মনের ভিতর কাঁচাবাঁশ-অন্ধকার

আহম মাইনুল আমিন's picture

আমরা কেবলই কথা বলি| বলি যা- তা বুঝি না, যা- বুঝি তা বলি না| বুঝে বলতে গেলে কৌশলে বোল পাল্টাই, বাহানায় উল্টো দোষ খুঁজে বলি| বলতে বলতে ক্লান্ত হই, থামিনা| শুধু বলেই যাই, ভাবিনা- কেউ বুঝল কি বুঝলো না| আর কে কি বুঝলো তাতে কিছু যায় আসে ও না| এই বলার ভেতরে আমাদের অন্তর্নিহিত একটা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট| আমাদের তাই শুধু বলাই চাই| আহারের খোঁজে মাথাগোজা আধ-পাকা আরশোলারাও ক্লান্ত বর্ণচোরা মুখখানি লুকায় আড়ালে আবডালে| হায়রে মুখরা-দুনিয়া! আরশোলারাও লজ্জা পায়| আমরা পাই না| আদনা অমেরুদন্ডি অনাবৃত কেচো ও লজ্জায় মাটি ফুড়ে গর্তে ঢুকে পড়ে| কথায়, আচরণে তার চাইতেও নগ্ন আমরা| আমাদের চোখ-মুখ-চেহারা কোনটাই একটুও বিবর্ণ হয় না| আর এ জন্যে আগে থেকে একটি পক্ষ ও ঠিক করে রাখি| তা হলো রাজনীতি অথবা রাজনীতিকরা| রাজনীতিবিদরা পড়েছে ঠেকায়| তাদেরও রয়েছে অনেক ত্রুটি-বিচ্চুতি অপরিপক্কতা ও অজ্ঞতা| বাদ-প্রতিবাদ করলে সমর্থন হারায়- হয় ক্ষমতা যায়, না হয় ক্ষমতায় আশা যায় না|

আমরা সর্বদা মনের ভেতর এক খন্ড কাঁচা বাঁশের টুকরো লুকিয়ে রাখি কখন কাকে, কিভাবে আঘাত করা যায়- বাক্যবানে না হয় দেহ-শক্তিতে| বৃক্ষ কিংবা দেয়ালের ওপারে কে বা কি আর কিসের ছায়া আমাদের দিকে তির্যক উপহাস পাঠায় তা আমাদের দেখবার শুনবার বিষয় হবে কেন ? আমরা যা বলি তা-ইতো শুনতে হবে সবাইকে| আমরা অসাধারণ ক্ষমতাধর| আমরা যে কোন মতে, যে কোন পথে সমাজের, রাষ্ট্রের, শিক্ষাক্ষেত্রের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী| আমাদের ডিগ্রী- বহুবিধ শ্রেণী, গুণ, পেশায়, পদবীতে অন্যরকম শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে| আমাদেরকে কিছু বলবে-শোনাবে তাবৎ দেশে আর কে আছে এমন ? পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের পর্দা কাঁপানো ছবি আর শব্দঝড় তুলবার দেশ ছাঁকানো যে ক’জন তারা তো আমরাই| আমরা উপরেও যেমন- তলে তলেও তেমন| উপর-কা নিচ ; নিচ-কা উপর ; সব আমলেই একরকম| আর বাকি সব গোয়ালের লেজ-কাটা গাই-বলদ| সুতরাং যা-ই বলি তার উপরে বলবার সাহস কার! মিথ্যা আর পক্ষপাতদুষ্ট যা কিছুই বলি বা লিখি না কেন আমাদের ছাড়া প্রচার মাধ্যমেরও আর কোন উপায়ই নেই| এমন সাহসী ও আর কেউ হতে চাইলেই আমাদের হাতে দিগম্বর যে হতে হবে তা সকলেরই জানা|

