের বিচারে তা পায় না। সেখানে দ্রব্যমূল্য, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি এবং দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, স্বজনতোষণ ইত্যাদি বেশি গুরুত্ব পায়। অর্থাৎ রাজনীতি তখন মূল বিবেচ্য থাকে না, থাকে বাস্তবে কী পেলাম কী পাইনি তার হিসাব।
ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যদি মনে করে যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও লক্ষ্যাদর্শ ঠিক আছে, অতএব সচেতন দেশপ্রেমিক জনগণ ভোট দিয়ে তাদেরই জয়যুক্ত করবে, তাহলে সেটা হবে মস্ত বড় ভুল। অতীত থেকে এই শিক্ষা তাদের নেওয়া উচিত।
এদিকে যেসব বুদ্ধিজীবী ও সচেতন মানুষ দেশ, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাজনৈতিক আদর্শিক পট পরিবর্তনের বিপদটাকে মানতে পারেন না তাঁরা ক্ষোভ, রাগ, অভিমান সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে যান। তাতে তাঁরা দেশের বড় একটি অংশের মানুষের কাছে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়েন ও সমাজ জীবনে কার্যকারিতা হারাতে থাকেন। এটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতি এবং আখেরে আওয়ামী লীগের জন্যই ক্ষতিকর।
নব্বইয়ের পর থেকে সূচিত গণতান্ত্রিক পর্বে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুবার ক্ষমতায় গেল। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য যা দরকার তা ঠিকঠাকমতো করছে না। ক্ষমতায় বসে চোটপাট ও লুটপাটের ধারা জাঁকিয়ে বসছে এখন। সরকারের মূল্যায়নে মানুষ আগের মতো আচরণই করছে বলে মনে হয় সাম্প্রতিক জরিপগুলোর ফলাফলে।
আওয়ামী লীগ যদি মানুষের রাজনৈতিক চেতনা ও শুভবোধ এবং সরকারের জঙ্গিবিরোধী ভূমিকার জন্য প্রতিবেশী দেশ ও বৃহৎ শক্তির বাড়তি সহায়তায় নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকে তাহলেও ভুল করবে। কারণ দেখা যাচ্ছে যে পদ্ধতিতেই নির্বাচন হোক না কেন আজকাল আর জনগণের রায় ওলটপালট করে দেওয়া সম্ভব নয়।
ইতিহাস এবং এ দেশের জনগণ ২০০৮ সালের নির্বাচনী ফলাফলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে এ দুঃখী বঞ্চিত বারবার প্রতারিত দেশ ও দেশবাসীকে উন্নতির সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার এক মহান দায়িত্ব দিয়েছিল। সব সংকীর্ণ দলীয় চিন্তা, সব রকম স্বার্থচিন্তাকে বাদ দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল মূল কাজ। তারপর সেই ঐক্যবদ্ধ উদ্বুদ্ধ জাতি যেন সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশাল কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, সেই পরিবেশ ও কর্মসূচি সৃষ্টি ছিল তাঁদের দ্বিতীয় কাজ। এভাবে একদিন রাজনীতি এগিয়েছিল বলে গণবিরোধী পশ্চাৎপদ রাজনৈতিক চিন্তার দল মুসলিম লীগ নিশ্চিহ্ন হয়েছে, প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ রাষ্ট্র পাকিস্তান ভেঙে পড়েছিল। প্রতিক্রিয়া ও পশ্চাৎপদতার শক্তিকে দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় করে আনার এটাই প্রক্রিয়া।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এ বিষয়গুলো না বুঝলে এবং এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে দেশের ও মানুষের দুর্গতি সহজে ঘুচবে না। জাতিকে অপেক্ষা করতে হবে আওয়ামী লীগের রূপান্তর কিংবা নতুন রাজনৈতিক শুভশক্তির উত্থানের জন্য। আপাতত সে রকম কোনো আলামত দেশে তো দেখা যাচ্ছে না।

Comments
ইন্ডিয়ার আশা
http://indiatoday.intoday.in/story/bangladesh-coup-bid-against-sheikh-ha...
