বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব : একটি রিসার্চ নোট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বিশ্বখ্যাত নিউজ উইক ম্যাগাজিনে তাকে একদা 'রাজনীতির কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) বাংলা বিভাগ ২০০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ্তুএৎবধঃবংঃ ইবহমধষরং ড়ভ অষষ ঞরসবং্থ শিরোনামে এক জরিপ পরিচালনা করে। বিবিসির ১২ মিলিয়ন স্রোতা বিশেষত বাংলা ভাষী স্রোতারা যারা বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে আছেন তারা এ জরিপে অংশগ্রহণ করেন।
mujib
এ জরিপের ফলাফল প্রক্রিয়াকরণের জন্য ২০ দিন সময় ব্যয় হয় এবং ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন ১ বৈশাখ এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। ্তু২০ এৎবধঃবংঃ ইবহমধষরং্থ-এর তালিকায় আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম প্রথম স্থানে এসে যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এরকম ফলাফলই স্বাভাবিকভাবে আশা করা গিয়েছিল।

Mujahidul.Islam.Selim's picture

জনগণের সার্বভৌমত্ব 'স্থানান্তরযোগ্য' নয়

দেশের সংবিধান অনুযায়ী 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।' অথচ সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ— রাষ্ট্রের এই তিন অংশের মধ্যে কে বেশি ক্ষমতাধর, কে কার উপরে অবস্থান করে এবং কে 'বেশি সার্বভৌম' তা নিয়ে আবার প্রতিযোগিতা ও বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। এই কাণ্ডজ্ঞানবর্জিত বিতর্ক কবিগুরুর কবিতার সেই চরণগুলোকেই মনে করিয়ে দেয়।
people
"রথযাত্রা, লোকারণ্য, মহাধুমধাম

ভক্তেরা লুটায়ে পথে করিছে প্রণাম।

পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',

মূর্তি ভাবে 'আমি দেব'— হাসে অন্তর্যামী"

কতকাল চলবে ইসরাইলের বর্বরতা আর মানুষ হত্যা

দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার যেন এ বিশ্বে আজও এক অলিখিত নিয়ম। দুর্বলের হয়ে মুখে রা করার সাহস নেই কারও। সবাই যেন শক্তিধরের তাবেদারিতে অভ্যস্ত। অথচ মার খেতে খেতে যখন কিঞ্চিৎ শক্তি জোগাড় করে দুর্বলের মুখে মার মার ধ্বনি উঠে তখন কিন্তু তাঁবেদাররা রে রে করে তেড়ে আসে তাদের শক্তিধর মনিবের পক্ষ নিয়ে। প্রাচীনকাল থেকে এ নিয়ম চলছে গোটা বিশ্বজুড়ে। প্রতিবারই জানমাল হারাচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের উপর চলা ক্রমাগত আক্রমণের বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় না। এরা দুর্বল, তাই তাদের নির্মূলকরণের অভিপ্রায়কে প্রকারান্তরে মদত দিয়ে চলেছে অন্যরা। নিষ্পেষিত-নিপীড়িত দুর্বলরা যে আজও মানুষ হয়ে উঠেনি, সেটাই যেন চরম দুর্ভাগ্য আধুনিক বিশ্ববিবেকের কাছে। এদের লাশের সারি পড়ে থাকুক রাজপথে, সেটাই চায় শক্তিধররা। যেন অন্য দুর্বলরা এহেন করুণ পরিণতি দেখে কখনও শক্তিশালীদের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস না পায়-এমন বার্তাই জানিয়ে দিতে চায় আজ অত্যাচারীরা।
israil
বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার নিরিখে ইহুদিদের সংখ্যা বলতে গেলে একেবারে নগণ্য। একমাত্র ইসরাইল ছাড়া আর কোথাও এদের সংগঠিত জনবল নেই। ইসরাইলে যে সংখ্যক ইহুদি রয়েছে, তাদের সংখ্যাটা মোটেই ধর্তব্যের মধ্যে রাখা যায় না। কিন্তু বিশ্বের শক্তিধরদের প্রচ্ছন্ন মদতে এই ইহুদিদের দাপট যেন তাবৎ বিশ্বকে হতবাক করে দিচ্ছে। বিশ্ব যেন তাদের দাপটের কাছে একেবারে নতজানু।

