আমাদের প্রধানমন্ত্রী নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস

Shawnchoy.Rahman's picture

 ডঃ ইউনুসের নোবেল বিজয়ের খবরটি ইন্টারনেটে  দেখার পর পরই মনটা সেদিন  অসম্ভব আনন্দে পরিপুর্ণ হয়ে গিয়েছিল । আমাদের বাংলাদেশ পৃথিবীর সর্বচ্চো সম্মান অধিকারী দেশগুলির তালিকায় তালিকাবদ্ধ হল। পরদিন অফিসে যাবার সাথে সাথে  আমার সমস্ত  সহকর্মী, এমনকি আমার সুপারভাইজর পর্যন্ত আমাকে বলল, “তুমি কি জানো যে, তোমাদের দেশের একজন এবার শান্তিতে নোবেল পেয়েছে?” এবার আমার মধ্যে আনন্দ এবং গর্ব উভয়ের সম্মিলন ঘটল। তখন আমি নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে বাস করি। বাসায় এসে বন্ধু-বান্ধবের সাথে মত বিনিময়, ইন্টারনেটে এখানে-ওখানে একই নিউজ বার বার পড়া, যতবার পড়ি ততবারই ভালো লাগে।

এভাবেই শুধুমাত্র আলোচনা কিংবা অন্যরা বিষয়টি নিয়ে কি ভাবছেন তা জানার জন্যই এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে বললাম, আচ্ছা , “ডঃ ইউনুস তো অর্থনীতির লোক, অর্থনীতির কঠিন সব নিয়ম-কানুন তার নখদর্পনে। তবে উনি অর্থনীতিতে নোবেল না পেয়ে শান্তিতে কেন পেলেন?

আমার সেই বন্ধু আমার উপর একরকম ক্ষেপেই গেল আমার অজ্ঞতা নিয়ে । উচ্চস্বরে বলে উঠল যে, অর্থনীতির সুত্রকে ইউনুস বইতে বাধাই করে রেখে দেন নাই। বরং সুত্রের বাস্তব রূপ  দিয়ে দারিদ্র বিমোচন করেছেন।  

 

আমি বললাম, তাইতো ! দারিদ্রতা দূর হলেই পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। আর আমাদের ইউনুস দারিদ্র্য বিমোচনের চমৎকার এক পদ্ধতি শুধুমাত্র তৈরী করে বসে থাকেন নাই, বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে এর সুফলতা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছেন। তার তো অবশ্যই  শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত।

 

আমাদের দেশের সরকার প্রধান, নেতা-নেত্রী, সবাই খুশী।পত্র-পত্রিকায় ইউনুসকে   সবাই  অভিনন্দন, বানী এসব দিতে লাগলেন।

ভালোই কাটছিল দিন। আমাদের দেশে রাজনীতি বিষয়ক ঘোরতর সমস্যা চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কঠিন কঠিন কাজ করে ফেলছেন যেমন, দুর্নীতিবাজদের ধরা , দেশে আইনের শাসন দিরিয়ে আনা, স্থিতিশীলতা আনা। আমারা জনগন কঠিন আশায় বুক বেধে আছি। এবার আর আমাদের উন্নয়ন ঠেকানো যাবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের দুই নেত্রীকেও ছাড় দিচ্ছেন না। মাইনাস টু প্ল্যান-এর কথাও শুনছি। হাফ ছেড়ে বাচলাম যে, হাসিনা-খালেদাকে আর দেখতে হবে না। দেশে তৃতীয় ধারা তৈরীর কথাও শুনছি। এমন সময় নোবেল বিজয়ী ডঃ ইউনুস রাজনীতিতে নামার অভিপ্রায় ব্যাক্ত করলেন। আমি তো আরো খুশী। বিশ্বের সর্বচ্চো পুরষ্কার বিজয়ী একজন আমাদের দেশের হাল ধরতে যাচ্ছেন, যিনি অর্থনীতির কঠিন তত্ত্ব এবং  তার বাস্তব প্রয়োগ জানেন। এবার আমদের দেশকে আর আটকে রাখা যাবে না। আমরাও যারা প্রবাসে আছি, দেশে গিয়ে দেশের জন্য কাজ করব। এমন একজনের সাথে কাজ করার মজাই আলাদা। কিন্ত  ব্যাপারটিতে  ক্রমান্বয়ে   চারিদিকে মিশ্র অনুভুতির টের পেলাম যেমন, একদল যারা  মধ্যবিত্ত এবং  সবসময়ে  ডঃ ইউনুসের  মংগল কামনা করেন তারা ব্যাপারটিকে আনন্দচিত্তে মেনে নিতে চাইলেন না ।   তাদের অকাট্য যুক্তি হল, দেশ বরেন্য, দেশকে ছাড়িয়ে যাকে সারা বিশ্বে সবাই চিনে, সে কেন বাংলাদেশের কলুষিত  রাজনীতিতে যোগদান করবে ? ভালো মানুষ রাজনীতি করে  নাকি? অর্থাৎ আমদের দেশে এটা প্রতিষ্ঠিত  সত্য যে, ভালো মানুষ কখনো আমাদের দেশে রাজনীতি করেন না। আমাদের দেশে রাজনীতি করেন সব খারাপ মানুষেরা।

