প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম এবং চারপাশের বাস্তবতা

sirajul.islam.chowdhury's picture

প্রবাসী পক্ষে দেশকে না দেখে কোনো উপায় নেই। প্রথম কথা এই যে, প্রবাসী মাত্রেই স্বদেশবাসী, দেশ তার সঙ্গে সঙ্গে থাকে, স্মৃতিতে জ্বলে, অনুভবে লুকিয়ে রয়, দৃষ্টিভঙ্গিতেও ধরা পড়ে। দেশে বাস করে দেশকে উপেক্ষা করা বরং সহজ, প্রবাসে থেকে দেশকে না দেখার তুলনায়। দ্বিতীয় সত্য এই যে, বিদেশে এসে খোঁজ পাওয়া গেছে নতুন আলোর। খোঁজ পাওয়া নয় তো, অনেক ক্ষেত্রেই আলোটা সঙ্গী হয়ে থাকে সর্বক্ষণ। সে আলো দেশকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়।

তৃতীয় ঘটনা এমনতর যে, ভালো দৃশ্য যেমন তেমন, খারাপ দৃশ্য চোখ কাড়ে না হয়তো কিন্তু চোখে টেনে নেয় ঠিকই। ফুলের টব ও আবর্জনার বালতি পাশাপাশি থাকলে আবর্জনাই দেখি প্রথমে। দৃশ্য তো আছেই; গন্ধটাও কম নয়। দেশে ফিরলে প্রবাসী প্রথমে যা দেখে তা হলো ভিড়। আগেও ছিল, কিন্তু সে ভিড় আরো বেড়েছে। উপচে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে দেখা হয় অরাজকতাও। নানা ধরনের দুর্বৃত্ত ওঁৎপেতে রয়েছে। ধরবে, জব্দ করবে, ঠকাবে।



কোনো মতে পথে বের হয়ে আসতে পারলে দেখবে সে বৈষম্য। বৈষম্য পুরাতন ব্যাপার, কিন্তু তার মনে হবে যে, সেটা বেড়েছে। সত্যি সত্যি তো বেড়েছে, না দেখে উপায় কী। এই বৈষম্য রাস্তায় চোখে পড়বে, নিজের ঠিকানায় পৌঁছলেই টের পাওয়া যাবে। পরিবার ভেঙে গেছে, ক্ষুদ্র এক অংশ ওপরে গেছে উঠে, অপরাংশ, সেটাই বড়, নেমে গেছে নিচে। দেখবে সে তথ্যপ্রযুক্তির প্রাচুর্য ঘটেছে। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, বিদেশে যা দেখেছে, এখানেও পাবে দেখতে।



কিন্তু এদের প্রাচুর্য অভাব দূর করেনি মানুষের, যা করেছে তা হলো বৈষম্য বৃদ্ধি। অন্তর্গত বৈষম্যকে আরো প্রকটিত করে তুলেছে। না দেখে উপায় থাকবে না। সর্বত্র ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় চলে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে, এ খবর জানা আছে প্রবাসীর। দেখবে সে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা পেতে হলে যেতে হবে প্রাইভেট ক্লিনিকে। দেখবে সে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সঙ্কুচিত, প্রাইভেট কারের দাপটে। আর সেই সব গাড়ি যে পরিমাণ বিষাক্ত গ্যাস ছাড়ছে তা শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত করে দেয় মানুষ ও গাছপালাকে।

বিদেশে প্রবাসীদের জন্য সমস্যা মাতৃভাষা চর্চা করা। এখানে এসে দেখবে ধনী ঘরের ছেলেমেয়েরা মাতৃভাষা ভুলতে চলেছে। এ কেমন ঘটনা, ভাববে সে। বিদেশে আমরা আতঙ্কে থাকি মাতৃভাষা ভুলে যাব বলে, আর এখানে দেখেছি মাতৃভাষা ভোলা যায় কী করে তার জন্য জীবনপণ চেষ্টা। শিক্ষার প্রধান যে ধারা সেই বাংলা মাধ্যমিক ব্যবস্থায় দেখবে সে যে নকল বেড়েছে পরীক্ষায়। শুনবে শ্রেণীকক্ষ থেকে পড়াশোনা উঠে গেছে; যা হওয়ার হয় কোচিং সেন্টারে। প্রবাসীরা দেখেছে পুঁজিবাদী বিশ্বে নৈতিকতার প্রশ্নটি বড় জরুরি হয়ে উঠেছে। পুঁজিবাদীরা নানা অপকর্ম করে, নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কোনো প্রকার সামাজিক দায়িত্ব নিতে চায় না। প্রবাসী বাঙালি কেউ কেউ ভাবে প্রতিকার রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষায়। কিন্তু প্রবাসী জানে সে শিক্ষা স্কুল শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না, বড়জোর পরিপূরক হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রবাসী দেখবে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার বেড়েছে; দেখে সে চিন্তিত হবে।



