ইসলামিক স্টেট আল কায়েদা ও আরব বিশ্বের চলমান রাজনীতি

অনেকগুলো কারণে আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক রাজনীতি আজ আলোচিত। প্রথমত, ইরাকে সুন্নি প্রভাবাধীন ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও এর নেতা কর্তৃক সমগ্র মুসলিম বিশ্ব নিয়ে একটি খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। দ্বিতীয়ত, গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা এবং এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি। তৃতীয়ত, ইরাকের কুর্দিস্তানের সিনজার পর্বতমালাসংলগ্ন সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সাম্প্রদায়কে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অব্যাহত মার্কিন বিমান হামলা।
arab
প্রেসিডেন্ট ওবামা জানিয়েছেন, এই বিমান হামলা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে আইএসের জঙ্গিরা প্রায় ৭০০ ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করেছে। চতুর্থত, ইরাকে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতার মুখে মালিকি সরকারের পতন ঘটেছে। সেখানে হায়দার আল আবাদির নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সরকার ইরাককে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন এখন।

dr. niyaj ahmed's picture

সামাজিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বাইরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়াদি যখন জানার চেষ্টা করা হয়, তখন আমাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়। বিভিন্ন পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে এখানে আসে ছেলেমেয়েরা। বাবা পেশায় শিক্ষক এমন সংখ্যাটি একেবারে কম নয়। অনেকে আবার কৃষক পরিবারের সন্তান, ছোট সরকারি চাকুরে এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানও রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আবার বাড়িতে টাকা পাঠায়, যা দিয়ে তাদের সংসার চলে।
teenager
অপেক্ষাকৃত মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে এখানে। সাধারণত ধরেই নেওয়া হয় যে তারা আদর্শ মূল্যবোধ অনুশীলন করে, যেখানে অন্যায় আচরণ করার সময় পূর্বচিন্তন কাজ করে। এর কারণ হিসেবে মনে করা হয়, তাদের পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধগুলো শেখার ভিত্তি মজবুত। কিন্তু তাদের মধ্যে কেউ কেউ হঠাৎ করে অসদাচরণ কিংবা সন্ত্রাসী আচরণ শুরু করে। তাদের অতীত খুঁজলে এ ধরনের আচরণের ধারণা করার কথা নয়। একটি নির্দিষ্ট পারিবারিক কাঠামো, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধে বড় হওয়া সন্তানদের এমন আচরণ হতে পারে সঠিকভাবে উপরোক্ত বিষয়গুলো ভালোভাবে না শেখা কিংবা ধারণ না করার বদৌলতে।

Haidar.Akbar.Khan.Rono's picture

গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ

সরকার মুখে যা-ই বলুক না কেন, আসল কথাটি ফাঁস করে দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলী। তিনি সাংবাদিকদের ধমক দিয়ে বলেছিলেন যে সম্প্রচার নীতিটি কার্যকর হোক, তারপর দেখে নেবেন সাংবাদিকদের। পরে অবশ্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। সরকারের লোকজন বলছেন যে ওটা সরকারি ভাষ্য নয় ইত্যাদি। কিন্তু ভেতরের আসল সত্যটি অসতর্ক মুহূর্তে ফাঁস করে দিয়েছেন মন্ত্রী মহোদয়। কেউ কেউ বলেন, ওই সময় তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। হ্যাঁ, ঠিক এই রকম অবস্থায়ই তো মানুষ সত্য কথা বলে। ভেতরের গোপন কথা বেরিয়ে আসে। সম্প্রচার নীতি সম্পর্কে যে সন্দেহ জনমনে ছিল, সেটাই তো সত্য প্রমাণিত হলো।
Rono
তথ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের সবাই একস্বরে বলছেন, এই সম্প্রচার নীতি ভালোর জন্য হয়েছে। কিন্তু আমরা কিসের ভিত্তিতে ভালো মনে করব? সরকার আরো বলছে, সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই নীতিমালা। হায়! এ যেন উল্টো বুঝিলি রাম! গল্পটি অনেকেই জানেন। তাই পুনরুল্লেখ করছি না। সোজা মানে, সাংবাদিকরা চেয়েছেন অধিকতর স্বাধীনতার জন্য, সংবাদপত্রজগতের শৃঙ্খলার জন্য। শৃঙ্খলা আর শৃঙ্খল অবশ্যই এক জিনিস নয়। এখন সরকার নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে যা করছে, তা হলো পত্রিকা ও টিভি সংবাদ, টিভি আলোচনাকে ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