আমি তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে, এই ধারনা আমাদের ভাঙ্গা দরকার। ইউনুস যদি আসেন , তবে আরো ভালো ভালো  সৎ এবং যোগ্য  ব্যাক্তিরা রাজনীতিতে আসায় উদ্দীপনা  পাবে। পরবর্তিতে ইউনুসের  রাজনীতিতে না আসার সিদ্ধান্ত আমার চেষ্টার অরন্যে রোদন প্রমান করে।

এবার দ্বিতীয় ব্যাপারটি। আমি আমার সেই বন্ধুকে ফোন দিয়ে বললাম যে, ডঃ ইউনুস তো রাজনীতিতে আসছেন। যাই হোক ভালোই হল, আমারা আমদের দেশে এই প্রথমবার যোগ্য একজন নেতা পেতে যাচ্ছি। এবার আমার বন্ধুর গলাটি একটু বেসুরো মনে হল। সে বলল, আরে ইউনুস এসে কী করবে? ওর নিজের নোবেল পুরষ্কারই তো প্রশ্নের সম্মুখীন। আমি একটু নড়ে উঠলাম। ইনিই তো ইঊনুসের অর্থনীতিতে নোবেল  না পাবার কথা বলায় আমার অজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছিলেন । ব্যাপারটা কী? আমি বললাম, দোস্ত, একটু খোলাসা কইরা বলো।

 

এবার সে অর্থনীতির তাত্ত্বিক কথায় চলে গেল অথচ আমার বন্ধুটি অর্থনীতির লোক নন। সে বলল, ইউনুস তো সুদখোর। তুমি কি জান, সে কত পার্সেন্ট ইন্টারেস্ট নেয়। তুমি কি জান, আসল ফেরত না দিলে ইউনুস ও তার গ্রামীন  ব্যাংকের  অফিসাররা কী করে?

 

