Mujahidul.Islam.Selim's picture

'তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলে থাকি'

শ্রদ্ধা-প্রদর্শনকে যখন শ্রদ্ধা-প্রদর্শনের 'প্রদর্শনী ব্যবসায়' পরিণত করা হয়, তখন তাতে এক ধরনের বিরক্তি-বিতৃষ্ণার উদ্ভব ও তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন উদয় না হয়ে পারে না। ঢাকার রাজপথে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্থাপিত অসংখ্য হোর্ডিংগুলোতে যেভাবে প্রচারকদের নাম ও ছবি বিজ্ঞাপিত হয়েছে তা শুধু অরুচিকরই নয়, তা প্রচারকদের বাণিজ্যিক বিবেচনার নিকৃষ্ট স্বার্থবোধকেই প্রকাশ করে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, দেশে এখন 'শ্রদ্ধা-বাণিজ্য' নামে একটি নতুন ব্যবসা চালু হয়েছে। অবশ্য সব হোর্ডিং ও পোস্টারের ক্ষেত্রে একথা প্রযোজ্য নয়। বেশ কিছু হোর্ডিং স্থাপিত হয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে। এগুলো রাষ্ট্রীয় নির্দেশে স্থাপন করা হয়েছে। বহুলাংশে ফরমায়েশী হলেও সেগুলোতে রুচিহীনতার ছাপ খুব একটা নেই। আবার ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অনেক হোর্ডিং ও পোস্টারেই রয়েছে রুচিসম্মত বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের আন্তরিক প্রকাশ। তবে অধিকাংশ হোর্ডিংয়েই প্রকাশ পেয়েছে 'আমি ভক্তি জানালাম' মর্মে আত্মপ্রচারের কুিসত এক চিত্র।
bangabandhu
এ বছর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের তোড়জোড় একটু বেশিই ছিল। সেটি বিশেষভাবে অনুভব করা গেছে এই দিবস উপলক্ষে ঢাকার রাস্তার অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় হোর্ডিং স্থাপিত হওয়ার কারণে। স্বীকার করতেই হবে যে এবার হোর্ডিং-এর সংখ্যা যাতে বেশি হয় তার ব্যবস্থাপনার কাজটি খুব দক্ষতার সাথে করা হয়েছে। কিন্তু হোর্ডিংয়ের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিকতা বেশি হলেই আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদনের ছোঁয়া যে সে কারণে স্বতঃসিদ্ধভাবে বেশি হবে তেমন মনে করার কোনো কারণ নেই।

দুর্ভাগা স্বদেশ : শপথ ভঙ্গের পরও মন্ত্রী অধরা থেকে গেলেন

তিনি একজন মন্ত্রী। মন্ত্রী হচ্ছেন নীতিনির্ধারকদের একজন। অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি, করতে পারেননি বা চাননি তারা প্রকৃত শিক্ষিত নন, সে কথা বলা যাবে না। প্রকৃতি যাদের শিখিয়েছে, অভিজ্ঞতা থেকে যারা জ্ঞান লাভ করেছেন তাদের অনেকেই শিক্ষাগুরুর ভূমিকায় রয়েছেন। অনেকে দার্শনিকও হয়েছেন। প্রাকৃতিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক রয়েছে। সে আলোচনা আজকের বিষয় নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক কারণে। সমাজ পরিবর্তনে, সমাজকে নতুন কিছু দিতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাদের সকলেই খুব উঁচু মানের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন তা হয়ত নয়। তাদের চিন্তা-

