M.Amir-ul.Islam's picture

এ সংশোধনী অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে

আমাদের সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল কতগুলো মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক্করণের যে নীতিগত দিক সেটার ওপর ভিত্তি করে সংবিধান রচিত হয়। ক্ষমতার ভারসাম্য অটুট রাখার জন্য বিচার বিভাগ যে কারণে পৃথক থাকবে, তেমনি স্বাধীনও থাকবে। সংবিধানে রক্ষিত নির্বাহী বিভাগের চালিকাশক্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রীর হাতে। যিনি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। বিচারকদের যে নিয়োগদান করা হয় তাতে বলা আছে, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে অন্যান্য বিচারক নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিচারক নিয়োগের শর্ত হচ্ছে_ বিচারককে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে ১০ বছরকাল আইন পেশায় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ ছাড়া সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বিচারক নিয়োগের বিষয়ে একটি আইন করার কথা বলা হয়েছে।
court
এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সংবিধান রচনার ৪২ বছর পর এখন পর্যন্ত উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইনের দ্বারা যোগ্যতার মাপকাঠি নিরূপণ করা হয়নি। ফলে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে যারাই সরকারে থেকেছেন, তারা বিচারক পদে যেসব নিয়োগ দিয়েছেন, যে দলই হোক না কেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছতা লাভ করতে পারেনি। তাদের যোগ্যতা, সততার মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা এটা নিরূপণ করা কঠিন। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ কীভাবে তালিকা তৈরি করেছেন এর কোনো স্বচ্ছতা আমার কাছে বিদ্যমান নয়।

jahangir alam's picture

হামাস স্বাধীনতা সংগ্রামী, না সন্ত্রাসী সংগঠন?

হামাসের প্রতিষ্ঠা ১৯৮৭ সালে, প্রথম ‘ইন্তিফাদা’ অথবা ফিলিস্তিন অভ্যুত্থানের পরপর, যার ফলে গাজা ও পশ্চিমতীর থেকে ইসরাইলি আধিপত্যের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়। হামাসকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইইউ ও জাপান একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে হামাস ইসরাইলকে ধ্বংস করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশ্বব্যাপী হামাস সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত নয়। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের জাতীয় কর্তৃপক্ষের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে হামাস জয়ী হয়। তারা স্বাধীনতাকামী। গাজায় হামাসের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর ইসরাইল স্থল, জল ও আকাশসীমায় অবরোধ কায়েম করেছে। মিসর গাজার দক্ষিণের রাফা সীমান্তে অবরোধ প্রতিষ্ঠা করেছে। গাজায় খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য, নির্মাণসামগ্রী, পোশাক-পরিচ্ছেদ সবই মিসর থেকে চোরাইপথে টানেলের মাধ্যমে আসে। গাজার ১৮ লাখ বাসিন্দা ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার প্রস্থের ভূখণ্ডে সত্যিকারভাবেই দীর্ঘদিন থেকে বন্দি। কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। বিশ্ববিবেক মোটামুটি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
hamsa
হামাসকে অনেক পণ্ডিত ইসলামিক ব্রাদারহুডের বিছিন্ন অংশ বলে থাকেন। ১৯৮৭ সালের প্রথম ইন্তিফাদা আন্দোলনের সময় শেখ ইয়াসিনের নেতৃত্বে হামাসের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে হামাসের চার্টার প্রকাশিত হয়। হামাসের সৃষ্টিই হয়েছে ইসরাইলি দখলমুক্ত করে বর্তমান ইসরাইল, গাজার পশ্চিমতীরসহ ওই অঞ্চলে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। ২০০৯ সালের জুলাইয়ে হামাসের রাজনৈতিক শাখা প্রধান খালেদ মিশাল অবশ্য কিছুটা নরম হয়ে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পৃর্বাবস্থার মতো ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দুটি দেশের কথা বিবেচনা করেন। তবে তিনি শর্ত জুড়ে দেন- ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা ইসরাইলসহ নিজ নিজ জায়গায় ফেরত যেতে পারবে এবং জেরুজালেম হবে নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী।