আমি হতবাক ! আমার জানামতে ইন্টারেস্ট অর্থনীতির প্রধান একটি উপাদান। যদিও ইসলামী ব্যাংক বলে যে, তারা ইন্টারেস্ট নিয়ে কাজ করে না। তদেরটা হলো প্রফিট পার্সেন্টেজ। আমি এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য খুজে পাই না । তারা বলেন যে, ইণ্টারেস্ট হলো ফিক্সড একটা রেট, আর প্রফিট পার্সেন্টেজ হলো ভ্যারিয়েবল কারন প্রফিটের উপর  ভিত্তি করে পার্সেন্টেজ ঘোষনা করা হয়।  তাদের সেই পার্সেণ্টেজ কিন্ত বেশিরভাগ সময়ে একই থাকে। এবং এই রিটার্ন তারা অর্জন করে একই ভাবে। অর্থাৎ লাউ মানে কদু আরে কদু মানে লাউ। যাই হোক্‌ আমার বন্ধুটির বক্তব্য হলো, ইউনুস গরীবের টাকা শোষন করে নিচ্ছে। তারা সুদখোর, তাদের ইন্টারেস্ট অনেক বেশী। আমি যতটুকু জানি, ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংকের রিকভারী রেট ৯৫ পার্সেন্টেজ-এর চেয়ে বেশি। এবং গরীব লোকজন সিকিউরিটি  ছাড়াই ঋন পায়। মানুষ যদি সহজে টাকা নিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত লাভ পায় এবং উচ্চ ইন্টারেস্ট দিতে পারে, তাহলে সমস্যা কোথায় ? আমি তর্ক ছেড়ে দিলাম। বরং বিভিন্নভাবে জানতে চেষ্টা করলাম যে, কেন তাদের মনোভাব হঠাৎ করে পরিবর্তন হলো। ব্যাপারটি আসলে এসেছে আমাদের নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে। ইউনুস রাজনীতিতে যোগদানের কথা ঘোষনা করায়, আমাদের   নেতা-নেত্রীদের বিশেষ করে দুই নেত্রীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। তারা ভয় পাচ্ছে যে, এবার তাদের আসন সত্যিই টলায়মান। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তখন তার ভাষনে বলেই বসলেন যে, ডঃ ইউনুস সুদখোর। আর সাধারন  মানুষেরা যারা রাজার নীতি বোঝেন না, তারা নেত্রীর ফাদে পা দিলেন। অনেকগুলি  ডক্টরেট ডিগ্রীর অধিকারী আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী (অথচ একটি মাত্র ডক্টরেট ডিগ্রীর জন্য   ইউনুস এবং অন্যান্য দের অনেকগুলি বছর অনেক পরিমানে পড়াশুনা, গবেষণা করতে হয়েছে )  শুধুমাত্র নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনে দেশ বরেণ্য একজন মানুষকে সুদখোর বানিয়ে দিলেন। তার কাছ থেকে আমরা কেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ পাব - আমার বোধগম্য নয়। বিরোধী দলেরও একই অবস্থা। আমি সবচেয়ে বেশী হতবাক হলাম যে, আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবি মহল ব্যাপারটা বিশ্লেষণ করে বোঝানো তো দুরের কথা,  কোন প্রতিবাদ পর্যন্ত  করলেন না। আমরা কি সবাই আমাদের মেরুদন্ডটি এই দুই দলের কাছে বিক্রী করে দিয়েছি? কবে আমরা ডঃ ইউনুস বা এমন একজনকে আমাদের রাষ্ট্রুপ্রধান হিসেবে দেখব। কবে আমাদের পার্লামেণ্ট তুখোড় সব  ব্যক্তিদের আলোচনায় ভরে উঠবে? আমরা একজন “মহাথীর” কে হারিয়ে ফেলছি যে নাকি পুরো বাংলাদেশটিকে বদলে দিতে পারতেন  যেমন করে সারা বিশ্বে বদলে দিয়েছেন দারিদ্র্য দুরীকরন পদ্ধতিটি।

সঞ্চয় রহমান 

২৪ নভেম্বর, ২০১০, আলেক্সান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া

10Comments

1
axis
Fri, 29/06/2012 - 10:59am

বাংলাদেশের আর কোন ভবিষ্যৎ নেই, এটা ফেইল্ড কান্ট্রি লিস্টে তালিকাবদ্ধ হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।কারণ এই দেশের সব বুদ্ধিজীবিরা দুই পরিবারের নিকট নিজেদের বিক্রী করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র দুই পরিবারের সম্পত্তি।

IAS Coaching in Chandigarh

2
vivienbing
Mon, 16/04/2012 - 11:46am

And there are more over-the-top MLB Hats out there, accessible through devices such as Apple TV and Boxee, and I suspect there will be more in the future that do not DC Shoes Hats on being a customer of New Era Baseball Caps.

3
Gianni
Mon, 13/02/2012 - 8:50pm

আমি সবার মত এরকমটা ভাবতে চেয়েছি, এখনও ভাবতে চেষ্টা করি, কিন্তু কেন যেন পারি না। কেন যেন মনে হয় আমার প্রিয় দেশটিকে রক্ষা করা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিযোগীতায় নিয়ে আসা সম্ভব। আমার এই দেশটিতে অসম্ভব মেধাবী সম্পন্ন অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যারা দেশটিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যেতে পারবে।
আমি যখন দেশে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলি, দেশে ফিরে আসা ্বিষয়ে আলাপ করি, সবারই একটাই মতামত। যেখানে আছ, বেশ ভালো আছ। দেশে ফিরে কী করবে? পারলে আরো কিছু মানুষ নিয়ে যাও। আমার কষ্ট হয়। আমার ভেতরে তীব্র একটা ব্যাথাGta 5 অনুভূত হয়। কারণ দেশে ফেরার চিন্তাটা আমি মাথা থেকে বাদ দিতে পারি না। আমি চাই প্রবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত বাংলাদেশী ফিরে যাক, নিজের মেধা, নিজের আন্তরিকতা, পরিশ্রম দিয়ে চমৎকার একটি দেশ গড়ে তুলুক।
কিন্তু মুহূর্তেই আবার সবার সতর্কবাণী মনে পড়ে। ড ইউনুসের অবস্থা দেখছ তো? এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে। ইউনুসের একমাত্র অপরাধ যে সে দেশ থেকে দুই পরিবারকে বিদায় করে নিজের কাধেঁ দেশের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। ইউনুসের অপরাধ সে হাসিনা এবং হাসিনা পরিবারের বন্দনা কখনো করে নাই। ইউনুসের অপরাধ, সে তর্কসাপেক্ষে বাংলাদেশের জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে বেশী জনপ্রিয়।