ভারতের ট্রানজিট চুক্তি বাতিল করতে হবে_সিরাজুর রহমান।
ট্র্যানজিট চুক্তি বাতিল করার সময় এখন
॥ সিরাজুর রহমান ॥
ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি আগেরবার বাংলাদেশে এসে একটা ঋণচুক্তিতে সই করে যান। ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে বিগত তিন বছরে যেসব চুক্তি হয়েছে তার বেশির ভাগ বিবরণ দেশের মানুষ জানতে পারেনি। বিশেষ করে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে যেসব চুক্তি করে এসেছিলেন তার বিবরণ দূরের কথা, চুক্তির সংখ্যাও বাংলাদেশের মানুষকে জানতে দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও যাতে সেসব চুক্তির বিবরণ ফাঁস হয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বর্তমান একদলীয় সংসদ সংবিধানও পরিবর্তন করেছে।
তবু উপরোল্লিখিত হার ঋণচুক্তির কিছু কিছু বিবরণ তখন প্রেস বিজ্ঞপ্তির আকারেও প্রকাশ করা হয়েছিল। তা থেকে আমরা জানতে পেরেছি ভারত বার্ষিক ১.৭৫ শতাংশ হার সুদে (বাংলাদেশ প্রায়ই বিশ্বব্যাংক কিংবা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে এর সাত ভাগের এক ভাগ হারেও ঋণ পেয়ে থাকে) বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে এবং সে অর্থ ব্যয়িত হবে শুধু চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যের সাথে ভারতের ট্র্যানজিট পরিবহনের উপযোগী করে বাংলাদেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন করা। আরো জানা গিয়েছিল যে নির্মাণের কাজ করবে ভারতীয়রা, ভারত থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ব্যবহার করে।
আমরা তখনো এই ঋণচুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলাম। তার অনেক কারণ ছিল। প্রথমত বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতকে অবাধ ট্র্যানজিট দেয়া বাংলাদেশের মানুষের কাম্য নয়। বাংলাদেশের মানুষকে পর্যটনের জন্য ভারত যাওয়ার ভিসা পেতেও কেমন ভোগান্তি পোহাতে হয় অনেকেরই জানা আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে যাদের পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছিল তাদের সমস্যার তো কথাই নেই। ভারতীয় ভিসা কর্তৃপক্ষ এ কথা বিবেচনা করতে রাজি নয়, স্বাধীনতার আগে যেসব বাংলাদেশীর বিদেশে (এমনকি ভারতেও) যাওয়ার প্রয়োজন হতো তাদের পাকিস্তানি পাসপোর্ট না নিয়ে উপায় ছিল না।
বাংলাদেশীদের তাদের দেশে প্রবেশ অসম্ভব করার জন্য ভারত আমাদের দেশকে পরিবেষ্টিত করে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত কাঁটাতাদের বেড়া দিয়েছে, তা-ও একটা নয়, প্রথমটির কয়েক ফুট দূরত্বে আরেকটা। সে কাঁটাতারের বেড়ায় বাংলাদেশ খাঁচার মতো আবদ্ধ হয়ে আছে। কোনো বাংলাদেশী তাদের বেড়ার কাছাকাছি গেলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গুলি করে হত্যা করছে অথবা ধরে নিয়ে পিটিয়ে মারছে। দিল্লির সরকারের মন্ত্রীরা প্রায়ই বলছেন বিএসএফের এই মানুষ শিকার বন্ধ হবে। মনে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত বিএসএফের কাছে এসে পৌঁছে না। কিন' একটা ব্যাপারে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া নিশ্ছিদ্র নয়, সেটা ফেনসিডিল কিংবা সে জাতীয় বিষাক্ত মাদক বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যাপারে।