Badiur.Rahman's picture

কুড়াল ও পা দুটোই নিজের

অনেক দিন লিখিনি, লিখতে ইচ্ছা হয়নি মোটেও। আর একবার যদি লেখার ইচ্ছায় ভাটা পড়ে, তাহলে আবার শুরু করাটাও বড় কষ্টকর। সেই যে কবে ১৮ ফেব্রুয়ারি লেখা ছাপা হল, তারপর আর নেই। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন পাঠক না লেখার কারণ জানতে চেয়েছেন, কেউ কেউ আক্ষেপও করেছেন, পত্রিকা থেকেও লেখার তাগিদ এসেছে। কিন্তু কোনোটাতেই কোনো কাজ হয়নি, ভালো লাগেনি। আমাদের ৭৯ ব্যাচের সহকর্মী মরহুম সচিব সৈয়দ জোবায়েরের কুলখানিতে সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিমের সঙ্গে দেখা হলে তাকে না-লেখার কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তরে বলেছিলেন, লিখে কী হবে? আজ মনে হয়, তার মধ্যে তখন লেখকের হতাশা কাজ করছিল হয়তো। তবে, তিনি তখনও মাঝে মধ্যে টকশোতে গিয়েছেন। একবার তো তাকে দাড়িসহ দেখে আমার প্রথমে চিনতেই কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু পরিচয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বাজাদ) রাজনৈতিক পরিচয় এবং সাবেক আমলা শুনে আর চিনতে কালবিলম্ব হয়নি। সময়ের ফেরে কী যে ঘটে! কত আপনজন মোফাজ্জল করিম, লিখতেনও বেশ ভালো। কেন যে পরে আমলা থেকে বাজাদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেন বুঝলাম না।

ব্লগে তথ্য প্রকাশে চাই দায়িত্বশীলতা

ব্লগারদের তথ্য প্রচার ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে অধিক সজাগ ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশিত তথ্য যেন দেশ, জাতি, সমাজ, ধর্ম ও ব্যক্তিজীবনে কোনো ক্ষতিসাধন না করে, সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সদিচ্ছার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি অধিক প্রয়োজন বলে মনে করি। মূলত সুস্থধারার যুক্তিসম্পন্ন মতামত প্রকাশকারী ও দেশপ্রেম সচেতন বস্নগারদের সার্বিক প্রচেষ্টাই পারে অসুস্থ বস্নগিং চর্চাকে প্রতিহত করতে এর ব্যবহারকে আরও অধিক গ্রহণযোগ্য করে তুলতে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু ব্লগারদের সদিচ্ছা।
Blog
তথ্য প্রাপ্তি ও প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা, গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার যে অঙ্গীকার, তাকে বিনষ্ট করতে ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ব্লগকে বাধাগ্রস্ত করতে এর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসুস্থ ব্লগিং চর্চা করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি এ ধরনের ওয়েবসাইটে এক বা একাধিক ছদ্মনাম ও ভিন্ন পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অথবা কৌশলে অন্যের অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য জেনে অবৈধ ও অনৈতিক কার্যকলাপ ও অশ্লীলতার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধ করে যাচ্ছে এবং এ ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যবহারকারীদের করছে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

Mahbubur.Rahman's picture

বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের সমুদ্রযুদ্ধ

১৯৮১ সালের প্রথম দিকের কথা। আমি তখন গণচীনে বেইজিং দূতাবাসে সামরিক এটাশে। রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান ইতিমধ্যে দু-দুবার গণচীন সফর করে গেছেন। বাংলাদেশ ও গণচীনের মৈত্রীর সেতু তার উদ্যোগে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। চীনের পূর্ণ ও অকুণ্ঠ সমর্থন তিনি অর্জন করতে পেরেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি চীন সরকার বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। জেনারেল জিয়াকে তারা একজন সাহসী, বলিষ্ঠ ও জাতীয়তাবাদী নেতা বলে মনে করে এবং সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। আমার মনে আছে, আমি বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব জেনারেল সাদেকুর রহমানের টেলিফোন পাই। তিনি আমাকে জানালেন, রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার সঙ্গে কথা বলবেন, আমি যেন প্রস্তুত থাকি।
mahbubur
এর আগে ডিজি, ডিজিএফআই জেনারেল মহব্বতজান চৌধুরীও আমাকে এমনই আভাস দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতি আমাকে টেলিফোনে অল্প কথাই বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অতি দ্রুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন বিধায় পিএলএ (People’s Liberation Army-এর উদার সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন। আমাকে বলেছিলেন, আমি যেন পিএলএর উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার দিকটাও মনে রাখি।