শিক্ষা তো শিক্ষার্থীকে আধুনিক করবে। তাকে দক্ষতা দেবে, বাড়াবে তার মানমর্যাদা। এ কথা তো সত্য, মাদ্রাসাতে প্রধানত যায় গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরাই। কেননা, সেখানে খরচা কম। আর যায় কিছুটা অবস্থাপন্ন ঘরের বুদ্ধিবৃত্তিতে কম অগ্রসর সন্তানরা। তারা সেখানে গিয়ে যে শিক্ষা পায় তাতে তাদের জাগতিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না, বরং আরো খারাপ হয়, তাদের শিক্ষা অর্থনৈতিকভাবে তাদের এগিয়ে দেয় না। প্রবাসীর চোখে এটা ধরা পড়ে বেশ সহজেই যে, গরিব ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসা শিক্ষা দেয়া আসলে গরিব মানুষকে গরিব করে রাখার ষড়যন্ত্র। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় এটা যে, গরিব টেরই পায় না যে এটা তার সঙ্গে শত্রুতা মাত্র, সে ভাবে তার উপকার করা হচ্ছে, তাকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসী দেখবে এই বিপরীত ঘটনাও যে, মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য যারা উচ্চ হারে সরকারি ব্যয়ের বরাদ্দ দেয়, তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি মাদ্রাসায় পড়ে না।

প্রবাসীর মনে এই দুশ্চিন্তা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে পীড়াদায়ক হয়ে দেখা দেবে যে, এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে কিনা। এর ঐক্যটা কোথায়? না, ঐক্য সে খুঁজে পাবে না। দেশপ্রেম সে প্রবাসীদের মধ্যে যতোটা দেখেছে, দেখে উৎফুল্ল হয়েছে, দেশে ফিরে অনেক বাঙালির মধ্যেই তা দেখতে পাবে না, না পেয়ে দমে যাবে। টের পাবে সে যে, স্বদেশীদের অনেকেই তাকে ঈর্ষা করছে। বলছে খুব ভালো আছো ভাই। কিভাবে যাওয়া যায় তার ফন্দি-ফিকির তারা জানতে চাইছে। ধাক্কা খাবে প্রবাসী এটা দেখে যে, সে যাদের ঈর্ষা করে তাদের কাছেই সে পাত্র হচ্ছে ঈর্ষার। তাতে তার ব্যক্তিগত অহমিকা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু সমষ্টিগত ভবিষ্যৎটা তার কাছে উজ্জ্বল মনে হবে না।



সবাই বলবে দেশে নিরাপত্তা নেই। সরকার যে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। অস্ত্র ও বোমার ব্যবহার বাড়ছে। এমন জিনিস আগে এ দেশে ছিল না। অপরাধী ধরা পড়ছে না। আর ধরা পড়ছে না বলেই অপরাধ বাড়ছে। আসল অপরাধ সুযোগ প্রাপ্তরাই করে থাকে। করে ক্ষমতার ছত্রছায়ায়। আর সে ক্ষমতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি দলের। সন্ত্রাস মূলত রাজনৈতিক এবং তা ঘটে রাজনীতির স্বার্থে এবং পৃষ্ঠপোষকতায়। ভাড়াটে খুনিও পাওয়া যাচ্ছে অল্প দামেই। পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে এ দেশের মানুষের কখনই কোনো আস্থা ছিল না। ভয় ছিল। কিন্তু সেই আস্থাহীনতা ও ভীতিও এখন যে পর্যায়ে গেছে সেটা আগে কখনো দেখা যায়নি।