আমরা কাউকেই ছেড়ে কথা বলি না, পাত্তাই দিনা পছন্দের না হলে|সত্য স্বীকার এবং বলা কোনটাতেই আমরা অভ্যস্ত নই| পছন্দের বা কাছের কিংবা স্বার্থপুষ্টদের দোষত্রুটি কোনমতেই খুজিঁনা| এখানেই আমাদের অন্ত:সত্ব স্বার্থ জড়িত| যাকে একবার টার্গেট করি তাঁর সর্বস্ব বিনাশ করে দিগম্বর না করা পর্যন্ত আমাদের আত্মা শান্তি পায় না| কেননা বাকি সবইত কানা গোয়ালের ষাড়| এ জন্যে ভাড়াটে খেটেও চড়ামূল্য পাই| না হলে যে বিশেষত্ত্ব বলতে কিছু থাকে না| আম-লোকে না বুঝে আমাদেরকে আদর করে বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সম্পাদক, কলামিস্ট, টক-শো হোস্ট নামে ডাকে এবং আসন ছেড়ে বসতে দেয়| মাথাওয়ালারা ও এই নামেই গালি দেয়| অসুবিধাটা কোথায় ? আমরা যে- যেকোনভাবেই একই থাকি|

ছোট আব্বাস লাল ছাগলের মুখে রং আর দাড়িতে মেহেন্দি মেখে দুষ্ট মৌলভী-মত সাজিয়ে জিনের বাদশাহ নাম রেখেছিল| আব্বাসের সুবিদা ছিল ছাগলের শিং দুটো এমনি মোটা ও পিছনে বাঁকা ছিল যে- প্রথম দেখাতেই তা বুড়ো মানুষের(চুল-দাড়ি-গোপে মেহেন্দি লাগানো ভন্ড হুজুরটাইপ) কপালের মতই দেখাতো| ছাগলটি জন্ম থেকেই বোবা ও পার্কিনসন্স রোগী ছিল এবং ডানে-বামে মাথা নাড়াত| তবে কানা ছিল না| শুধু জাবর-ডেকুর তুলতে একটুখানি মাথা উপর-নিচু করতো ; তাতেই- হয়েছে! হয়েছে! ; না-! না-! ---এটাই ছিল আব্বাসের জিনের কেরামতি| আব্বাস তার ‘ছাগ-জিন ফীর’ নাম ও দিয়েছিলো| গলায় শত-জোড়া রঙ্গিন কাপড়ের মালা আর এক খানা কালো ছাতার কাপড়ে গা-মাথা ঢেকে আসর জমিয়ে দেদার অর্থও উপার্জন করছিলো আব্বাস| গ্রামের বৃদ্ধ পণ্ডিত মশাই- নিশ্চিত অমঙ্গল জেনে ছাগলটিকে দুর্দশা থেকে বাঁচাতে প্রকৃত সত্য অবস্থা বলে সৎ ভাবে সকলের কাছে সাহায্যের জন্যে আব্বাসকে উপদেশ দিয়েছিলেন| বাধ সাধে কিছু ভোগী, ভক্ত আর ক’জন হালের কানা পণ্ডিত মশাই| এই মশাইরাই এতদিন চারদিকে পঞ্চমুখ মহীয়সী ছাগ-জিন পীরের প্রচার-প্রসার করে গোপনে টু-পাইস ; থ্রি-পাইস কামাচ্ছিলেন|সত্য প্রকাশে পঞ্চমুখী মশাইদের কামাই-রুজিতে বাজ পড়ে| তাই ভদ্রবেশী এই সব মশাইরাই ছাগ-জিন নহে সবার শ্রদ্ধেয় বৃদ্ধ পণ্ডিত মশাইকেই কাঁচা বাঁশে ছেচে দিগম্বর করতে উঠে পড়েই লেগে যায়|

আজিকার দিনের পঞ্চমুখী কানা-খুড়ো এই পণ্ডিত মশাইদের এরূপ কীর্তিনাশা কর্মই- আরাধ্যকর্ম দেখে সত্যিকারের পণ্ডিত মশাইরা ঘৃনায় অপমানে ক্ষোভে দুঃখে নির্বাক নিশ্চুপ অসার হয়ে পড়েছেন| হায় রে দুর্ভাগা দেশ! কী নির্মম মিথ্যাবাদী জ্ঞানপাপীদের খপ্পরে পড়েছে জাতি ! এদের প্রায় সকলেই মনের ভেতরের কাঁচা বাঁশ-খন্ডটি সর্বত্রই একপেশে প্রয়োগ করেন তাদের অপছন্দের কাউকে যখনই সুযোগ পান| কথাই বলে-
চোরের সাক্ষী বাটপার!
চোরের বাজি মাত কার!
চোর পুত্রের চৌর্যে চলা!
চোরের মার বড় গলা;
চোরের ঘরে শত তলা!
চোরের ভাষা ছলা কলা|

