বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে

দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিভাগে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে তিন লক্ষাধিক মামলা বিচারাধীন থাকলেও বর্তমানে শুধু হাইকোর্ট বিভাগেই বিচারাধীন মামলার সংখ্যা তিন লক্ষাধিক। সব জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা আট লাখ ৬৯ হাজার ৬১৪টি এবং চার লাখ ৩২ হাজার ৯১টি ফৌজদারিসহ মোট মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ এক হাজার ৭০৫। সিএমএম এবং সিজেএম আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আট লাখ ৩৮ হাজার ২৭৭। মামলা দায়েরের এ হার অব্যাহত থাকলে আইনবিদদের ধারণা, এ বছরের শেষ দিকে দায়েরকৃত মামলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
adalat
মামলা-মোকদ্দমার এ হার বৃদ্ধির প্রধান কারণ দায়েরকৃত মামলাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়া। এর মধ্যে উচ্চতম ন্যায়ালয়ে ঝুলে রয়েছে হাজার হাজার আর দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে লাখ লাখ মামলা। বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার না পাওয়া। বছরের পর বছর গড়িয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মামলার নিষ্পত্তি হয় না। সুবিচারের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে অনেকে ইহধাম ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেছেন এমন দৃষ্টান্তেরও অভাব নেই।

Rezwan.Siddiqui's picture

ইমরান খান : পাকিস্তানের শাহবাগী

২০১২ সালে পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে ১০ দিনের জন্য ঐ দেশ সফরে গিয়েছিলাম। উত্তরমুখী লম্বা দেশ। তখন সমুদ্র তীরবর্তী করাচীতে তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর ইসলামাবাদে মাইনাস ২ ডিগ্রী ক্ষমতায় ছিল আসিফ আলী জারদারীর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি। এর নেতা ছিলেন জুলফিকার আলী ভূট্টো। পরে তার কন্যা বেনজীর ভূট্টো। আসিফ আলী জারদারী বেনজীর ভূট্টোর স্বামী। বেনজীর যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন গোটা বিশ্ব মিডিয়ায় তার নাম এই বলে খ্যাত হয়েছিল যে, তিনি ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’।
imran khan
২০০৯ সালে নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে বেনজীর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তার জন্য তৎকালীন সেনা-শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে সাধারণভাবে দায়ী করা হয়। বেনজীর ভূট্টোর হত্যাকাণ্ডের পরে পাকিস্তানজুড়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। পিপিপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। জারদারী সরকার গঠন করে।

Mahmudur.Rahman.Manna's picture

জাসদ কি কাফফারা দিচ্ছে?

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক আবু সালেহ সেকেন্দার ফোন করেছিলেন। বললেন, জাসদ নিয়ে অনেক কথাবার্তা লেখালেখি হচ্ছে। আপনি কিছু বলছেন না যে? আপনি তো জাসদের জন্ম থেকে ছিলেন। অনেক কিছু জানেন যা আমাদেরও জানার প্রয়োজন হতে পারে। লিখুন না।
manna
আবু সালেহ সেকেন্দার হয়তো জানেন না জাসদ নিয়ে এ পত্রিকায় ৯ জুলাই আমি একটি লেখা লিখেছিলাম। মাত্র ২২ বছর বয়সে আমি জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলাম। তখনো আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ চাকসুর সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতার পরে এই একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রলীগ জিতেছিল। তখনো ছাত্রলীগ ভাঙেনি। কেন্দ্রসহ সারা দেশে মুজিববাদ ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের লড়াই শুরু হয়েছে।

মৌলবাদ ও নরহত্যার রাজনীতি

আগস্ট মাসেই বড় ধরনের নাশকতার দুটি ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। ১৫ আগস্ট জাতির জনক হত্যা এবং ২১ আগস্ট শেখ হাসিনা হত্যা। সবাই বলবে কথাটা মিছে কথা। কেননা দিব্যচোখে দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনা জীবিত এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাহলে প্রশ্ন হতে পারে, কথাটা কেন বললাম? গ্রেনেড হত্যায় বহুলোক মারা গিয়েছিল। আইভি রহমান মৃত্যুবরণ করেছিলেন যেভাবে তার চেয়েও করুণভাবে সেদিন শেখ হাসিনার মৃত্যুবরণ করার কথা। কিন্তু আল্লাহতায়ালাই তাকে সেদিন রক্ষা করেছিলেন বলেই হয়তো আজ তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি পুনঃ অবতারণা করলাম এ জন্য যে, খুনিরা আবার বড় নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। তারা আবার মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা কার্যকর করতে চাচ্ছে।
21 august
দেশব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে অবশেষে বিএনপি আপাতত ঢাকাকেন্দ্রিক তার আন্দোলনের ভূগোল সংহত করেছে। এটি একটি বড় ধরনের ধাপ্পাবাজি। দেশব্যাপী কালো শক্তির নাশকতা চলছেই। আওয়ামী লীগ এবং প্রগতিশীলদের মাথা মাথাদের হত্যার নীলনকশা কার্যকর করা হচ্ছে। তারা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের আগে প্রত্যন্তের মাথাগুলো কেটে ফেলতে চায়। তাদের ধারণা হয়েছে, প্রগতিশীল এবং আওয়ামীপন্থীদের মাথাগুলো কেটে ফেললেই শেখ হাসিনা প্রমাদ গুনতে শুরু করবেন। তাকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে পারলেই তিনি ভুল করবেন। আর ভুলের সুযোগ নিয়ে তাকে হত্যা করতে হবে।

বন্যা আসে, বন্যা যায় যেন কোনো ব্যাপার নয়!