প্রবাসী শুনবে কৃষকের দুর্দশার কথা। ফসল খারাপ হলে কৃষকের মাথায় বাজ পড়ে। সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু শুনবে সে যে বাম্পার ফসল হলেও কৃষকের সমূহ সর্বনাশ। টমেটো পচনশীল। তা ধরে রাখা যায় না। সেজন্য উত্তরবঙ্গে এমনও ঘটনা ঘটেছে যে এক মণ টমেটো বিক্রি করে কৃষক ১ সের চাল কিনে ঘরে ফিরেছে। বোরো ধান খুব ফলেছে। তাতে কৃষক বসে গেছে মাথায় হাত দিয়ে। যে ধান তৈরিতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এই খরচের মধ্যে কৃষকের শ্রমের হিসাবটা নেই। ব্যাপার দাঁড়াচ্ছে এই যে, কৃষক যদি নিজের ক্ষেত্রে ধান না চাষ করে অন্যের ক্ষেত্রে দিনমজুরি খাটতো তাহলে তার উপকার হতো বেশি। খাদ্যে গর্বিত স্বয়ংসম্পূর্ণতা শীর্ণ কৃষকের দীর্ঘশ্বাসে পুষ্ট বটে।



প্রবাসী শুনতে পাবে এবং দেখবেও যে, দেশের নদী-খাল, বিল, পার্ক, খোলা মাঠ সব ব্যক্তিগত হয়ে গেছে। তার জানা আছে এটা যে, একাত্তর সালে এ দেশে হানাদাররা এসেছিল বাইরে থেকে। তারা ছিল শত্রু, তাদের আচরণ ছিল দৈত্যের মতো। তারা মানুষ মেরে, বাড়িঘর পুড়িয়ে, ধর্ষণ করে, সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার এসে দেখবে সে যে, বিদেশি হানাদাররা গেছে চলে ঠিকই, কিন্তু দেশী হানাদাররা তৎপর হয়ে উঠেছে মহোৎসাহে, তারা দৈত্য নয় হয়তো তবে রাক্ষস ও শৃগাল বটে যা পায় খেয়ে ফেলে এবং খাওয়াতে কোনো বিরতি নেই, ক্লান্তি নেই। দেখতে পাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বৃদ্ধি করা উচিত ছিল রেল লাইন, সেটা এক ইঞ্চি বাড়েনি বরং কমেছে। বাড়ানো উচিত ছিল নৌপথের সুবিধা। সেটা এক তিল বাড়েনি। বেড়েছে বাস, সড়ক ও সড়কের দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণ করলে সুবিধা ঠিকাদারদের, সুবিধা বাস-ট্রাক মালিকের। সুবিধা ওসবের বিদেশি বিক্রেতার স্থানীয় এজেন্টের। সেই সুবিধারই পাকা বন্দোবস্ত মানুষের মৃত্যু বিনিময়ে।

ঢাকা শহরের সমৃদ্ধির সাথে সাথে নগর জীবন থমকে দাড়াচ্ছে

 



বিদেশ থেকে প্রবাসী শুনে এসেছে যে, বাংলাদেশ গ্যাস ও তেলের ওপর ভাসছে, কিন্তু তাতে বাংলাদেশের বিপদের আশু সম্ভাবনা। কেননা, তা বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানির কাছে। তারা আমাদের গ্যাস ও তেল তাদের নিজেদের স্থির করা দামে কিনবে এবং পরে তা আন্তর্জাতিক দরে তাদের কাছ থেকেই আবার আমরা কিনে নেব। অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্য। সেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কার অবস্থা।



