WatchDog's picture

একজন অক্ষমের ক্ষমতা ও কিছু ভৌতিক প্রতিশোধ...

একজন অক্ষমের ক্ষমতা ও কিছু ভৌতিক প্রতিশোধ...
13.jpg
অক্ষমতা এক ধরনের মানসিক রোগ। বিশেষ করে আমার মত অক্ষমদের জন্য। বিষণ্নতা রোগের মত এ রোগও মগজে জন্ম নেয় এবং একে একে গ্রাস করে নেয় শরীরের বাকি অংগ। অনেক বছর আগের একটা ঘটনা। প্রিয়জনের সাথে হুমায়ুন আহমদের উপন্যাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমা দেখতে গেছি নিউ মার্কেট এলাকার বলাকা সিনেমা হলে। উপচে পড়া ভীড়। বেশির ভাগই মনে হল প্রতিবেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী। ছবি শেষ করে ফেরার পথেই ঘটল ঘটনাটা। দেখতে ছাত্র মত একজন সাথের মানুষটার গায়ে হাত দিল। পাশ হতে আরও দুয়েক জন উল্লাসে ফেটে পরল। অসহায়ের মত তাকাল সে আমার দিকে। হয়ত সাহায্যের আশায়। কিন্তু বিশাল এ জনসমুদ্রে নিজকে মনে হল ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলের অক্ষম একজন পুরুষ মানুষ। অক্ষমতা, অসহায়ত্বের সাথে যোগ হল লজ্জা। মাটির দিকে তাকিয়ে অনেকটা অন্ধের মত বেরিয়ে এলাম ভীড় হতে। ঘরে ফেরার পথটা মনে হল অনন্তকালের যাত্রা। রিক্সায় বসে দুজন চলে গেলাম দুই পৃথিবীতে। তার দুচোখে কষ্টের অশ্রু। আমি ততক্ষণে চলে গেছি অক্ষমতার পৃথিবীতে। এবং প্রতিশোধের মহাপ্রলয়ে গুড়িয়ে দিচ্ছি বলাকা সিনেমা হল সহ গোটা নিউমার্কেট এলাকা। একটা পিপঁড়া মারতে গেলে আমাকে দুবার ভাবতে হয়। অথচ সেই আমি অপমানের প্রতিশোধ নিতে হয়ে গেলাম বন্য, হিংস্র। অনেকটা হিন্দি সিনেমার নায়কের মত একাই মোকাবেলা করলাম ৪/৫ জনের গ্রুপটাকে। ধারণাটা বিষাক্ত ক্যানসারের মত চেপে বসল মগজে। শয়নে স্বপনে তাড়া করে বেড়ায় প্রতিশোধ স্পৃহা। ভুতুরে লড়াই করতে গিয়ে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পরি। নাওয়া খাওয়ায় দেখা দেয় চৈত্র মাসের খরা। স্বভাবতই রাজ্যের অসুখ এসে চেপে ধরে শরীরকে। খবরের কাগজে পড়া অথবা সামনে দেখা অন্যায় ও অনাচারের মোকাবেলা আমি এভাবেই করতে অভ্যস্ত। গত দুদিন ধরে একই কায়দায় নারায়ণগঞ্জ সেভেন মার্ডার সহ গোটা দেশজুড়ে র‌্যাব, পুলিশ, আওয়ামী ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের তাণ্ডবের মোকাবেলা করছিলাম।

Md. Rowshon Alam's picture

জেনে রাখা ভালঃ কার্সিনোজেন, ফরমালিন ও ক্যান্সার

কিছু কিছু রোগ বা ইনফেকশনের সৃষ্টি হয় মাইক্রবস বা অণুজীব বা জীবাণু দ্বারা (ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, প্রটোজোয়া, ভাইরাস)। সেই রোগ বা ইনফেকশনগুলো হচ্ছে যেমন নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও টিউবারকোলসিস বা যক্ষ্মা। এক সেঞ্চুরি আগেও এই রোগগুলো কোনো সাধারণ রোগ ছিল না, ছিল বরং ভয়ানক আতঙ্কিত ও অপ্রতিরোধ্য। এগুলো আমাদের এনসেসটার বা পূর্বপুরুষদের অমূল্য জীবনকে নিমিষেই কেড়ে নিত। কারণ এই অসুস্থতাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক তখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আরো জেনে অবাক হতে হয় যে, ১৯০০ সালের দিকে আমেরিকাতেও সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যেত মাইক্রোবায়াল ডিজিজের মাধ্যমে অর্থাৎ নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে (ন্যাচার ম্যাগাজিন, ২৯শে মে, ২০১৪)। শত বছর আগে এই রোগগুলো সাড়া পৃথিবীজুড়েই ছিল আতঙ্কের এবং জীবনঘাতী। এখন তা আর ভয়ানক বা মহামারী কিছু নয়। খুব সাধারণ রোগ এগুলো এখন। কারণ এন্টিবায়োটিক ও অন্যান্য আধুনিক মেডিসিন আবিষ্কারের ফলে মাইক্রোবায়াল ডিজিজগুলোকে মহামারী পর্যায় থেকে নামিয়ে একেবারে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভবপর হয়েছে।