কিছু প্রকৃত সত্য এখানে উল্লেখ না করলে নয়| যদিও এখন সত্য সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলে-
ছাত্রের হাতে বই, খাতা, কলমই থাকবার কথা- কিন্তু প্রাণঘাতী এসব অস্ত্র থাকবে বা দেখা যাবে কেন ? এরা তো লেখা পড়া শিখে মানুষ হয়ে বাঁচবার কথা- এভাবে জানোয়ার হওয়া কেন ? যারা এসব অস্ত্র-যন্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয় ছাত্ররা আগে নিজ নিজ সংগঠনে তাদেরকে এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদেরকে প্রতিরোধ করেনা কেন ? কলেজ বিশ্ব-বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এমন কে আছে যে, অস্ত্র আর বই-খাতা-কলম চিনেনা ? ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে অস্রধারীদের এসব ছবি ও বায়োডাটা ভবিষ্যত নিয়োগ কর্তারা যে সংগ্রহে রাখছে তা কি তারা বুঝে ? বর্তমান লালন-পালন কর্তারা বখাটে যাওয়া এসব ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যত দায়ভার বহন করবে কি ? ছাত্ররা এসব কেন বুঝেও বুঝে না ?

প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মিছিল, মিটিং, শো-ডাউনে প্রায়শই(ইদানিং ক্ষেত্র বিশেষে একটু কমেছে) এসব বাঁশের লাঠি, অস্ত্রের ঝনঝনানি চোখে পড়ার মত| এরা জাতিকে শুধু কি কাঁচা বাঁশের লাঠিই দিতে থাকবে ? জাতির জখমের দাগগুলো মুছবে কবে ? দুষ্ট রাজনৈতিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কম যায় না| এরূপ দুষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রমোশন যে আঁটকে যাবে তা তারা জানে কি ?

রাষ্ট্রের দু:সময় দুর্দিনে জাতির আশা-ভরসার পাত্র যারা সুস্থ মস্তিষ্কে উপদেশ দিয়ে নির্দেশনা দিয়ে কথা ও লেখনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রকে, জাতিকে রক্ষা করবার কথা তাদের অধিকাংশই যেভাবে হিংসা, বিদ্বেষ, পারস্পরিক কলহ, দুর্নীতি, অবিশ্বাস, মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও প্রতারণায় নিমগ্ন রয়েছেন- রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাষ্ট্র ও জাতিকে বাঁচাবে কে ?জাতির পাশেই দাঁড়াবে যে শ্রাদ্ধজন তাঁকে খুঁজতে হবে কোথায় গিয়ে ?

যারা জনগনের ভোটে অথবা সমর্থনে রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারবেনা জানে(অতীতে ছিল বা বর্তমানে নতুন অনেকে) তারাই এখন কারো করুনা বা দয়াই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে জায়গা পেতে অনির্বাচিত, অসংবিধানিক, অনৈতিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জিগির তুলে বেহুদা ঝগড়া বাধাচ্ছেন| এদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা সাধারণ মানুষকে সালাম দিতে বা নিতেও জানেনা বা কুন্ঠা বোধ করেন | সাধারণ মানুষের ধুয়া যারা তুলছেন সাধারণের মনের কথা তারা কিছুই জানেন না| দেশে যখন কোন আন্দোলন সংগ্রামই নেই- মাত্র ক’টা মিছিল, মিটিং, লং-গাড়িমার্চ দেখে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন| এর থেকে দশগুণ বেশী মানুষ এসব মোকাবেলার অপেক্ষায় আছে|

এখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে একটি কথা অবশ্যই স্মরণ করতে হয় যে- দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক মাননীয় প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান সাহেবের মত বিজ্ঞজন আর দশজন এক হলে অচিরেই দেশটা সত্যিকারের মর্যাদাশীল স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের অবস্থানে দৃঢ় হত | তেমন মেধাসম্পন্ন লোকের সংখ্যা ও দেশে এখন কম নয়| আর তা হলেতো আমজনতা হয়ে কাক-কেউটের ঝগড়া দেখতেও হত না, তা নিয়ে লিখতে হত না |