Harun.Ur.Rashid's picture

ফরমালিন থেকে পরিত্রাণের উপায়

খাদ্যসামগ্রীতে ফরমালিন অপব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান আছে বটে; কিন্তু এর কার্যকর হয় খুবই কম। যদিও হয়ে থাকে তা কয়েক বছর পর। বিচারব্যবস্থার এই এতিম অবস্থা আমাদের ভোগাচ্ছে অতীত থেকে। সবার মুখে একই কথা, আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। ৮ জুলাই থেকে ১০ দিনের সিঙ্গাপুর সফরের সময় জানতে পেরেছি সেই দেশের আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগের কথা। সেখানে মাদক ও ভেজালের শাস্তি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কার্যকর হয়। মাদকসামগ্রী রাখা ও পণ্যে ভেজাল দেয়ার কোনো তথ্য পেলে শনাক্তকারী ব্যক্তির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ড। ওই দেশে ২৫ বছর বসবাসকারী এক বাঙালি বন্ধুর কাছে এ কথা শুনেছি। যৌন হয়রানি করেছে এমন নারী-পুরুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তিন বেত্রাঘাত, এতে ওই দুর্বৃত্ত ব্যক্তির পুরুষত্ব বা নারীত্ব নিঃশেষ হয়ে যায়।
formaline
এসব ক্ষেত্রে ওই সভ্য দেশটিতে রাজনৈতিক বিবেচনা বা নির্বাহী প্রধানের আত্মীয় পরিচয়েও রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের প্রিয় পুত্র বা কন্যাও যদি এ ধরনের অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন প্রমাণ মিললে তার শাস্তিও একই বিধানে একই পদ্ধতিতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হয়ে থাকে।

জেনেভা কনভেনশনের দেড় শ’ বছর পূর্তি উৎসব বনাম ইসরাইলের লঙ্ঘনোৎসব

প্রথম Geneva Convention for the Amelioration of the Condition of the Wonded in Armies in the Fied স্বাক্ষরিত হয় জেনেভা সিটি হলে, ১৮৬৪ সালের ২২ আগস্ট। এ উপলক্ষে রেডক্রস অ্যাম্বুলেন্সের রিপ্লিকা সিটি হল প্রাঙ্গণে আজ ২৫ আগস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রদর্শন করা হবে। একটি যুদ্ধের সময় গায়ে বুলেটের আঘাতে চালুনির মতো ফুটো হয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির একটি এই রিপ্লিকা আমাদের মনে করিয়ে দেবে এই প্রথম জেনেভা কনভেনশনের গুরুত্ব।
geneva
আজ থেকে ১৫০ বছর আগে ২২ আগস্ট ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা সুইজারল্যান্ডের আহ্বানে জেনেভায় একটি কূটনৈতিক সম্মেলনে মিলিত হন। সিটি হলের আলাবামা কক্ষে এই ১৬টি দেশের ১২টি দেশ ওই দিনে উপর্যুক্ত শিরোনামের জেনেভা কনভেনশনটি স্বাক্ষর করে। এই কনভেনশনের লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিক, সেই সাথে ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সুরক্ষা দেয়া। এই কনভেনশনে স্বাক্ষরের ঘটনা জন্ম দেয় আধুনিক মানবিক আইনের, যা আজকের দিনের যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের সময়ে বেসামরিক লোকজনকেও সুরক্ষা দেয়।

Ibne.Golam.Samad's picture

শেখ মুজিব হত্যায় জিয়ার উদ্যোগ ছিল না

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত ১৫ আগস্টের কিছু ক্রোড়পত্র পড়লাম। এগুলো পড়ে মনে হতে পারে, শেখ মুজিব হত্যা হতে পেরেছিল জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা অনুসারে। তাই বর্তমান আলোচনার অবতারণা। শেখ মুজিব যখন নিহত হন, তখন কে এম সফিউল্লাহ ছিলেন প্রধান সেনাপতি। জিয়া ছিলেন উপপ্রধান সেনাপতি। তার কমান্ডে সেনাবাহিনী পরিচালিত হতো না। তাই সেনা বাহিনীর কোনো কৃতকর্মের জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে না। কে এম সফিউল্লাহ সেনা বাহিনীতে প্রধান দায়িত্বে ছিলেন ২৪ আগস্ট, ১৯৭৫ পর্যন্ত। তাকে টপকে জিয়া সেনা বাহিনীতে নেতৃত্ব দিতেন, এ রকম কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি কে এম সফিউল্লাহ। ঢাকা ব্রিগেডের পরিচালক ছিলেন শাফায়াত জামিল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি জিয়াকে এসে বলেন, শেখ মুজিব খুন হয়েছেন, এখন কী করা প্রয়োজন। জিয়া তাকে বলেন, আমরা হলাম সেনা বাহিনীর লোক। প্রেসিডেন্ট নিহত হয়েছেন কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্ট বেঁচে আছেন। তিনি এখন প্রেসিডেন্ট হবেন। তিনি আমাদের যে নির্দেশ দেবেন, তাই আমরা করব।
mujib
জিয়ার নিজের কথায়- President is dead, so what? Vice President is there, you should uphold the sanctity of the constitution, Get your troops ready immediately. জিয়া শাফায়াত জামিলকে বিদ্রোহীদের সাথে সহযোগিতা করতে উপদেশ দেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন। ক্ষমতা দখল করেন খন্দকার মোশতাক আহমদ।