নুরুন্নাহার শিরীন's picture

আষাঢ়স্য অন্তর্জলের অঝোর জ্বলন্ত কাল

কালের চাকা বিরামহীন ঘোরে বলেই জীবনের বয়স বাড়ে। আশ্চর্য দ্রুততায় সময় যায় কালের গর্ভে। ঋতুর পরে ঋতুর আগমনে প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মে জানান দেয় যে - দেখো আমার রঙরূপে পরিবর্তন এসেছেগো! এযেন অনেকটা আমাদেরই জীবনের মতোন। জীবনও যেমন হুঁশ করেই এক একটি বছর পেরিয়ে যায় তেমন প্রকৃতিও পেরোয় ঋতুচক্র একই তালে। বাতাসে এই গ্রীষ্ম তো এই বরষা, শরত, হেমন্ত, শীত, বসন্ত। এই বঙ্গদেশের মতোন ষড়ঋতুচক্র অবশ্য এই জগতে আর কোথাও নেই। তাইতো পঞ্চকবির প্রধান কবি দ্বিজেন্দ্রলাল বেঁধেছেন তাঁরই গানের ভাষায় -

"সকল দেশের সেরা সে দেশ
আমার জন্মভূমি, সে দেশ আমার জন্মভূমি, এদেশ আমার জন্মভূমি।।"

আবদুল হক's picture

কবিতা কী বলে

মনের ভাবের কোনো ছক নেই, চৌহদ্দি নেই। কিন্তু ভাষার শক্তির সীমা আছে। মননশীল মন সেই সীমায় বাধা পায়, মুক্তি চায়, পথ খোঁজে। চেনা শব্দে গোনা শব্দে যখন তার চলে না, মন তখন শব্দে ভর করে সেই শব্দকে ছাড়িয়ে যায়। উড়োজাহাজ চাকায় ভর করেই চাকার সীমা ছাড়িয়ে অসীম আকাশে পাখা মেলে, দূরাভিসারী কবিমন তেমনি শব্দকে আশ্রয় করেই শব্দোত্তর অনন্তের দিকে উড়ে চলে।

MRINAAL's picture

বাংলাদেশ কি আসলেই সুস্থ একটি মিডিয়া সমাজের দাবিদার???

আজ অনেকদিন পর ফিরে এলাম। ইচ্ছে করছে সমাজের অসামঞ্জস্যতাগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চলিয়ে যেতে। আমার তো আর কাড়ি কাড়ি টাকা-পয়সা নেই..., তাই নিজস্ব চিন্তাশক্তিই সম্বল।

আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিভাগের একজন ছাত্র। ভর্তি হয়েছিলাম ২০১১-১২ সেশনে। এই কয় বছরে যা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যা উপলব্ধি করেছি তার আলোকেই আমার নিজস্ব অভিব্যক্তি ও আমার পাঠকদের উদ্দশ্যে কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছি।

আজ আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর 'যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা' বিভাগ ও দেশের মিডিয়া হাউসগুলোর আন্তঃসম্পর্কের খাদ নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি...............

গাজায় ইসরাঈলী আগ্রাসন বন্ধ করতে বিশ্বের শান্তিকামি মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে

Palestinian child injured in air strike.jpg
গত ৮জুলাই হতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাঈলের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এ পর্যন্ত ৮শ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। এর মধ্যে ৮০% মানুষ নারী ও শিশু। ১৮লাখ জন অধ্যুষিত ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের গাজা উপত্যকা এখন মৃতপুরি। বিশ্বের দু’টি শক্তিধর দেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের প্রত্যক্ষ মদদে ইসরাঈল বেপরোয়াভাবে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাবার সাহস পাচ্ছে, এ সত্য দিবালোকের মত স্পষ্ট। ইসরাঈলকে মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসী শক্তি রূপে দাঁড় করানোর জন্য আমেরিকা বার্ষিক ৩বিলিয়ন ডলার (২৪ হাজার কোটি টাকা) সাহায্য প্রদান করে থাকে। শক্তির ভারসাম্য না থাকার কারণে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিবীর্য ও স্থানু। জনমতের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে স্বৈরাচারীচক্র ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে রেখেছে বংশ পরম্পরায়। দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকার উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের ২২টি দেশ নিয়ে গঠিত আরবলীগ একটি বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। আসলে তাঁদের কিছু করার শক্তিও নেই, সাহসও নেই। অথচ ফিলিস্তিন আরবলীগের সদস্য।