সম্প্রতি পত্রিকায় ‘কাঁচা বাঁশের লাঠি’ সম্পর্কিত এক খানা লিখা চোখে পড়ল| আদ্যপান্তে- বাঁশ সম্পর্কে লেখকের অন্তরাত্মার উপলব্ধি মর্মস্পর্শি কিন্তু ব্যবহার একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট মতেরই প্রতিফলন| তিনি যেভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরীর কিছু পদের জন্যে হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির জনৈক সাংসদ, নেতা, কর্মী, সমর্থক কর্তৃক জনতার উপর কাঁচা বাঁশের লাঠির ব্যবহার ; ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিকলীগ কর্মচারী ও ছাত্রলীগের অবরোধ, ধর্মঘটের ডাক ; বিগত (বিএনপি/জামাত সরকার কর্তৃক গঠিত) তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে(২০০৬) বিএনপি ও জামাত জোটের নেতা, কর্মী সমর্থক কর্তৃক ইট-পাটকেল, গুলি-বোমা, রাম-দা, ছেনি, কিরিচ, বাঁশের লাঠি, লোহার রড, শিক, হুক ইত্যাদি দিয়ে তৎকালীন বিরোধীদল(বর্তমানে ক্ষমতাসীন) আওয়ামীলীগ এর নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক (বিএনপি’র রাষ্ট্রপতি ইয়াজুদ্দিনের নেতৃত্ত্বাধীন ছাড়া) সরকারের ন্যায্য মিছিলের উপর আক্রমনকে- পানি ছিটালেই- (আওয়ামীলীগ কর্তৃক)লগি-বৈঠার বাঁশের ব্যবহার ইত্যাদি ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন| কিন্তু বর্তমানেও যে আর একটি দল/জোট(বিএনপি-বর্তমান প্রধান বিরোধী দল + জামাত) যেভাবে কাঁচা বাঁশের চিল্লার মাথায় ধানের শীষ বা শীষের গোছা বেধে উম্মত্ত মিছিল করে এবং সরকারী দল, পুলিশ ও অন্য সাধারণের উপর এমনকি নিজ দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের উপর ও মিছিল, মিটিং এ মারমুখী আঘাত হানে ; রক্তাক্ত করে (তাদেরই দলের প্রধান নেত্রীর লং-গাড়িমার্চে নোয়াখালি এবং কুমিল্লায়); ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিকালে মুক্তিযুদ্ধা সম্মেলন ডেকে তার আগে ভোর রাতে অতর্কিতে অস্ত্র, বোমা, রাম-দা, কিরিচ, ছেনি, বাঁশের লাঠি ইত্যাদি দিয়ে সাধারণ মানুষকে আঘাত, হত্যা, গাড়ি, বাড়ি ভাংচুর, পুলিশকে আক্রমন করে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় অস্ত্র ছিনতাই করে বাসে আগুন দিয়ে বৃদ্ধ নিরীহ সাধারন মানুষকে হত্যা, একইভাবে ১৩ই আগস্ট,২০১১ তারিখে প্রয়াত মিশুক মুনির,তারেক মাসুদ যখন সড়কে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন একই সময়ে ঢাকায় বিএনপি+জামাত জোট সমর্থিত গ্রুপের জঙ্গী আক্রমণ; গত সেপ্টম্বরেও একই স্টাইলে বিএনপি+জামাত জোট আরও একটি জঙ্গী আক্রমণ করে যে ধংসযজ্ঞ চালায় ইত্যাদি ইত্যাদি সে সম্পর্কে বেমালুম তিনি ভুলে গেলেন কিভাবে! কী আশ্চর্য! অন্ধ মুনির হাতি দর্শন!

ওনার হিসাবটা এমন- রংপুর মেডিকেল কলেজে তৃতীয় শ্রেণীর চাকুরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮১টি পদের মধ্যে ১৪ দলের(ক্ষমতাসীন মহাজোট) আওয়ামীলীগ=৭০টি অর্থাৎ=৪০% ; জাতীয় পার্টি(এরশাদ)=২২টি=২০% ; অপর বাকি ১২ দল=৫টি=৫% করে ৬০টি=৬০% অর্থাৎ মোট= ১০০% পদ দখল করে নিয়েছে|বিরোধী দল/জোট কেউই কোনো পদ-পদবি পায়নি| এই হিসেব মতে বিরোধী দলগুলো বিগত তিন বছরে কোনরূপ চাকুরিই পায়নি| ব্যবসা; বাণিজ্য; টেন্ডার; বাজ-বাজি কোনো কিছুতেই বাকিরা কিছু পায়নি| দেশের মানুষকি এতই বোকার স্বর্গে বাস করে ? সরকারের বাহিরে প্রায় ৩৫%-৪০% লোকের দলের কেউই কিছু পেলো না আর তারা চোখ বুঝে বসে থাকবে| এত পাগল কি বাংলাদেশে বাস করে ? অন্য সব দলের ভাগ্যবানরা একথা শুনে হেসেই ফেলেছেন| তাদেরই ভাষায় এটা নেহায়েতই মিথ্যাচার|