ঊনবিংশ শতকে পশ্চিমী শক্তিগুলো অঢেল আফিম সরবরাহ করত চীনে। চীনাদের নেশায় বুঁদ করে রেখে তারা সে দেশকে টুকরো টুকরো করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার পরিকল্পনা করছিল। সন্দেহ নেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বংশধরদের নেশাগ্রস্ত করে তাদের সর্বনাশ করার জন্যই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি একের পর এক ফেনসিডিল কারখানা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের একটি ট্রাক বা গাড়ি বিনা পারমিটে ভারতের এক ইঞ্চি ভেতরেও ঢুকতে পারবে বলে কল্পনা করা যায় না। এমতাবস'ায় বাংলাদেশ সরকার সড়ক, রেল ও নদীপথে ভারতকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে দিক খুশি যেতে দিতে রাজি হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১৩৪ চাকার ট্রেইলার ও বহু ট্রাক আশুগঞ্জ-আখাউড়া হয়ে ভারতে গেছে। এ অবস'া কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ট্র্যানজিটের একটা সামরিক গুরুত্বও আছে। সেটা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ৪০ বছর ধরে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সংগ্রামরত। সে যুদ্ধের জন্য ক্রমেই বেশি অস্ত্রশস্ত্র পাঠাতে হচ্ছে ভারতকে। সেটা সাত রাজ্যের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রোধের কারণ ঘটাবে। হিমালয়ের ওপরে অরুণাচলের বিস্তীর্ণ এলাকার মালিকানা নিয়ে চীনের সাথে ভারতের বিরোধ পুরান। ১৯৬২ সালে সেখানে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের একটা যুদ্ধ হয়ে গেছে, কিন' বিরোধের মীমাংসা হয়নি। বিগত কয়েক বছরে উভয় দেশই সে অঞ্চলে সমরশক্তি বাড়িয়ে চলেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় বিভিন্ন রণকৌশলবিদ ইদানীং বলছেন, চলতি বছরে সেখানে দুই দেশের মধ্যে অন্তত মাঝারি আকারের যুদ্ধ প্রায়-অনিবার্য। বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, আবার যুদ্ধ হলে চীন প্রথমেই শিলিগুড়ি হয়ে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সাথে ভারতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তেমন অবস'ায় রণাঙ্গনে ভারতের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সৈন্য পাঠানোর নির্ভরযোগ্য পথ হবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। সেটা অবশ্যই চীনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে অবস'ায় বাংলাদেশের ভেতরে আঘাত হেনে ভারতের সরবরাহ-পথ নষ্ট করে দেয়ার অধিকার চীনের থাকবে।
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের অধিকারের জন্য ভারত যে খুবই আগ্রহী তার প্রধান কারণ বাণিজ্যিক নয়। ভারত মহাসাগরে চীনের নৌ উপসি'তি সীমিত করতে ভারত খুবই তৎপর। প্রয়োজন বোধে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে উপসি'তি সে লক্ষ্যে ব্যবহার হতে পারে। চীন সেটাকে ভালো চোখে দেখবে না। চীন ও ভারতের বৈরিতায় জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশের জন্য কোনো মতেই নিরাপদ হবে না। এসব কারণে বাংলাদেশের উচিত ট্র্যানজিট ও বন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো অবিলম্বে বাতিল করা।
তার সঙ্গত কারণও আছে। বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ভারত এ যাবৎ পালন করেনি। আগেই বলেছি, ভারত অঢেল ফেনসিডিল পাঠাচ্ছে বাংলাদেশে, কিন' অভিন্ন নদীগুলোর পানি নয়। এখন আবার টিপাইমুখে বাঁধ তৈরি করে সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনা অববাহিকাকে শুকিয়ে মারার আয়োজন করছে ভারত। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ফারাক্কায় গঙ্গার পানি বণ্টনের চুক্তি করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার সাথে। কিন' আজো পর্যন্ত কোনো বছরই চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে পানি দেয়নি। তিস্তার পানি বণ্টনের জন্য চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গতো সেপ্টেম্বরে, কিন' মমতা ব্যানার্জির আপত্তির অজুহাত দেখিয়ে ভারত সে চুক্তিতে সই করেনি।