সমুদ্র বন্দর হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ। বাংলাদেশে বন্দর বলতে আসলে একটাই। চট্টগ্রামে। প্রবাসী শুনবে সেটা ধ্বংসের ব্যবস্থা হচ্ছে বিদেশীদের পাল্টা বন্দর তৈরি করার সুযোগদানের মাধ্যমে। কারা দিচ্ছে? আবার কারা, ওই দেশী লুণ্ঠনকারীরা। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদদৌলা লড়েছিলেন উপনিবেশবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তারপর ব্রিটিশ শাসনকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন হয়েছে। ব্রিটিশ গেছে, কিন্তু উপনিবেশ যায়নি। যে জন্য পাকিস্তানি শাসন আমলে আমাদেরকে লড়াই করতে হয়েছে। আজকে দেশ স্বাধীন। কিন্তু প্রবাসী দেখবে মনুষের মুক্তি তো দূরের কথা দেশের স্বাধীনতাও আসেনি। লগ্নিপুঁজি ও মুক্তবাজার দেশ দখল করে ফেলেছে। ফলে বড় রাষ্ট্র ছোট হয়েছে ঠিকই কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার মতাদর্শ ও সংগঠন দুটোই পুঁজিবাদী ও আমলাতান্ত্রিক। ব্রিটিশ আমলেও এ রকম ছিল, পাকিস্তান আমলেও তাই, এখনো অধিকাংশ সেই রকমই। পরিবর্তন যা তা নামে।



ব্রিটিশ গেছে, পাঞ্জাবি গেছে, এখন এসেছে বাঙালি। বাঙালি শাসক আগের শাসকদের মতোই লুটপাট করে। তবে একটা তফাৎ আছে, আগেকার শাসকরা জানতো তারা বিদেশি, তাই অল্প হলেও ভয়ে ভয়ে থাকতো, এখনকার শাসকদের সেই ভয়টা নেই, কেননা তারা স্বদেশী। এরা লুণ্ঠন করছে আরো নির্মমভাবে। তাদের জন্য দায় নেই কোনো জবাবদিহিতার এবং অবাধে এই লুণ্ঠনই হচ্ছে তাদের রাজনীতি। যে জন্য সর্বত্র এমন নৈরাজ্য, নিরাপত্তার এমন অভাব।



নির্বাচন আসলে হচ্ছে দুইদল ডাকাতের মধ্যে লড়াই। তাই তো নির্বাচন আসছে দেখলে মানুষ কিছুটা ভীত হয়। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ের যে প্রস্ত্ততি তাতে উলুখাগড়াদেরই বিপদ। কে জিতবে, কে হারবে তাতে জনগণের কিছু আসবে যাবে না। তাদের অবস্থা আরো খারাপ হতেই থাকবে। লুণ্ঠনকারীরা তাদের রেহাই দেবে না। প্রবাসী যেটা দেখতে না পেয়ে পীড়িত হবে তা হলো প্রতিরোধ। লুণ্ঠন ব্রিটিশ আমলে ছিল, পাকিস্তান আমলেও ছিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধও ছিল। এখন সেটা নেই। হতাশার কারণ রয়েছে সেখানেই। অনুৎপাদক লুণ্ঠনকারীরা রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকে। এ দলে তারা, ও দলেও তারাই। জনগণ কোনো বিকল্প পাচ্ছে না। লুন্ঠনের বাইরে কোনো আদর্শবাদিতা নেই। প্রবাসী দেখবে এটা। দেখে দুশ্চিন্তায় পড়বে। প্রতিরোধ যে একেবারেই নেই তা অবশ্য নয়। আর শুনবে সে এবং আশা করবে যে প্রতিরোধটা শক্তিশালী হোক, মানুষের মুক্তির যে রাজনীতিটা সামনে আসুক। এই রাষ্ট্রের চরিত্র বদল ঘটুক এবং রাষ্ট্রের আদর্শগত সাংগঠনিক বিন্যাসের পরিবর্তন মানুষকে মাুনষের মতো বাঁচতে দিক।



মূল প্রয়োজন ওই আদর্শবাদী রাজনীতির। দেশের মানুষ সেটা গড়ে তুলতে পারছে না। নেতৃত্ব আসবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই কিন্তু সে মধ্যবিত্তকে শ্রেণীচ্যুত হয়ে জনগণের সঙ্গে এক হতে হবে। জনগণের স্বার্থকে প্রধান করে তুলতে হবে। তার জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ আবশ্যক। প্রবাসী বুঝবে সেটা। চাইবে ওই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে। যতোটা চাইবে ততোটাই ভালো। তার বাইরে তো কেবলই হতাশা।



