mustafa.jabbar's picture

বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পর এবার ডিজিটাল ইন্ডিয়া

২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির সামনে তার সরকারের ১০টি অঙ্গীকারের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নয় নম্বর ঘোষণাটি হল ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠার। বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পর ভারত হল তৃতীয় রাষ্ট্র যারা নিজেদের ডিজিটাল করার সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করল। যদিও দুনিয়ার বহু দেশ ডিজিটালের সমতুল্য আরও অনেক ঘোষণা প্রদান করেছে, তথাপি একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের এমন সরাসরি প্রতিশ্রুতি বাকি দেশগুলো দেয়নি। আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কা ই-শ্রীলঙ্কা, জাপান ও কোরিয়া ইউবিকুটাস জাপান বা ইউবিকুটাস কোরিয়া, আইএন ২০১৫ সিঙ্গাপুর ইত্যাদি সমজাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমরা আজ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, দুনিয়াকে দেওয়ার মতো ভাবনা আমাদের আছে। আমাদের সেøাগান ব্রিটেনের মতো বা ভারতের মতো দেশ গ্রহণ করেছে।
digital india
সেই রাতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল একাত্তরে খবরটি দেখেই ইন্টারনেটে খুঁজে পেলাম মোদির ঘোষণা। এটি নিয়ে অন্য কার কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে জানি না, আমি নিজে অভিভূত হয়েছি। এর কারণটি অবশ্যই প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত। ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ও সত্তরের দশকে স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় আমার একটি নেশা ছিল রাজপথে সেøাগান তৈরি করার। সেই সময়কার ‘পাঞ্জাবি কুত্তারা বাংলা ছাড়’ নামক একটি সেøাগান আমি নিজেই পোস্টারে তুলেছিলাম।

Ainun.Nishat's picture

নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নেপাল ভারত সমন্বিত উদ্যোগ চাই

কয়েকদিন আগে সব পত্রিকাতেই একটি খবর দেখলাম। খবরটি হলো, পানিবিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে নেপাল ও বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তথা যৌথ নদী কমিশনের উপস্থিতি ছিল কি-না তা বুঝতে পারলাম না। হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। যেহেতু খবরে তাদের কথা উল্লেখ নেই, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, তাদের উপস্থিতি কোনো মুখ্য ভূমিকার জন্য ছিল না। একই সঙ্গে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, ওই বৈঠকে ভারত কেন অনুপস্থিত ছিল? গঙ্গাসহ কয়েকটি প্রধান নদী নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ_ তিন দেশের মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে। অথবা নেপালের নদীগুলো ভারত-বাংলাদেশের নদীর উপনদী হিসেবে অবদান রাখছে। তিন দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একত্রিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সে কথাও সবাই বলার চেষ্টা করে আসছি। এখন নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে পানিবিদ্যুৎ বিষয়ক আলোচনায় ভারতের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা যারা পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবি, তাদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ।
River
আমরা সবসময় বলে আসছি, একটি নদীর পানির ব্যবস্থাপনা হতে হবে অববাহিকাভিত্তিক। অর্থাৎ নদীটা যেখানে শুরু হলো, সেখান থেকে যেখানে শেষ হলো, অর্থাৎ সাগরে। সেই পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় আনতে হবে।

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় জেন্ডার ইস্যু

গত ৪ আগস্ট মন্ত্রিসভায় জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ অনুমোদিত হওয়ার দু’দিন পরই তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল থেকে একটি সম্প্রচার নীতির দাবি জানানো হচ্ছিল। সে হিসেবে সরকার কর্তৃক জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে তা থেকে এটা বলা যায় যে, এই নীতিমালা সবার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি। এ নিয়ে জাতীয়ভাবে একটি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের জন্য যে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার দু-একজন সদস্যও প্রকাশ্যে বলেছেন, অনুমোদিত নীতিমালায় তাদের দেয়া মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।
সম্প্রচার নীতিমালা
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় প্রশংসনীয় ও ভালো দিক অবশ্যই আছে। আবার কিছু বিষয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে অনেকেই এটা মনে করছেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের একটি মনোভাব এই নীতিমালা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কাজ করেছে। গণমাধ্যম তথা সম্প্রচার মাধ্যমকে বিধি-বিধানের আওতায় আনার নামে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে। এই আশংকা যে অমূলক নয়- সেটা নীতিমালার বিভিন্ন ধারার বেশকিছু বাক্য উল্লেখ করে এবং অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছেন। সেসব বিষয়ে পুনরাবৃত্তি না করে শুধু এটাই বলতে চাই, তাড়াহুড়া করে সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী বলে সরকারকে পরিচিত করে তোলে। যেসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ও শংকা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দূর করার জন্য অংশীজনের সঙ্গে আরও আলাপ-আলোচনা করা দরকার।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

দুঃখ বলি কারে?

