Mukit.Majumdar.Babu's picture

সবুজে বাঁচতে 'সবুজ কর'

সভ্যতার অগ্রগতিতে শিল্পায়নের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আমাদের চলন-বলন, জীবনযাপনের সঙ্গে শিল্পায়ন এমনভাবে যুক্ত হয়েছে যে, তাকে পাশ কাটিয়ে কোনোভাবেই বর্তমান এবং আগামীর পৃথিবী কল্পনা করা যায় না। শিল্পায়ন আমাদের চলার পথকে যেমন মসৃণ করে গতি দিয়েছে, তেমনি প্রাকৃতিক বিপর্যয়কেও করেছে ত্বরান্বিত। তবে তার জন্য শিল্পায়নের চেয়ে আমাদের অসচেতনতা আর অর্থলিপ্সু মনোভাবই বেশি দায়ী। কোটি কোটি টাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে ঘরে লাভ তুলছি; কিন্তু পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকাতে একটি শোধনাগার বা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) স্থাপন বা কার্যকর করছি না।
Green tax
বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের দুই শতাধিক ট্যানারি ও ডাইং কারখানায় ইটিপি নেই। আর তাই রাজধানীসহ চারপাশের জেলা, বিভাগীয় শহর এমনকি জেলা শহরগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দূষিত পানির আগ্রাসন। এই দূষিত পানির কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য যেমন ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তেমনি আমরাও নানা ধরনের জটিল ও কঠিন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে চলছে পরিবেশ দূষণের এ প্রক্রিয়া।

আমার সন্তান, আমার উত্তরাধিকার

জন বায়রন নামে এক বিদেশি মৃত্যুশয্যায় কয়েক মাস অবস্থান করার পর দৈবক্রমে ফিরে আসেন। কেউ ভাবেননি, তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তিনি খুব ধনী ছিলেন। অনেক অট্টালিকা, গাড়ি, বড় ব্যবসা, নগদ টাকা অর্জন করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর দুয়ারে যখন তিনি প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন, তখন তার ভাবনা বা অনুভূতি কেমন ছিল জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তাকে। তখন কি তিনি তার ব্যবসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন, নাকি সম্পদ কী করবেন, সেই চিন্তায় ছিলেন, নাকি সুন্দরীরা, যারা তার আন্তরিক সেবায় নিয়োজিত থাকত তাদের চিন্তায় ছিলেন? তার উত্তর ছিল, যখন তিনি ওপারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন, তখন তার প্রথম কয়েকটি মুখ চোখের সামনে বারবার হাজির হচ্ছিল।
father
এই মুখগুলো তার প্রাণপ্রিয় সন্তানদের মুখ, তার স্ত্রীর মুখ (যাকে তিনি খুব ভালোবেসেছেন বলে মনে হয়নি), তার মৃত বাবা-মার মুখ। তার চোখের সামনে বা মনের পর্দায় কোনো লাস্যময়ী সুন্দরীর মুখ, ব্যাংকের নগদ টাকা, বড় অট্টালিকা_ এগুলো একবারের জন্যও ভেসে ওঠেনি। কথা বলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি প্রথম তার স্ত্রীকে খোঁজ করেছিলেন। অবশ্য স্ত্রী-সন্তানরা তার শিয়রের পাশেই অশ্রুসিক্ত নয়নে তার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছিলেন।

গাজায় ইসরাইলের মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদির সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৫ হাজার। কিন্তু বেলফুর ঘোষণার পর থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসা শুরু করে এবং গরিব আরবদের কাছ থেকে বিত্তবান ইহুদিরা জমি কিনে আরবদের প্রায় সর্বহারায় পরিণত করে। জার্মানিতে হিটলার ক্ষমতায় আসার পর তাদের মাইগ্রেশনের গতি বৃদ্ধি পায়- ১৯৩২ সালে যেখানে সংখ্যাটি ছিল বছরে ৯ হাজার, সেখানে ১৯৩৫ সালে তা দাঁড়ায় ৬০ হাজারে। দমন-পীড়ন চালালেন হিটলার আর ভূমিহারা হল ফিলিস্তিনিরা- কী অদ্ভুত! সে প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এবারের গাজা হামলার মধ্যেও ফ্রান্স থেকে মাইগ্রেট করেছে অনেক ইহুদি পরিবার।
gaza
ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল অসম্ভব এক দক্ষতায় বিশ্বজুড়ে ‘অন্ধ ইহুদি সাম্প্রদায়িকতার’ বাতাবরণ তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। আর এ ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রতিনিয়তই বলে- ফিলিস্তিনিরা তোমাদের শত্রু, এ ভূমি আমাদের ঈশ্বর কর্তৃক প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমি, এখানে অন্যদের থাকার কোনো অধিকার নেই। এ সাম্প্রদায়িক প্রচারণার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ইসরাইলের প্রাণভোমরা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পরিবাহিত হচ্ছে অবৈধ-অনৈতিক ঘৃণ্য জিঘাংসা।