জল জঙ্গলে নাব্য এ দেশে আর্যরা থাকতে পারেনি। আমরা কিন্তু দিব্যি আছি। এ দেশের অনার্যরা একটুও পছন্দ করেনি আর্যদের। ওরা তাই ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-এ লিখে গেছে যে, এ দেশের মানুষ বয়াংসি, ব্রাত্য, দস্যু ইত্যাদি ইত্যাদি। যাই হোক, নিজ ভূমি বলে কথা! তা এখানে বন্যাই হোক, আর খরাই হোক; আকাল আসুক বা যুদ্ধ বাধুক, সুনামি হোক বা দুর্নীতি হোক, আমরা কিন্তু মাটি কামড়ে থাকি। এখন জঙ্গল পাতলা হয়েছে, নদী-নালায় পানি কমেছে, মানুষ বেড়েছে, মাছ কমেছে, শস্য উৎপাদন বেড়েছে, হাঁস-মুরগির খামার বেড়েছে, রোগ-শোক বেড়েছে, আধুনিক শিক্ষার হার বেড়েছে এবং বেড়েছে জীবনের নানাবিধ যন্ত্রণা। আমরা ভূমিজ বাসিন্দারা যাইনি কোথাও।
flood
ঝড়-বন্যা আমাদের কাবু করে। তারাও অবশেষে ফিরে যায় কাবু হয়ে। আমরা মাথা তুলে দাঁড়াই আবার। কষ্ট করি। ক্ষতি হয় প্রচুর। তবু নিজের দেশ ফেলে যাই না। কোথায়ই বা যাব দেশ ফেলে? সোনার বাংলাদেশের অফুরন্ত সম্পদ তো একান্তই আমাদের। তবু সমৃদ্ধ করতে পারছি না দেশটাকে, সে আমাদের সার্বিক অর্বাচীনতা। সে কারণেই বন্যা রাক্ষুসী আমাদের প্রতি বছরের অবাঞ্ছিত অতিথি।

সর্বনাশা প্লাবন : সর্বস্ব হারাচ্ছে শত শত মানুষ

টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতোমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে।
river
দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

Zamaluddin Bari's picture

জাতিরাষ্ট্রের অস্তিত্ব ও বিশ্বশান্তির অন্তরায়

জাতিসত্তার স্ফুরণ ও জাতিরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নির্ভর করে নিজস্ব সংস্কৃতি নির্ভর ও লক্ষ্যাভিসারী শিক্ষাব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও বিকাশের উপর। উপমহাদেশীয় প্রেক্ষাপটে স্বতন্ত্র জাতিসত্তা হিসেবে বাঙালি মুসলমানের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রচিন্তার উদ্ভব সম্ভব হয়েছিল চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির সাথে হাজার বছরের মুসলিম ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গঠিত এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থেকে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের যৌক্তিক ও অবধারিত বাস্তবতায় পৌঁছতে আমাদেরকে একটি ধর্মীয়, ভাষাগত এবং ভূ-রাজনৈতিক সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে। সেখানে লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তাক্ত যুদ্ধের বিভীষিকাময় ইতিহাস সাক্ষী হয়ে আছে।
politics
এসব ঐতিহাসিক সংগ্রামের একটি শ্রেণীগত প্রতিপক্ষ শুরু থেকেই ছিল, এবং এখনো তা বিদ্যমান রয়েছে। ১৯৭১’র পর ইতিমধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের যুগ নিঃশেষ হয়ে গেছে, দ্বিতীয় প্রজন্মের স্বপ্নও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে, অর্থ্যাৎ লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে এখনো আমরা সফল করে তুলতে পারিনি।