অসম চুক্তি কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ‘দয়ার শরীর’। তিনি বাংলাদেশকে নদীর পানি দেবেন, তবে বর্ষাকালে, শুকনো মওসুমে নয়। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সীমান্ত এলাকায় ভূমি বিনিময় ও ছিটমহল সংক্রান্ত চুক্তি করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে। কিন' আজ অবধি সে চুক্তি কার্যকর হয়নি। ভারত ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক লেনদেনের বিরাট ব্যবধান কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে, কিন' কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঘাটতি বরং বেড়েই চলেছে। এসব কারণেও বাংলাদেশ ভারতের সাথে সম্পাদিত কোনো চুক্তি পালন করতে বাধ্য নয়। বাংলাদেশ চুক্তি মেনে চলবে, কিন' ভারত মানবে না- এটা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সমপ্রতি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটা প্রস্তাব দিয়েছে। সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ ভারতের পরিবর্তে চীনকে দিয়ে করানোর প্রস্তাব দিয়েছে সওজ। সওজ বলছে, এসব কাজ ভারতকে দিয়ে করানো বাস্তবসম্মত নয়। এক দিকে ভারতীয়রা উন্নয়নের কাজ করলে বাংলাদেশে কর্মসংস'ানে সহায়তা হবে না। তা ছাড়া যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ভারতের চেয়েও কম মূল্যে অন্যান্য সূত্র থেকে পাওয়া সম্ভব। ভারত এখনো প্রণব মুখার্জির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী অর্থ ছাড় দেয়নি, কাজেই সে ঋণচুক্তি বাতিল করে অন্য কোনো সূত্র থেকে (হয় তো চীন থেকেও) আরো সস্তা ও সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যেতে পারে। আরো একটা বিবেচনা আছে এখানে, ভারত ভাগের পর থেকে ৬৫ বছরে ভারত বাংলাদেশে কোনো উল্লেখযোগ্য নির্মাণকাজ করেনি। বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অন্যান্য কার্যকারণের অভিজ্ঞতা তাদের নেই। অন্য দিকে স্বাধীনতার পর থেকেও চীন সেতু, সড়ক প্রভৃতি বেশ কিছু নির্মাণ কাজ করেছে। এমনকি যে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী কেন্দ্রের কপালেও শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নাম এঁকে দিয়েছেন সেটিও তৈরি করেছে চীনারা।
প্রণব মুখার্জি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে আসছেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হয় তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষ্ণাও আসবেন তার সাথে। বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর চুক্তিগুলো বাতিল করে দুই দেশের সম্পর্ক সমতা ও বাস্তবসম্মত ভিত্তিতে স'াপনের কাজ নতুন করে শুরু করার এটা একটা উপযুক্ত সময়। এ প্রসঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ের গতিপথের বিষয়টাও পুনর্নির্ধারণ করা খুবই প্রয়োজনীয়। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী এই মহাসড়ক বাংলাদেশের টেকনাফ হয়ে মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ চীন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়াই সঠিক হবে।
(লন্ডন, ০৮.০২.১২)
serajurrahman@btinternet.com
জেবন্ড
@Aporajeet
ভারতের " র " হলো গিয়ে পৃথিবীর সেরা ESPIONAGE গুলির মধ্যে ১০ম স্থান অধিকারী আর পাকিস্তনের ISI হলো প্রথম স্থানের ,ভারতের " র " আমাদের দেশে সুবিধা করতে পারছে তার মুল কারন হলো গিয়ে বাংলদেশে সরকারী উচ্চ পদে কর্মরত হিন্দুরা মন আর প্রান দিয়ে সব সরকারী তথ্য পাচার করে দিচ্ছে। শুনতে খুবই খারাপ লাগবে বাংলাদেশের হিন্দুদের কিন্তু এটাই হলো বাস্তবতা। এর সাথে যোগ হয়েছে আমাদের ভারত প্রেমিক আর ভারতের বেতনভুক্ত বুদ্ধিজীবি ও সুশিল সমাজের একাংশ। ভারতের এই কাচা গুপ্তচর সংস্থা বাংলাদেশ , ভুটান বা নেপালের মত জায়গায় সুবিধা করতে পারবে কিন্তু পাকিস্তান বা চীনের মত দেশে পাত্তাও পায়না। এই " র ' রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ভারতের পত্রিকায় কি লিখল এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। বাংলাদেশের সেনাবাহীনি এত ছোট না যে কিছু অবসরপ্রাপ্ত আর মেজর র্যাঙ্কের অফিসার মিলে কোন ক্যু করে ফেলবে। এটা হলো হাসিনা ওয়াজেদের সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যার্থ হয়ে জনগনের মন অন্যদিকে ঘুড়িয়ে দিয়ে আবার কোন উসলায় ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা আর এটাতে মদত দিয়ে যাচ্ছে ভারতের এই গুপ্তচর সংস্থা " র "