Farhad.Mazhar's picture

সেইম টু সেইম, আমরা আমরাই তো!

সরকারের সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে। পত্রিকায় দেখছি সম্পাদক পরিষদও বিবৃতি দিয়েছে। তারা আশংকা প্রকাশ করেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যম তো পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে, আর কী নিয়ন্ত্রণ করবে ক্ষমতাসীনরা? সংশয় ও সমালোচনা সত্ত্বেও সম্পাদক পরিষদের এই বিবৃতি আমি সমর্থন করি। সেটা বলার জন্যই এই লেখা।
সম্প্রচার নীতিমালা
যারা বিবৃতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে এমন সম্পাদকও আছেন, যারা অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এর আগে অস্বীকার করেছেন। তারা সরকারদলীয় সমর্থক। নির্বিচারে তারা সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছেন। বিরোধী চিন্তা ও মতের বিরুদ্ধে হেন কোনো অপপ্রচার বা কুৎসা নাই যা তারা করেননি বা করেন না। নিজের মতপ্রকাশের অধিকার তাদের আছে, সেখানে আপত্তির কিছু নাই। কিন্তু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে অন্যের মত দমন করার নীতি তারাও চর্চা করেন।

Golam.Mortoza's picture

সত্য-গুজব-বিভ্রান্তি এবং শিক্ষামন্ত্রী

গতকাল ২০ আগস্ট শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ কিছু কথা বলেছেন। বলেছেন ‘পাবলিক পরীক্ষা আইন’ সংশোধন করা হবে। তার বক্তব্যে উপরের এই শব্দগুলো স্থান পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, রটনা ও গুজব ছড়ালে শাস্তি পেতে হবে।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কয়েকটি কথা-
nurul islam nahid
১. প্রশ্নপত্র ফাঁস করলে দোষী ব্যক্তি শাস্তি পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কোনো দ্বিমত নেই। কারও কোনো আপত্তি থাকার কারণ নেই। কারও আপত্তি থাকলেও শাস্তি দিতে হবে। দোষীদের শাস্তি দেয়া যাচ্ছে না, দেয়া হচ্ছে না, সনাক্ত করা হচ্ছে না বলে আমরা সমালোচনা করছি।

Mir.Abdul.Alim's picture

জলজট নিরসনে চাই পরিকল্পিত নগরায়ন

বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকা আর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পানিতে নাকাল হয়। এটা দুই নগরের বহু বছরের পুরনো সমস্যা। এখানকার অধিবাসীদের দুর্ভোগ কেউই লাঘব করতে পারছে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে নগরবাসীর কাছে বর্তমান নগর পিতার জলজট নিরসনে ওয়াদা ছিল। আর রাজধানী ঢাকায় তো নগর পিতাই নেই। নগর ভবন আছে দুই-দুইখানা। দলীয় বিবেচনায় আছেন দুজন প্রশাসক। সিটি করপোরেশন ভাগ হয়েছে বহু আগে। বেড়েছে জনবল আর ব্যয়। তাতে কী? এতটুকুও বাড়েনি নগরজীবনের সুখ? অভিভাবক ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে লালিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তাই স্বল্প বৃষ্টিতেই এখন নাকাল ঢাকা। জলজটের সঙ্গে ঢাকায় আছে যানজটও। বৃষ্টির ময়লা পানিতে ঢাকা ডুবলেও নগরবাসীর পানীয় জলের অভাব কিন্তু লেগে থাকে বছরজুড়েই। এভাবে কি নগর জীবন চলে? ক'দিন ধরে কী দেখছি? জলাবদ্ধতায় ডুবন্ত চট্টগ্রাম। ঢাকা নগরীও পানির তলায়।
rain
ভরসা কোথায়? আদৌ কি নগরজীবনের জলাবদ্ধতা দূর হবে? পরিকল্পিত নগরায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; ড্যাব বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; নগরের খালগুলো দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাস্তবে রাজধানী ঢাকায় খাল আছে, কোথায় আছে তাই জানে না নগরবাসী। প্রশ্ন হলো, ড্যাব বাস্তবায়ন হলে ভূমিদস্যুদের কী হবে? এক টাকার পুকুর আর জমি কিনে ১০০ টাকায় বেচার স্বপ্ন যে তাহলে তাদের ভেস্তে যাবে। নগরের খালগুলো তো রাঘববোয়ালদের দখলে আছে। এগুলো দখলমুক্ত করে এ সাধ্য কার?

