বাংলাদেশ ব্যাংকের বজ্র আঁটুনি

গত মাসে সপ্তাহখানেকের জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়ার আগে একটা আশঙ্কা মনের মধ্যে কাজ করছিল। সামরিক শাসনের অধীনে একটা দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক চেহারা কেমনভাবে বদলে যায়, বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে আইয়ুব থেকে এরশাদ পর্যন্ত বহুবার তা দেখার দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে। সেনা শাসকদের নিয়মনীতির কড়াকড়ির ফলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিদেশি পর্যটকদের অবাধ চলাচলে বাধানিষেধ আরোপিত হবে, হোটেল-রেস্টুরেন্ট পানশালায় রাত-বিরাতের আনন্দ আয়োজনে ব্যাঘাত ঘটবে এবং চূড়ান্ত বিচারে পর্যটনশিল্পে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, এটিই স্বাভাবিক। স্বল্প সময়ে থাইল্যান্ডের জনগণের মনোভাব বোঝা সম্ভব নয়, তবে খোলা চোখে দেখে ব্যাংকক ও রাজধানীর বাইরে সর্বত্রই থাইল্যান্ডকে আগের মতোই ব্যস্ত ও প্রাণোচ্ছল মনে হয়েছে। অন্যদিকে এই ভ্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব সমস্যা-সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার সবটাই ঘটেছে বাংলাদেশে।
porzoton
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংকক শহরে ও শহরের বাইরে ক্রাবি ও কাঞ্চনবুড়ির হোটেল বুকিং দুই মাস আগে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। আমার মনে হয়েছিল সব কিছুই এখন এভাবে সহজেই শেষ করা যাবে। কিন্তু ব্যাংকক থেকে ক্রাবি যাওয়ার জন্য একটি সস্তা বিমান সংস্থার টিকিট বুকিংয়ের সময় বিপত্তি দেখা দিল। দলের আটজন যাত্রীর নাম, ঠিকানা, পাসপোর্টের বিবরণসহ জীবনবৃত্তান্ত ও ফ্লাইট ডিটেইলের আটটি দীর্ঘ ছক অনলাইনে পূরণ করার পর টিকিটের মূল্য পরিশোধের সময় 'সাবমিট' বোতামে চাপ দিয়ে দেখা গেল তা কাজ করে না।

Dr.Sadat.Hussain's picture

রাজনীতিতে নীতি-কৌশলের সংঘাত, সংহতি

আমার এক বন্ধুস্থানীয় মন্ত্রী অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় প্রায়ই আবোল-তাবোল কথা বলতেন, উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করতেন। বাস্তব ক্ষেত্রে তিনি ভয়ানক বুদ্ধিমান ও অসাধারণ কৌশলী ছিলেন। সে কারণে জাতীয় সংসদের সব নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হতেন। মন্ত্রণালয়ের কাজও ভালোভাবে চালাতেন বলে মনে হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় একদিন প্রশ্ন করলেন, 'আচ্ছা বলুন তো ভাই, বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা কত?' আমি বললাম, 'এসব মারফতি প্রশ্ন কোনোভাবেই অর্থবহ নয়; অতএব, এর উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নাই।' মন্ত্রী দমার পাত্র নন, একটা উত্তর তিনি নিয়ে ছাড়বেন। উত্তর দিলাম, 'বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি (তখন এটি ছিল দেশের জনসংখ্যা)।' মন্ত্রী বললেন, 'আমার মাথা আর আপনাদের মুণ্ডু; বাংলাদেশে মানুষের সংখ্যা মাত্র এক হাজার ৩০০। বাকিরা শুধু সংখ্যা; তাদের হিসাবের মধ্যে রাখার প্রয়োজন নাই। আপনি এক হাজার ৩০০ লোক নিয়ে কাজ করুন। দেখবেন আর কোনো অসুবিধা নাই।'
sadat hossain
মন্ত্রীর পরামর্শ নীতি-আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। তবে এ পরামর্শ বাস্তবমুখী এবং কার্যকর ছিল। শুধু নীতি বা আদর্শ বলে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য সাধন কিংবা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন প্রায়ই সম্ভব হয় না। নীতি ও কৌশলের যথাযথ সংযোগ একটি কর্মসূচিকে সার্থকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। নীতির বিষয়টি আসে মানুষের ভাবনার জগৎ থেকে, স্বপ্নের জগৎ থেকে, শিক্ষা-সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও যুক্তির জগৎ থেকে।

