ড. মুহাম্মদ ইউনূস : একজন রক্তচোষা কুষীদজীবীর দারিদ্র বিমোচনের অলীক স্বপ্ন

ভাবতে ভালোই লাগে,দেশ এগিয়ে যাচ্ছে,তবে গাজী প্লাস্টিক ট্যাংকের জন্য নয়,আমাদের ডঃ ইউনূস সাহেব,তার গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দারিদ্রকে জাদুঘরে পাঠানোর যে মহান পরিকল্পনা নিয়েছেন তাতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে,সেই ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি তার মহতী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণব্যাংকের মাধ্যমে এদেশের আপামর জনগোষ্ঠীর দারিদ্র দূরীকরণ করে যাচ্ছেন। ওনার কঠিন সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ আজকে অর্থনৈতিকভাবে এতোটাই সমৃদ্ধ যে এখনো জনসংখ্যার এক বিপুল অংশকে গ্রামীণব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করতে হয়,ইউনূস সাহেব যখন তার চিরাচরিত মিষ্টি হাসি হেসে সদম্ভে ঘোষণা করেন যে তার এক কোটি ঋণগ্রহীতা রয়েছে,তখন স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে ১৯৭৬ -২০১১ পর্যন্ত উনি করলেনটা কি ? দারিদ্র বিমোচন করলে ঋণগ্রহীতা থাকবে কেন,তাও আবার ক্ষুদ্রঋণ ! স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে বাংলাদেশের কিঞ্চিৎ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে বৈদেশিক রেমিট্যান্সের অর্থে। তাই যুক্তিতর্কের খাতিরেই হোক কিংবা পরিসংখ্যানের বিচারে,ইউনূস সাহেবের ক্ষুদ্রঋণ-তত্ত্ব দিয়ে দারিদ্র বিমোচনের অলীক স্বপ্ন ধোপে টেকে না। তবে একদিক থেকে তিনি কিন্তু দারুণ সফল,মধ্যবিত্ত শিক্ষকের অবস্থান থেকে আজকে উঠে এসেছেন মহাবিত্তবানদের কাতারে,তার দেওয়া ঋণে এককোটি জনগোষ্ঠী বিত্তবান হতে না পারলেও তিনি কিন্তু চড়া সুদ আরোপ করে ঠিকই নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন,দেশ দারিদ্রমুক্ত না হলেও অঢেল সম্পত্তির মালিক ঠিকই হয়েছেন । 

 

 

 

 চিত্রঃ ডঃ ইউনূস আর রক্তচোষা কাউন্ট ড্রাকুলার মধ্যে কত মিল দেখুন

 

প্রায়ই তিনি বিদেশ সফরে যান,বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান-প্রধানমন্ত্রী আর রাঘব বোয়ালদের সঙ্গে বন্ধুত্বস্থাপনে বড়ই পুলকিত বোধ করেন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তো ওনার ইয়ার দোস্ত,তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে দিয়ে ইউনূস সাহেবের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারকে হুঁশিয়ারিবার্তা পাঠান। শুধু বিল ক্লিনটনই বা কেন,জন কেরী,বারাক ওবামা,স্পেনের রানী সোফিয়া,জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল সহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা এখন বন্ধুত্ব রক্ষার মহান তাগিদে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে –মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি। স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে,আমাদের ইউনূস সাহেবের প্রতি বিদেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের এত দরদ উথলে পড়ছে কেন ? দেশের আভ্যন্তরীণ একটি বিষয় যেখানে আইনগত কোনরূপ দ্ব্যর্থকতার সুযোগ নেই, ষাট বছর যেখানে সকলের জন্যই প্রযোজ্য সেখানে আইনকে চ্যালেঞ্জ ও শিশুসুলভ কান্নাকাটি করে বিদেশিদের কাছে ব্যাপারটাকে নিয়ে যাওয়ায় কি এটাই প্রমাণিত হচ্ছেনা যে, ইউনূস সাহেব আসলে বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীরই তল্পিবাহী ধারক এবং পোষক ? বিদেশে গেলেই উনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তার সম্পর্কে যেন পত্রিকাগুলোতে বেশ বড় কভারেজ দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়,বিদেশী চ্যানেলগুলোতে ইন্টারভিউ দিতে উনি খুবই পছন্দ করেন,ধন্য ডঃ ইউনূসের এমন নজিরবিহীন আত্মপ্রচার। শুধু তাইই নয়,স্তব-স্তুতি করার জন্য উনি একদম ফ্রন্টে দাড় করিয়ে রেখেছেন বলির পাঠা সেই দরিদ্র -অসহায় ঋণগ্রহীতাদের,যারা সামান্য কিছু টাকার জন্যে অনন্যোপায় হয়ে সারাদিন গ্রামীনব্যাংক কর্মকর্তাদের পূর্বনির্দেশ অনুযায়ী মানববন্ধন করে যাচ্ছেন আর পেছনে রিজার্ভ রেখেছেন আমাদের দেশের কিছু বুদ্ধি-ব্যবসায়ীদের –যারা এদেশে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজ বলে পরিচিত,এদের নিয়েই উনি ওনার স্বপ্নের রাজনৈতিক দলটি গঠন করতে চেয়েছিলেন। এই সুশীল সমাজের কুঃশীল ব্যক্তিবর্গ সমাজ এবং রাষ্ট্র থেকে সকল সুযোগসুবিধাই ভোগ করেছেন,ব্যাংকব্যালেন্স বাড়িয়েছেন,অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন,গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন,একজোট হয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে সুশীলসমাজ বলে সদর্পে ঘোষণা করেছেন,লুটপাটের অর্থে ভগ্নসাস্থ্য থেকে বেশ মোটাতাজা হয়েছেন,শরীরে জোর পেয়ে এখন এনারা আইনকে পাত্তা দিচ্ছেন না,আইন যে সকলের জন্য সমান – এই কথাটা এনারা বেমালুম ভুলে যান ! এনাদের মাত্রাতিরিক্ত ইউনূসপ্রীতি দেখে বাংলা এই প্রবাদটাই মনে পড়ে যায় –‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’।

 

প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকে ডঃ ইউনূসের আস্থাভাজন ব্যক্তিবর্গের আলোচনায় বক্তারা ইউনূস সাহেবের পক্ষে সাফাই গাওয়ার পরও মানতে ঠিকই বাধ্য হয়েছেন যে, ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের হাতিয়ার নয়। মোস্তফা কে মুজেরী বলেন,বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলে ক্ষুদ্রঋণকে বাইরে রাখছি। অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দিয়েই শুধু দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। মাহবুব হোসেন জানান,দারিদ্র্য বিমোচনের জন্যই শুধু ক্ষুদ্রঋণ প্রবর্তিত হয়নি। ডঃ ইউনূসকে সমর্থন করতে যেয়ে বক্তারা অভিযোগ তুলেছেন, প্রচলিত ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়ার পেছনে সরকার দায়ী, উঁচু জায়গায় বসেই শুধু বলা যায় যে, ক্ষুদ্রঋণ কিছু করতে পারেনি। ক্ষুদ্রঋণ না পেলে দরিদ্ররা তাদের সহায়-সম্বল বিক্রি করে দিয়ে দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। আগে প্রতিবছর ১% হারে দারিদ্র্য কমত,এখন ১.৫% হারে কমছে, বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন ক্ষুদ্রঋণ দেয়নি, ৮ শতাংশ ঋণগ্রহীতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে সফল হয়েছেন, ক্ষুদ্রঋণের একটি রূপকল্প থাকে আর বাণিজ্যিক ব্যাংকের মুনাফামুখী চেষ্টা থাকে, নারীর ক্ষমতায়নে ক্ষুদ্রঋণ ভূমিকা রাখছে, ইত্যাদি।

 