Ikteder.Ahmed's picture

ক্রেস্ট জালিয়াতিতে দেশের ইমেজ ভূলুণ্ঠিত

ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় জাতিসত্তার ভিত্তিতে বিভাজিত হলে ইন্ডিয়া (ভারত) ও পাকিস্তান নামে দু’টি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বিভাজন-পরবর্তী ভারত শুধু তার অখণ্ডতা অক্ষুণ্ন রাখেনি বরং ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সিকিম নামের একটি স্বাধীন রাজ্যকে নিজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ধর্মীয় জাতিসত্তার ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান স্বাধীনতা-পরবর্তী দুই যুগের কিছুকাল পর আঞ্চলিক জাতিসত্তার ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের দু’টি অংশ পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ভারত ভূখণ্ড দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং স্থলপথে উভয় পাকিস্তানের দূরত্ব ছিল এক হাজার মাইলেরও বেশি।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ৭০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলেও আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যর্থ হলে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধীকার আন্দোলন মুক্তিসংগ্রামে রূপ নেয়। এ মুক্তি সংগ্রাম ছিল সশস্ত্র। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে এ দেশের ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-জনতা এবং সামরিক-বেসামরিক বাহিনীর সদস্যরা একযোগে অংশ নিয়েছিল। মুক্তি সংগ্রামটি গেরিলা যুদ্ধের আকারে পরিচালিত হওয়ায় সংগ্রামটিকে সফল করার পেছনে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ শেষে যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাদের চেয়ে যারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে সশস্ত্র মুক্তি যোদ্ধাদের নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে খাদ্যসহ সব ধরনের আনুষঙ্গিক সরবরাহ করে গেরিলা যুদ্ধকে সফলতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের অবদানও কোনো অংশে কম ছিল না।

Mukit.Majumdar.Babu's picture

ভাঙছে নদী ভাঙছে মানুষের স্বপ্নসাধ

ভাদ্র মাসের ভরা নদী। চলার পথে ভাঙছে গ্রামের পর গ্রাম, স্কুল-কলেজ, আবাদি জমি, খেলার মাঠ, ফলদ বাগান, গ্রামরক্ষা বাঁধ, হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নদীর করাল গ্রাস থেকে বাদ যাচ্ছে না কিছুই। ক্ষুরধার উত্তাল নদীর স্রোতের তোড়ে ভেঙে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানুষের স্বপ্নসাধ। হাজার হাজার আশ্রয়হীন অসহায় মানুষ উঁচু বাঁধে, স্কুলে কিংবা শহরের ফুটপাতে খুঁজে নিচ্ছে আশ্রয়। তাদের পেটে ভাত নেই, সুপেয় জল নেই, মাথার ওপর ছাদ নেই। ক্ষুধায় কাতর অসহায় চোখ খুঁজে ফিরছে আগামী দিনের ঠিকানা। নদীর কাছে মানুষ আজ কত অসহায়!
River
দেশের অধিকাংশ নদীর পানি ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে এবং বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে একাধিক নদীর পানি। ভরা যৌবনে নদী যে সর্বগ্রাসী হবে এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু উন্নয়নের নামে নদীকে শাসন করতে গিয়ে নদীকে আমরা আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছি। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের নামে বাঁধ, সেতু, বেড়িবাঁধ, খাল খনন ইত্যাদি করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করছি, বহমান স্রোতধারা থামিয়ে দিচ্ছি, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছি, সাগরপানে ছুটে চলাকে থামিয়ে রাখছি, দেশের সীমানায় বন্দি করে রাখতে চাইছি শুধু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে।

M.Abdul.Hafiz's picture

নিষ্ঠুরতার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়

তখনো এই নিবন্ধকার সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণরত একজন ক্যাডেট। আমাদের অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষক ছিলেন একজন সুদর্শন চৌকস পাঠান ক্যাপ্টেন। তিনি ক্লাসের শুরুতেই একটি চুটকি গল্প বলে আমাদের মনোযোগ বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিতেন। একদিন প্রত্যুষে আমাদের পাঠ্যবিষয় ছিল 'গ্রেনেড', অস্ত্রটির মেকানিজম ও গ্রেনেডের ব্যবহারবিধি। ক্লাসের শুরুই তাঁর চুটকি গল্প দিয়ে। প্রথমেই তাঁর প্রশ্ন যে আমরা কী করে আত্মরক্ষা করব, যদি একটি গ্রেনেড সেফটিপিন খোলার পর হাত থেকে ফসকে পড়ে যায়? গ্রেডিং সচেতন ক্যাডেটরা যার যার মতো করে তাদের ব্যাখ্যা দিতে থাকল এবং ক্যাপ্টেন ওসমান ক্যাম্পস্টুলে বসে মিট মিট করে হাসতে থাকলেন।
M abdul hafiz
বলা বাহুল্য, ক্যাডেটদের মধ্য থেকে আত্মরক্ষার তাবত পদ্ধতি বেরিয়ে আসতে লাগল। কেউ বলল, আমি তো অকুস্থল থেকে বিপরীতমুখী রাস্তা দিয়ে স্প্রিন্ট করব। কারো মতে, সে নিকটেই পরিত্যক্ত একটি পরিখায় ঢুকে পড়বে। আবার কাউকে দৌড়ঝাঁপ না করে নিকটেই লাইং পজিশন নিতে আগ্রহী মনে হলো। কেউ বা বলল যে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই সে কোনো কিছুর, অর্থাৎ কোনো বিল্ডিং বা দেয়ালের অন্তরালে অবস্থান নেবে।

Syndicate content