একই ছিলিমে দুধ ও তামাক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সময়ে দেশে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছিল। সারা দেশের সব ভালো রাস্তাঘাট (যা এখন ভেঙেচুরে একাকার), আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস, মহকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করে ৬৪টি জেলার সৃষ্টি এবং উপজেলা প্রথা প্রবর্তন- এ সবই এরশাদের যুগান্তকারী প্রশাসনিক সংস্কার। এখন দেশে শত শত পৌরসভা, সব উপজেলায় পৌরসভা, অন্যান্য ইউনিয়ন পর্যায়েও অনেক পৌরসভা রয়েছে। ১৯ জেলার পরিবর্তে ৬৪ জেলায় জেলা জজ, এসপি, ডিসি এবং জেলা পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও অফিস-আদালত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেতে আগের তুলনায় অনেক কম দৌড়াতে হয়। তবে ব্যাপক দুর্নীতি ও দলীয়করণের (যা বিএনপি শুরু করেছিল এবং এখন প্রায় ষোলো কলায় পূর্ণ!) ফলে অবস্থার সার্বিক উন্নতি হয়েছে কি না বলা মুশকিল। তবু উন্নয়ন ও সংস্কারে এইচ এম এরশাদের অসাধারণ অবদান অনস্বীকার্য- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ershad
ইদানীং অবশ্য এইচ এম এরশাদের কাণ্ডকারখানা ও কথাবার্তা তাঁর অতীত অর্জনকে প্রায়ই ম্লান করে দিচ্ছে। তিনি বর্তমান সরকারপ্রধানের মন্ত্রী পদমর্যাদার বিশেষ দূত হয়েও বলছেন এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। কারণ তাঁর মতে, এরা সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার গত সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে যা করার তাই করছে। হঠাৎ তিনি এদের এত ব্যর্থতা কেমন করে দেখলেন, বোঝা গেল না।

Masum.Billah's picture

তারুণ্যের কাছে কী প্রত্যাশা?

এ বছর যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য'। আমরা বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শারীরিক আঘাত নিয়ে যতটা ভাবি, দারিদ্র্যসহ সুশাসনের অভাবেই হোক বা সচেতনতার অবর্তমানেই হোক; মানসিক আঘাত বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা আমাদের কাছে এক ধরনের বিলাসিতাই বলা যায়। তা ছাড়া প্রচলিত 'নুন আনতে পানতা ফুরানো' অবস্থা যে দেশের অধিকাংশ মানুষের, সেখানে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত চিন্তাভাবনার সীমারেখা মূলত সামর্থ্যনির্ভর। তবে দেশের মানসিক স্বাস্থ্যের পুরোটাই যে অসুস্থ, তা কিন্তু নয়। অতীতেও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভালো ছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বর্তমানেও আছে, যা প্রচলিত ধারার মানসিক স্বা

আরও একটি অকার্যকর লংমার্চ?

