Syed.Muhammad.Ibrahim's picture

পরিবর্তনের স্বপ্ন

আজকের এই কলামে আমি স্বপ্নের গুরুত্ব নিয়ে লিখব। রাতে বা দিনে ঘুমে দেখার স্বপ্ন নয়, জীবন গড়ার স্বপ্ন, দেশ গড়ার স্বপ্ন প্রসঙ্গে বলব। কিন্তু কলামের আকৃতি ছোট রাখতেই হবে, তাই সীমিত কথা বলব। আমি নগণ্য ব্যক্তি, এখন কী স্বপ্ন দেখি এবং সেটি কালক্রমে এই পর্যায়ে কিভাবে এলো তার একটু বর্ণনা দেবো। আরেকজন ব্যক্তি যিনি অতি বিখ্যাত, তার জীবনের হাজার কথা থেকে মাত্র দু’টি কথা ধার করে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করব। স্বপ্ন দেখা পাপ নয়, স্বপ্ন দেখা পুণ্য। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন বাঙালিকে স্বাধীনতা এনে দেবেন। শহীদ জিয়া স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন, নবতর রূপ দেবেন। নেলসন ম্যান্ডেলা, মাও সে তুং, ইমাম খোমেনি, মোশে দায়ান, জোমো কেনিয়াত্তা এরা সবাই স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমার নিজের কথা দিয়ে শুরু করি।
world
ক্যাডেট কলেজে প্রবেশ
পোর্ট নর্থ কলোনির ভেতরে অবস্থিত প্রাইমারি স্কুলেই ক্লাস ফাইভ বা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করি। ক্লাস সিক্স বা ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার জন্য অল্প দূরে চট্টগ্রাম বন্দর হাইস্কুলে ভর্তি হই। হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬০ সালে। জানুয়ারি ১৯৬২তে কাস এইটে প্রোমোশন পেয়েছিলাম। ফেব্রুয়ারিতে তখনকার আমলের একমাত্র ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলাম।

Milton.Biswas's picture

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয়

বাংলাদেশের কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা অববাহিকার ১৫টি জেলার লাখ লাখ মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। গেল সপ্তাহের ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সময় এসেছে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। বন্যার কারণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আরো কয়েক দিন সারা দেশে ভারী বর্ষণ হলে এসব এলাকার নদ-নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এসব এলাকায় স্থায়ী বন্যার আশঙ্কাও সঙ্গত কারণে অমূলক নয়।
bangladesh
সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করতে হবে। বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলা করার ত্বরিত উদ্যোগ নেওয়া দরকার। অন্যদিকে ১৮ আগস্টের সংবাদ থেকে জানা গেছে, ভারতের আসামের উত্তরাখন্ড বন্যায় মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতির অবনতি আমাদেরও উৎকণ্ঠিত করে। কারণ একই নদীর প্রবাহ রয়েছে উভয় দেশে।

Steven.Thrasher's picture

শিশু মন ও মার্কিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশের নৃশংসতা

ছয় বছর বয়সী আমুর বড় হয়ে দমকলকর্মী হতে চায়। 'পুলিশ নয় কেন?' প্রশ্ন করতেই তার সপ্রতিভ উত্তর, 'ওরা তো মানুষ খুন করে।' ১৮ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউন হত্যাকাণ্ড ফার্গুসনে বড়দের তো বটেই, ছোটদের জগৎটাকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। বড়দের সঙ্গে তারাও নেমে এসেছে রাস্তায়। শামিল হয়েছে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনে।
steven
ঘটনার শুরু গত ১০ আগস্ট ফার্গুসনে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের এ শহরটি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত হলেও রাজত্ব শ্বেতাঙ্গ পুলিশের। সেদিন ফুটপাত এড়িয়ে রাস্তার মাঝখান দিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছিল ব্রাউন। গাড়ি নিয়ে তাদের গতিরোধ করে টহল পুলিশ এবং কথার পিঠে কথা বলার একপর্যায়ে ব্রাউনকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। লাশ রাস্তায় ফেলে রাখা হয় দুই ঘণ্টা। এ ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। আর তা এতই বেগবান হয়ে ওঠে যে কারফিউ দিয়েও পুলিশ সামাল দিতে পারছে না। শেষে গত সোমবার মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী।