So amazing i think exactly the same way

4
Gianni
Mon, 13/02/2012 - 8:48pm

Chiva নামের এক ধরণের পরিবহন আছে দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। দেখতে অনেকটা মোহম্মদপুর-গুলিস্তান রুটের টাটা কোম্পানীর বাস গুলোর মত। আকারে বেশ ছোট। বাস গুলোকে ব্যবহার করা হয় মূলত বিনোদন কাজে। কার্তাখেনা ভ্রমনে এলে চিভা অভিজ্ঞতা অনেকটা যেন বাধ্যতামূলক। সহজে কেউ মিস করতে চায় না সাগর পাড়ের লাতিনো অভিজ্ঞতা। আমিও করলাম না। রং আর আলোর ঝলকানির সাথে লাতিনো সাম্বা, মেরেংগে, কুম্বিয়া নাচের লাগামহীন উদ্দামতা কিছুক্ষণের জন্যে হলেও ভুলিয়ে দেয় বেচে থাকার কঠিন বাস্তবতা। সংখ্যায় আমরা ১৫ জন। বেশির ভাগ ট্যুরষ্ট এবং এসেছে প্রতিবেশি দেশ ভেনিজুয়েলা হতে। সাথে ১ জন অস্ট্রেলিয়ান, ২ জন জাপানী এবং ১ জন ইউরোপীয় দেশ লুক্সেমবার্গের। কলম্বিয়ান গাইড নিজের পরিচয় দিয়ে বাকি সবাইকে নিজ নিজ পরিচয় প্রকাশ করতে অনুরোধ Gta 5করল। ভেনিজুয়েলানদের অনেকে নিজের নাম বলার সাথে ভিভা ভেনিজুয়েলা এবং ভিভা হুগো শাভেজ বলে শেষ করলো নিজের পরিচয়। দেশটার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের নাম উচ্চারণের সাথে কেউ উল্লাস করল কেউবা আবার ধুয়ো দিল। সব শেষে আমার পালা। মার্কিন পাসপোর্টধারী হলেও আমার পরিচয় যে একজন বাংলাদেশি তা গর্ব করেই বললাম। কয়েক সেকেন্ড সময় নিল গাইড, স্পেনিশ অনুবাদ শেষ হতে করতালিতে ফেটে পরল সবাই। অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম সহযাত্রীদের অপ্রাত্যিশ আচরণে। করতালির কোন কারণ খুঁজে পেলাম না। হুগো শাভেজের সমর্থক আর বিরুদ্ধবাদীরা এ যাত্রায় এক হয়ে গেল। হতবাক হয়ে দাড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। গিন্নিকে অনুরোধ করলাম কারণটা খুঁজে বের করতে।

5
Shawnchoy.Rahman
Shawnchoy.Rahman's picture
Mon, 18/07/2011 - 9:17am

Yunus's lecture at Wharton School (One of the best business schools)

Lecture 1

Lecture 2

Lecture 3

Lecture 4

Lecture 5

Lecture 6

 

6
Shawnchoy.Rahman
Shawnchoy.Rahman's picture
Mon, 18/07/2011 - 8:42am

7
Raju
Thu, 03/03/2011 - 11:57am

 


Family dynasty is not for the people but politics is for the people. There are many intellectuals who are involved in politics but their vision is shut down by the democratic Dictators. One day, they will come in front and that day is not far.  God bless Bangladesh and Dr. Younus.