পাকিস্তান বিপ্লব সংক্রান্ত ভালো কিংবা খারাপ খবরের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি মনে করেছিলাম, এখানে কেবল তালেবানদের বিপ্লবই সম্ভব, যারা কট্টর ইসলামিক বিধি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে এবং ব্যাপক হত্যার মাধ্যমে এটি অর্জনের ক্ষমতাও রয়েছে। এরই মধ্যে এই লক্ষ্যের কিছু অংশ পূরণও হয়েছে এবং এর যারা শিকার তাদের চরমপন্থীয় চিন্তার সঙ্গে হত্যাকারীদের চিন্তার মিলও রয়েছে। তারা এটিকে এমন মনে করেছে, যেন এটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের স্বর্গীয় আদেশ।
imran khan
আমি মনে করেছিলাম বিপ্লব পরিবর্তন থেকে ভিন্ন কিছু হবে; কিন্তু ইমরান খান ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফও বর্তমানে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং মনে হচ্ছে, তারা বিপ্লব ও পরিবর্তনকে গুলিয়ে ফেলেছেন। পরিবর্তন বলতে আমি বুঝেছিলাম গণতন্ত্রকে, যার সঙ্গে নির্ধারিত সময় পরপর সরকার পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে বিপ্লব হচ্ছে রক্তক্ষয়ী উৎপাটন, যা এসেছে দীর্ঘ সময়ের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের পর। অন্য আরেক ধরনের বিপ্লবী রয়েছেন যারা 'পচে যাওয়া পদ্ধতি'কে ছুড়ে ফেলতে চান এবং এটাকেই তারা গণতন্ত্র মনে করেন।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

নতুন উষার স্বর্ণদ্বারে, না ভয়ঙ্কর পতনের চূড়ায়?

উপমহাদেশের তিনজন জাতির জনকের কাছে ক্ষমা চেয়ে আজ এ লেখাটি শুরু করছি। এই তিনজন জনক হলেন ভারতের মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেই পরিচিত; পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, যাকে পাকিস্তানিরা বলেন কায়েদে আযম এবং বাংলাদেশের শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু বলেই এখন তাকে একডাকে অনেকে চেনেন। তাদের তিনজন সম্পর্কে লোকমুখে প্রচারিত একটি গল্প দিয়েই আজকের লেখার অবতারণা করছি। শেষ বিচারের দিন যারা স্বর্গে যাওয়ার তারা স্বর্গে গেছেন এবং যারা নরকে যাওয়ার তারা নরকে চলে গেছেন। কিন্তু তিন দেশের তিন জাতির জনক তারা অপেক্ষমাণ। তাদের স্বর্গে গমন সুনিশ্চিত এবং সেটা ধরেই অপেক্ষা করছেন ডাক আসার। কিন্তু স্বর্গের দরজা তখনও খোলা হয়নি তাদের জন্য। গান্ধী, জিন্নাহ এবং শেখ মুজিব নিজেদের মধ্যে খোশগল্প করছেন। এমন সময় দেবদূত এসে জানালেন, আপনাদের স্বর্গে নয় নরকে যেতে হবে। স্রষ্টার সে রকমই আদেশ। এটা শুনে তিনজনই পরম বিস্মিত হলেন।
bangabandhu
এ রকম অদ্ভুত আদেশের কারণ জানতে চাইলেন দেবদূতের কাছে। দেবদূত বলেন, আপনারা স্রষ্টাকেই সেটা জিজ্ঞেস করুন। তিনজনে একসঙ্গে জানতে চাইলেন_ কেন তাদের প্রতি এই অদ্ভুত আদেশ! স্রষ্টা প্রথমে কথা বলেন গান্ধীর সঙ্গে। তাকে বললেন, তোমার অপরাধ গুরুতর। তুমি অহিংসার নামে যে দেশ গড়ে এসেছ, সেই দেশের অবস্থা এখন কী হয়েছে দেখ। সেখানে কোথাও অহিংসা আছে কি? তোমার কারণে অহিংসা ভারতবর্ষ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে। সেখানে গড়ে উঠেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদ।