দেশে এখন দেশপ্রেমের খুবই অভাব। প্রবাসী বাংলাদেশী পীড়িত হয়, দেশে ফিরে যখন সে অভাব দেখে এই দেশপ্রেমের। প্রবাসী মাত্রেই যে দেশপ্রেমিক তা নিশ্চয়ই নয়। কেউ কেউ আছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অধিকাংশই দেশের কথা ভাবে, দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, দেশের দুর্দশা দেখে তারা পীড়িত বোধ করে। দেশের রাজনীতিতে মীর জাফরদের উৎপাতে প্রবাসী টের পায়, টের পেয়ে তার দুঃখ বাড়ে। কিন্তু প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।



প্রবাসীদের পক্ষে ভাবার বিষয় হচ্ছে এ লড়াইয়ে তারা কোনো ভূমিকা নিতে পারে কিনা। কেবল টাকা পাঠালেই যে দেশ বদলাবে না তা তো বোঝাই যাচ্ছে।

 

8Comments

1
vivienbing
Mon, 16/04/2012 - 11:45am

Buying thousands of cheap new era hats home decor items, from fanciful papier mache animals to metal bowls, and selling them in selected stores and online. snapback hats, the global logistics company that was one of the event’s sponsors, consolidated and transported all the women’s products to Miami Beach free of New Era Fitted Hats.

2
badangle
Fri, 06/04/2012 - 4:11pm

59fifty caps are usually packaged in cartons and smaller boxes which are beautifully decorated with artwork and carrying the company label.This applies the most when shipping has to be done and the type of monster energy hats packaging is used to determine the packaging cost.When people see a buyer carrying a bag with the DC shoes hats of the company, they will definitely get attracted and pulled towards with an urge to get the same.High quality packaging of the hundreds hats, watches, earrings and other help protect them from getting dust or moisture from the environment.This ensures that the new era canada is properly safeguard from harsh weather conditions so that the buyer gets it when it's as new as it ought to be.Other than flaunting fitted new era, the reason behind this is to make the collections customer friendly.

3
nasim.mahmud
nasim.mahmud's picture
Wed, 23/02/2011 - 7:19pm

 

আমার পাশের বাড়ীতে একটি আপেল গাছ আছে। বছর বছর গাছ ভর্তি আপেল। পেড়ে সবাই খায়। প্রতিবেশীর ছোট্ট বাচ্চারা খায়, পথিক খায়, পাখী খায়। দেখতে খুব ভাল লাগে। ওদেরইতো হক। গাছের শত আপেলের শতটাই তারাই খায়, যাদের প্রাপ্য।

একদিন শুনলাম, আপেল গাছটি ইজারা দিয়েছে, বাড়ীর মালিকের মাতাল ছেলে। এখন আর কেই আপেল খেতে পারবে না। এখন একশত আপেল পাড়লে চৌরানব্বইটি আপেলের মালিক হবে যে ইজারা নিয়েছে সে, আর বাকী ছ্য়টি পাবে গাছের মালিক। এখানেই শেষ নয়, ওই যে চৌরানব্বইটি আপেল, তা গাছের মালিককেই কিনতে হবে; বাজার দরে। বাজার দর অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা যাবে।

আমরা কেউ প্রতিবাদ করলাম না, আমার কি। চোখ বুঁজে নির্লজ্জ আর বেহায়া হয়ে কাটিয়ে দিই এই জীবনটা। আমার ভবিশ্যত পুরুষতো জানবে না এতকিছু। আমি ছয়টা আপেলের একটা হয়তো পাব। না পেলেও অসুবিধা নেই, অলিখিত কিছু আপেল আসবে আমার ঘরে। আদমের মত গলায় আটকাবে না, কোত করে গিলে ফেলব। শুধু একটু ভয়, হয়তো ভবিশ্যত প্রজন্ম বুঝবে তারা নির্লজ্জ আর বেহায়াদের হাতে বন্দী হয়ে আছে।

 

কাল্পনিক গল্পটা কঠিন লাগছে? সত্য খুঁজে পাচ্ছেন? উৎসাহী কেউ কোন মিল খুঁজে পেলে ভুল পড়েছেন বলে ধরা হবে।

 