8
Shawnchoy.Rahman
Shawnchoy.Rahman's picture
Fri, 04/03/2011 - 3:15am

 


আমার সহকর্মীদের অনেকেই স্থির সিদ্ধান্তে  চলে এসেছেন যে তারা কখনোই বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস আর করবেন না। তাদের কথা হল, বাংলাদেশের আর কোন ভবিষ্যৎ নেই, এটা ফেইল্ড কান্ট্রি লিস্টে তালিকাবদ্ধ হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।কারণ এই দেশের সব বুদ্ধিজীবিরা দুই পরিবারের নিকট নিজেদের বিক্রী করে দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন শুধুমাত্র দুই পরিবারের সম্পত্তি।
আমি সবার মত এরকমটা ভাবতে চেয়েছি, এখনও ভাবতে চেষ্টা করি, কিন্তু কেন যেন পারি না। কেন যেন মনে হয় আমার প্রিয় দেশটিকে রক্ষা করা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে প্রতিযোগীতায় নিয়ে আসা সম্ভব। আমার এই দেশটিতে অসম্ভব মেধাবী সম্পন্ন অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যারা  দেশটিকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যেতে পারবে।
আমি যখন দেশে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথা বলি, দেশে ফিরে আসা ্বিষয়ে আলাপ করি, সবারই একটাই মতামত। যেখানে আছ, বেশ ভালো আছ। দেশে ফিরে কী করবে? পারলে আরো কিছু মানুষ নিয়ে যাও। আমার কষ্ট হয়। আমার ভেতরে তীব্র একটা ব্যাথা অনুভূত হয়।  কারণ দেশে ফেরার চিন্তাটা আমি মাথা থেকে বাদ দিতে পারি না। আমি চাই প্রবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত বাংলাদেশী ফিরে যাক, নিজের  মেধা, নিজের আন্তরিকতা, পরিশ্রম দিয়ে চমৎকার একটি দেশ গড়ে তুলুক।
কিন্তু মুহূর্তেই আবার সবার সতর্কবাণী মনে পড়ে। ড ইউনুসের অবস্থা দেখছ তো? এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে। ইউনুসের একমাত্র অপরাধ যে সে দেশ থেকে দুই পরিবারকে বিদায় করে নিজের কাধেঁ দেশের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। ইউনুসের অপরাধ সে হাসিনা এবং হাসিনা পরিবারের বন্দনা কখনো করে নাই। ইউনুসের অপরাধ, সে তর্কসাপেক্ষে বাংলাদেশের জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেয়ে বেশী জনপ্রিয়।

সকালে অফিসে যাবার পর আমার এক বন্ধু উইলিয়াম হঠাৎ আমাকে ডাকল।
তোমার দেশের খবর জানো?
কী খবর? আমি মনে মনে ভাবছি উইলিয়াম হয়তবা আমার দেশের ক্রিকেটের কথা বলবে, কিন্তু আমার ভাবনা ভূল প্রমাণিত করে উইলিয়াম বলল,
নোবেল বিজয়ী ইউনুসকে নাকি তোমাদের সরকার শেষ পর্যন্ত গ্রামীন ব্যাঙ্ক থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। এটা আজকের নিউইয়র্ক টাইমস-এ এসেছে। এটা কেমন করে সম্ভব? তোমার দেশেও কি মিশরের অবস্থা নাকি? যতদূর জানি তোমার দেশে গনতান্ত্রিক সরকার। কিন্তু পত্রিকায় এটাও এসেছে যে, তোমার দেশের সরকার প্রফেসর ইউনুসকে ‘ব্লাড সাকার’ বলেছে।
আমি ভেবে পাই না, আমি কী বলব? আমি লজ্জায় ম্রিয়মাণ হয়ে যাই। অথচ এই আমিই একদিন গর্বিত হয়েছিলাম যখন একজন আমেরিকান আমাকে বলেছিল যে, তোমার দেশের একজন শান্তিতে নোবেল পেয়েছে।
আমার কষ্ট লাগে,  ঠিক কয়েক বছর  পরই আরেকজন আমেরিকান  আমাদের  নীচতার কথা বলছে।

আমাদের দেশে মেধার কদর নাই। মেধাবী লোকজন দেশে থাকলে ইউনুসের অবস্থা হবে, নতুবা দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। তারপরেও আমরা বছরের পর পর এই দুই পরিবারকে ভোট দিয়ে যাব আর এই দুই পরিবার দেশকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে নিবে। আর কতদিন, কতযুগ?
এখনও কি সময় হয়নি যার যা কিছু আছে তা নিয়ে বেরিয়ে পড়ার? এখনও কি সময় হয়নি হাসিনা-খালেদা-এরশাদ-নিজামী গং-দের দেশ থেকে বের করে দেয়ার? এখনও কি ইউনুসের মত লোকেরা এদের হাতে ধরাশায়ী হতে থাকবে? সময় হয়েছে সমস্ত বাংলাদেশীদের জেগে উঠার। জেগে উঠুক প্রতিটি বাংলাদেশী অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

