Kamal.Lohani's picture

পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট কি শিক্ষা নেবে?

পশ্চিম বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস জোটের বিশাল বিজয় হয়েছে। বিজয় হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের। অভাবিত পূর্ব এ বিজয়। তবে আমি মনে করি, বামফ্রন্টের পরাজয় যে হয়েছে, সেটাই উল্লেখযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিগত ৩৪ বছর ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সিপিএমের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার রাজ্য পরিচালনা করেছে। এটাতো নির্বাচন ছিল, যাতে জনগণের রায়ই সবচেয়ে বড় আর এই রায় নির্ধারিত হয় প্রচার ও দলীয় প্রসারের ভিত্তিতে। প্রচারের জন্য হিটলারি পদ্ধতিতে মিথ্যাচারকে প্রাধান্য দেয়া হয় সবচেয়ে বেশি, তাইতো দেখলাম এক সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কোলেঙ্কারিই কীভাবে মিথ্যার বেসাতিতে রঙিন হয়েছে। হপ্তায় হপ্তায় রং চড়েছে চটকদার রাজনীতির কলাকৌশলে।

Ajoy.Dasgupta's picture

আশির দশকের 'সাউন্ড এফেক্ট' ও বর্তমান বাস্তবতা

সপ্তাহে দুই দিন ছুটির নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে 'ছুটির ফাঁদে' কথাটি মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। শুক্র ও শনিবারের সঙ্গে একদিন ছুটি পড়লে কিংবা হরতাল ডাকা হলেই 'তিন দিন ছুটি'। কী মজা! রোজা ও কোরবানির ঈদের পর 'টানা ৯ দিন ছুটি' ভোগ করে অনেক লোক। হরতালও এখন অনেকের কাছে এক ধরনের ছুটিতে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি আহ্বানের পেছনে কারণ অবশ্যই থাকে। রাজনীতিকরা অনেক হিসাব-নিকাশ করেন। তবে অনেক বছর ধরেই মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর জন্য হরতাল এমন এক কর্মসূচি যাতে ঝামেলা কম, অর্থ ব্যয়ও তেমন নেই। একটা বড় জনসমাবেশ বা মিছিল আয়োজনের তুলনায় এতে ঝামেলা অনেক কম। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ৬ ও ৭ জুলাইয়ের টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতাল কর্মসূচি প্রসঙ্গেও এটা বলা যায়। ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র ও শনিবার। পরের দুটি দিন ১০ ও ১১ জুলাই টানা ৩০ ঘণ্টার হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছে কয়েকটি ইসলামী দল। তাদের দাবি, সামরিক শাসকরা বাংলাদেশের সংবিধানে যেভাবে ধর্ম যুক্ত করেছিলেন, সেভাবেই তা বহাল রাখতে হবে। টানা ছয় দিন ছুটির আমেজেই হরতাল সফল!

পাহাড় ধসে মৃত্যু

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে যা ঘটে তাই ঘটেছে এবারো। স্থান সেই পাবর্ত্য জেলা। সময় ১ জুলাই সকাল ৭টা। চট্টগ্রামে পাহাড় চাপা পড়ে প্রাণ হরালো ১৫ জন। আরো কয়েকজনের প্রাণ নিভুনিভু। আমরা যারা লেখালেখি করি তারা এবারো সতর্ক করেছিলাম। বেশ কটি পত্রিকায় পাহাড় ধসের আগাম সতর্ক সঙ্কেত দিয়েছিলাম। কে শোনে কার কথা। তাই যা হওয়ার তাই হলো। এমন হচ্ছে কেন? নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তা কেন ঠেকানো যাচ্ছে না? আসলে ঠেকানো যায়; ঠেকানো হয় না। এজন্য অশিক্ষিত অসচেতন মানুষ যত না দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ।