>>লেখক,

খুব ভাল লাগল পড়ে। ভক্তের আবেগ আর উচ্ছাসের ভীরে তলানো লেখার মাঝে দারুন একটি লেখা পড়লাম। যে দু’চার জন আবেগ আর উচ্ছাসের বাইরে এসেছেন, তাদের হাতে আছে দলীয় তল্পী বা ব্যাবসায়ীক তোকমা। আরো লিখুন। ঘুম ভাঙান।

4
quayum
Sun, 27/02/2011 - 3:06pm

 

 আমি সত্যি দুঃখিত আমরা শুধু বলতে এবং লিখতে পারি কিন্তু প্রতিবাদ করতেয় পারিনা

5
Mir
Wed, 05/01/2011 - 8:57am

Mr.Sirajul Islam and  Mr.Junnurine's opinion are widely accepted opinion of majority public.Mr.Badruddin Ahmad saheb also wrote an excellent Article.TIB and  all public included political parties always talking against corruptions.Looting of the Public Treasury(govt. money,cotract,city lands,gainful employments and so on) started from  British time.During Bangladesh time there are  looters those you can not trace their ancestors at all.Sushil Samaj or rival political parties does  not mind to have social relationship with all those looters(new looter and old looter).So who will put the Bell to the Cat?Big name people would not dare to provide clear direction.Let me give you clue for solving the problem.No#1)Abolish the PoliceDepartment and confiscate all the properties of corrupt officers and no officers for the State treasury.Crietaria should be start from British time.No.2)Justice Department and the corrupt Lawyers and Judicial all kinds of employees should face the same fate as  no.1.No.3):Political leaders and their families should face the same punishments.Without visible/legal business how a political family become Multi billionnare?After those initial action there would be enough confiscated properties and assets for the development of the oppressed and for the victims and their families.If China can punish their corrupt high officials with Firing squad;why Bangladesh could not?Communists and Islamists should work side by side to stop corruption and oppressions.Unfortunately communists and  islamists are very much divided within their own parties for small differences or for personality clash.Jamat leaderships are corrupt.They have exploted Islam for their own personal gains.Gainful employments,manpower business(initialy) with so called Islamic countries which were meant for oppressed islamists and for their families;diverted to the Jamat leaders and their families advantage.Afterwards Banks and so on.These are pure violations of Islam.We all know the history of early Islam that when Zakat was implemented.There were incidences of gifts to Zakat collectors from the field.But those gift were confiscated for the Baitul Maal.Reason was if a person was not a official of the Islamic state/Zakat collector so no Gift he will not be offered.I myself and my family is victim of corruptions by the Justice systems and Police.I am an old man still I do like to join any positive force of Bangladesh who want a drastic change.I do believe it was a wrong decession to kill Sheikh Abdur Rahman and his associates Bagla Bhai and so on in the name of Justice.People should have an opportunity to hear their ideas through the court and Media.Awami's with INdia,Israel and America(my country)'s influence and directions killing leftists and Jangi's without a trial which is extra judicial killings are gross injustice.Needs resistence.Leftists can not resists alone.So are so called Jangi's.Needs greater peoples movement with non-violence to start with.Followed by Satyagroho(Boycott).Finaly the resistence and uphold the human dignity.Patriotism will come along with the working together for a common goal of end of human suffering and end of injustice and oppression.Biplob Zindabad.


With regards,


Mir Dost Mohammad Khan


Denver,Colorado,USA

6
ডাঃ মাহবুব মোর্শেদ
Thu, 09/12/2010 - 12:08am


''দেশে এখন দেশপ্রেমের খুবই অভাব। প্রবাসী বাংলাদেশী পীড়িত হয়, দেশে ফিরে যখন সে অভাব দেখে এই দেশপ্রেমের। প্রবাসী মাত্রেই যে দেশপ্রেমিক তা নিশ্চয়ই নয়। কেউ কেউ আছে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অধিকাংশই দেশের কথা ভাবে, দেশের জন্য তাদের মন কাঁদে, দেশের দুর্দশা দেখে তারা পীড়িত বোধ করে। দেশের রাজনীতিতে মীর জাফরদের উৎপাতে প্রবাসী টের পায়, টের পেয়ে তার দুঃখ বাড়ে। কিন্তু প্রবাসী কি করতে পারে? হ্যাঁ, টাকা পাঠায়। তাতে আত্মীয়-স্বজনের উপকার হয়। আত্মীয়রা ব্যবসা-বাণিজ্য খোলে, দালানকোঠা বানায়। প্রবাসীরা কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দান-অনুদান পাঠিয়ে থাকে। এসব ভালো কাজ। উপকারী কর্তব্য। কিন্তু মূল ব্যাপারটা তো হলো এই যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটা না বদলালে দেশের উন্নতি হবে না।''