বিসিআইএম করিডোর এবং বাংলাদেশের পূর্বমুখী নীতি

বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার (বিসিআইএম) করিডোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির বৃত্তে আটকে আছে। চার দেশের সম্মতি ও আগ্রহ থাকার পরও এর বাস্তবায়ন দ্রুতায়িত হচ্ছে না কেন, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। সন্দেহ নেই, বিসিআইএম করিডোর বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল বিরাট অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। যোগাযোগ ক্ষেত্রে ঘটতে পারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ১৯৯৯ সালে চীন এরকম একটি ফোরাম গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে বেসরকারি পর্যায়ে। ওই বছর কুনমিংয়ে এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
bcim
কুনমিং ইনিশিয়েটিভ নামে পরিচিত এ উদ্যোগই পরবর্তীতে বিসিআইএম করিডোর হিসেবে পরিগণিত হয়। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশে ১০টির বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও এর বাস্তব রূপায়ন ঘটেনি। চীন যেহেতু এর উদ্যোক্তা সুতরাং আলোচ্য চারদেশীয় করিডোর বাস্তবায়নে তার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ চায় যতদ্রুত সম্ভব এ করিডোর বাস্তবায়িত হোক। বিভিন্ন উপলক্ষে মিয়ানমারের আগ্রহও প্রত্যক্ষ করা গেছে।

Kader.Siddique's picture

মুক্তিযুদ্ধ কি ছেলেখেলা?

প্রতি শনিবারে নয়া দিগন্তে লিখি। এবার তোমার শোকের দিনে শনিবারের জায়গায় শুক্রবার ছাপে। সৌভাগ্য না দুর্ভাগ্য জানি না, ’৭১-এর ১৬ আগস্ট ধলাপাড়ার মাকরাইয়ে নিদারুণ আহত হয়েছিলাম। বাঁচার আশা ছিল না। তবু আল্লাহর দয়ায় বেঁচে আছি। তাই তোমার মৃত্যুদিনে শোকের কথা বলতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা লায়েক আলম চন্দন, শামসু, মহু সরদারের কথা বলেছিলাম। দুর্ভাগ্যের শেষ নেই, আসল নকলের কোনো পার্থক্য নেই। ভালোমন্দ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা, আকার-বিকার নেই, সবই চলে গদাই লস্করি চালে। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন সব কথাবার্তা, উদ্ভট চিন্তাভাবনা পরিকল্পনা হচ্ছে, যাতে মুক্তিযুদ্ধটাই একটা ফানুসে রূপ নিতে চলেছে।
kader siddque
প্রতিদিন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে। পিতা, তুমিই বলো, মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধ কখনো ভুয়া হয়? মুক্তিযুদ্ধ এবং যোদ্ধা কি খেলার জিনিস? তার আবার আসল নকল কী? সোজা কথায় এক দিকে মুক্তিযোদ্ধা অন্য দিকে রাজাকার, এক দিকে স্বাধীনতা অন্য দিকে পরাধীনতা; মাঝামাঝি কিছু আছে বা থাকতে পারে? মুক্তিযোদ্ধা তা হবে কেন? সনদ ভুয়া হতে পারে। সেই ভুয়া সনদ নিয়ে যারা মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয় তারা ভুয়া, কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া হবে কেন? তাদের নামের সামনে অমন জঘন্য বিশেষণ না দিলেই কি নয়? কিন্তু কাউকে বুঝানো যাবে না পিতা!