বিজ্ঞ বন্ধুদের প্রতি আমার প্রশ্ন, কতিপয় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছেনা বলে কি ডঃ ইউনূস অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার বৈধতা লাভ করেন ?  কতিপয় অপরাধীকে ধরা যাচ্ছেনা বলে কি ধৃত অপরাধীকেও বেকসুর খালাস দিতে হবে ? আপনাদের প্রত্যেকেরই গাড়ি-বাড়ি-অঢেল সম্পত্তি রয়েছে, সমাজের উঁচুস্তরে আছেন বলেই আজকে প্রথম আলোর গোলটেবিলে বসতে পেরেছেন, সেখানে বসে মহাবিত্তবান ডঃ ইউনূসের স্তবস্তুতি করে যাচ্ছেন আর দোষ দেন আমাদের মত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদেরকে। দারিদ্র কমার পেছনে বৈদেশিক রেমিট্যান্স এবং আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি জড়িত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কঠোর শ্রম জড়িত। বানিজ্যিক সকল ব্যাংক তো আর বিশেষায়িত ব্যাংকের সুযোগসুবিধা লাভ করেনা, তারা ক্ষুদ্রঋণ কেন দেবে আর কিভাবেই বা দেবে ? সরকার আপনার ব্যাঙ্ককে ৪০% সুদের সুবিধাটা দেন,কোল্যাটারেলের সমস্যায় পড়তে হয়না আবার ব্যবসাবাণিজ্যে করমুক্তির সুবিধাটাও পাচ্ছেন,এরূপ সুবিধা যদি অন্যান্য ব্যাংকগুলো পেত তাহলে কি তারাও আপনার মত এমন ফুলে ফেঁপে উঠত না ? গ্রামীনব্যাংক এই সুবিধা পায় বলে তারাই তো ঋণ দেবে, তবে সুদের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করে। ৮% শতাংশের বিপরীতে বাকি ৯২ শতাংশের খবর কি, কই সেটা তো বললেন না ? বানিজ্যিক ব্যাংকের সবচেয়ে বড় উদাহরণ তো গ্রামীণব্যাংক, ২৬-৪০% চড়াসুদে মুনাফা লোটার পরেও বলতে চান, ডঃ ইউনূস বানিজ্যিক নন ? যথার্থ শিক্ষার মাধ্যমে নারী স্বাবলম্বী হবে যা নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের পথ সুগম করবে, অশিক্ষিত নারীকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে এবং অযাচিতভাবে ডিরেক্টর বানিয়ে নারীর প্রকৃত মুক্তি কখনোই আসবেনা। সাধারণ জনগণের অশিক্ষার সুযোগ নিয়ে আমাদের শিক্ষিত জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবীরা আইন বহির্ভূত যা খুশী তাই বলে আর কতকাল এভাবে লোক ঠকাবেন ?

‘সাপ্তাহিক’ ম্যাগাজিনে জনাব গোলাম মোর্তজার ‘বাংলাদেশ……ডঃ ইউনূস’ শীর্ষক কলামটি পড়ে এটাই বোঝা গেল যে আমাদের দেশের জনসাধারণ মুখসর্বস্ব আর প্রচারসর্বস্ব দেশপ্রেমে অন্ধ। বিদেশী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের প্রয়োজনে কাউকে নোবেল প্রাইজ দিয়ে খুশী করে দিয়ে গেল আর বোকা জনসাধারণ সেই ফাঁদে পা দিয়ে নাচতে শুরু করে দিল ! হায়রে দুনিয়া, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দুনিয়ার কেউ চেনেনা কিন্তু কোথাকার কোন রক্তচোষা সুদখোর মহাজনকে নাকি পৃথিবীর কোনায় কোনায় মানুষ চেনে ! লেখক অভিযুক্ত করেছেন বামপন্থী সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নেতাদের,তাদের ছেলেমেয়েরা নাকি ইউরোপ আমেরিকা তে পড়াশোনা করে,অথচ উনি নিজেই যে এদেশ থেকে ওদেশ ভ্রমণ করে বেড়ান সেটা কিছু না ! নিজে যেই দোষে দুষ্ট,সেই দোষ পরের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে লেখক বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না ! আমস্টারডামে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় জনৈক কর্মকর্তার “ওহ বাংলাদেশ……ডঃ ইউনূস” বলে উচ্ছ্বসিত হওয়ার আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে উনি আর যাই হোক সচেতন পাঠককে বোকা বানাতে পারবেন না । যেন ইউনূস সাহেব একাই নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন,অন্য দেশের কেউ যেন নোবেল পান না ! কর্মকর্তাটি আর কোন দেশের মানুষ পেলেন না, ফ্রান্স –যুক্তরাজ্য –জার্মানির নোবেল বিজয়ী ছেড়ে বাংলাদেশী নোবেল বিজেতা নিয়ে মাতলেন ! বলি,চাপা মারার আর জায়গা পান নি ? এরকম আরো আটটি আষাঢ়ে গল্প উনি বলেছেন,যার সবগুলোই মাত্রাতিরিক্ত মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ এবং এসব  থেকে একটি কথাই পরিষ্কার হয়ে ওঠে,ডঃ ইউনূসের আগে আমরা কখনোই নোবেল প্রাইজ পাইনি দেখে আমাদের মনের মধ্যে যে খেদ বা আত্মগ্লানি রয়েছে,তা লাঘব করার জন্যই আমরা ডঃ ইউনূস সাহেবের নাম নিয়ে অতিরঞ্জিত বাগাড়ম্বরের মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করি। প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের খবরাখবর সম্পর্কে কতটুকু জানেন ? শুধু অনলাইন পত্রিকা পড়ে আর চাক্ষুষ না দেখে কি দেশের প্রকৃত অবস্থা জানা যায় ? প্রবাসী বাংলাদেশিগণ বিদেশে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন,বলার মত তেমন কিছুই নেই বলে এবং স্থানীয় দক্ষ বিদেশিদের কাতারে নিজেদের ম্রিয়মাণ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে তারা গভীর মনঃকষ্টে ভোগেন,তাই ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তির কথা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে সেই গ্লানি নিরসনের চেষ্টা করেন তারা। আর আমাদের দেশের সংবাদ পাঠক  জনসাধারণের মুষ্টিমেয় অংশ শহরের বাসিন্দা,প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজে এত ব্যস্ত যে ডঃ ইউনূসের গ্রামকেন্দ্রিক ক্ষুদ্রঋণ আসলেই গরীবের কল্যাণে কাজ করলো কিনা সেটা যাচাই করার সময় তাদের নেই,অনেকেই ক্ষুদ্রঋণ তত্ত্বের কার্যপ্রণালী সম্পর্কেই অবহিত নন। যেখানে আর ১০ টা বিষয়ে আমাদের গর্ব করার ক্ষমতা নেই সেখানে টিভিতে নোবেল প্রাইজ পাওয়ার খবর শুনে ডঃ ইউনূসের প্রতি আমাদের জনগণের অন্ধ জনমত তৈরি হওয়াটাই তাই স্বাভাবিক।

জনাব আকবর আলি খানের মতামতে নতুন তথ্য জানলাম,ডঃ ইউনূস নাকি ‘আসল’ নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন,কারণ এটা নাকি আলফ্রেড নোবেল কর্তৃক প্রদত্ত প্রাইজ। আলফ্রেড নোবেল তো অর্থনীতিতে নোবেল দিয়ে যাননি,তার মানে কি অর্থনীতিতে প্রদত্ত নোবেল প্রাইজটি ‘নকল নোবেল প্রাইজ’ ? এই কি আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের বুদ্ধিদীপ্তির নমুনা ? প্রকৃতপক্ষে শান্তিতে নোবেল প্রাইজ দেওয়াটা পশ্চিমা বিশ্বের পলিটিক্যাল এবং ডিপ্লোম্যাটিক্যাল একটি ভাঁওতাবাজি ,পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার্থে এবং বিশেষ প্রয়োজনে কতিপয় ব্যক্তিকে অযাচিতভাবে পুরস্কৃত করার নজীর কিন্তু বিরল নয়। উদাহরণ হিশেবে বলা যেতে পারে ২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী বারাক ওবামা কিংবা ১৯৯৪ সালের বিজয়ী আইজ্যাক রবিন,শিমন পেরেজ ও ইয়াসির আরাফাতের নাম। আরো উদাহরণ হিশেবে বলা যেতে পারে  ১৯৭৩ সালের বিজয়ী কুখ্যাত মার্কিন কূটনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার কিংবা ২০০৭ সালের বিজয়ী আল গোরের কথা। তাই নোবেল শান্তি পুরষ্কারের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় ;ডঃ ইউনূস তার নেটওয়ার্কিং বুদ্ধির জোরে পশ্চিমা বিশ্বে একটি শক্ত অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছেন, তার পলিটিক্যালি শক্তিশালী বন্ধুগুলোর ভূমিকাই তাকে নোবেল এনে দিয়েছে,এই যুগে কুষীদজীবীরা নোবেল পুরষ্কার পাচ্ছেন,পরবর্তী যুগে হয়ত আলু পটল ব্যবসায়ী কিংবা মুদি দোকানদারেরাও নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাবেন,অবাক হওয়ার কিছু নেই,কারণ এই পুরষ্কারের পেছনে পশ্চিমা রাষ্ট্রের শক্তিশালী নেতাদের হাত থাকে তাই কোন মুদি দোকানদার যদি বিল ক্লিনটনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন এবং বিদেশী স্বার্থ রক্ষা করে চলতে পারেন তাহলে তিনিও একদিন অমন পুরষ্কারের আশা করতে পারেন ।