Golam.Maula.Rony's picture

বঙ্গবন্ধু, আমি এবং জাতীয় শোক দিবস

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মনে করার মতো চাক্ষুস স্মৃতি হয়তো আমার নেই-কিন্তু আমি যাদের রক্তের ধারক তাদের অনেকের সঙ্গেই আবাল্য বন্ধুত্বের বন্ধনে তিনি সম্পর্কিত ছিলেন। আমার জন্মের ১৫/২০ বছর আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু আমাদের এলাকায় নিয়মিত আসতেন। আমার আত্মীয় আব্দুল হামিদ চৌধুরী ছিলেন তাঁর সহপাঠী এবং অন্তরঙ্গ বন্ধু। বহুবার তিনি ঠেঙ্গামারীর চৌধুরী বাড়ীতে এসেছিলেন। মাঝে মধ্যে ভাঙ্গার সামসুদ্দীন মোল্ল¬া ও ফরিদপুরের মোল্লা জালালকেও সঙ্গে আনতেন। ৪ বন্ধু মিলে ফরিদপুর জেলার প্রতিটি গ্রামে যেতেন আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করার জন্য। হামিদ চৌধুরী ৫৪র যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি এবং ঐ সময়ে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
golam maula rony
এছাড়া আমার অন্য দুই কাকা সেই পঞ্চাশের দশক থেকে বঙ্গ বন্ধুর জীবৎকাল পর্যন্ত সদরপুর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ফলে ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সাল অবধি বঙ্গবন্ধু আমাদের এলাকায় খুব কম গেলেও তাঁর সব কর্মকান্ডের খবর কমবেশী আমাদের পরিবারে আলোচিত হতো এবং তার বয়সী পুরুষেরা এবং সকল বয়সের নারীরা মনে প্রানে তাকে ভালোবাসতেন। ফলে কথায় কথায় তারা বাচ্চা পোলাপানদেরকে বঙ্গবন্ধুর কথা শোনাতেন।

জেল থেকে দেখা ১৫ আগস্ট

১৫ আগস্ট ১৯৭৫। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২৬ সেলে ভোর বেলা জাসদ নেতা রুহুল আমিন ভুঁইয়ার ডাকে ঘুম ভাঙল। তিনি জানালেন সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছেন। প্রচণ্ড বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে সেল থেকে বেরিয়ে এসে জানলাম, না সত্যিই সবার মুখে মুখে ফিরছে কথাটি। রেডিওতে ঘোষণা হচ্ছে সবাই বললেন। কিছুক্ষণ পর খবর পেলাম, মেজর ডালিম রেডিওতে সামরিক বাহিনীর নামে ক্ষমতা দখল ও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ঘোষণা দিচ্ছেন এবং সারা দেশে কারফিউ জারির কথাও জানাচ্ছেন। তখন মনে এলো, আরে এর নাম তো আগে শুনেছি, পত্রিকায়ও এসেছিল, এক বিয়ের নিমন্ত্রণে গাজী গোলাম মোস্তফার পুত্রের ডালিমের স্ত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণকে কেন্দ্র করে মহা হইচইয়ের খবর, তারপর ডালিমের চাকরি গিয়েছিল। বিষণœ ও উৎকণ্ঠায় পেটে মোচড় দিয়ে ওঠে। আমাদের সেলে দু-একজন কয়েদি বিভিন্ন কাজে আসছে, তাদের জিজ্ঞেস করি। না, তারা ওইটুকুই জানে, যা আমরা এরই মধ্যে শুনেছি।
mujib
আমাদের পেছনের দশ সেলে দু-একজন ছাড়া সবাই দালাল আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি। দশ সেলের দালাল আইনে শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে দারুণ উল্লাস। আবার পাকিস্তান হবে এ ধরনের কল্পনা অনেকের। তারা বারবার কারাগারের ফটকের শীর্ষের পতাকার দিকে তাকাচ্ছে, পরিবর্তন হয় কিনা দেখতে। তারা আশা করছিল পাকিস্তানের পতাকা উঠবে বা এমন কিছু একটা হবে। এরা এত উল্লসিত কেন, তবে কি এরা জানে, কারা করেছে, কী উদ্দেশে এই সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে?