গণতন্ত্রের সড়ক ছেড়ে ভুল পথে সরকার

আওয়ামী লীগ দলটির একটি বড় মাপের সমালোচনা হচ্ছে দলটি সরকারের বাইরে থাকলে দলনেতাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি আর ক্ষমতায় গেলেই এ দলটি গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে যায়, চলে স্বৈরতন্ত্রের পথে। এ সমালোচনাটি যথার্থ কার্যকারণেই বলা ভুল হবে না। কারণ এ সমালোচনাটি যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বেলায় সত্য, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের বেলায়ও যথার্থ। কারণ এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আমরা যেমন দেখেছি সারা জীবন জেল-জুলুম উপেক্ষা করে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে, তেমনি বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় এসে তাকে দেখেছি একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা কায়েম করে নিজেকে আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করতে। অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, তিনি বাকশাল নামের একদলীয় শাসনের সূচনা করেছিলেন, তার মধ্য দিয়েই তিনি ছিটকে পড়েছিলেন গণতন্ত্রের মহাসড়ক থেকে। বঙ্গবন্ধুর প্রবল সমর্থক ও সমালোচক সবাই তা স্বীকার করেন।
গণতন্ত্র
অপর দিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে আমরা দেখেছি গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনের মাঝে মাঠ গরম করতে। আর তিনিই যখন আবার ক্ষমতায় আসীন, তখন তারই দল যেন মরিয়া হয়ে ওঠে জনগণের ভোটের অধিকার, নাগরিকসাধারণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণে নানা অযৌক্তিক ও অনৈতিক কূটকৌশলের মাধ্যমে।

জিয়াকে বিতর্কিত করাই কি নিরপেক্ষতা

গত ১৫ আগস্ট ডেইলি স্টারের একটা রিপোর্ট পড়ে মনে হলো সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিতর্কিত করাই যেন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। পত্রিকাটির প্রকাশিত রিপোর্টের শিরোনাম ছিল ‘জিয়ার সিভিল পোস্টিং : ইতিহাস ভিন্ন হতো’। রিপোর্টের বক্তব্য পড়ার পর মনে হলো ১৯৭৫ সালের তিনটি সেনা অভ্যুত্থানের বিষয়ে আবারো বর্তমান প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই প্রকৃত তথ্য জানার জন্য কলম ধরতে বাধ্য হলাম।
jiya
প্রতিবেদক শওকত মিলটন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন তিনটি অভ্যুত্থান ভেতর থেকে দেখা এবং বলতে গেলে জড়িত থাকা একজন লে. কর্নেল (অব:) এম এ হামিদ পিএসসির লেখা ‘তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা’ বইয়ের সাহায্য নিয়ে। তিনি যে জায়গা থেকে উদ্ধৃত করেছেন আমি এখানে সেটা হুবহু উল্লেখ করছি : ‘সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে পূর্ব জার্মানিতে রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়ে দেওয়া হলে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর সেনা অভ্যুত্থান হতো না।

সাংবাদিকতা ও নাজিমউদ্দিন মোস্তান

মরহুম সাংবাদিক নাজিমউদ্দিন মোস্তান বলতেন, ’৭৫-এ আমি ‘সংবাদ’ থেকে ‘ইত্তেফাকে’ যোগদান করেছি। কিছু দিন পর আমাকে সাব-এডিটিং সেকশন থেকে রিপোর্টিয়ে দেয়া হলো। ডিসেম্বর মাসের ৪ তারিখে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান কভার করার জন্য আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিবেদনটি চিফ রিপোর্টার হয়ে তৎকালীন বার্তা সম্পাদক আসাফ উদদৌল্লাহ্ রেজার কাছে পৌঁছে। দূর থেকে দেখলাম কাচঘরের ভেতরে চেয়ারে বসা রেজা সাহেব আমার রিপোর্টের ওপর চোখ বুলালেন এবং পরক্ষণেই তার পাশে রাখা বাস্কেটের ভেতর ফেলে দিলেন! এ দৃশ্যটি দেখে আমি অস্বস্তিতে ভুগছিলাম। আমি ভাবতে লাগলাম, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের মৃত্যুবার্ষিকীর সংবাদটি আগামীকাল তা হলে কিভাবে প্রকাশিত হবে?
najimuddin
শীতের রাত সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সোহরাওয়ার্দী সাহেবের অনুষ্ঠানটি কভার করতে কে গিয়েছিল? উত্তরে বললাম আমি। তিনি আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন; সোহরাওয়ার্দী সাহেব যখন ওখানে এসেছিল তখন তুমি কোথায় ছিলে? আমি তার এই প্রশ্ন শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম। দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করে উনি আমার নোট দেখতে চাইলেন। দৌড়ে আমার ডেস্ক থেকে নোট নিয়ে হাজির হতেই তিনি আমাকে বললেন, তোমার নোটে দেখো, কোনো এক বক্তৃতার মধ্যে শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন এবং সেটাকেই ইন্ট্রো করো।