Ruchika.Talwar's picture

ইমরান খান বা কেজরিওয়ালরা মজমা ভালো জমান

লিখতে বসলেই এমন কিছু শব্দমালা বা চরণ খুঁজি, যা দিয়ে হালকা চালে লেখাটি শুরু করা যায়। এভাবেই একটি লেখা, তা বিশ্লেষণমূলক হোক বা বর্ণনাত্মক-শৈল্পিক কিংবা মজাদার হয়ে উঠতে পারে- এমনটাই আমি মনে করি। এ লেখাটি মনে মনে লিখতে গিয়েও বহুবার লিখেছি, পুনর্লিখন করেছি এবং শেষে দুমড়েমুচড়ে মাথার ঝুড়িতে ছুড়ে ফেলেছি। সমাধানটি এলো এক বন্ধুর সঙ্গে টিভিতে ইমরান খানের গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক তামাশার দৃশ্য দেখতে গিয়ে, যে তামাশাটির জিম্মি হয়েছে লাহোর থেকে ইসলামাবাদ। দেখতে দেখতে বন্ধুটি লক্ষ্নৌর ভঙ্গিতে হঠাৎ ফোড়ন কাটে- আবে, আব ইসমেঁ ভি হামারি হি নাকাল কারেংগে! অর্থাৎ এখানেও পাকিস্তান নকল করবে ভারতকে। আদতে তা-ই।
ruchika
অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নেতা ইমরান খান তাঁর 'দশ লাখ' (আদতে হাজার বিশেক) সমর্থকের প্রতি বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল ও কর না দেওয়ার যে ডাক দিয়েছেন, তা ভারতের অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। আর এ জন্য কেজরিওয়াল গুরুদক্ষিণাও দাবি করতে পারেন ইমরান খানের কাছে; যদিও এমন লেনদেন তখনই সম্ভব, যখন গুরু ও শিষ্য বাহ্যত পাশাপাশি থাকেন।

Mahmudur.Rahman.Manna's picture

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিহীনতার চাষ

ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার আরেকটি প্রয়াস ছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। না, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে লিখতে বসিনি আমি। '৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে গৃহীত হওয়ার পর যখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিশেষত ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এভাবে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে। শিক্ষাকে একটি পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। অথচ শিক্ষা সুযোগ নয়, অধিকার। কোনো আন্দোলন গড়ে ওঠেনি এভাবে। অতএব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো।
manna
এখন দেশে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৯টি, যা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক বেশি। হয়তো এটাই স্বাভাবিক ছিল। অন্তত ঘটনাটা তো সেটাই ঘটেছে। শিক্ষা সুযোগ বললেই হলো না, সে সুযোগ কারো করে দিতে হবে। আমরা সর্বজনীন শিক্ষার দাবি করি; কিন্তু সবার জন্য শিক্ষা কি আছে? আমাদের শিক্ষা খাতে যে বাজেট বরাদ্দ আছে, সেটা দিয়ে তা হয় না। আরো অনেক কাজই হয়নি। আসলে সরকারের ততখানি সক্ষমতা নেই। অতএব, বেসরকারি উদ্যোগকে বাধা দিয়ে কোনো লাভ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো সে রকম করে না। ইউরোপ-আমেরিকা বা কানাডার বিখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষা একভাবে পণ্য বলে বিবেচিত হয়।