আগস্টের দুটি তারিখ ও বিএনপির রাজনীতি

এবার ২১ আগস্টের স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া কিছু কথা বলেছেন। ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার প্রকাশ্য জনসভায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে হত্যার জন্য ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলায় অতি অল্পের জন্য শেখ হাসিনা বেঁচে যান। কিন্তু অসংখ্য নিরীহ নরনারী আহত-নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম নেত্রী আইভি রহমানও। সভায় উপস্থিত অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতাই কমবেশি আহত হন। সেই থেকে প্রতিবছর নিহতদের পরিবার-পরিজন এবং আহত ও পঙ্গুরা ওই দিনটির স্মরণে ঢাকায় সমবেত হন। তারা নিহতদের স্মরণবেদিতে ফুল দেন এবং এই বর্বরতাকে ধিক্কার জানান।
21 august
হাসিনার জনসভায় এই বর্বর গ্রেনেড হামলার সময় খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় ছিল। তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রীকে হত্যা করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে। শেখ হাসিনা তাতে রাজি হননি। গ্রেনেডের টুকরোর আঘাতে তখন তার একটা কান দিয়ে রক্ত ঝরছে এবং তার কাপড়চোপড় রক্তাক্ত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরোধী দলের আহত ও মর্মাহত নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশের আগে তার উচিত ছিল এই বর্বর হামলা কারা ঘটিয়েছে, অবিলম্বে তাদের ধরার নির্দেশ দেওয়া এবং এর তদন্ত অনুষ্ঠানে ঢিলেমি করে যাতে সভা প্রাঙ্গণ থেকে অপরাধের সব আলামত মুছে ফেরার সুযোগ অপরাধীরা না পায়, তার দ্রুত ব্যবস্থা করা।

Mukit.Majumdar.Babu's picture

সবুজে বাঁচতে 'সবুজ কর'

সভ্যতার অগ্রগতিতে শিল্পায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের চলন-বলন, জীবনযাপনের সঙ্গে শিল্পায়ন এমনভাবে যুক্ত হয়েছে যে, তাকে পাশ কাটিয়ে কোনোভাবেই বর্তমান এবং আগামীর পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। শিল্পায়ন আমাদের চলার পথকে যেমন মসৃণ করে গতি দিয়েছে, তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়কেও করেছে ত্বরান্বিত। তবে তার জন্য শিল্পায়নের চেয়ে আমাদের অসচেতনতা আর অর্থলিপ্সু মনোভাবই বেশি দায়ী। কোটি কোটি টাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে ঘরে লাভ তুলছি; কিন্তু পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে একটি শোধনাগার বা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন বা কার্যকর করছি না।
Green tax
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দুই শতাধিক ট্যানারি ও ডাইং কারখানায় ইটিপি নেই। আর তাই রাজধানীসহ চারপাশের জেলা, বিভাগীয় শহর এমনকি জেলা শহরগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষিত পানির আগ্রাসন। এই দূষিত পানির কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি আমরাও নানা ধরনের জটিল ও কঠিন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে চলছে পরিবেশ দূষণের এ প্রক্রিয়া।

আমার সন্তান, আমার উত্তরাধিকার

জন বায়রন নামে এক বিদেশি মৃত্যুশয্যায় কয়েক মাস অবস্থান করার পর দৈবক্রমে ফিরে আসেন। কেউ ভাবেননি, তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তিনি খুব ধনী ছিলেন। অনেক অট্টালিকা, গাড়ি, বড় ব্যবসা, নগদ টাকা অর্জন করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর দুয়ারে যখন তিনি প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, তখন তার ভাবনা বা অনুভূতি কেমন ছিল জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাকে। তখন কি তিনি তার ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, নাকি সম্পদ কী করবেন, সেই চিন্তায় ছিলেন, নাকি সুন্দরীরা, যারা তার আন্তরিক সেবায় নিয়োজিত থাকত তাদের চিন্তায় ছিলেন? তার উত্তর ছিল, যখন তিনি ওপারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন, তখন তার প্রথম কয়েকটি মুখ চোখের সামনে বারবার হাজির হচ্ছিল।
father
এই মুখগুলো তার প্রাণপ্রিয় সন্তানদের মুখ, তার স্ত্রীর মুখ (যাকে তিনি খুব ভালোবেসেছেন বলে মনে হয়নি), তার মৃত বাবা-মার মুখ। তার চোখের সামনে বা মনের পর্দায় কোনো লাস্যময়ী সুন্দরীর মুখ, ব্যাংকের নগদ টাকা, বড় অট্টালিকা_ এগুলো একবারের জন্যও ভেসে ওঠেনি। কথা বলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি প্রথম তার স্ত্রীকে খোঁজ করেছিলেন। অবশ্য স্ত্রী-সন্তানরা তার শিয়রের পাশেই অশ্রুসিক্ত নয়নে তার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছিলেন।