Ibne.Golam.Samad's picture

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা চাই

একসময় ‘সংবাদমাধ্যম’ বলতে কেবল সংবাদপত্রকেই বুঝিয়েছে। পরে এর সাথে যুক্ত হয়েছে রেডিও। সবশেষে এর সাথে যুক্ত হয়েছে টেলিভিশন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র, এ দু’টি বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র হয়ে পড়তে চায় অচল। কেননা, ভোটাররা যদি যথাযথ সংবাদ না পেতে পারে, তবে তারা ভেবেচিন্তে ভোট দিতে পারে না। তাই গণতন্ত্রের অন্যতম সূত্র হলো- জনগণের জানার অধিকার অবিচ্ছেদ্য।
সংবাদমাধ্যম
বিশেষ করে সেই সব ব্যাপারে, যার সাথে জনস্বার্থ প্রত্যভাবে জড়িত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভোটাররা হলো রাষ্ট্রের অন্যতম অংশ। তাদের বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চলতে পারে না। আর তারা যদি প্রাসঙ্গিক তথ্য না জানে, তবে তারা কখনোই উপযুক্তভাবে ভোট প্রদান করতে সম হয় না। উদার গণতন্ত্রে তাই বলা হয়- মানুষকে তথ্য সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়ার অধিকার প্রদান করতে হবে।

mustafa.jabbar's picture

বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পর এবার ডিজিটাল ইন্ডিয়া

২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির সামনে তার সরকারের ১০টি অঙ্গীকারের ঘোষণা দিয়েছেন। সেই দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নয় নম্বর ঘোষণাটি হল ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠার। বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের পর ভারত হল তৃতীয় রাষ্ট্র যারা নিজেদের ডিজিটাল করার সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রদান করল। যদিও দুনিয়ার বহু দেশ ডিজিটালের সমতুল্য আরও অনেক ঘোষণা প্রদান করেছে, তথাপি একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের এমন সরাসরি প্রতিশ্রুতি বাকি দেশগুলো দেয়নি। আমাদের পাশের দেশ শ্রীলঙ্কা ই-শ্রীলঙ্কা, জাপান ও কোরিয়া ইউবিকুটাস জাপান বা ইউবিকুটাস কোরিয়া, আইএন ২০১৫ সিঙ্গাপুর ইত্যাদি সমজাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমরা আজ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, দুনিয়াকে দেওয়ার মতো ভাবনা আমাদের আছে। আমাদের সেøাগান ব্রিটেনের মতো বা ভারতের মতো দেশ গ্রহণ করেছে।
digital india
সেই রাতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল একাত্তরে খবরটি দেখেই ইন্টারনেটে খুঁজে পেলাম মোদির ঘোষণা। এটি নিয়ে অন্য কার কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে জানি না, আমি নিজে অভিভূত হয়েছি। এর কারণটি অবশ্যই প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত। ষাটের দশকে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ও সত্তরের দশকে স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় আমার একটি নেশা ছিল রাজপথে সেøাগান তৈরি করার। সেই সময়কার ‘পাঞ্জাবি কুত্তারা বাংলা ছাড়’ নামক একটি সেøাগান আমি নিজেই পোস্টারে তুলেছিলাম।

Ainun.Nishat's picture

নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নেপাল ভারত সমন্বিত উদ্যোগ চাই