Fazlul.Haque's picture

নৌ দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে যা প্রয়োজন

আজ থেকে ৩০ বছর আগে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। পালের নৌকাই বেশি ব্যবহার হতো। মাঝেমধ্যে গাজী নামে বড় আকারের স্টিমার, লঞ্চ ও মালবাহী কার্গো নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা বা ঢাকার সদরঘাট থেকে ফরিদপুরের গোয়ালন্দসহ দেশের বিভিন্ন রুটের উদ্দেশে যাতায়াত করত। এ স্টিমারটি (গাজী) এখনো চলতে দেখা যায় ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে। স্টিমারটির বয়স প্রায় ৭০ বছর হলেও বর্তমানের যেকোনো নতুন লঞ্চ বা স্টিমারের চেয়েও অনেক শক্তিশালী। দুটি হুইল বা পাখার ওপর ভর করে চলে। স্টিমারটি দ্রুত গতিতে চলার কারণে প্রতিবছর প্রায় কয়েক ডজন ছোট ইলিশ মাছ ধরার নৌকা পদ্মায় ডুবে যেত। কিন্তু সাঁতার জানার কারণে প্রাণহানির ঘটনা তেমনটা শোনা যেত না।
launch
ওই সময় বড় আয়তনের যাত্রীবাহী ও মালামাল নিয়ে লঞ্চ ও লঞ্চসদৃশ কার্গো যাতায়াত করত। সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ফরিদপুরের টেপাখোলা ও গোয়ালন্দ (দৌলতদিয়া) ঘাট পর্যন্ত যাতায়াত করত। বর্ষাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকার সদরঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জের তালতলা খাল দিয়ে পদ্মা নদীতে প্রবেশ করত। লৌহজং ও জশিলদা ঘাট ধরে সোজা চলতে থাকত পশ্চিম তীরের দিকে। অনেক কষ্টে মাদারীপুরের মাতব্বরের চরঘাট ও পেঁয়াজখালী স্টেশন ধরে সদরপুর উপজেলার পাশ কাটিয়ে সোজা চলে যেত ফরিদপুরের টেপাখোলায়। বর্ষাকালে ছোট ছোট শাখা নদীর মধ্য দিয়ে যাতায়াতের কারণে এবং বড় আয়তনের লঞ্চ হওয়ায় দুর্ঘটনা তেমনটা হতো না।

Sohel.Nawroz's picture

শান্তির কাতারে 'স্বস্তি'

সবাই যখন একটু শান্তির আশায় চাতক হয়ে উৎস সন্ধানে মরিয়া, আমরা তখন এক প্রকার বিনা তদবিরে শান্তি-সুখে দিনাতিপাত করার স্বীকৃতি পেয়ে গেছি! শীর্ষ না হলেও ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলংকাকে টেক্কা দিয়ে বৈশ্বিক শান্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান 'মধ্যম' কাতারে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি)' সম্প্রতি ২০১৪ সালের 'গ্গ্নোবাল পিস ইনডেক্স' বা 'বৈশ্বিক শান্তি সূচক' প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের শান্তি সূচকে বিশ্বের ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে ৯৮তম স্থানে দেখানো হয়েছে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যা তৃতীয়। শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিক দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে বাংলাদেশের ৪৫ ও ৫৬ ধাপ নিচে! সমাজে বিদ্যমান সহিংসতা, হত্যা, বেসামরিক নাগরিকের হাতে অস্ত্র, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ ২২টি বিষয় মূল্যায়ন করে আইইপির শান্তি সূচক নির্ণয় করা হয়। বরাবরের মতো এবারও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে সেটি বিবেচনায় আনা হয়েছে।
peace index
আন্তর্জাতিকভাবে পরিচালিত জরিপে বাংলাদেশকে 'শান্তির দেশ' বা 'সুখী মানুষের দেশ' হিসেবে দেখানো হলেও পারতপক্ষে আমরা কতটুকু শান্তি ও নিশ্চয়তার মধ্যে আছি তা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে পারে না। সুখ-শান্তি প্রভৃতি যথেষ্ট আপেক্ষিক বিষয়। একই নিক্তিতে একটি দেশ বা সমাজের সঙ্গে অন্য রাষ্ট্র বা সমাজের তুলনা করা দুরূহ কাজ। মানুষের সঙ্গে, জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে শান্তি বা তৃপ্তির ধরন-ধারণে হেরফের হয়। তারপরও এ দেশের মানুষকে 'সুখী কিনা' জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয়তো 'না'ই হবে সম্ভাব্য উত্তর। যদিও খুব বেশি প্রত্যাশা নেই আমাদের। অল্পতেই সুখী হওয়ার অনন্য ক্ষমতা জন্মগতভাবেই আমরা পেয়েছি। শান্তির জন্য এর চেয়ে বড় অনুঘটক আর হয় না।

Syndicate content