Farhad.Mazhar's picture

একালে এগিয়ে যাওয়ার পথ

আমি আধুনিক নই। এর মানে এই নয় যে আমি অনাধুনিক। কিংবা আমি অনাধুনিকতাকে মহিমান্বিত করতে চাই। আধুনিক যুগের আবির্ভাবের আগে প্রাক-আধুনিক যুগ নামক যদি কিছু থাকে সেখানে প্রত্যাবর্তন করার ইচ্ছা বা সংকল্প কোনোটিই আমার রাজনীতি না। আমি আধুনিকতা বনাম অনাধুনিকতা এই দুইয়ের একটিকে মহিমান্বিত করে অপরটির বিরুদ্ধে দাঁড়াই না। বরং চিন্তা ও চর্চার যে অভ্যাস এই ধরনের বিভাজন তৈরি করে, সেই অভ্যাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চাই। সেই বিভাজনের মধ্যে নিজের তৈরি কাদাজলে খাবি খেতে চাই না। সেই বিপদ থেকে নিজেকে সন্তর্পণে রক্ষা করে ভাবতে চেষ্টা করি মানবেতিহাসের গন্তব্য ভিন্ন কোনো জায়গা থেকে ভাবা সম্ভব কি-না। আমরা যেদিকে যাচ্ছি সে

Taslima.Nasreen's picture

সুন্দরী

অ্যান্টিএজিং, এক্সফলিয়েটর্স, মাস্কস, আই ব্রাউজ, আই লাইনার্স, আই শ্যাডো, বেস মেকআপ, ব্লাশ, কনসিলার, ইলুমিনেটর্স, লিপ গ্লস, লিপ লাইনার্স, লিপস্টিক, নেইল পলিশ- এরকম সহস্র সামগ্রী আজ বাজারে কেন? কাদের ব্যবহারের জন্য? এর উত্তর আমরা সকলেই জানি। মেয়েদের। আমার প্রশ্ন, কেন মেয়েদের এসব ব্যবহার করতে হবে? কেন মেয়েদের আসল চেহারাকে আড়াল করতে হবে নানান রঙ দিয়ে? কেন বানাতে হবে নকল একটি মুখ? নকল চোখ, নকল ঠোঁট, নকল গাল? এই প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করে মেয়েরা, কারণ নিজেদের সত্যিকার চেহারা নিয়ে তারা হীনমন্যতায় ভোগে। কে এই হীনমন্যতাবোধটি জাগালো? কে বলেছে মেয়েদের মুখে কোনও ত্রুটি আছে, তাই অজস্র প্রসাধন মেখে সেই মুখকে ত্রুটিমুক্ত করতে হবে! ত্রুটিমুক্ত করলে তারা সুন্দরী আখ্যা পাবে!
taslima nasrin
মেয়েরা তটস্থ। খাবে না। খেলে মেদ জমবে শরীরে। কোথাও মেদ জমতে দেওয়া যাবে না। বুকের মাপ এই হতে হবে, কোমর ওই, পেট সেই, নিতম্ব এমন, ঊরু তেমন। সব কিছুরই মাপ নির্দিষ্ট করা আছে। সেই মাপ মতো শরীর বানাতে মেয়েরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। খাবার দেখলে ভয়। না খেতে খেতে মেয়েদের অনেকে আজ অ্যানোরেক্সিয়া আর বুলিমিয়া রোগে ভুগছে। মেয়েদের শরীরের আকার আকৃতি এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কী মাপ হওয়া উচিত, তা তৈরি করছে কারা? শরীর নিয়ে মাপজোকের অংক কষছে কারা? কারা বলছে কোনও একটি মাপের শরীরকে না ফেললে সেই শরীর সুন্দর নয়? সেই মেয়ে সুন্দরী নয়?

Syndicate content