শাবান মাসের ফজিলত ও করণীয়

হিজরি বর্ষপরিক্রমা বা চান্দ্র মাসের অষ্টম মাস পবিত্র শাবান মাস। এ শাবান মাস হাদিসের আলোকে বিভিন্ন বিবেচনায় একটি ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস। মুসলিম উন্মাহর এ মাসে কিছু করণীয় রয়েছে। শাবান মাসের আগের মাস অর্থাৎ হিজরি বর্ষপরিক্রমায় সপ্তম মাস হচ্ছে পবিত্র রজব মাস। রাসূল (সা.) রজবের চাঁদ উঠলে দোয়া করতেন 'আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান ওয়া বালি্লগনা রামাদান' অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। 'আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পেঁৗছে দিন' এ কথার অর্থ হচ্ছে_ রমজান পর্যন্ত আমাদের জীবন দান করুন। যেন আমরা রমজান মাস পেয়ে অধিক হারে ইবাদত বন্দেগি, রোজা, তারাবি, লাইলাতুল কদরের ইবাদত, ইতিকাফ ইত্যাদির মাধ্যমে মহান পবিত্র রমজান মাসের ফজিলত লাভে ধন্য হই। এ জন্য পবিত্র রজব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর রমজানের চাঁদ দেখা পর্যন্ত উপরোলি্লখিত দোয়াটি পাঠ করা সুন্নত বা মুস্তাহাব। যেহেতু পবিত্র রমজান মাস বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস, সেহেতু পূর্ব থেকেই এ মাসের ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াটাই একজন মুমিনের কর্তব্য। হজরত রাসূল (সা.)-এর উপরোক্ত দোয়া-ই প্রমাণ করে তিনি পবিত্র রজব মাস শুরু থেকেই রমজানের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকতেন।

Kader.Siddique's picture

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দশ ট্রাক অস্ত্র

চারিদিকে কেমন যেন ঘোর অন্ধকার। সারা পৃথিবী যখন আলোর খোঁজে ব্যস্ত, আমরা তখন একের পর এক সবক'টা আলো নিভাতে তৎপর। এই সেদিন অসম উচ্চাভিলাষী বাজেট পাস হলো। গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধন হলো। পরম দয়ালু আল্লাহর উপর গভীর আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিয়ে কোনো শয়তান বা দুষ্টের উপর গভীর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা হলো কি না জানি না। বিস্মিল্লাহ থাকল, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকল কিন্তু আল্লাহ থাকল না। রাষ্ট্রের জন্যে বেহশত-দোজখ, আল্লাহ-রাসূল নয় ওসব মানুষের জন্যে। আল্লাহ নেই, রাসূল নেই সে আবার কিসের ইসলাম? রাজনীতিই যেখানে গভীর আস্থার সংকটে নিমজ্জিত, সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপদ্ধতি বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচনের পাকাপোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো। আর মুখে বলা হলো পূর্ণ গণতন্ত্র কায়েম করা হলো, জনগণকে দেশের মালিক করা হলো।

Mobile Operators License : A Billion Dollar Blunder

(প্রথম কিস্তি)
দেশের
টেলিযোগাযোগ অঙ্গনে  মোবাইল অপারেটরদের  লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি  এখন সবচাইতে hot topic I যে লাইসেন্স তারা পেয়েছিলো প্রায় বিনা  পয়সায়,তা নবায়ন  করতে তাদের এখন শুরুতেই   দিতে  হবে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি l  এসব ফি এবং লাইসেন্সের  শর্তাবলী  যারা নির্ধারণ  নিয়ন্ত্রণ  করেন  তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে প্রচুর l  তবে সবচাইতে  জরুরি  বিষয়   হচ্ছে দীর্ঘ  অভিজ্ঞতার পর  বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলো হওয়া উচিত পর্যাপ্ত মাত্রায় ত্রুটিমুক্তযৌক্তিক এবং  ইতিবাচক l  সেই উদ্দেশ্যে বিদ্যমান লাইসেন্সে এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রকাশিত  খসড়ার  ত্রুটিপূর্ণ  দিকগুলো   তুলে ধরাই  লেখার উদ্দেশ্য l        

প্রথমে দেখে নেয়া যাক বিদ্যমান লাইসেন্সে কিই আছে এই লাইসেন্সের  ভিত্তি হচ্ছে ১৯৯৬ সালে  মোবাইল কোম্পানিগুলোর  সঙ্গে সরকার সম্পাদিত চুক্তি  এটি বাংলায় লেখা  পৃষ্টার একটি দলিল  এই সাদামাটা লাইসেন্সে শর্তাবলী বিস্তারিতভাবে সংজ্ঞায়িত নয়লাইসেন্স ফি-টির তেমন কোনো বালাই  নেই ,  স্পেকট্রাম  দেয়া হয়েছে বিনা পয়সায় -  সমস্ত ভুলগুলো ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়েছে  কিন্তু বিস্ময়করভাবে একেবারেই অনালোচিত থেকে গেছে  এই চুক্তির সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদের  মারাত্মক  ত্রুটিটি l

ধারাবাহিক বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি “রুনের ঘটনাপঞ্জী”