Taslima.Nasreen's picture

মৌলবাদ থাকলে নারী স্বাধীনতা থাকে না

নারী-স্বাধীনতা, মানবাধিকার, মানবতা, মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের অধিকার, গণতন্ত্র এবং ধর্মমুক্ত জীবনাচরণের সঙ্গে ধর্ম, ধর্মান্ধতা, ধর্মীয় কুসংস্কার, ধর্মীয় আইন, ধর্মীয় শাসন ইত্যাদির বিরোধ সবচেয়ে বেশি। এই বিরোধ আজকের নয়, যেদিন থেকে ধর্মের আবির্ভাব সেদিন থেকেই। নারীর অধিকারের কথা বলবো, কিন্তু মৌলবাদীরা আমার ওপর অসন্তুষ্ট হবে না, সুযোগ পেলে আক্রমণ করবে না, তা তো হতে পারে না। কেউ কেউ বলে, ওদের খোঁচাও কেন, বা উসকে দাও কেন, বা বাড়াবাড়ি করো কেন, তাই তো ওরা ফতোয়া দেয়, বা হত্যা করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর অর্থ মৌলবাদের কারণে নারীরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হোক, মৌলবাদ সমাজে ত্রাসের সৃষ্টি করছে করুক, মৌলবাদ নারীকে শেকল পরাচ্ছে পরাক, নারীকে অন্ধকারে বন্দি করছে করুক, কিন্তু নারী যেন মুখ বুজে থাকে। মুখ বুজে না থাকলে মৌলবাদীরা আবার নাখোশ হবে, রাগ হবে, গালি দেবে। এর ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, তা তো কিছুতেই হতে দেওয়া যায় না।
taslima nasrin
একটা সময় ছিল, সেই সময়কে বলা হয় 'দ্য ডার্ক এজেস' বা 'অন্ধকার যুগ'। খ্রিস্টানেরা ডাইনি আখ্যা দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতো মেয়েদের। হিন্দুরা মেয়েদের জ্যান্ত পোড়াতো, স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেতে বাধ্য করতো তাদের, পুরুষের বহুবিবাহ তো ছিলই, উত্তরাধিকার এবং মানবাধিকার থেকে মেয়েদের বঞ্চিত করা হতো, যৌনদাসী আর পুত্র উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবেই শুধু ব্যবহৃত হতো মেয়েরা।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা দেশবিরোধীদের চক্রান্ত

আজ বেদনাবহ ও ভয়ঙ্কর ২১ আগস্ট। ইতিহাসে জঘন্যতম কলঙ্কময় একটি দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিষ্ঠুর, অমানবিক ঘটনা হিসেবে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২১ আগস্টের এ হামলা। দেশের মানুষ ঘৃণাভরে স্মরণ করবে এ দিনটি। যেমন স্মরণ করে থাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বর।
hasina
মূলত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে এই বর্বরতম নিষ্ঠুর হামলা চালানো হয়েছিল। এই নির্মম হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ত্যাগী নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরপরাধ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। হামলায় শত শত মানুষ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন, চিরজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই। হত্যাকাণ্ডের মূল টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও তার দল। এর এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়ে যে নজির স্থাপন করেছে তাও বিস্ময়কর। তারা তাদের অস্তিত্ব ও শক্তি জানান দেয়ার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