-দীর্ঘ এক যুগের ও বেশি প্রবাসে বসবাস করে এবং দেশে বেড়াতে যেয়ে মনে যেসব গভীর  আবেগ এবং ভাবনা জাগে তার সবই উঠে এসেছে আপনার নিপুণ হাতের লেখনীতে।

7
jinnuraine
jinnuraine's picture
Thu, 09/12/2010 - 12:06am

জনাব সিরাজুল ইসলাম সাহেবের অনবদ্য রচনা পাঠ করে বেশীরভাগ প্রবাসীরা যে প্রচন্ড আঘাত পাবেন তাতে সন্দেহের কোন কারন নেই। যদি কোরান নামক ধর্মগ্রন্থ কেউ পাঠ করে থাকেন তাহলে দেখবেন সৃষ্টিকর্তা নরকের যখন ব্যাখ্যা দেন তখন আঘাত প্রাপ্তদের জন্য স্বর্গের ও একটা ধারনা প্রদান করেন এবং সম্ভবতঃ সেই স্বর্গের আশায় ভর করেই বিশ্বাসীরা বেচে থাকেন। শুধুমাত্র নরকের ব্যাখ্যা দিলে সম্ভবতঃ বর্তমান বিশ্বে ধর্ম বিশ্বাসীদের সংখ্যা অনেক কমে যেত।

আসলে ব্যাপারটাকে যদি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দেখা যায় তাহলে বোধ হয় অনেকেই বেচে যাবেন আর তাহচ্ছে বর্তমান বিশ্বের যে কোন দেশেই যান না কেন গোলাপ ফুলের টবের পাশে আবর্জনাও যে আছে তা বোধ হয় কেউই অস্বীকার করবেন না। সম্প্রতি আমি ইটালীর রোম শহরে গিয়েছিলাম। সেখানে পুলিশকে উতকোচ প্রদান করে রাস্তার পাশের ফুটপাতে আমদের বাঙ্গালী সহ অনেক জাতির মানুষ দিব্যি ব্যাবসা করে বেড়াচ্ছে। এমনকি বিশ্ববিখ্যাত কলোসিয়ামের বাইরে হঠাত অস্থায়ী দোকানীদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পেলাম। অল্পক্ষন পর যখন সবাই ফিরে এলো তখন জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেলাম যে পুলিশ বাহিনী আসার সংবাদেই তারা গোল্লাছুট খেলেছেন মাত্র।

বিশ্বে এহেন কোন দেশের রাজধানী নেই যেখানে ট্রাফিক জ্যাম নেই এমনকি আমেরিকা যুক্ত্ররাষ্ট্রের রাজধানী নিউইওর্ক শহরেও।আর বিদেশীদের কবল থেকে বের হয়ে এসে যে রাজনীতিবিদদের শাসনের করতলে আমাদের দেশ পরিচালিত তারা যে আমাদের নিজেদের ভোটে নির্বাচিত এবং বারে বারে দুই তৃতীয়াংশ ভোটের বেশী ভোট প্রাপ্ত হয়েই তারা শাষন করছেন এবং তারা যে জাতির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন তাতে বোধ হয় সন্দেহের উদ্রেক করা বাতুলতা মাত্র। কেননা এই জনগন কিন্তু তাদেরকে কোনভাবেই পরিত্যাগ করে নি। এমনকি বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের দূর্নীতি বিরোধী অভিযান থেকে শুরু করে মাইনাস টু ফর্মূলাও যে জনগন প্রত্যাখ্যান করেছে তা বোধ হয় অস্বীকার করার জো নেই।