সঞ্চয় রহমান

 

9
icy hot
Fri, 27/05/2011 - 11:52pm

১) " দেশে ফেরার চিন্তাটা আমি মাথা থেকে বাদ দিতে পারি না" - আমিও পারিনা, কোনভাবেই পারিনা | একদিনের জন্যও, আক্ষরিক অর্থেই, আমার চিন্তা জগত থেকে আমার সেই শহরতলির মহল্লা, আমার সেই নদী, আমার ভিটে আমি ভুলতে পারিনা | প্রতিদিনই কাজের মধ্যে, ড্রাইভ করতে করতে, টিভি দেখতে দেখতে, বই-পত্রিকা পড়তে পড়তে, মুড়ি-মাখা খেতে খেতে কিংবা ডালের মধ্যে চুমুক দিতে দিতে আমি কেমন করে যেন দেশে চলে যাই - হাঁটি পরিচিত পথে, মহল্লার চায়ের দোকানে বসে সিঙ্গারা খাই, ছাদে বসে আড্ডা দিই, দরদাম করি পছন্দের মাছ , শংকুইরাকে ডাব গাছে উঠাই, নদীর পাড়ে গলাছেড়ে গান গাই, নদীর আল ধরে হাটতে হাটতে আজাদ ভাইয়ের বাড়ি চলে যাই - আরো কত কি করি ! আমি জানিনা আদৌ আমি ফিরতে পারব কিনা | ফেরার কথা বললে সবাই - এখানে, এমনকি দেশেও - এমন ভাবে হতাশ করে দেয় যে, দেশটাকে তখন দেশ মনে না হয়ে উল্টো অচিন পরদেশ মনে হয় | তবু আমি মনে মনে ভাবি - একদিন ঠিকই আমি ওয়ানওয়ে টিকেট কাটবো |

২) বাংলাদেশ এখন দুই পরিবারেরই সম্পত্তি | একদিন হয়তো দুই পরিবারের চুলোচুলিতে বাংলাদেশ হয়ে যাবে মোল্লাবাড়ির সম্পত্তি | বাংলাদেশের নাম পাল্টে হয়তো রাখা হবে 'বাংলাস্তান' | আজকের এই অবস্থার জন্য যতটা দোষ ওই দুই পরিবারের কিংবা মোল্লাদের, তারচেয়ে বেশি দোষ আম জনতার - কারণ আম জনতাই তাদেরকে ভোট দিয়ে মসনদে বসায় | দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকরা আম জনতাকে  "না" ভোটের যৌক্তিক  অধিকার দিতে না চাইলেও আম জনতাই পারে ভোট না দিয়ে কিংবা ভোট নষ্ট করে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে | কিন্তু আম জনতা তা করে না - বরং এক কাপ চা এবং একটি পরোটার বিনিময়ে মূল্যবান একটি ভোট বিক্রি করে দেয় !

৩) আপনার মত আমিও বলি "জেগে উঠুক প্রতিটি বাংলাদেশী" | কিন্তু  জেগে ওঠে না কেউ | আপনার আমার মত আম জনতার কথা অন্য আম জনতা শুনে না | আম জনতা যাদের কথা শুনে জেগে উঠতে পারত, আপনার ভাষায়, সেই "বুদ্ধিজীবিরা দুই পরিবারের নিকট নিজেদের বিক্রী করে দিয়েছে", দিচ্ছে | তবু আশা ছাড়তে চাইনা, একদিন নিশ্চয় ঠিক ঠিক সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে |

10
andalib masud
Fri, 26/11/2010 - 5:55am

Dr Yunus should not get involved in politics. If he gets, then his present goal is not going to be achieved. Let the politicians do this dirty job. Politics is a different and dirty subject. Dr Yunus is not acquinted with this dirty poltics which is prevailing in our country.Unless you have enough black money and few terrorist under your control you should not dare to be a politician. Surprisingly the people of our country also remain quiet and reactionless in this regard. I will not be surprised if Dr Yunus's  security money is forfieted if he goes for election.