(ব্লগ এ নাম লেখালাম। কি লিখব কি লিখব ভেবে ভেবে একটা বিজ্ঞান-কল্পকাহিনি লেখা শুরু করলাম। ) শেষবার যখন পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে গেল তখন রুনের বাবা এক অজ্ঞাত অসুখে হটাৎ করেই মারা যান। রুনের বাবা ছিলেন বসতির দলপতি। বসতিটি খুব একটা বড় নয়। নামও নেই। কদিন আগেও সংখ্যা দিয়ে বুঝানো হতো। ইদানিং ত্রিনার বলে গ্যালাকটিক মানচিত্রে দেখানো হচ্ছে। জনসংখ্যায় মাত্র একশত সায়ত্রিশ। এ-রকম কয়েক হাজার বসতি সৌরজগতের এই প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ইউরেনাস ও নেপচুনের মধ্যবর্তী একটি অ্যাস্ট্ররয়েডকে নিয়্ন্ত্রনে নিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী পূর্বে এই বসতিটি স্থাপনের উদ্যোগ করেন রুনের দাদা। যদিও বসতিটি কেন্দ্রীয় কমিশন কতৃক নিয়ন্ত্রিত, তারপরও এরকিছু নিজস্ব নিয়মকানুন রয়েছে। আর সেকারনেই বসতির পরবর্তি দলপতি রুন। বয়স কম, তাই রুনের পরিবর্তে রুনের মা লিহা আপাতত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর মাত্র দুই সৌরবছর পর রুন বসতির দায়িত্ব নিয়ে নেবে। লিহা একজন সাধারন মহিলা, তাই প্রথমে সবাই ভেবেছিল তিনি হয়ত বসতির নিয়্ন্ত্রন নিতে পারবেন না। কিন্তু যখন সবাই দেখল শুধু নিয়্ন্ত্রনই নয় বরং লিহা সবার মন জয় করে ফেলেছেন তখন অবাক না হয়ে পারেনি। নিয়্ন্ত্রনহীন একটি অ্যাস্ট্ররয়েডকে বসতিতে রুপান্তর করার জন্য রুনের বাবা কেন্দ্রীয় কমিশনের কাছে দূর্লভ সম্মান লাভ করেছিলেন। মহাকাশে ছন্নছড়া অনেককিছুর প্রতিই তার ছিল অকল্পনীয় আকর্ষণ। লিহারও কম ছিল না। অবশ্য এটা কেউ জানত না। লিহা ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন।

zahirul's picture

সুশাসনের জন্য আর কতো অপেক্ষা ??

বাংলাদেশে এখন সবলের শাসন চলছে। সবলের এ শাসনে দুর্বলের নাভিশ্বাস চরমে! এ শাসনের ভ্রুণোদ্গম হয়েছিল দুই দশক আগে স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর। মানুষ আশা করেছিল দুঃশাসনের কালো রাত্রি পেরিয়ে সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কিন্তু মানুষের সে আশায় ছাই ঢেলে দিয়েছে দুই কাল নাগিনী’।

মানুষ তাই এখন শ্লোগান তুলেছে ‘নৌকা ও ধানের শীষ, দুই নাগিনীর একই বিষ’!

স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মানুষ দিশেহারা গত এক দশক। একেতো রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার অভাব, অন্যদিকে বুদ্ধিজীবীদের স্বার্থ মগ্ণতায় পরিবেশ আরো বিষণ্ণ। মানুষ আওয়ামী লীগের বিকল্প কোনো শক্তির অন্বেষণে প্রয়োজনে চাঁদে যেতেও প্রস্তুত। এক চেটিয়া ক্ষমতার ভারে নিমজ্জমান আওয়ামী লীগ। অপরদিকে দুর্নীতির রাহু গ্রাসে বিএনপি কার্যত অস্তিত্বহীন বিরোধী দল। আওয়ামী লীগের এজেন্ডা একটিই- কি করে বিএনপির হাড়গোড় ভেঙ্গে তাদেরকে ফার্মগেটের ওভারব্রীজের উপর থালা হাতে বসিয়ে দেয়া যায়। দুর্ভাগ্যবশত বিএনপি সে ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছে।

ওপর দিকে শেখ হাসিনা যে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মগের মুল্লুক শাসণ করে যাচ্ছেন, তাকে সহসা চ্যালেঞ্জ করার মতো কোন শক্তির অস্তিত্ব আপাতত বাংলাদেশে নেই। বাংলাদেশে তাই আজ- সবলের শাসনে দুর্বলের নাভিশ্বাস!

WatchDog's picture

এন্ডিসের চূড়ায় মাচু পিচুতে একদিন...