Golam.Maula.Rony's picture

ঢাকার পুলিশ কমিশনারের নিকট খোলা চিঠি

মান্যবর জনাব-অভিশপ্ত এবং বিষাক্ত ঢাকা মহানগরীর বেদনা ভারাক্রান্ত কোটি মানুষের পক্ষ থেকে সালাম ও শুভেচ্ছা। আপনি হয়তো কিছুটা অবাক হয়ে ভাবতে পারেন কেনো আমি ঢাকা নগরীকে-অভিশপ্ত এবং বিষাক্ত বললাম! বিষাক্ত ঢাকার বহুমুখী বিষ এবং রং বে রংয়ের আশীবিষ সম্পর্কে কমবেশী অনেকেই জানেন। কিন্তু অভিষপ্ত ঢাকা স¤পর্কে হয়তো খুব কম লোকেই জানতে পারে। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এটি একটি অভিশপ্ত নগরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। মুঘল সুবেদার ইসলাম খান এবং তার কামানের ইতিহাস পড়লে ঢাকা সম্পর্কে আপনি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বেন। পরবর্তীতে শায়েস্তাখানের আমলে লাল বাগের দূর্গ নির্মান, তার কন্যা পরীবানুর মৃত্যু এবং শাহজাদা মোহাম্মদ আজমের নির্মম পরিনতি শুনলে আপনি ভয়ে ঐ এলাকায় রাত বিরেতে যেতে সাহসী হবেন না। মুঘল সম্রাজ্যের পতন এই ঢাকা থেকেই শুরু হয়েছিলো। সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা আজিম উস শান এবং দেওয়ান মুর্শিদকুলি খানের বিরোধের জের ধরে রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ চলে যাবার পর থেকেই দিল্লীতে একের পর এক প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়।
golam maula rony
ঢাকার হীরাঝিল প্রাসাদ ষড়যন্ত্রেই নবাব সিরাজুদ্দৌলার পতন হয়েছিলো। আবার ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ঘসেটি বেগমের মৃত্যু হয় বজ্রপাতে। ঢাকাতে মুসলিম লীগের উত্থান, কংগ্রেসের পতন শুরু, ভারত বিভাগের নেপথ্য কারন এবং কয়েকটি মানুষের হতাহতের কাহিনীতো অনেকেই জানেন। তারপর ১৯৫৪ সালে এই ঢাকাতেই মুসলিম লীগের পতন শুরু হলো। এই সেই ঢাকা- যেখানে জাতির জনক সপরিবারে নিহত হলেন।

বিচারকদের অভিশংসন নিয়ে অসত্য তথ্য

প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের সব পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তা ছাড়া সম্প্রচারিত হয়েছে সব অনলাইন নিউজ এজেন্সি ও টিভি চ্যানেলে। তবে আমি উদ্ধৃত করতে চাই প্রথম আলো থেকে। তার কারণ সেখানে বসে আছেন একজন আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ যার মাথায় দুনিয়ার প্রায় সব দেশের সংবিধান ঠাসা। সেই পত্রিকায় মিস কোট হতে পারে কিংবা মিস কোট সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় না সেটি ভেবেই প্রথম আলো থেকে উদ্ধৃত করছি। প্রতিবেদনের শিরোনাম বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে যাচ্ছে।
adalat
প্রতিবেদনের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘সামরিক ফরমান বলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এই ক্ষমতা (বিচারপতিদের অভিশংসন) সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে অর্পণ করা হয়।’ মিথ্যাচার কাকে বলে এবং এটি কত প্রকার তা এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করব। শুধু যে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব করেছেন তাই নয়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও করেছেন। প্রত্যেকেই এই একটি বাক্য উচ্চারণ করেছেন জিয়াউর রহমানকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য।

ইসলামিক স্টেট আল কায়েদা ও আরব বিশ্বের চলমান রাজনীতি

অনেকগুলো কারণে আরব বিশ্বের সাম্প্রতিক রাজনীতি আজ আলোচিত। প্রথমত, ইরাকে সুন্নি প্রভাবাধীন ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও এর নেতা কর্তৃক সমগ্র মুসলিম বিশ্ব নিয়ে একটি খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। দ্বিতীয়ত, গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা এবং এ অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি। তৃতীয়ত, ইরাকের কুর্দিস্তানের সিনজার পর্বতমালাসংলগ্ন সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সাম্প্রদায়কে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের জঙ্গিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অব্যাহত মার্কিন বিমান হামলা।
arab
প্রেসিডেন্ট ওবামা জানিয়েছেন, এই বিমান হামলা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে আইএসের জঙ্গিরা প্রায় ৭০০ ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করেছে। চতুর্থত, ইরাকে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতার মুখে মালিকি সরকারের পতন ঘটেছে। সেখানে হায়দার আল আবাদির নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সরকার ইরাককে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটা একটা বড় প্রশ্ন এখন।

Syndicate content