ঢাকার এক স্বনামখ্যাত বুদ্ধিজীবী, যিনি আমার বয়োকনিষ্ঠ, কিন্তু খুবই ঘনিষ্ঠ, হঠাৎ টেলিফোনে আমাকে তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আপনি বিদেশে তো বেশ ভালোই আছেন। আপনার লেখায় সরকারের প্রশংসাই থাকে বেশি। তাহলে সরকারকে দুচারটে ভালো পরামর্শ দেন না কেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। ইফতার পার্টিতে ডেকে পাশে বসান। তাকে দুএকটা ভালো পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেন না কেন? তাহলে তো দেশটা ভালো চলে।
abdul gaffar
প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্মান করেন, যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেন এ কথা সত্য। কিন্তু আমি পরামর্শ দিলেই তিনি তা শোনেন এমন দাবি করি না। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরামর্শ দিই না। নিজের লেখালেখির মাধ্যমে তাকে এবং তার সরকারকে যেটুকু বলার তা বলি। তিনি শুনলে শুনবেন, না শুনলে শুনবেন না। তাতে আমার কোনো দায় নেই। দেশ চালানোর দায়িত্ব তার। আমার নয়। সুতরাং আমার কথা শুনে তিনি দেশ চালাবেনই বা কেন?

মহসিন আলীর খবিশ কাহিনী

আবার আলোচনার ঝড় তুলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। কথায় কিংবা কাজে-কর্মে সব কিছুতেই ঝড় তোলেন তিনি। এবার তিনি সাংবাদিকদের তুলাধোনা করেছেন। আর তাই দেশের জাতীয় দৈনিকগুলো তাঁকে নিয়ে নানা খবর ও কার্টুন ছেপেছে। আমি ডেইলি স্টারের চমৎকার একটি কার্টুন নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। মহসিন আলীর বড় সাইজের একটি কার্টুন। মুখের দিকে অ্যারো দিয়ে শুধু লেখা ছিল- KHABISH! আমাদের ছোট্ট ছেলে মুহিত কার্টুন ভীষণ পছন্দ করে। সকালে কার্টুনটি দেখে সে বলল, বাবা খবিশ মানে কী?
mohsin
আমি বললাম, খারাপ লোক।

মুহিত কার্টুনটি দেখিয়ে বলল, এই লোকটা কি খারাপ?

আমি সরাসরি ওর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বললাম, এই লোকটা সাংবাদিকদের খবিশ বলে গালমন্দ করেছিল তো; তাই তাকে নিয়ে এ রকম কার্টুন করেছে।

মুহিত আবারও প্রশ্ন করল, এই লোকটা কে?

আমি বললাম, উনি একজন মন্ত্রী।

Milton.Biswas's picture

রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা : প্রসঙ্গ শান্তি মিশন

একাত্তরে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ছিল পাকিস্তান ও তাদের সমর্থকদের কাছে বিস্ময়কর। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নতুন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তৃত হতে থাকে। জাতির পিতার সাড়ে চার বছরের শাসনকালে কুচক্রীদের সেই ষড়যন্ত্রের মূল অবলম্বন হয়ে উঠেছিল অপপ্রচার। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি সেদিন কেবল প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেনি, তারা সংঘবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তান করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করেছিল নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে। তবে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় এসে আবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দেখতে পাই উন্নয়নের সূচকে দেশ এগিয়ে গেলেও সেই রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার দ্বিতীয় ধাপ বঙ্গবন্ধুর আমলের মতোই সক্রিয়। গত মাসে তারই কিছু আলামত আমরা দেখতে পেয়েছি।
milton
নয়াদিল্লিভিত্তিক 'এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস' নামক একটি সংগঠন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে অবতীর্ণ হয়েছে। তাদের প্রকাশিত Bangladesh : Sending Death Squads to Keep the UN’s Peace শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় চলতি বছরের (২০১৪) জুন মাসে। ৬৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর সঙ্গে রয়েছে ১৩টি পরিশিষ্ট। পরিশিষ্টগুলো গুম-খুন-ক্রসফায়ারের তথ্য দিয়ে পূর্ণ।

AMM.Sawkat.Ali's picture

পুলিশের ভাবমূর্তি

সার্বিকভাবে দুটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচার-আচরণ বর্তমানে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এক. র‌্যাব। দুই. পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় তিনজন সামরিক কর্মকর্তা অভিযুক্ত হওয়ার পর র‌্যাবের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে সংবাদপত্রের ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সুদূর অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যায়, বেআইনি ও অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে চিরাচরিত প্রথায় ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি অভিযোগ করতেন। এর মধ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিধিতে স্বীকৃত এমন ব্যবস্থা এখন অতীতের স্মৃতি ছাড়া কিছু নয়। কারণ বিভিন্ন সময়ের ক্ষমতাসীন সরকারের নীরবতার কারণে বিধিসম্মত এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তির সংকট নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা হয় না বলে ধরে নেওয়া যায়।
police
সাম্প্রতিককালে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে প্রধান ঘটনা ছিল মিরপুর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। ২৪ জুলাই একটি বাংলা দৈনিকে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভাবমূর্তি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের শুরুতেই গুরুতর না হলেও এক পুলিশ কর্মকর্তার বেআইনি আচরণের বিষয় ছিল।