জনাব আকবর আলি খান আরো বললেন,সরকার চাইলে যে কোন সময় আইনের সংস্কার করতে পারে,সরকারের উচিত এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ না করা এবং ডঃ ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়া হলে গ্রামীনব্যাংক  নাকি ২ -৩ বছরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়বে । এর পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়,১৯৮৩ সালের গ্রামীনব্যাংক অধ্যাদেশ অনুযায়ীই ডঃ ইউনূস আইনসঙ্গতভাবে আর স্বীয়-পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না, এর জন্য সরকারের কোন আইন-সংস্কারের বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই । ডঃ ইউনূস যদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে একনায়ক-তান্ত্রিক স্বৈরশাসকের মত আজীবন রাজত্ব করে অপরিমেয় বিত্তের পাহাড় গড়তে চান,তাহলে কি সরকার সেটার নিয়ন্ত্রণ না করে নির্বোধ দর্শকের মত ললিপপ চুষবে ? ডঃ ইউনূস কি ঈশ্বর নাকি ? এটা কি দেবদেবী শাসিত গ্রীক সাম্রাজ্য কিংবা যাজক শাসিত রোমান সাম্রাজ্য যে ইউনূস সাহেবের অসীম ক্ষমতা থাকবে ? বাংলাদেশের মত গনতন্ত্রকামী একটি দরিদ্র দেশে ইউনূস সাহেবের মত কিছু রক্তচোষা ভ্যাম্পায়াররা বছরের পর বছর বিপুল এক জনগোষ্ঠীকে ঋণের জালে জড়াবে এবং তাদের থেকে চড়া সুদ গ্রহণ করে বিশাল অঙ্কের মুনাফা লুটেই যাবে,এতবড় অন্যায় কখনোই মেনে নেওয়া যায়না । আর গ্রামীনব্যাংক কেন ২ -৩ বছরের মধ্যে মুখ থুবড়ে পড়বে ? তার মানে কি ডঃ ইউনূস গ্রামীনব্যাংককে সুযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলেননি ? প্রকৃতপক্ষে কিন্তু সেটাই । ৪ঠা মার্চের ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত ডঃ ইউনূস পরিবৃত মহিলা ডিরেক্টরদের ছবি দেখলে  এটাই চোখের সামনে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে যে গ্রামীনব্যাংকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ডঃ ইউনূস শিক্ষিত পুরুষ কর্মচারীদের ডিরেক্টর বানানোর বদলে ডিরেক্টর বানিয়েছেন তারই ব্যাঙ্কের ঋণ-প্রাপ্ত অশিক্ষিত এবং অর্ধ-শিক্ষিত নারী ঋণগ্রহীতাদের । এতে একসাথে অনেক উদ্দেশ্যই সাধিত হয়,নিজের পদটি আজীবনের জন্য অক্ষুণ্ণ থাকে,কোন প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্মুখীন হতে হয়না আবার,বহির্বিশ্বে এটাও প্রচার করা যায় যে –দেখো, আমি কত জনদরদী – নারীদরদী- দরিদ্র-হিতৈষী,আমি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ! ইউনূস সাহেবের প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ,গরিবের রাজা রবিনহুডের পরিচালক -প্রযোজক সাহেবের নিকট অতিসত্বর ধর্না দিন,আপনার সুপারিশে হয়ত ওনারা আগামীতে গরিবের রাজা ইউনূস নামে চলচিচত্র বানাতে আগ্রহী হবেন,আপনার আত্মপ্রচারের মনোবাঞ্ছার আরো একধাপ পূর্ণ হবে,ভেবে দেখুনতো ৭০ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে নায়ক হবেন আপনি !


চিত্রঃ ডঃ ইউনূসের অপকর্মের গোপন দলিল !

 

নরওয়ের টেলিনর – নোরাড -সরকার আপনার বন্ধু এবং ব্যবসায়িক পার্টনার,সম্পর্কের অবনতি করে কোন পক্ষই তো ব্যবসায়ের ক্ষতি চাইবে না,তাই নোরাড এবং সরকার আপনাকে সমস্ত অভিযোগের দায়ভার থেকে মুক্তি দিয়েছে। এম এম আকাশের মতে, “ক্ষুদ্রঋণ একটি লোভনীয় ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে। কেউ যদি বলে,আমি ব্যবসা করে মুনাফা করব,তবে তাকে কর দিতে হবে”। কথাটা সত্য, আমাদের ডঃ ইউনূসের চোখ সবসময় লোভনীয় ব্যবসায়ের দিকেই পড়ে থাকে, এজন্যই তো তার ‘গরীব দরদী’ হওয়ার এত শখ;  কর ফাঁকি দেওয়ার নিমিত্তে উনি গ্রামীনব্যাংক থেকে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রামীণ কল্যাণ তহবিলে স্থানান্তর করেছিলেন। আপনার মত নোবেল প্রাইজ বিজয়ী বরেণ্য ব্যক্তির কর ফাঁকি দেওয়ার হীন কার্যকলাপ কি আদৌ শোভা পায় ? শুধু তাইই নয়, সুদ সমেত আসল না পেলে আপনার ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা গরীব ঋণগ্রহীতার গরু-বাছুর আসবাবপত্র হাড়িপাতিল টিনের চালা এমনকি নাক-ফুল কিংবা গলায় পরার সাধারণ অলঙ্কারাদি খুলে নিয়ে যায়,এর পেছনে কি আপনার কোনই গুপ্ত নির্দেশনা নেই ? উপরন্তু আপনি গ্রামীনব্যাংকের ডিরেক্টরদের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত কিছু মূর্খ –অদক্ষ কর্মীর হাতে,আপনার দুর্নীতি আর অপকর্মের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার হয়েছিল,তাদেরকে করেছেন বরখাস্ত; সরকার ও দাতাদের তহবিলের অবৈধ ব্যবহার, সরকার ও সদস্যদের লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত করা,সরকারের অনুমোদন না নিয়েই সরকারী সম্পত্তি অন্য প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর ও অন্যায়ভাবে ভোগদখল,সদস্যদের গ্রুপ ফান্ডের অর্থ ফেরত না দিয়ে কেন্দ্রীয় তহবিলে স্থানান্তর,ব্যাংকে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীতিবহির্ভূতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিযুক্তসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে দুর্নীতির ষোল কলা পূর্ণ করেছেন।

চিত্রঃ কর ফাঁকি দেওয়ার নিমিত্তে ডঃ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণে অর্থ স্থানান্তরের অপচেষ্টা 