জয় বাংলা বনাম জিন্দাবাদ

‘জয় বাংলা’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ এ দু’টি স্লোগান নিয়ে অনেক বছর যাবৎই বিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগের স্লোগান হলো জয় বাংলা আর বিএনপি’র স্লোগান হলো বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। আওয়ামী লীগ যদি জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই ক্ষান্ত থাকত, তাহলে সমস্যা ছিল না; কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই যে, আওয়ামী লীগ মনে করে যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয় না তারা পাকিস্তানের এজেন্ট। অতএব তাদের পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত।’ আর বিএনপি মনে করে জয় বাংলা স্লোগানটি তাদের প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। এখন আর জয় বাংলা স্লোগান দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বরং বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলাটাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।
joy bangla
আওয়ামী লীগের দাবি হচ্ছে জয় বাংলা হচ্ছে বাংলা স্লোগান আর জিন্দাবাদ হচ্ছে পাকিস্তানী স্লোগান, যেহেতু জিন্দাবাদ একটি উর্দু শব্দ। আওয়ামী লীগের এই দাবি সঠিক নয়। কারণ ‘জয়’ এবং ‘জিব্দাবাদ’ এই দু’টি শব্দই বিদেশী। তবে এ দু’টি বিদেশী শব্দই বাংলায় এখন স্থান করে নিয়েছে। বাংলা একাডেমির ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ ঘাঁটলে পাঠক তার প্রমাণ পাবেন।

মাদকের নেশায় সমাজ জীবনে বিপর্যয়

ড্রাগের নেশা কেবল আত্মঘাতী নয়, সমাজ, দেশ, সর্বোপরি বিশ্বব্যাপী ডেকে আনছে বিপুল বিপর্যয়। ব্যক্তিজীবনে যেমন ড্রাগ স্বাস্থ্য, সম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি নষ্ট করে ব্যক্তিকে করে তোলে সমাজের ঘৃণা ও নিন্দার পাত্র তেমনি সমাজজীবনেও নেমে আসে অস্বাস্থ্য, অলসতা, অকর্মণ্যতা এবং সামাজিক অপরাধের সীমাহীন অকল্যাণ। ধসে যায় তার রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, চাকরি, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত। আজকের পৃথিবীতে এই ব্যাধি পরিব্যাপ্ত দেশ থেকে দেশান্তরে। এই নেশার উপর ভর করে একদল নেশার কারবারি আজ মানুষ কর্তৃক মানুষ মারার নেশায় বুঁদ হয়ে ধ্বংস করতে যাচ্ছে বিশ্বের সর্বজনীন মূল্যবোধ, প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভক্তি মনুষ্যত্বকে সীমাহীন আত্মঘাতী নিষ্ঠুরতায়। নেশায় বুঁদ এসব নেশার কারবারি আজ নেশার বাণিজ্যে মেতে ড্রাগ পাচার এবং ড্রাগের অর্থে অস্ত্র হাতে বিশ্বকে করে তুলেছে সন্ত্রস্ত। তাই ড্রাগ কেবল ব্যক্তিজীবন নয়, সমাজ, সমষ্টি এবং বিশ্বজীবনেও ডেকে আনছে বিপুল বিপর্যয়। তারই খানিকটা তুলে ধরা এ লেখার উদ্দেশ্য।
drug
বিশ্বের প্রায় সবক’টি মহাদেশেই অবৈধ ড্রাগ উৎপাদিত হয় কিংবা ব্যবহৃত হয় যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশেও আফিম এবং ভাংয়ের প্রচলন সুপ্রাচীন। বিগত তিন দশকে হেরোইন, এম্ফিটামিন, কোকেন এবং নানা ভেষজ ওষুধ রাজধানীর মতো বড় বড় নগরগুলোতে প্রবেশ করেছে যা অবৈধ ড্রাগের ভয়াবহতাকে আরও উসকে দিয়েছে। এক সময় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল অর্থাৎ মিয়ানমার, লাওস ও থাইল্যান্ড কিংবা গোল্ডেন ক্রিসেন্ট অর্থাৎ আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান থেকে অবৈধ ড্রাগ বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে শুধু পাচার হতো কিন্তু আজ এই চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

Syndicate content