কয়েকদিন আগে সব পত্রিকাতেই একটি খবর দেখলাম। খবরটি হলো, পানিবিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে নেপাল ও বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তথা যৌথ নদী কমিশনের উপস্থিতি ছিল কি-না তা বুঝতে পারলাম না। হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। যেহেতু খবরে তাদের কথা উল্লেখ নেই, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, তাদের উপস্থিতি কোনো মুখ্য ভূমিকার জন্য ছিল না। একই সঙ্গে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, ওই বৈঠকে ভারত কেন অনুপস্থিত ছিল? গঙ্গাসহ কয়েকটি প্রধান নদী নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ_ তিন দেশের মধ্যে প্রবাহিত হয়েছে। অথবা নেপালের নদীগুলো ভারত-বাংলাদেশের নদীর উপনদী হিসেবে অবদান রাখছে। তিন দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও একত্রিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সে কথাও সবাই বলার চেষ্টা করে আসছি। এখন নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে পানিবিদ্যুৎ বিষয়ক আলোচনায় ভারতের অনুপস্থিতির বিষয়টি আমরা যারা পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবি, তাদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ।
River
আমরা সবসময় বলে আসছি, একটি নদীর পানির ব্যবস্থাপনা হতে হবে অববাহিকাভিত্তিক। অর্থাৎ নদীটা যেখানে শুরু হলো, সেখান থেকে যেখানে শেষ হলো, অর্থাৎ সাগরে। সেই পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ পরিকল্পনায় আনতে হবে।

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় জেন্ডার ইস্যু

গত ৪ আগস্ট মন্ত্রিসভায় জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ অনুমোদিত হওয়ার দু’দিন পরই তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল থেকে একটি সম্প্রচার নীতির দাবি জানানো হচ্ছিল। সে হিসেবে সরকার কর্তৃক জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা যেতে পারে। তবে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে তা থেকে এটা বলা যায় যে, এই নীতিমালা সবার প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয়নি। এ নিয়ে জাতীয়ভাবে একটি নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের জন্য যে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল তার দু-একজন সদস্যও প্রকাশ্যে বলেছেন, অনুমোদিত নীতিমালায় তাদের দেয়া মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।
সম্প্রচার নীতিমালা
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালায় প্রশংসনীয় ও ভালো দিক অবশ্যই আছে। আবার কিছু বিষয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশেরও সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে অনেকেই এটা মনে করছেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের একটি মনোভাব এই নীতিমালা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কাজ করেছে। গণমাধ্যম তথা সম্প্রচার মাধ্যমকে বিধি-বিধানের আওতায় আনার নামে তাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে। এই আশংকা যে অমূলক নয়- সেটা নীতিমালার বিভিন্ন ধারার বেশকিছু বাক্য উল্লেখ করে এবং অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছেন। সেসব বিষয়ে পুনরাবৃত্তি না করে শুধু এটাই বলতে চাই, তাড়াহুড়া করে সরকারের এমন কিছু করা উচিত হবে না, যা বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী বলে সরকারকে পরিচিত করে তোলে। যেসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ ও শংকা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দূর করার জন্য অংশীজনের সঙ্গে আরও আলাপ-আলোচনা করা দরকার।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

দুঃখ বলি কারে?

ঢাকার এক স্বনামখ্যাত বুদ্ধিজীবী, যিনি আমার বয়োকনিষ্ঠ, কিন্তু খুবই ঘনিষ্ঠ, হঠাৎ টেলিফোনে আমাকে তার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আপনি বিদেশে তো বেশ ভালোই আছেন। আপনার লেখায় সরকারের প্রশংসাই থাকে বেশি। তাহলে সরকারকে দুচারটে ভালো পরামর্শ দেন না কেন? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো আপনাকে যথেষ্ট সম্মান করেন। ইফতার পার্টিতে ডেকে পাশে বসান। তাকে দুএকটা ভালো পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেন না কেন? তাহলে তো দেশটা ভালো চলে।
abdul gaffar
প্রধানমন্ত্রী আমাকে সম্মান করেন, যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা দেন এ কথা সত্য। কিন্তু আমি পরামর্শ দিলেই তিনি তা শোনেন এমন দাবি করি না। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরামর্শ দিই না। নিজের লেখালেখির মাধ্যমে তাকে এবং তার সরকারকে যেটুকু বলার তা বলি। তিনি শুনলে শুনবেন, না শুনলে শুনবেন না। তাতে আমার কোনো দায় নেই। দেশ চালানোর দায়িত্ব তার। আমার নয়। সুতরাং আমার কথা শুনে তিনি দেশ চালাবেনই বা কেন?

Syndicate content