শুভ কিবরিয়া অভিযোগ করেছেন,ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তিতে পরশ্রীকাতর আত্মপরায়ণ বাঙালিকে অসুখী করেছে,তিনি অর্থমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবার পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কাছে সরকার কেন জবাবদিহি করছে তাও জানতে চেয়েছেন। আমাদের দেশের সাংবাদিক আর বুদ্ধিব্যবসায়িগণ অন্ধ সমালোচনা করতেই শুধু ওস্তাদ,গঠনমূলক কিংবা যুক্তিগ্রাহ্য সমালোচনা করতে পারেন না,সমালোচনা অবশ্য ওনাদের পেশা,একে পুঁজি করেই ওনারা এতদিন খেয়ে-পড়ে আসছেন কিন্তু ওনাদেরকে মন্ত্রী মিনিস্টারের পদে একবার বসিয়ে দিলেই ওনারা টের পেতেন,মুখে বলা কত সহজ অথচ কাজে করা কতোটা কঠিন। মন্ত্রীদের বয়স সংক্রান্ত কোন নীতিমালা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এখনো নেই,তাই অর্থমন্ত্রীর বয়স নিয়ে আপনার টানাহেঁচড়া টা সম্পূর্ণই অপ্রাসঙ্গিক । আর বাংলাদেশের মত দুর্বল এবং গরীব একটি দেশকে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কাছে তো জবাবদিহি করতেই হবে,এটাই রূঢ় বাস্তবতা। ধর্মীয়,সামাজিক আর সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোতে আপনারা ঠিকই পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিরোধিতা করেন,অথচ এখন ডঃ ইউনূস প্রশ্নে তাদের বিরুদ্ধে একদম টু শব্দটি করছেন না,হিপোক্রিসীর কি নিদারুণ পরাকাষ্ঠা। ডঃ ইউনূসের প্রতি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর এমন মাসীর দরদ উথলে ওঠার পেছনে বিপুল অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাপার জড়িত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে শুধুমাত্র রক্তচোষা বলে অভিহিত করেছেন,আপনার যে অপকর্মের লিস্টিতাতে সরকারের আরো কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল । তবে সরকার আদালতের হাতে বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে নিজেদের অবস্থানকে বিতর্কিত করেনি, এর জন্য সরকারের নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ প্রাপ্য । কেউ কেউ বলেছেন,সরকার শুধুমাত্র সমালোচনা করতে জানে,সরকার পারেনি বলেই ভাগ্য-বিড়ম্বিত মানুষের দারিদ্র দূরীকরণের জন্য আপনারা মাঠে নেমেছেন,কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সরকারী সুযোগসুবিধা নিয়ে আপনারা এই ৩৪ বছরে শুধুমাত্র নিজেদেরই ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন,গরীব রয়ে গেছে সেই তিমিরেই । সরকার গ্রামীনব্যাংকের ২৫% শেয়ারের মালিক হওয়া সত্ত্বেও ডঃ ইউনূস তার নিজস্ব লোকজনকে বড় বড় পদে বসিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির মত গ্রামীনব্যাংক শাসন করে গিয়েছেন, স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির মহাকাব্য রচনা করে গিয়েছেন, দুর্নীতি করলে সমালোচনা তো হবেই, এর জন্য ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বামপন্থী’ হওয়া লাগেনা ।

ডঃ কামাল হোসেন কন্যা সারা হোসেন,ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ সহ কতিপয় আইনজীবী সংবাদপত্র এবং টিভি চ্যানেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইনগত বিষয়াদি নিয়ে টু শব্দটি করেননি,কেননা আইনসংগত কোন যুক্তিই তাদের কাছে ছিলনা,তাই বারবার ওনারা নোবেল প্রাইজের আবেগিক ধুঁয়া তুলে জনসমর্থন আদায় করার চেষ্টা করছিলেন যা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক,বিষয়টি এখানে ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাইজ বিজয় নয়,বিষয়টি হলো ডঃ ইউনূস গ্রামীনব্যাংক নীতিমালা ১৯৮৩ এর ১৪ (১) ধারা ভঙ্গ করেছেন কিনা, যে ধারায় উল্লেখ আছে,”There shall be a managing director of the bank who shall be appointed by the board with the prior approval of the Bangladesh Bank”, যা তিনি সুস্পষ্টভাবেই ভঙ্গ করেছেন পূর্বানুমতি না নিয়ে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৯৩ এর ২৬ (১) ধারায় রয়েছে, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এ মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বা উহার আমানতকারীদের ক্ষতিকর কার্যকলাপ রোধকল্পে,বা জনস্বার্থে উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে,অপসারণ করা প্রয়োজন,তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক,কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া,আদেশের মাধ্যমে উক্ত চেয়ারম্যান,পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে’। ডঃ ইউনূস নোবেল প্রাইজ বিজয়ী বলে কি আইনের ঊর্ধ্বে ? নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন বলে কি ওনার সাত খুন মাফ হয়ে যাবে ? অন্য দশজন সাধারণ – অসাধারণ নাগরিকের জন্য যে আইন প্রযোজ্য, ডঃ ইউনূসের জন্য কেন সেই আইন প্রযোজ্য হবেনা ? নোবেল প্রাইজ কখনোই কি কোনো দেশের আইনকে বদলে দিতে কিংবা প্রভাবিত করতে পারে ? তথাকথিত যুক্তিবাদী ও মহাপন্ডিতমন্য ডঃ আসিফ নজরুলের মতে, “১৯৯০ সালের গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) আইনের ১৪ ধারা অনুসারে বিধিগুলো সরকার কর্তৃক পূর্বানুমোদন করানোর প্রয়োজন নেই। সে মোতাবেক ২০০১ সালের ১৯ নভেম্বর গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিধি প্রণয়ন করে,যাতে বলা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে না এবং গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরিবিধি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না”। এছাড়া তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিধিকে অবৈধ ঘোষণা না করে বা এ সম্পর্কিত কোনো আইনি উদ্যোগ না গ্রহণ করেই গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সংশোধিত আইন প্রনয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি বলেই সংশোধিত আইন সম্পূর্ণ অবৈধ। অবৈধ একটি কাজ দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণে এতদিন চলছিল, এখন তো দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তাই এখনো কি চলতে থাকবে ?  

এই ইউনূস সাহেবই ‘সফলতম স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী’ হিশেবে উল্লেখ করেছিলেন জঙ্গি সংগঠন জেএমবিকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ দেওয়া লুতফুজ্জামান বাবরকে যিনি আজকে তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে বন্দী আছেন ( আজকের কাগজ ১৪ অক্টোবর,২০০৬ )। এখান থেকে আরেকটি প্রশ্ন সহজেই মনে উত্থাপিত হয়,জেএমবির সঙ্গে ইউনূস সাহেবের অর্থনৈতিক কোনোরূপ সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা। কেননা,অন্যান্য এনজিওগুলো জেএমবির আক্রোশের শিকার হলেও অজ্ঞাত কারনবশত ইউনূস সাহেবের এনজিও টি কখনোই তা হয়নি,যেখানে নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং ঘরের বাইরে কার্যক্রম ইসলামিক চরমপন্ন্থীদের কাছে খুবই স্পর্শকাতর একটি ব্যাপার সেখানে ডঃ ইউনূসের নারীপ্রধান এনজিও-র এভাবে বেচে যাওয়াটা সচেতন মানসে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দীন আহমেদ তো আমাদের ইউনূস সাহেবেরই তথাকথিত ‘গণতন্ত্র রক্ষা’র আহবানে একটি  অস্থিতিশীল সময়ে ২২শে জানুয়ারী ২০০৬ এ নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন,যদিও জনতার প্রতিরোধের কারণে শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে বিদেশে ছিলেন তিনি,দেশের জনগণ যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের মহাসংগ্রামে লিপ্ত,তখন উনি ব্যস্ত ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী নিতে। জীবনে কোনোদিন অন্যায় অত্যাচার অবিচারের বিরুদ্ধে উনি সোচ্চার হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছেন ? প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ – রাজনীতিবিদ ডঃ শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের পরে ডঃ ইউনূসের ন্যক্কারজনক নীরবতা জনমানসে প্রশ্ন তোলে। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে নীরব ছিলেন,স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন,কানসাট –মঙ্গা সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় ইউনূস সাহেবের নীরব অবস্থান এটাই প্রমাণিত করে যে,উনি নিজের ব্যক্তিগত লাভ কিংবা সাফল্য ব্যতীত জীবনে আর কোনকিছু দেখার প্রয়োজন বোধ করেননি।