এ যেন অন্য এক পৃথিবী।  ঘন মেঘমালা আকাশ আর মাটির ভালবাসায় সেতুবন্ধন হয়ে জড়িয়ে আছে দিগন্ত জুড়ে। পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় মেঘ দৈত্যদের অলস পদচারণা প্রকৃতির নৈসর্গিক স্তব্ধতাকে স্বপ্নীল ফ্রেমে বন্দী করে তৈরী করেছে বিস্ময়কর প্যানোরমা। প্রথম ক’টা মিনিট কারও মুখে কোন কথা ফুটে না। এ যেন সূরা আর সাকির অনাদিকালের মিলনমেলা। মাচু পিচু - ইন্‌কাদের হারিয়ে যাওয়া শহর। স্প্যানিস দখলদারদের হিংস্রতা হতে বাঁচতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই তৈরী করে বর্তমান বিশ্বের আন্যতম আশ্চর্য্য এক স্থাপনা।

চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। চূড়াগুলো বাহু লগ্না হয়ে ডুবে আছে মেঘ সমুদ্রে। ইচ্ছে করলেই এক খন্ড মেঘ হাতে বাড়িয়ে কাছে টানা যায়, আদর করা যায়। গলার সূর উচু করে হাক দিলে সে হাক পাহাড়ে পাহাড়ে আছড়ে পরে, ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে তীর ভাংগা তরঙ্গের মত। চারদিকে এক ধরনের ভৌতিক নীরবতা, সাথে প্রকৃতি এবং মানুষের নীরব বোঝাপড়ার বিশাল এক ক্যানভাস। ইনকা সাম্রাজ্যের বিশালতার কাছে গিজ গিজ করা পর্যটকদের ফিসফাস হাজার রজনীর আরব্য উপন্যাসের কথাই মনে করিয়ে দেয়। নিপুন কারিগরের নিশ্চিদ্র পরিকল্পনায় হাতেগড়া পাথরের প্রাসাদগুলো সময়ের স্তব্দ স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে দিগন্ত জুড়ে। প্রথম যে ধাক্কাটা এসে মগজে আঘাত হানে তা হল, কি করে এত উচ্চতায় এই বিশাল পাথরগুলোকে উঠানো হল! প্রযুক্তি বলে জাগতিক পৃথিবীতে কিছু থাকতে পারে এমন ধারণা ঐ নিষিদ্ধ অরণ্য পর্য্যন্ত পৌঁছানোর কথা নয়। হাত এবং মগজের চাতুর্যপূর্ণ নৈপুণ্যে পাথরগুলোকে উঠানো হয়েছে একটার উপর আরেকটা, শক্ত কাদামাটি দিয়ে আটকানো হয়েছে হাজার বছরের বন্ধনে।

Shawnchoy.Rahman's picture

গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনের (The Great Smoky Mountain) চূড়ায় আমরা কয়েকজন - ১

 পাহাড় কিংবা পর্বতমালা সবসময়েই আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে রাঙ্গামাটিতে। সেটা অনেক বছর আগের কথা।প্রায় বছর তের/চৌদ্দ পূর্বে হবে। চট্টগ্রাম থেকে  পাহাড়ের গাঁ  ঘেঁষে রাঙ্গামাটি যাওয়া - সেই স্মৃতি আমার মনে এখনও জাগ্রত।আর তখন থেকেই ভয়ংকর সৌন্দর্য ব্যাপারটি বুঝতে শিখি ও উপলব্ধি করি। তারপর থেকে আমি সবসময়েই ভয়ংকর সৌন্দর্যের পেছনে ছুটেছি। এজন্য আমাকে জীবনে যথেষ্ট ত্যাগও স্বীকার করতে হয়েছে। তারপরেও আমি এখনও ভয়ংকর সৌন্দর্যের পেছনে ছুটে চলি। আমি সেই রাঙ্গামাটিতে আবারও গিয়েছি ২০০৫ সালে।সাঁতার না জানা সত্ত্বেও যন্ত্রচালিত নৌকায় করে ভয়ংকর কর্ণফুলী নদীতে ভেসেছি।ভাসতে ভাসতে গিয়েছি সেখানকার চমৎকার এক গ্রাম পেদাটিং টিং-এ। পর্বতের এই ভয়ংকর সৌন্দর্যকে আবার নুতনভাবে আবিষ্কার ও উপভোগ করতে একই বছর গিয়েছিলাম দার্জিলিং।

দার্জিলিং-এর সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এখনও আমার মস্তিষ্কের মেমোরি সেলের কিছু জায়গা দখল করে আছে। রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে সুউচ্চ পর্বতমালার ভয়ংকর চড়াই-উৎরাই পার হয়ে হিমালয়ের টাইগার হিলে গিয়ে সেই যে সূর্যোদয় দেখেছিলাম, সেরকমটি দ্বিতীয়বার আমি আর কোথাও দেখি নাই।
Syndicate content