শুভঙ্করের ফাঁকি! ৩৬ থেকে ৩,৬ গেলে আর কত বাকি! সুত্রটি পণ্ডিত মশায়ের আধুনিক রাষ্ট্রের যে কোনো ক্ষেত্রেই অচল| কথাটা এভাবেই খাটে=৩৬-৩,৬(দু’টি অংক)=৩৬-(৩+৬) =৩৬-৯=২৭| অংকটি এভাবে হলেও বিশ্বাস করা যেতো| অর্থাৎ- ক্ষমতাসীনরা= ২৭, আর বিরোধীদল= ৯|

ওনারই ভাষায় বাংলাদেশে আর এক ধরনের দল আছে তারা যখন প্রয়োজন সরকারী দল এবং সরকারে থেকেও প্রয়োজন মতো বিরোধী দল| বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ ধরনের দল কয়েকটি আছে| এগুলো সরকারী দল ও আবার বিরোধী দল ও| আবার বিভিন্ন দলগুলোতে ও রয়েছে একশ্রেণীর সুবিধাবাদী শিক্ষিত-অশিক্ষিত চাটুকারমার্কা লোক; পাতি নেতা; পাতি বুদ্ধিজীবি| কারণে-অকারণে এরা বোল পাল্টায় ; শ্রী-রূপ ধরে|

আর রাজনীতিক দলগুলোর বিরোধিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতির বিবেক নামের বুদ্ধিমস্তিস্ক , প্রচার মাধ্যম, প্রজাতন্ত্রের সরকারী বেসরকারী অসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও ছলচাতুরিমূলক তামাশা| এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে যে- গোপন-প্রকাশ্য সম্পাদিত সকল কর্মের যথার্থতা বাস্তবায়নে জোর জবর্দস্তিতার আশ্রয়ে বিরোধীদলকে ধরপাকড় আটক, পেটাও নীতিতে সরকারী দল ব্যস্ত থাকে| বিরোধী দল জেনে শুনে কিংবা জানার জন্যে সংসদে না গিয়ে না জানার অজুহাত তুলে অগ্রগতি রোধে জোর জবর্দস্তিতার আশ্রয়ে হত্যা, খুন, ভাংচুর, অগ্নি-সংযোগ, অবরোধ, মানব-বন্ধন, পুড়িয়ে মারা, রাষ্ট্রের এবং ব্যক্তিগত সম্পদ বিনষ্টসহ যে কোনো রকমের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকে|

মৌলিক পার্থক্য এই যে- এক শ্রেণীর কিছু ক্ষেপামস্তিস্ক- যারা ঘটনার ঘনঘটার আগেই গল্পের ছাগ-ফীরের আব্বাসের মত: আছে-; আছে-; না-; না -; বলে পুষ্ট হবার আগে অজাত সন্তানের আগাম গর্ভপাত ঘটায়ে ফেলেন কিংবা জঠরেই তার ভুমিষ্টতা সম্পন্ন করেন, আর না হয় অমুকের- তমুকের বাবা-মা নামকরণ করতে ও দ্বিধা করেন না| আর এ নিয়েই স্ব-ঘোষিত জ্ঞানপাপী শব্দ কাবিল ও প্রচার মাধ্যম সমুহের তেলেসমাতিতে দেশ বা জাতিকে কখনো একেবারে বিভ্রান্তির ধুম্রজালে কালিমা লেপে দেয়াই যেন এদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য | কথা দাড়ায় তাহলে- কে কাকে দোষবে| এত দোষাদোষীর মধ্যে কি বা কোন ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যায় ? তিলকে তাল করাই যাদের অভ্যাস তাদের কি নামে ডাকা যায় ? আর তাদের অযৌক্তিক, অনৈতিক, অনুচিত, অযাচিত কথাইবা জাতিকে বিশ্বাস করতে হবে কেন ? তাদেরকে এভাবে ভারাটিয়াইবা খাটতে হবে কেন ?