এবার আসা যাক একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে। ডঃ ইউনূস তনয়া দীনা ইউনূসের অতিবিলাসী এবং অসংযত জীবনযাত্রার কুরুচিপূর্ণ ছবি যারা সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুকে দেখেছেন,তাদের মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছে যে,বাবা হিশেবে ডঃ ইউনূস কতটুকু সার্থকভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন ? বাংলাদেশের মত দরিদ্র দেশে যেখানে গরিবের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটেনা,সেখানে ইউনূস তনয়ারা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে এদেশ ওদেশ ঘুরে বেড়ান,ব্যাংকক –সিঙ্গাপুর –ইউরোপ –আমেরিকায় শপিংয়ে যান ;যেই ব্যক্তি সারাদিন গ্রামীণ ফতুয়া পরে থাকেন,তারই কন্যার কেন বিদেশী কুরুচিপূর্ণ পোশাকের প্রতি এত ঝোঁক ? তার মানে কি গ্রামীণ চেক বন্দনা শুধুই ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ? গ্রামীনব্যাংকের উচ্চ সুদের ঋণ,গ্রামীণ ফোনের উচ্চ কলরেট,গ্রামীণ চেকের উচ্চমূল্য সচেতন জনগণ আর বেশিদিন সহ্য করবেনা,অচিরেই তারা বিকল্প কোম্পানিগুলোর দিকে ঝুঁকবে এবং উচ্চমূল্যের গ্রামীনপণ্য বর্জন করা শুরু করবে। ইদানীং ডঃ ইউনূস সামাজিক ব্যবসা তত্ত্ব নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন,উনি কি আসলে অর্থনীতিবিদ নাকি ব্যবসায়ী,গ্রামীনব্যাংক থেকে কত ব্যবসায়িক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন,তবুও তার অর্থলিপ্সার অবসান হয়নি,আর কত ধনী হতে চান তিনি ? ডঃ ইউনূস যে কত বড় লোভী কুমীর সেটা তিনি তার হন্তদন্ত হয়ে আদালতে রিট দায়ের করা থেকেই প্রমাণ করে দিয়েছেন,নির্মোহ মানুষ হলে উনি নিশ্চয়ই নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপণ করে নিজেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতেন,লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে নিশ্চয়ই এমন রঙ্গতামাশার অবতারণা করতেন না। অবশ্য এরকম ভাঁড়ামি তিনি আগেও করেছেন,নোবেল পাওয়ার পর ওনার অতি লম্ফ ঝম্প দেখে অনেকেই নীরবে মুচকি হেসেছেন,নোবেল পেয়ে এত খুশী হয়েছেন যে সেই খুশির দুরন্ত দাপটে আচমকা নাগরিক শক্তি নামের পলিটিক্যাল পার্টি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন আর নাটকীয়ভাবে কয়েকদিনের মাথায়ই সেই সিদ্ধান্তকে পরিত্যক্ত করে লোক হাসিয়েছেন,ডঃ হুমায়ূন আজাদ সাধে কি ইউনূস সাহেবকে গোপাল-ভাঁড়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন ?

নোবেল প্রাইজের জের টেনে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রতারিত করে ও বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে ফকির মিসকিনের দেশ বলে প্রচারিত করে  শত শত কোটি টাকা নিজের সিন্দুকে গছিয়ে নিয়েছেন,এরপরেও কি আমাদের সাধারণ জনগণের টনক নড়বে না ? বাংলাদেশের সামগ্রিক চালচিত্র দেখে কি আপনাদের আসলেই মনে হয়,ডঃ ইউনূসের কারণে এদেশে শান্তি এসেছে কিংবা দারিদ্র বিমোচিত হয়েছে ? সরকার পক্ষের আইনজীবী মাহবুবে আলম একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন,নোবেল শান্তি পুরষ্কার কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমা-র পাওয়া উচিত ছিল না ? আসলেই তো, বারাক ওবামা,আইজ্যাক রবিন,শিমন পেরেজ,হেনরি কিসিঞ্জার,আনোয়ার সাদাত,ডঃ ইউনূসেরা যদি কিছু না করেই কিংবা দুনিয়ার শান্তি বিঘ্নিত করে কিংবা প্রচুর মুনাফা লুটে নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেতে পারেন তাহলে শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমা-রা কি এমন দোষ করলেন ? দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আজকে বিদেশী শাসকগোষ্ঠী এবং তথাকথিত সুশীল সমাজের ভুয়া বুদ্ধিজীবীদের হুমকি –হুঁশিয়ারি –চোখ রাঙানি কে উপেক্ষা করে অনতিবিলম্বে ডঃ ইউনূসের যাবতীয় আয়ব্যয়, স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তির হিসাব এবং সীমাহীন দুর্নীতির পূর্ণ তন্দন্ত করা হোক –এমনটাই বর্তমান মহাজোট সরকারের কাছে প্রত্যাশিত।

[email protected]

ডঃ ইউনূসের বিরুদ্ধে আনীত গুরুতর অভিযোগ সমূহ যার মাধ্যমে তার আইনি বিচার করা যায়ঃ

ইউনূসের কনসেপ্ট কোন মহান কিছু না, দারিদ্র বিমোচিত হয়নি এই কনসেপ্ট দিয়ে । আর এখানে নোবেলপ্রাপ্তি/খুদ্রঋণ কনসেপ্টও আসলে ইস্যু না, ইস্যু হলো

 ১) ১০ বছর অতিরিক্ত চাকুরী করে উনি আইনভঙ্গ করেছেন

 ২) সরকারের ব্যাংকে ব্যক্তিগত খেয়ালখুশি মত লোক নিয়োগ ও বরখাস্ত করেছেন

 ৩) বারবার গ্রামীণ সেকেন্ড ইন কমান্ড (দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া) এবং অন্যান্যদেরকে বরখাস্ত করেছেন যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকে

 ৪) সরকারের অনুমোদন না নিয়ে গ্রামীণব্যাংক সংশোধিত নীতিমালা তৈরি করেছেন, যা অবৈধ

 ৫) সরকারের কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৭০০ কোটি টাকা স্থানান্তর করেছেন

 ৬) সেকেন্ড ইন কমান্ডকে দায়িত্ব দিয়ে ব্যাংকের কাজ না করে নরওয়েসহ বিভিন্ন দেশে হাওয়া লাগিয়ে বেড়িয়েছেন

 ৭) সুফিয়াসহ বিভিন্ন গরিবমানুষ কে তার অসৎ প্রচারণার কাজে ব্যবহার করেছেন, সুফিয়া এখন মৃত

 ৮) আদালতের রায়ের পরেও অফিস করে আদালত অবমাননা করেছেন

 ৯) দেশের মানুষকে সরকারবিরোধী প্রচারণায় উস্কে দিয়েছেন

১০) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে হুমকী প্রদান করেছেন, যা দেশদ্রোহিতার নামান্তর ।

বাড়তি মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন ।

 

তথ্যসূত্রঃ

Caught in Microdebt (বাংলা ভার্শন)

http://www.youtube.com/watch?v=m-tqXTau8Ng&feature=related 

গ্রামীণব্যাংক ডিএমডি দীপাল চন্দ্র বড়ুয়াকে অবৈধভাবে বরখাস্তকরণ 

http://www.amadershomoy.com/content/2009/12/15/news0010.htm 

গ্রামীণ ব্যাংকে দুর্নীতি-(শেষ অংশ) প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনিয়ম 

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Games&pub_no=452&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=1&archiev=yes&arch_date=07-03-2011 

গ্রামীণ ব্যাংক, মহাজনী শোষণের অভিনব হাতিয়ার' মীর ইলিয়াস হোসেন দীলিপ যাকে খুন করা হয়

http://blog.priyo.com/fakhre-alam/2011/03/04/1882.html

হিলারি, আসুন রাবেয়ার কবর দেখাতে নিয়ে যাব 

http://www.bd-pratidin.com/?view=details&type=gold&data=International&pub_no=318&cat_id=1&menu_id=1&news_type_id=1&index=5

Caught In Microdebt 

http://www.youtube.com/watch?v=IH3THwVJ0Q8

http://www.youtube.com/watch?v=XylNNiIq7ZM&feature=related

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বৃহৎ বিতর্ক -সাইদ সিদ্দিকী 

http://sonarbangladesh.com/article.php?ID=5123 

নিরক্ষর নারী নিয়োগ ভালো উদ্দেশ্যে নয়: হানিফ 

http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=153515&cid=2 

ইউনূসের দারিদ্র্য বানিজ্য 

http://www.somewhereinblog.net/blog/chandan031/29334556

ক্ষুদ্র ঋণ বাস্তবায়নজনিত সমস্যা 

http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/29352966 

http://www.somewhereinblog.net/blog/Naradhamblog/29354068 

গ্রামীণব্যাংকের অশিক্ষিত বোর্ড অব ডিরেক্টরদের ছবি 

http://www.grameen-info.org/index.php?option=com_content&task=view&id=371&Itemid=462

গ্রামীণব্যাংকের অশিক্ষিত বোর্ড অব ডিরেক্টরদের ছবি 

http://edailystar.com/?opt=view&page=1&date=2011-03-04

১৯৯৬ পর্যন্ত পিতাবঞ্চিত মনিকা ইউনূস

http://en.wikipedia.org/wiki/Monica_Yunus

গ্রামীণ ব্যাংকের নিজস্ব ব্যাখ্যাঃ ৪০%

http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/12/05/56550

ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নন রাহাত খান ৩৫-৪০%

http://blog.priyo.com/rahat-khan/2011/03/19/2033.html?page=3

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বৃহৎ বিতর্ক সাইদ সিদ্দিকী ৪০% পর্যন্ত

http://sonarbangladesh.com/article.php?ID=5123

নিরক্ষর নারী নিয়োগ ভালো উদ্দেশ্যে নয়: হানিফ ৩৭-৪০%

http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?id=153515&cid=2

গরিবদের পরিত্রাতা মুহাম্মদ ইউনূসের উন্মোচিত স্বরূপ বদরুদ্দীন উমর

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4206

ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে-২  বদরুদ্দীন উমর

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=4323

ড. ইউনূসের পক্ষে সাফাই গাওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম আলো ও ডেইলিস্টারের কপি আগুনে পুড়িয়ে দেন