Dr. Sultan.Mahmud.Rana's picture

নীতিমালা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতা

গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা আবশ্যক। তবে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার সাধারণত জনগণের ইচ্ছা, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা মোতাবেক কাজ করে। তাদের এই আশা-আকাঙ্ক্ষা আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয় এবং এই আইনকে সুষ্ঠুভাবে পালন করার দায়িত্ব প্রশাসকদের। তাঁদের জবাবদিহি করতে হয়। আর জবাবদিহি হলো আইনানুগ, নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি, বিস্তৃত নিয়মকানুন, যার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়। সার্বিকভাবে বলা যায়, 'বস্তুনিষ্ঠতা ও রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিক পর্যায়ের নিয়মনীতির মাধ্যমই হলো জবাবদিহিতা।'
media
গণতন্ত্র, গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতা একই সূত্রে গাঁথা। সামরিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসকদের জনগণের ভোটের অপেক্ষায় থাকতে হয় না, তাই গণবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপকর্মের জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। তাই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য হয়।

Mostafa.Kamal's picture

মোদির প্রতিবেশী ভাবনা ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দর কুমার গুজরালের মতবাদ সম্পর্কে হয়তো অনেকেরই ধারণা আছে। তিনি যখন সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে নতুন একটি মতবাদ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে বড়ভাইসুলভ আচরণ করবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখবে না। ভারতের নীতি হওয়া উচিত, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নেবে না, দেবে। প্রতিবেশীর উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেশীরা ছোট রাষ্ট্র হলেও সমান দৃষ্টিতে দেখবে এবং কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করবে না।
mostofa kamal
পরে গুজরাল ভারতের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর মতবাদ নিয়ে বিস্তর কাজ করেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে একটি বইও লেখেন। তাতেও তিনি প্রতিবেশীদের বিষয়ে ভারতীয় নীতি কী হওয়া উচিত, তা উল্লেখ করেন। সেই নীতিই গুজরাল ডকট্রিন বা মতবাদ হিসেবে গুরুত্ব পায়। ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর দক্ষিণ ব্লক যাতে চানক্য কূটনীতির প্রভাব-বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সে জন্যই গুজরাল তাঁর মতবাদ নিয়ে অগ্রসর হন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পরই তাঁর মতবাদটি একেবারে কার্পেটের নিচে চলে যায়।

অন্ধকারের অপেক্ষা!

মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে সরাসরি টয়লেটের কথা নেই। তবে বেঁচে থাকার জন্য টয়লেটও যে আবশ্যক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরাসরি বলা না হলেও মানুষের বাসস্থানের মধ্যে বিষয়টা চলে আসে। আবার খাদ্য গ্রহণের সঙ্গেও রয়েছে এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক। সুস্থ প্রত্যেককেই দিনে অন্তত একবার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়। তাই মানুষ থাকার জায়গার সঙ্গে শৌচকার্য সম্পাদনের বিষয়টিরও ব্যবস্থা করেন। এর বিপরীত চিত্র এখন ব্যতিক্রম। টয়লেট নেই, খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম সারেন_ এ রকমটা অনেকে কল্পনাও করতে পারেন না। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে অবশ্য টয়লেট সমস্যা এখনও প্রকট।
toilet
মঙ্গলবার বিবিসির একটি প্রতিবেদনেও বিষয়টি এসেছে। 'ইন্ডিয়া ব্রাইডস লিভ হাজব্যান্ডস হোমস ফর ল্যাক অব টয়লেটস' শিরোনামই তা স্পষ্ট করছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের ছয়জন নতুন বিবাহিত স্ত্রী টয়লেট না থাকার কারণে স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করে বাবার বাড়ি চলে গেছেন। তারা বলছেন, টয়লেট নির্মাণ করলেই কেবল স্বামীর বাড়ি ফিরবেন।

ভোক্তা ও উৎপাদক দুইয়ের স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ

অর্থনৈতিক কৃতিত্বের ইতিবাচক কিছু কথা দিয়ে নিবন্ধটি শুরু করা যেতে পারে। সদ্য প্রকাশিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্টম্ফীতির রাশ টেনে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বস্তুত এটা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের ধারাবাহিকতার পদক্ষেপ। খুব উঁচু কিংবা খুব নিচু মূল্যস্টম্ফীতি_ উভয়ই বিপদের কারণ হতে পারে। খুব উঁচু মূল্যস্তর হলে ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে পকেটভর্তি পণ্য নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। গৃহকর্তা বা কর্ত্রীর বদন মলিন হয়ে যায়; এমনকি খুব দরিদ্র শ্রেণী চোখের জলেও ভাসতে পারে।
economy
মূল্যস্তর খুব নিম্নে থাকলে ভোক্তার জন্য হয়তো মাঘ মাস, কিন্তু উৎপাদকের সর্বনাশ হয়। আবার মাঘ মাস ও সর্বনাশ খুবই স্বল্পকালীন সুখ ও দুঃখ। জিনিসপত্রের দাম নিম্নমুখী হলে এক সময় দেখা যাবে, উৎপাদক উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। যে কারণে উৎপাদন কমে যাবে এবং জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়তে থাকবে।

Kader.Siddique's picture

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অপদার্থদের কি ক্ষমা করা যায় না?