Aly.Zaker's picture

বার্লিনের লেবুতলায়

সেই ১৯৭৪-এ একজন কাঁচা বয়সী নাট্যনির্দেশক এবং অভিনেতার ইউরোপে নাট্যদর্শন আমাকে, বলাই বাহুল্য, বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করে। যে তিন-চার সপ্তাহ আমি পূর্ব জার্মানিতে ছিলাম, সেই সময় বিশ্বের কিছু প্রধান নাট্যমঞ্চে আমি অবিরত নাটক দেখেছি, নাট্য কর্মশালায় যোগ দিয়েছি এবং প্রখ্যাত সব নাট্য নির্দেশকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
aly zaker
এসবেরই শুরু বার্লিনের দ্বিতীয় সন্ধ্যায় স্টেট অপেরা হাউসে অপেরা দেখার অভিজ্ঞতা দিয়ে। এ সুবিশাল ইমারতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কোর্ট অপেরা হিসেবে। অর্থাৎ রাজ-নাট্যশালা হিসেবে, ১৭৪২ খ্রিস্টাব্দে। তখন এর নামকরণ করা হয়েছিল 'রয়েল অপেরা হাউস'। পরে এর নামকরণ করা হয় 'স্টেট অপেরা হাউস' এবং ১৯৪৯ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত এ ইমারতটি সেই নামেই পরিচিত ছিল। আমি নিশ্চিত, বিভক্ত জার্মানি এক হয়ে গেলে নিশ্চয়ই রাষ্ট্রীয় অপেরা ভবন অন্য কোথাও প্রতিষ্ঠিত হয়।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

জোহরা ভাবী চলে গেলেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক সহকর্মী তাজউদ্দীন আহমদকে প্রায়শ বলতেন, 'তাজউদ্দীন, তুমি বাংলার মানুষের মাথার তাজ (মুকুট) হতে পার; কিন্তু জোহরা হচ্ছে সেই নারী, যার হাতে সবসময় আলোর বাতি জ্বলে। কথাটা বঙ্গবন্ধু বহুদিন আগে বলতেন_ সেই ছয় দফা আন্দোলনের সময়। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছিল সদ্য প্রয়াত জোহরা তাজউদ্দীন সম্পর্কে কথাটা কতটা সঠিক।
tajuddin
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) আমাদের এই আলোর প্রদীপ নিভে গেল। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি... রাজিউন)। কিছুদিন আগে খবর পেয়েছিলাম, সম্ভবত ২২ নভেম্বর তিনি পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসার জন্য তাকে দিলি্লতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর তাকে দেশে নিয়ে আসা হয়। তিনি কোমায় চলে যান। শেষ পর্যন্ত ৮০ বছর বয়সে তার জীবনাবসান হলো। বাংলাদেশে মুজিব যুগের আওয়ামী রাজনীতির শেষ উজ্জ্বল নক্ষত্রটি নিভে গেল। জানি না, তার কোনো ছেলে অথবা মেয়ে (তার এক মেয়ে তো এখন সংসদ সদস্য) মায়ের আলোকবর্তিকাটি বহন করার সাহস ও যোগ্যতা দেখাবেন কিনা! আমার প্রার্থনা, তাদের কেউ না কেউ তা যেন দেখাতে পারেন।

ভালো ফল, ভালো মান

এবার এইচএসসি পরীক্ষায় 'উজ্জ্বল' ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েও শ্রেণীকক্ষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছি_ বিবিএ প্রথম সেমিস্টারে একজন শিক্ষার্থীর কাছে বৃত্ত ও চতুর্ভুজ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলো। শিক্ষার্থীর অতি সাবলীল ভঙ্গিমায় উত্তর, স্যার অনেক আগে পড়েছি তো, তাই ভুলে গেছি। জানা গেল, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী দুটোতেই এ প্লাস পেয়েছে। ভুলে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংযুক্তি এলো, স্যার সেই সেভেন-এইটে পড়েছি তো, তাই ঠিক মনে নেই। তাহলে আমাদের এসব হাজার হাজার এ প্লাসের মূল্য কোথায়? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি এতই সস্তা হয়েছে যে, আমরা যার তার হাতে এ প্লাস তুলে দিচ্ছি? কী শিখছে আমাদের সন্তানরা? শেখার উদ্দেশ্য কি কেবল কোনো রকমে মুঠো ভরে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া অতঃপর ভুলে যাওয়া? ভেতরটা কেবলই ফাঁফা, শূন্য! সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে তা বাতিল করে চলে গেল আবার তার গ্রামের স্কুলে।
pinak-6
যুক্তি হিসেবে, জেলার আশাশুনি উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে নাকি শিক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধার্থে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হয়। বিনা কষ্টে এমন সুযোগ কে ছাড়তে চায়? কিছু শিখুক আর না শিখুক এই প্রতিযোগিতার বাজারে এ প্লাস তো নিশ্চিত। একজন প্রধান শিক্ষকের কাছে আরও লোমহর্ষক কথা শুনলাম। প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের পরীক্ষায় একটি কেন্দ্র অন্য কেন্দ্রের সঙ্গে নাকি চুক্তিবদ্ধ হয়। চূড়ান্ত পাবলিক পরীক্ষার সময় একটি প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাহায্য করে।

Syndicate content