জেবন্ড
ওয়াচ_ডগের পোষ্ট কোথায় গেল ?_jbond.
ওয়াচ_ডগের একটা পোষ্ট গায়েব হলো কেন বুঝতে পারলামানা ? ভারত , হিন্দু বা আওয়ামী লিগের ব্যাপারে কিছু লিখলেই comments Post এর জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গারবেজ কমার্শিয়াল দিয়ে কারা পুর্ন করে রাখে ? কেন জানি মনে হচ্ছে এটা স্পেম না , এটা উদ্দ্যেশ্য নিয়েই কেহ করছে ।
জেবন্ড
টিপাইমুখ বাধ নিয়ে সুইডেন প্রবাসী ছাত্রদের বিক্ষোভ।
(সুইডেনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিক্ষোভ ভারতের বিরুদ্ধে )
জেবন্ড
সিডনিতে টিপাই_বাধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।_Jbond.
(সিডনিতে টিপাই_বাধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ)
জেবন্ড
অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ষ্টেডিয়ামে টিপাই_বাধ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।
জেবন্ড
www.pickmaxshoes.com Discount nike air max 2011 running shoes
Discount nike air max shoes Cheap Nike Shox is the hot sale shoes nowadays which is supplying on our online store,because these Nike Shox Clearance is in superior quality and cheap price.The goods are perfect for everybody who want to have a pairs of cheap Nike Shox R4 shoes.Cheap Jordan Shoes can be to one of the most elements a well-known institution producing shoes in collision with Nike.The Air Jordans are supplied getting a carbon fiber plate concerning the bottom belonging for that solo in purchase give comfort and at identical time to possess along utilization belonging for those shoes.Ugg Classic Cardy is concerning the marketplace using the quantity of extraordinary variations and colors and there are no design suggestions in ailments of placing on these boots.You can dye the sheepskin to what really coloring you need furthermore in the direction of the Ugg Tall Boots variation can go from casual to flamboyant depending within your person or females taste.Burberry Outlet bags as well as bags only to reflect each of our personality,which gives a method to show our incredibly tiny earth.This particular Burberry Bags Sale carrier can have the luxurious community available for you,specially when anyone carry it coupled with attire done to you!
50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail . Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes , UGG Boots , Air Jordan Shoes , Nike Shox Shoes , Nike Basketball Shoes , Asics Onitsuka Tiger , NFL Jerseys and with factory price . We offer high quality, low price, best service and free shiping! We guarantee that seven days of door-to-door!
Web site: http://www.pickmaxshoes.com
50% OFF Price ! Free Shipping accept paypal wholesale and retail. Our company supply high quality Cheap Nike Air Max Shoes, UGG Boots , Air Jordan Shoes, Nike Shox Shoes , Nike Basketball Shoes, Asics Onitsuka Tiger, factory price. www.pickmaxshoes.com