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=Internet&pub_no=476&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&news_id=141909&archiev=yes&arch_date=31-03-2011

সরকার গ্রামীণের প্রতিষ্ঠাতা এবং গরিব মানুষ ও সরকার (নগণ্য) এর মালিক, ইউনূস নন

http://www.grameen-info.org/index.php?option=com_content&task=view&id=19&Itemid=114

দ্যা ওয়াল স্ট্রিট্‌ জার্ণাল আর্টিকেল

http://blogs.wsj.com/source/2010/12/06/microfinance-is-grameen-founder-muhammad-yunus-a-bloodsucker-of-the-poor/

ভজন সরকারের আর্টিকেল (মুক্তমনা ডট কমে পাবেন)

http://www.megaupload.com/?d=38NTDHVK

Myths of Microfinance

http://www.megaupload.com/?d=QN6JQWEN

Microenterprize lending at the grameen bank : Effective lending rates on a sample loan portfolio Carl Bolden

http://www.megaupload.com/?d=C8WMF4NI

Deena Yunus Obnoxious life

http://www.megaupload.com/?d=JNJZ6OL

 

 

বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ডঃ হুমায়ুন আজাদের ইন্টারভিউ 

 

 অরনি অনুপ শাদীঃ এনজিও সমূহ বা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকাণ্ডকে আপনার কাছে কেমন লাগে ? 

হুমায়ূন আজাদঃ বাংলাদেশ এখন এনজিওতে ভরে গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ গেলে,আমি গত বছর বেড়াতে গিয়েছিলাম, পথে প্রান্তে রাস্তার পাশে পুকুরের ওপর বাড়ির ওপর টিনের ঘরে চমৎকার দালানে গাছের উপরে সমস্ত এনজিওরা দিনরাত কর্মব্যস্ত। আমি অবশ্য কাজ দেখিনি কিন্তু তাদের ঘরবাড়ি সাইনবোর্ড দেখেছি এবং তারা পুরষ্কারের পর পুরষ্কার পাচ্ছে। তারা বাংলাদেশী রাষ্ট্রীয় পুরষ্কার পাচ্ছে, ম্যাগসেসাই পাচ্ছে, পুরষ্কারে ভরে গেছে। কিন্তু এতো এনজিও, এগুলো যদি কোন কাজ করতো,তবে বাংলাদেশে তো এখন সুখ এবং শিক্ষার প্লাবন বয়ে যেত। বছর দশেক আগে সম্ভবত একদল এনজিওর লোক আমার কাছে এসেছিল, তারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করে, ......বোধ হয় তখন আড়াইশোর মত এনজিও শিক্ষা নিয়ে কাজ করছিল, তো আমি বলেছিলাম আপনারা কি করেন, বলেছিল আমরা শিক্ষা নিয়ে কাজ করছি। আড়াইশো এনজিও যদি শিক্ষা নিয়ে কাজ করে তাহলে বাংলাদেশে সবাই শিক্ষিত হয়ে যাওয়ার কথা। তারা কতগুলো বই ছেপেছে, সেই বইগুলো আমাকে দেখালো, অত্যন্ত নিম্নমানের বই, এবং আমি অনেক এনজিওর স্কুলেও গেছি, কোন ছাত্র নেই, কোন লেখাপড়া নেই। 

সবচেয়ে প্রধান এনজিও এবং সবচেয়ে যা হাস্যকর সেটি হচ্ছে গ্রামীণব্যাংক। ব্যাংক এমন কিছু মহাগৌরবের হতে পারেনা। যদি আমরা গ্রামীণব্যাংক প্রধানকে দিনরাত পুরষ্কার দিতে থাকি তাহলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধানকে, সোনালী ব্যাংকের প্রধানকে, কৃষি ব্যাংকের প্রধানকেও দিতে পারি।  এটি এমন কি আহামরি যে এটিকে নিয়ে এতো মেতে থাকতে হবে ? আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই ব্যাংকটি একব্যক্তিকেন্দ্রিক, তার মহিমা প্রচার করাই হচ্ছে এই ব্যাংকটির কাজ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তার পুরষ্কার পাওয়া, তার জীবনীর আত্মপ্রচার করা এবং যত রকম মহিমা তাকে এনে দিতে হবে সে বোধ হয় মহিমালুব্ধ মানুষ হয়ে দাঁড়িয়েছে  এবং আমি ইতোমধ্যে অনেকগুলো গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা আমাকে বলেছে স্যার আমরা তো পাগল হয়ে গেলাম। একজনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, কারণ ঐ লোকটি সকালবেলা হোন্ডা করে গিয়ে শুধু হানা দেয় টাকা তোলার জন্য যাদেরকে ঋণ দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে, বলেছে এমনভাবে, যাচ্ছি এবং যাচ্ছি এবং যাচ্ছি যে আমার পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আরেকজন ভদ্রমহিলা তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে কারণ তার স্বামী ছুটতে ছুটতে ছুটতে ছুটতে উন্মাদ হয়ে গেছে, ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এখন বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে, এটি উত্তরবঙ্গের ঘটনা। এবং যেভাবে গ্রামীণ টাকা আদায় করে তাতে আমার মনে হয়, এই ব্যাংকের যিনি প্রধান তিনি একজন কাবুলিওয়ালায় পরিণত হয়েছেন, যে ডঃ ইউনূস এখন ইউনূস কাবুলিওয়ালায় পরিণত হয়েছেন । এই পুরষ্কার থামাতে হবে। এতো পুরষ্কার এতো ইংরেজি এবং জার্মান ভাষায় আত্মজীবনী একটা ব্যাংকের প্রধানের কাছে আমরা চাইনা। এবং আসলে যে- কাজগুলো হচ্ছে তা দালালি হচ্ছে। মনে করা যাক, গ্রামীণব্যাংক জনগণের কল্যাণই যদি করতে চায়, ওর মোবাইল ফোনের ব্যবসার কি প্রয়োজন ? মোবাইল ফোনের ব্যবসা করার জন্য আরো অনেক মানুষ রয়েছে। সমাজকল্যাণের জন্য যে সংস্থাটি কাজ করছে তার মোবাইল ফোনের ব্যবসা করা চলেনা। এমনকি আমি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি বিজ্ঞাপন দেখেছি, বিজ্ঞাপনে বলছে, আপনারা ডেঙ্গুজ্বরের খবরটি গ্রামীণ মোবাইলে জানান । মানুষ অসুস্থ হচ্ছে ডেঙ্গুজ্বরে, তারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে গ্রামীণ মোবাইলে ডেঙ্গুজ্বরের খবরটি জানান, আমি অবশ্য অবিকল বলতে পারলাম না, তবে আমি এরকম দেখেছি। ফলে এটি একটি কাবুলিওয়ালার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং এর প্রধান কাবুলিওয়ালা শুধু পুরষ্কার পাচ্ছে। ......গ্রামীণব্যাংক মহিলাদের নামে টাকা দেয় এবং মহিলাদের চুল ধরে টেনে তাকা আদায় করে আনে। আমরা কাবুলিওয়ালার কথা জানতাম, আঙুর পেস্তা বাদাম বিক্রি করতো এবং টাকা সুদে ধার দিতো, তাদের মতই ডঃ ইউনূস এখন ইউনূস কাবুলিওয়ালা হয়ে গেছেন।...এতো পুরষ্কার, আমার ঘেন্না ধরে গেছে। এবং আমি তার দু একটি লেখা পড়ে দেখেছি, এগুলো অত্যন্ত তুচ্ছ লেখা। 

ভোরের শিশিরঃ মার্চ ২০০৪ (একুশ আমাদের অঘোষিত স্বাধীনতা দিবস পৃষ্ঠা-১৪৪-১৪৫) 


66Comments

1
Alaamgir
Alaamgir's picture
Mon, 11/04/2011 - 12:43pm

অবশ্যই মামলা হতে হবে । আমি নিশ্চিত এই মামলা হলে তাবত রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে মামলা করা সরকারের জন্য একটা অবশ্য করণীয় ব্যপার হবে । বিশ্ব শক্তি তখন কি নিয়ে আমাদের নসিহত করে তা দেখে মরার ইচ্ছা পোষন করছি ।

2
Raju
Sun, 10/04/2011 - 11:50am

 


 


When I asked his identity, he didn’t respond.  Just paste his name and you will find who is this person, a self declared doctorate (26 yrs of age!!, spend some times in Pakistan, living in Dhaka now and looking for partners ) , a drug addict  and sex addict Al Qaida who needs to be cross fired ASAP.