(আজ প্রথমেই একটি ভুল সংশোধন করা দরকার। ক'দিন আগে দিল্লি গিয়েছিলাম। বহুদিন পর প্রখ্যাত সাংবাদিক কলামিস্ট এম জে আকবরের সঙ্গে দেখা। অনেক দিন পর দুজন প্রিয় মানুষ একত্রিত হলে যেমন হয়, আমারও তেমন হয়েছিল। ভালো লাগায়, বুক ভরে যাওয়ায় গত পর্বে এক মারাত্দক ভুল করে ফেলেছি। এম জে আকবর National Spokesman of BJP মানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের স্থলে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির জাতীয় তথ্য উপদেষ্টা লিখেছিলাম। কিন্তু তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নন, তিনি বিজেপির জাতীয় উপদেষ্টা। এ ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।)
kader siddque
'৭৫-এর ১৫ আগস্ট ছিল শুক্রবার। ৩৯ বছর পর এবারের ১৫ আগস্টও শুক্রবার। সেদিন আকাশ ভেঙে কান্না ঝরছিল, এবার সকাল থেকে সারা দিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার ৩৯ বছর পর আগের রাতে গলফ ক্লাবে ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ মিয়া খাজার ছেলে ক্যাপ্টেন আবদুল হামিদ মেহেদীর বিয়েতে গিয়েছিলাম। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, আমার স্ত্রী নাসরীনের জন্মও ১৪ আগস্ট।

SA.Malek's picture

বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্তর্জাতিকতাবাদ ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পঞ্চাশ ও ষাট দশকে যখন স্বায়ত্তশাসনভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এ দেশের মার্কসবাদীরা আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রসঙ্গ তুলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলন দুর্বল করার চেষ্টা করেন। বঙ্গবন্ধু কিন্তু সে কারণে বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। বরং এক চরম প্রতিকূল পরিবেশে তিনি লাহোরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ছয় দফার ঘোষণা দেন এবং পরে পূর্ব বাংলায় ছয় দফাভিত্তিক প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তুলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে দ্রুত শানিত করতে সক্ষম হন। সেদিনের রাজনৈতিক সস্নোগান ছিল_ 'পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা', 'জাগো জাগো বাঙালি জাগো', 'বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর'।এসব সস্নোগানই প্রমাণ করে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ ঘটনানোর জন্য কী আপ্রাণ চেষ্টা করে সফল হয়েছিলেন। তারই নির্দেশে সত্যিই বাঙালি একদিন অস্ত্র ধরে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে।
bangabandhu
ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে বঙ্গবন্ধু ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ক্রমবিকাশের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। সেদিনও বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ছিল। তারা কিন্তু তখন পৃথকভাবে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেনি। বরং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্বাধীন করার আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে আত্মনিয়োগ করেছে। সেদিন আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল বাঙালি, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশ স্বাধীন না করতে পারলে বৃহৎ বা ক্ষুদ্র কোনো জাতিসত্তাই যে নিরাপদ হবে না, এ কথা সঠিকভাবে অনুধাবন করেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বৃহত্তম গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোজিত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ইউজিসির বিবৃতি :প্রাসঙ্গিক ভাবনা

গত ১১ আগস্টের (২০১৪) জাতীয় পত্র-পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন প্রেরিত একটি প্রতিবেদন বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম— "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর সংক্ষিপ্ত বিবৃতি।" বিবৃতি প্রদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি টিআইবি প্রকাশিত একটি অসম্পূর্ণ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সততা নিয়ে দেশবাসীর মনে নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সেই বিভ্রান্তি দূর করবার লক্ষ্যেই ইউজিসির পক্ষ থেকে বিবৃতিটি প্রদান করা হয়েছে।
ugc
সমগ্র বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত কতগুলো বৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১১ আগস্টের বক্তব্যে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। বৈধ-অবৈধ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের সেসব প্রশ্নের সমাধান রয়েছে। অতিসম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কৃতকার্য সকল ছাত্র-ছাত্রীকে সরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ে স্থান দেয়া সম্ভব হবে না। বিকল্প স্থান হিসেবে তারা বেছে নেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কিন্তু তার আগে দেশের বৈধ এবং অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণাকে স্পষ্ট করে দিতে হবে। কাজেই বলা যেতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিবৃতিটি অত্যন্ত সময় উপযোগী হয়েছে। মঞ্জুরি কমিশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Syndicate content