এদের মধ্যে এক শ্রেণী একটা অন্ধ অভিলাষ মনে তোষণ করেন যারা সাকো ফসকে জুমার গোসলই সেরে ফেলতে চান| দেশে সুপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা নিজেরাই ক্ষমতার স্বল্প-দীর্ঘ স্বাদ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন| কারো কারো সাধু-সন্ত ‘অনুমান ফীরের’ সেলাইবিহীন পোশাকি বেশ দেখে আগাম একটা লক্ষণ ও বুঝা যায়| কেউ কেউ আবার হাজী টাইপ আলখাল্লা জড়িয়ে শহীদ মিনারে মুসলমানের পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করে নও মুসলিম মৌলভী সাজতে ও দ্বিধা করেন না| এমন ধৃষ্টতা প্রদর্শনেও এ শ্রেণীর জ্ঞানপাপীরা সামান্যতম কুন্ঠিত হন না|

মাত্র কিছুদিন আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সর্বজন গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডাকেন| রাষ্ট্র, জনগণ এবং রাষ্ট্রপতিকে সম্মান প্রদর্শন করে প্রায় সব দলই অংশগ্রহণ ও করেন| সমযোতার একটা পরিবেশ যখন হচ্ছিলো- ক্ষেপা শব্দ-কাবিলদের একজনতো টেলিভিশনের বিভিন্ন টক-শোতে বলেই ফেললেন সংলাপ-টংলাপ; সমজোতা-টমজোতা এসব কিছুই না| প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার এটা কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়| ভাওতাবাজি! এক প্রধানমন্ত্রী বনাম ১৬কোটি মানুষ|

প্রধানমন্ত্রীকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করলেই সব ফাঁস হয়ে যাবে| তিনিই এসব করাচ্ছেন| ভদ্রলোক হলফ করেই এসব বলেছেন| প্রশ্ন হচ্ছে এই কথাকাবিল কি করে জানলেন যে- প্রধানমন্ত্রীই এই নাটক করছেন| প্রধানমন্ত্রী কি তাকে একথা ডেকে বলেছেন ? তার সাথে কি পরামর্শ করেছেন ? অথবা প্রধানমন্ত্রীর গোপন পরামর্শগুলো এই কাবিল কী করে জানলেন ? বাংলাদেশে বর্তমানে তিনজন প্রফেশনাল চাপাবাজ ও গালিদাতার মধ্যে ইনিও একজন| জনতার কাতারে এনে জিজ্ঞাসা করলে তার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে দেশবাসীর তার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত| আর মিথ্যা যদি হয়- তাহলে গণধোলাই এই ধরনের অথর্ব কাবিলদের প্রকৃত পাওনা নহে কি ?

আর একজনতো দশ ধাপ এগিয়ে জাতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে- বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধী দেলওয়ার হোসেইন সাইদী সম্পর্কে বলেই ফেললেন- ‘সাইদী রাজাকার ছিল না, তার যুদ্ধাপরাধ নাকি প্রমাণ ও করা যাবে না|’ ইনি আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকি আইনের শিক্ষক| আফসোস! এ জঘন্য জ্ঞানপাপী জনতার মঞ্চে যুদ্ধাপরাধের বিচারে এবং তদন্তে সাইদীর যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমানাদি যোগাড় ও উপস্থাপন করেছিলেন| দু:খ হয় এ ধরনের মুখচোরারা জাতির এতবড়ো গুরু দায়িত্বে ঢুকে পড়ে কিভাবে ? কিছুদিন আগে জনাব মাহমুদুর রহমান মান্নার পরিচালনায় একটি টক-শো অনুষ্টানে ওনাকে করা সর্বজনাব শাহরিয়ার কবিরের সরাসরি প্রশ্নে ইনিয়ে বিনিয়ে করছিলেন- যেনো তিনি কিছুই জানেন না|