3
halimmiah
Sun, 10/04/2011 - 11:15am

আপনার লেখার একটা বড় অংশ ধৈর্য্য ধরে পড়লাম, কয়েকটা জায়গায় আপনি  প্রবাসী বাংগালী ও মহিলাদের কে পরিস্কার 'ডিসক্রিমিনে' করেছেন যা পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যদেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি যোগ্য অপরাধ আপনি


প্রবাসীদের সম্পর্কে লিখেছেন:


প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশের খবরাখবর সম্পর্কে কতটুকু জানেন ? শুধু অনলাইন পত্রিকা পড়ে আর চাক্ষুষ না দেখে কি দেশের প্রকৃত অবস্থা জানা যায় ? প্রবাসী বাংলাদেশিগণ বিদেশে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করেন, বলার মত তেমন কিছুই নেই বলে এবং স্থানীয় দক্ষ বিদেশিদের কাতারে নিজেদের ম্রিয়মাণ অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে তারা গভীর মনঃকষ্টে ভোগেন,তাই ডঃ ইউনূসের নোবেল প্রাপ্তির কথা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করে সেই গ্লানি নিরসনের চেষ্টা করেন তারা।...


মহিলাদের সম্পর্কে লিখেছেন:



৪ঠা মার্চের ডেইলি স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত ডঃ ইউনূস পরিবৃত মহিলা ডিরেক্টরদের ছবি দেখলে  এটাই চোখের সামনে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে যে গ্রামীনব্যাংকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ডঃ ইউনূস শিক্ষিত পুরুষ কর্মচারীদের ডিরেক্টর বানানোর বদলে ডিরেক্টর বানিয়েছেন তারই ব্যাঙ্কের ঋণ-প্রাপ্ত অশিক্ষিত এবং অর্ধ-শিক্ষিত নারী ঋণগ্রহীতাদের। ...


বলতে পারতেন শিক্ষিত ও যোগ্য কর্মচারীদের বদলে অশিক্ষিত ও অযোগ্য কর্মচারীদের কথা । নারী পুরুষের ভেদাভেদ টেনে প্রমান করেছেন পুরো লেখাটা একপেশে, হিংসা ও বিদ্বেষ প্রসুত । লেখাটা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করবে বলেই আমার বিশ্বাষ । কেননা সবশেষে আপনি যে ইতিহাসের সেই সর্বশেষ স্তাবক এটর্নি জেনারেলের কথার জের টেনে শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমার নোবেল না পাওয়ার মর্মবেদনার কথা পুনরাবৃত্তি করেছেন, তার মূলকথাই হলো, পরবর্তী 'ক্রীতদাসীয়' মন্ত্রীসভায় দাসত্বের কোন রকম সুযোগটা যদি পাওয়া যায় । কেননা তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাকের মত ডাকসাইটে রাজনীতিকেরা যেহেতু আউট হয়ে গেছেন, তাই চামচাগিরির নিম্নগামী ও নিম্নস্তরের প্রতিযোগীতার দৌড়ে এমন কিছুতো করতে বা লিখতে হবে যাতে কর্তা বা কর্তী খুশি হয়ে যদি কিছু একটা দিয়ে দেন...হায়রে অধ:পতন !


 



 

4
Future BD
Future BD's picture
Sun, 10/04/2011 - 12:11pm

@ halimmiah


I agree with you. I think this writer is so aggressive.

5
halimmiah
Sun, 10/04/2011 - 12:54pm

I do agree with you as well.

6
ডঃ মুশফিক
Sun, 10/04/2011 - 11:47am

কথাগুলো চরম সত্য, এতে কোন ভুল বা বিদ্বেষ নেই ।

১) দেশে না থাকলে আর গ্রামে না গেলে কিভাবে বোঝা যাবে দেশের প্রকৃত অবস্থা কি ? আজকাল সংবাদপত্র আওয়ামী-বিএনপিপন্থী

তারা আজকাল অনেকেই হলুদ সাংবাদিকতা করেন, কেউ লেখেন আওয়ামীর পক্ষে কেউ আবার বিএনপির পক্ষে।

২) মহিলাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়নি, বলা হয়েছে যে তারা শিক্ষিত নয় এবং তাই তারা ডিরেক্টর হওয়ার যোগ্য নয়। আবার মহিলারা ক্ষমতায় থাকলে ডঃ ইউনূসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কেউ খাড়া হতে পারেনা, উপরন্তু দুনিয়া জুড়ে এটা নিয়ে ব্যবসা করা যায় যে দেখ, ইউনূস কত নারীদরদী ।

নারী পুরুষের কোনই ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়, তবে নারীকে স্বীয়স্বার্থে ব্যবহার করে নিজে একনায়ক হয়ে থাকার কূটকৌশলটা চরম ন্যাক্কারজনক।

আপনার তো দেখি ব্রেন ওয়াশ, আপনি যে চরম আওয়ামী বিদ্বেষী তা আপনার কথা থেকেই বোঝা যাচ্ছে ।

আমি আওয়ামী লীগের কোন সদস্য পর্যন্ত নই, আওয়ামী লীগে যদি আপনার পরিচিত কেউ থাকে তাহলে চিকিৎসক ডঃ মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী বলে কেউ আছে কিনা তা যাচাই করে দেখবেন। আর শুনেছি হবিগঞ্জে আওয়ামীর মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলে একজন আছেন, উক্ত ব্যক্তিটি আমি নই ।

আপনার মন মানসিকতাই তো চরম নিচুমনের, বড় মনের মানুষ হোন। নিজে হয়তো রাজনৈতিক দলের চামচাবৃত্তি করেন তাই অন্যকেও নিজের মত ছোটলোক মনে হয় !

আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, আপনার একমত না হওয়ার কারণ কি, এতক্ষণ পর আপনি যে দুটো ব্যাপার উল্লেখ করলেন, প্রবাসী বাংগালী ও মহিলা প্রসঙ্গ ---এগুলো আমাদের আলোচনার মূল বিষয় নয়, সাইড টক, ডঃ ইউনূসের সম্পর্কে আমার একটা বক্তব্যও এখানে তুলে না ধরার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আসলে ঐসব ব্যাপারে আপনার কাছে কোন যুক্তিই নেই ।


7
Raju
Sun, 10/04/2011 - 9:48am

 


 


I am just trying to understand you. Tell me Doctor, when people ask something you should reply and you didn’t reply the other part of my questions. Are you Mr. Dr Mushfique Imtiaz Chowdhury?????

8
halimmiah
Sun, 10/04/2011 - 9:11am

একমত হতে পারলাম না, দু:খিত

9
ডঃ মুশফিক
Sun, 10/04/2011 - 9:17am

দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই, আপনি যেমন একমত হতে পারছেন না তেমনি অনেকেই একমত হচ্ছে।

ব্যাপার সেটা নয়, ব্যাপার হলো, আমার কোন কোন পয়েন্টের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না ।

সেগুলো বলে যদি কমেন্ট করেন তাহলে সেটা কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, ইউনূস সাহেব নোবেল পেয়েছেন বলে তাকে অন্ধভাবে মসীহার আসনে বসিয়ে দেওয়ার কারণে যদি একমত না হন, তবে ভিন্ন কথা ।

আপনি কেন একমত হতে পারলেন না সেটা বলবেন আশা করি । যাতে করে পরিষ্কার হয় আপনার অবস্থানটা আসলেই যৌক্তিক কিনা ।