গাজায় ইসরাইলের মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৫ হাজার। কিন্তু বেলফুর ঘোষণার পর থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসা শুরু করে এবং গরিব আরবদের কাছ থেকে বিত্তবান ইহুদিরা জমি কিনে আরবদের প্রায় সর্বহারায় পরিণত করে। জার্মানিতে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর তাদের মাইগ্রেশনের গতি বৃদ্ধি পায়- ১৯৩২ সালে যেখানে সংখ্যাটি ছিল বছরে ৯ হাজার, সেখানে ১৯৩৫ সালে তা দাঁড়ায় ৬০ হাজারে। দমন-পীড়ন চালালেন হিটলার আর ভূমিহারা হল ফিলিস্তিনিরা- কী অদ্ভুত! সে প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এবারের গাজা হামলার মধ্যেও ফ্রান্স থেকে মাইগ্রেট করেছে অনেক ইহুদি পরিবার।
gaza
ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল অসম্ভব এক দক্ষতায় বিশ্বজুড়ে ‘অন্ধ ইহুদি সাম্প্রদায়িকতার’ বাতাবরণ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। আর এ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রতিনিয়তই বলে- ফিলিস্তিনিরা তোমাদের শত্রু, এ ভূমি আমাদের ঈশ্বর কর্তৃক প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমি, এখানে অন্যদের থাকার কোনো অধিকার নেই। এ সাম্প্রদায়িক প্রচারণার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ইসরাইলের প্রাণভোমরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরিবাহিত হচ্ছে অবৈধ-অনৈতিক ঘৃণ্য জিঘাংসা।

Farhad.Mazhar's picture

সেইম টু সেইম, আমরা আমরাই তো!

সরকারের সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে। পত্রিকায় দেখছি সম্পাদক পরিষদও বিবৃতি দিয়েছে। তারা আশংকা প্রকাশ করেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম তো পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে, আর কী নিয়ন্ত্রণ করবে ক্ষমতাসীনরা? সংশয় ও সমালোচনা সত্ত্বেও সম্পাদক পরিষদের এই বিবৃতি আমি সমর্থন করি। সেটা বলার জন্যই এই লেখা।
সম্প্রচার নীতিমালা
যারা বিবৃতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে এমন সম্পাদকও আছেন, যারা অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এর আগে অস্বীকার করেছেন। তারা সরকারদলীয় সমর্থক। নির্বিচারে তারা সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছেন। বিরোধী চিন্তা ও মতের বিরুদ্ধে হেন কোনো অপপ্রচার বা কুৎসা নাই যা তারা করেননি বা করেন না। নিজের মতপ্রকাশের অধিকার তাদের আছে, সেখানে আপত্তির কিছু নাই। কিন্তু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অন্যের মত দমন করার নীতি তারাও চর্চা করেন।

Golam.Mortoza's picture

সত্য-গুজব-বিভ্রান্তি এবং শিক্ষামন্ত্রী

গতকাল ২০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ কিছু কথা বলেছেন। বলেছেন ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করা হবে। তার বক্তব্যে উপরের এই শব্দগুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, রটনা ও গুজব ছড়ালে শাস্তি পেতে হবে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা-
nurul islam nahid
১. প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো দ্বিমত নেই। কারও কোনো আপত্তি থাকার কারণ নেই। কারও আপত্তি থাকলেও শাস্তি দিতে হবে। দোষীদের শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না, দেয়া হচ্ছে না, সনাক্ত করা হচ্ছে না বলে আমরা সমালোচনা করছি।

Mir.Abdul.Alim's picture

জলজট নিরসনে চাই পরিকল্পিত নগরায়ন

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পানিতে নাকাল হয়। এটা দুই নগরের বহু বছরের পুরনো সমস্যা। এখানকার অধিবাসীদের দুর্ভোগ কেউই লাঘব করতে পারছে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে নগরবাসীর কাছে বর্তমান নগর পিতার জলজট নিরসনে ওয়াদা ছিল। আর রাজধানী ঢাকায় তো নগর পিতাই নেই। নগর ভবন আছে দুই-দুইখানা। দলীয় বিবেচনায় আছেন দুজন প্রশাসক। সিটি করপোরেশন ভাগ হয়েছে বহু আগে। বেড়েছে জনবল আর ব্যয়। তাতে কী? এতটুকুও বাড়েনি নগরজীবনের সুখ? অভিভাবক ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে লালিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তাই স্বল্প বৃষ্টিতেই এখন নাকাল ঢাকা। জলজটের সঙ্গে ঢাকায় আছে যানজটও। বৃষ্টির ময়লা পানিতে ঢাকা ডুবলেও নগরবাসীর পানীয় জলের অভাব কিন্তু লেগে থাকে বছরজুড়েই। এভাবে কি নগর জীবন চলে? ক'দিন ধরে কী দেখছি? জলাবদ্ধতায় ডুবন্ত চট্টগ্রাম। ঢাকা নগরীও পানির তলায়।
rain
ভরসা কোথায়? আদৌ কি নগরজীবনের জলাবদ্ধতা দূর হবে? পরিকল্পিত নগরায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; ড্যাব বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; নগরের খালগুলো দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাস্তবে রাজধানী ঢাকায় খাল আছে, কোথায় আছে তাই জানে না নগরবাসী। প্রশ্ন হলো, ড্যাব বাস্তবায়ন হলে ভূমিদস্যুদের কী হবে? এক টাকার পুকুর আর জমি কিনে ১০০ টাকায় বেচার স্বপ্ন যে তাহলে তাদের ভেস্তে যাবে। নগরের খালগুলো তো রাঘববোয়ালদের দখলে আছে। এগুলো দখলমুক্ত করে এ সাধ্য কার?

Syndicate content