Sahidul_77's picture

ইসরাইলের শয়তানেরা সাবধান, হুঁশিয়ার

ISRAIL.jpg

ফিলিস্তানের শিশুরা যখন কাঁদে অত্যাচারে,
কান্না দেখে অশ্রু আমার অঝোর ধারায় ঝরে।
অবুঝ শিশুর চিৎকার শুনে গলেনা যার মন,
কে বলে মানুষ তারে নির্বোধ সেই জন।

Md. Ruhul Amin's picture

কবিতা

পহেলা শ্রাবণ
--------- মোঃ রুহুল আমীন ।

আজ পহেলা শ্রাবণ ।
গগন ঘনাবৃত চারিদিকে,
ধূসরে ধূসরে নীলিমার অপসর,
নক্ষত্র-গ্রহ অনন্যোপায়-
অন্তরীণ অদৃশ্যলোকে ।

Aly.Zaker's picture

আন্তঃমহাদেশের পথে...

১৯৭৪-এর অক্টোবর। ততদিনে বাংলাদেশে দর্শনীর বিনিময়ে নিয়মিত নাটক মঞ্চায়নের দেড় বছর পার হয়ে গেছে। '৭৩-এর ৩ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিলাম ব্রিটিশ কাউন্সিল মঞ্চে। নাটক ছিল বাদল সরকারের 'বাকী ইতিহাস'। ইতিমধ্যে আরও তিন-চারটি নাটক মঞ্চে এনেছি আমরা। প্রতিষ্ঠিত হয়েছি নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মী হিসেবে। এখন ভাবতে যদিও হাসি পায় যে, সূচনার সময়ে কত অল্প পরিশ্রমে কত বড় স্বীকৃতি আমরা পেয়েছিলাম। তখন কিন্তু এর মূল্য যথেষ্ট ছিল। এই ধরনের স্বীকৃতি এবং সাধুবাদ আমাদের উজ্জীবিত করত। সবচেয়ে বড় কথা, এর থেকে আমাদের মাঝে এক ধরনের দায়িত্ববোধও জন্ম নিয়েছিল। দিন শেষে সব কাজের পর ভাবতাম, হাল ছাড়া যাবে না কোনোমতেই। দ্বিগুণ উৎসা

Waset Shahin's picture

বিশ্বকাপ ফুটবল অভিন্ন বিশ্বসংস্কৃতির মহোৎসব

ফুটবল। খেলার নামও ফুটবল আর গোলাকার যে বস্তুটি দিয়ে খেলা হয় তার নামও ফুটবল। বিষয়টি ভালোই মজার। এর জন্ম ইংল্যান্ডে। প্রচলনও বহু আগে, ১৮০০ সালে। শুরু থেকে নানান ফরম্যাট বদলে বদলে আজকের আধুনিক ফুটবলে উপনীত হয়েছে। বিশ্বে হাজারো খেলা রয়েছে, অঞ্চল ভেদে, দেশ ভেদে বিভিন্ন খেলার প্রচুর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। তবে ফুটবলের আবেদন সম্পূর্ণ আলাদা। এটি যেন সারা বিশ্বের সব দেশের শত শত কোটি মানুষের হৃদয়কে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। মহাদেশ, দেশ, অঞ্চল, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ- সব ভেদাভেদ মিশে একাকার হয়ে যায়। ফুটবল যেন এক অনুপম অভিন্ন বিশ্বসংস্কৃতি। পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো কিছু সব মানুষকে এভাবে বাঁধতে পারেনি। অনাবিল শিহরণ আর আনন্দের জোয়ার সব বিশ্ববাসীর হৃদয়কে তোলপাড় করে। ফুটবল এক অসাধারণ জনপ্রিয় খেলার নাম। যে পারে সেও খেলে, যে পারে না সেও পিছিয়ে থাকে না। যেমন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো- ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ ইত্যাদি। এমন বহু দেশ রয়েছে যারা বিশ্বমানের ফুটবলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তার পরও এসব দেশ ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই। বরং বলা যায় পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। কোথায় সেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, সহস্র মাইল দূরের দেশ। তাদের সঙ্গে নেই কোনো আকার-আকৃতি, মানস-প্রকৃতি, ধর্ম-সংস্কৃতির মিল_ তবুও বাংলাদেশের অলি-গলিতে, দোকানে, বাড়িতে সেসব দেশের অসংখ্য পতাকা পত পত করে উড়ছে, পছন্দের টিমের জার্সি মানুষের গায়ে গায়ে। মেসি-নেইমারের ছবিতে সয়লাব বাড়ি, ঘর, প্রান্তর।

Syndicate content