ইসলামের ঐতিহাসিক বর্ণনায় মানব জাতির প্রধান শত্রু মুনাফেক সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কথিত চরিত্র আর এই বর্ণচোরা; মুখচোরাদের চরিত্রে এক অদ্ভুত মিল দেখা যায়| তার এ বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে বাঙালি জাতির আগামী দিনের দূত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়, মিছিল করে| যদিও এটা উচিত ও নহে যথেষ্ট ও নহে| তার আগে তিনি অবশ্যই বাক্যচ্চুতির অজুহাতে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে পারতেন| তিনি তা করেন নি| বাংলাদেশে বর্তমানে তিনজন প্রফেসনাল কুচক্রী মুখচোরা গালিদাতার মধ্যে ইনি অন্যতম| এ তিনজনের চরিত্রে কানসুখটাইপ একধরনের মিলও আছে| সময় বুঝে ওনারা খঞ্জরের উভয় দিকেই কাটেন| এদের কেউ কোন টিভি চ্যানেল যে টক-শোতে আসেন সে চ্যানেলই অনেকে এখন বর্জন করতে শুরু করেছেন| গণতন্ত্রে মত প্রকাশের অধিকার আছে| তাই বলে নিজের এবং জাতির সঙ্গে ক্রমাগত মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র ও প্রতারণাতো গণতন্ত্রের ভাষা কিংবা অধিকার কোনটাই হতে পারে না|

যুদ্ধের সময়ের কথা- আমার এলাকায় একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় স্কুল শিক্ষক (মুসলিমলিগার) পাকিস্তানিদের পক্ষ হয়ে চায়ের দোকানে রাজাকারদের এ দেশের সুযোগ্য সন্তান বলেছিলেন| তৎক্ষণাত উপস্থিত জনতা তাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে টিন পিটিয়ে হাজার মানুষের সামনে সমস্ত বাজারে অপরাধের স্বীকারুক্তি করিয়েছিলো| কর্ণ কর্তনেরও সিদ্ধান্ত ছিল- তবে সেটা তাকে করুনা করা হয়েছিলো গোপন-কর্ম না করার শর্তে| যুদ্ধের পর তিনি ২০ বছর বেচেঁছিলেন| কিন্তু ভুলেও আর এই দেশ ও জাতিকে নিয়ে টু-শব্দটি পর্যন্ত উচ্চারণ করেন নি| বরং কর্মদোষে লজ্জায় লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন| বিষয়টি আজ আবার নতুন করে ভাবতে হবে| জাতির সুযোগ্য সন্তানেরা বর্তমান সময়ের এসব জ্ঞানপাপীদের কথার সমুচিত জবাব দেবেই- নি:সন্দেহ|

১৪০০ বছর আগের মুনাফেক; বেইমান; কাফের; শব্দগুলি এদের বেলায় এযুগে জ্যুতসই নয়| তাই এদেরকে এদেরই উপযোগী একটি নতুন নাম- “নওঘাতক-হারামজাদা” এ নামেই অভিহিত করা যেতে পারে|

হায়রে স্ব-জ্ঞান বুদ্ধিজীবি! নিরপেক্ষতা আর সত্যবাদিতা শিখতে কি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লাগে ? এই সহজ সত্যটি আম জনতাও ভালো বুঝে| বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সুবাদে মানুষ সব দেখে শুনে বুঝে শিখে| শুধু মিথ্যাচার আর চাপাবাজি করে বোকা হতে হয় ; বোকা বানানো যায় না|

বিচারাধীন মামলা, তদন্তাদিন কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনা, সংবেদনশীল-অসংবেদনশীল সব বিষয়েই এসব সুবিদাবাদী সুযোগ-সন্ধানীদের দৌরাত্ব অবশ্যই জাতিকে অন্ধকারে রেখে ঘোলাজলে মাছ শিকার নয় কি ? এসব নামধারী শিক্ষিত শ্রেণী-গোষ্টি দেশ ও জাতিকে এক কথায় যতটুকু সহজে বিভ্রান্ত করতে পারে রাজনৈতিক দলগুলো অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন সংগ্রামে ততটুকু ক্ষতি করতে সক্ষম হয় না| এখন জাতির প্রকৃত শত্রু-মিত্ররা সময়ের পরীক্ষায় উপনিত| আর এ যাত্রায় শত্রু-মিত্র চিনতে ভুল হলে- স্বাধীনতা পর্যন্ত বিপন্ন হতে পারে ; হতে পারে বড় কোনো ধরনের মেসাকার এবং আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত স্বপ্ন-ভঙ্গ|

আহম মাইনুল আমিন, ফ্রিলেন্স রাইটার, mainulamin71@yahoo.com

Comments

আহম মাইনুল আমিন's picture

Thank You Green Bamboo!

Thank You Green Bamboo!

Green bamboo

Aren't you one of those who are misleading the nation using your green bamboo?

JS