ধন্যবাদ।

10
halimmiah
Sun, 10/04/2011 - 12:59pm

একদিকে প্রবাসীদের রেমিটেন্সের গুনকীর্তন করেছেন, আর একদিকে তাদেরকে কটাক্ষ করেছেন । প্রবাসীদের সম্পর্কে আপনার সীমিত ধারনা থেকেই বুঝা যায় আপনার বিদ্যা বুদ্ধির দৌড় কতটুকু । তাই 'যে দেবী যে ভোগে সন্তুষ্ট' নীতিতে বিশ্বাষী হয়ে ভোগ দিয়ে কার্য সিদ্ধির উপায় খুজছেন । ড. ইউনুসকে নিয়ে পন্ডিত গিরি না ফলিয়ে, নিজের দেশের নেতা নেত্রীদেরকে প্রশ্ন করুন কোন্ কারনে কথায় কথায় বিদেশীদের দ্বারস্হ হন ? রাতের আধারে উপরে উপরে জামাত বিরোধীতা করেন আবার তাদের সাথে আন্দোলন করেন, বিদেশী দুতাবাসে ডিনার করেন ! আপনাদের সবগুলো রাজনৈতিক দলের কোন্ নেতা সত্যিকার গনতান্ত্রিকভাবে কর্মীদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, নাকি আল্লাহ্ ফেরেশতা পাঠিয়ে আজীবন সভাপতি/চেয়ারম্যান থাকার ওহি নাজিল করেছেন ?আপনার বাবা/স্বামী, তারপর আপনি, এরপর আপনার ছেলেপুলে/নাতিপুতি দলের সভাপতি/চেয়ারম্যান, দেশের প্রধানমন্ত্রী/প্রেসিডেন্ট এর চেয়ে বড় রাজতন্ত্র(গনতন্ত্রের নামে) পৃথিবীতে আর আছে কি?


সারা পৃথিবীতে সকল এক নায়কের দিন শেষ । 'ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ' এ সত্য যত তাড়াতাড়ি সকলের উপলদ্ধিতে আসবে তত তাড়াতাড়ি পৃথিবীর সকলের মঙ্গল হবে । এমনকি আমাদের দেশে যে ব্যাক্তি পুজা, ব্যাক্তির প্রাধান্য চলছে দল ও দেশের উপরে, গনতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্র চলছে তার অবসানও হবে একদিন । প্রশ্ন হলো, এ পরিবর্তন কি শান্তিপুর্ণভাবে হবে ? আমাদের দেশে একজন কৃষকের মেধাবী ছেলে কি কখনো স্বপ্ন দেখতে পারে যে সে বড় হয়ে একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে ? সে ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার সবকিছুর স্বপ্ন দেখতে পারবে, শুধু প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ছাড়া । কারন ওটা শুধু দুই পরিবাবেরর স্বপ্ন । এর নাম কি গনতন্ত্র ??


রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে বহুমাত্রিক মেধার প্রয়োজন, আমাদের বর্তমান ও অতীত রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে তা আছে বা ছিল কি ? প্রশ্ন হলো, গত চল্লিশ বছরে যে ধরনের নেতৃত্ব জাতির কাধে চেপে বসেছে বা নাজিল হয়েছে, তার থেকে ভালো নেতৃত্ব পেয়ে দেশটা আরো বেশী এগিয়ে যেতে পারতো কি না ? সরকারি চাকুরিতে প্রতিযোগীতা মুলক বিসিএস দিয়ে সর্বোচ্চ মেধার স্বীকৃতি নিয়ে ঢুকতে হয় । ‘টপ মডেল’, ‘তারকাদের তারকা’, ‘তোমাকেই খুজছে বাংলাদেশ’ ইত্যাদি সহ এমনকি কেরাত প্রতিযোগীতায়ও কম্পিটিশন থাকে । বেসরকারি চাকুরি, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, এমনকি কিন্ডারগার্ডেনে ভর্তির জন্য ক্ষুদে কোমলমতি বাচ্চাদের পর্যন্ত…কোথায় না…শুধু একটি জায়গা ছাড়া । তা হলো বড় দু, তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব । যেন আল্লাহ তায়লা আসমান থাকে উনাদের প্রেরন করেছেন সভাপতি, চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী, বা প্রেসিডেন্ট হবার জন্য । অন্য কারো জন্য ওই দরজা খোলা নাই । আর এতে বন্চিত হলো কে ? আমার দেশ । ওই পদগুলোও যদি প্রতিযোগীতামুলক পরীক্ষার মত তৃণমুল পর্যায় থেকে সুস্হ গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে খোলা থাকত, তাহলে আমাদের এ দেশটা আরো অনেক আগে সোনার বাংলা হয়ে যেত এতে কোন সন্দেহ নেই । অন্তত জাতি বুঝতে পারতো তাদেরকে সর্বোচ্চ যোগ্যতম ব্যাক্তিরাই শাষন করেছে । যেহেতু সেই সুযোগটা রাখা হয়নি, আর এতে যদি জাতি মনে করে যে তারা অযোগ্য ও কম মেধা সম্পন্ন নেতৃত্ব দ্বারা দীর্ঘকাল সামরিক বেসামরিক ছদ্বাবরনে ছলে বলে কৌশলে শাষিত হচ্ছে; বিশেষ করে দুই বড় দলের হরতাল, আন্দোলন, সরকার গঠন সবই নাটক, ‘কখনো আমি’, ‘কখনো তুমি’ এধরনের অলিখিত চুক্তি করে আমাদেরকে পরিবারতন্ত্রের শৃংক্ষলে চিরকালের জন্য বেধে ফেলা হয়েছে, তা হলে কি খুব ভুল মনে করা হবে ?

আছেন আপনি ড. ইউনুসকে নিয়ে । ড. ইউনুসকে আমি এত গুরুত্ব দিতে চাই না । উনি যদি সে রকম কেউ হতেন তাহলে উনি দল গঠন করতে গিয়ে পিছু হটতেন না । উনার কোন জনপ্রিয়তা নাই বুঝতে পেরে তিনি কেটে পড়েছেন । গ্রামীন ব্যাংক করুক আর যাই করুক,উনি আর দশজন সুশীল সমাজের মানুষদের মতই জনবিছ্ছিন্ন ।

সুদের হারের কথা বলছেন ? উন্নত দেশগুলোতে যত বেশী কোলেটারেল দিবেন তত কমসুদে লোন পাবেন । 'আন্ সিকিউর্ড, সিকিউর্ড লোন বলে একটা কথা আছে । আন্ সিকিউর্ড লোনের সুদের হার সব সময়ই বেশী । আপনাদের দলের শেয়ার কেলেংকারী ব্যবসায়ী নেতারা অনেক আগেই সিকিউর্ড লোনের ডিফল্টার শত শত কোটি টাকার । কম সুদের হার সত্বেও । অথচ সেখানে উচ্চ সুদেও যদি গ্রামের গরীব মানুষ সিকিউরিটি ছাড়া লোন নিয়ে কিছু একটা করে টরে আবার ফেরত দেয়, সমস্যাটা কোথায় ? এ সফলতার দাবিতো জনাব ইউনুস সাহেব করতেই পারে নাকি ? ইউনুস সাহেব নোবেল পেয়ে ফেরেশতা বা নবী হয়ে যায় নি, আপনারাও ক্ষমতা পেয়ে স্বর্গে চলে যান নি, একটু মাটিতে পা রেখে চলার চেষ্টা করুন । দেশটা কারো বাপ দাদার সম্পত্তি নয়, আমাদের সকলের । যখন তখন হুট হাট করে বিভিন্ন স্হাপনার নাম পরিবর্তন করার চেয়ে অনেক জরুরী কাজ সরকারের জন্য রয়েছে । সেটার পরামর্শ দিন । বঙ্গবন্ধুর নামে কোন কিছু করলে, কাল যদি অন্যরা সেটা পরিবর্তন করে ফেলে তার জন্য অন্যরা যতখানি না দায়ি, আপনারা তার চেয়ে বেশী । জাতীয় ঐক্যমত বলে একটা কথা আছে । একটু নিজেরা বোঝার চেষ্টা করুন, তারপর পরামর্শ দিন । নিজেদের চরকায় তেল দেয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে ...যত তাড়াতাড়ি তা বুঝবেন তত তাড়াতাড়ি নিজের, দলের ও দেশের মঙ্গল  হবে । মানুষের বানান ভূল না ধরে কি মেসেজটা দিতে চাচ্ছে সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন, না হলে পরিনতি কারো জন্যই ভালো হবে না । মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এ দলটার কাছ থেকে মানুষ অনেক বেশী আশা করে । সম্ভবত আপনাদের মতো কিছু মতলববাজ ও স্তাবকদের  জন্যই তা বার বার ব্যার্থ হয়ে যাচ্ছে ।