এত বেশী দূর্নীতির কথা যা বলা হয়, তার মধ্যেও বাংলাদেশ যে দ্রূত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধী ঘটাচ্ছে তা ত স্বয়ং বিশ্বের সকল অর্থনীতিবিদ এবং অর্থনৈতিক সংঘটন স্বীকার করছেন বারে বারে। আসলে দূর্নীতির সংজ্ঞায় ভুল আছে, সংজ্ঞা সঠিক করলেই দেখা যাবে যে বাংলাদেশে দূর্নীতির হার ততটা বেশী নয়।  দেশে যে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সংকোচিত হয়ে প্রাইভেট ট্রান্সপোর্ট হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে তাও ত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেরই ফসল। না হলে বিদেশী গাড়ী কোম্পানী গুলো ব্যাবসা কি ভাবে করতে পারত। বাঙ্গলাদেশ যে জাপানী গাড়ির ব্যাবসাকে টিকিয়ে রাখতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তা ত আর অস্বীকার করা যায় না?আসলে বিশ্বের এগারতম ঘন বসতি সম্পন্ন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত এবং দারিদ্র পীড়িত দেশ হয়েও বাঙ্গলাদেশের মানুষ ক্রিকেট খেলে জিম্বাবুয়ে এবং নিউযিলেন্ডের মত দেশকে হারিয়ে দিচ্ছে তাতে আমাদের দেশের মানুশের আনন্দিতই হওয়া উচিত। প্রবাসিদের ত গর্বিত হওয়া উচিত।

আর মূল্যবোধের অবক্ষয়, হত্যা, সন্ত্রাস, লুন্ঠন ইত্যাদির যে ভয়াবহ চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে সেটা যে ততটা ভয়াবহ নয় তা আমাদের সরকারী এবং বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের দিকে তাকালেই অনুধাবন করা যাবে। যদি কোন প্রবাসি দেশে ফিরে ভালভাবে রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়াতে পারেন তাহলে তিনি কিংবা তার পরিবারের যে কোন সদস্য বিশেষ বিমানে সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিতসা করাতে পারবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশে ভাল সরকারী চাকুরীজিবি হলে ছেলে সন্তানকে কানাডা কিংবা আমেরিকা তে সহজেই পড়া লিখা করাতে পারবেন আর রাজনীতিবিদ হলে সকলের সন্তানরা ব্রিটেনে এসে ব্যারিস্টারী পড়ে সহজেই বাংলাদেশে অর্থ, প্রতিপত্তি, সম্মান এবং এমনকি সেলেব্রিটি হয়ে যাবার সম্ভাবনাও প্রচুর যদি শুধু মেডিয়ার কয়েকজনের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরী করা যায়।

দেশে দেশপ্রেমের যে অভাবের কথা উচ্চারিত হয়েছে তা বোধ করি কোনভাবেই সঠিক নয় বরং দেশপ্রেমে আকূল রাজনীতিবিদদের কে এতে অসম্মান করা হয়। আর সেই অসম্মান সংবিধানের পরিপন্থী  এমনকি সংবিধান লঙ্ঘনেরও শামিল হয়ে যেতে কতক্ষন?

দেশে কৃষকের ভাবনা বোধ করি একমাত্র কৃষকেরই ভাবা কর্তব্য। সুযোগ সন্ধানি মধ্যবিত্তদের সুযোগ তৈরীর বাহানা হচ্ছে দেশের দরিদ্র মানুষের কথা বলে নিজের অবস্থান সৃষ্টি করা। কই কৃষক শ্রমিকরা ত তেমন কোন আন্দোলন তৈরী করে নি? আর প্রবাসীরা ত আর কৃষিবিদ হচ্ছে না কিংবা তা হওয়ার কোন সম্ভাবনা ও নেই। প্রকৃতপক্ষে আমার মনে হয় প্রবাসীদের জন্য অনেক সুখবর আছে আর তা হচ্ছে যদি মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন ঘটিয়ে মেকিয়াভেলীর তত্ত্ব সঠিকভাবে অধ্যয়নের মাধ্যমে তার সঠিক প্রয়োগ যদি করতে পারেন তবে সাফল্যের সম্ভাবনা কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশেই। আর কোন দেশে কিন্তু এত দ্রূত সাফল্যের কোন সম্ভাবনা নেই। 

8
Alaamgir
Wed, 19/12/2012 - 6:24pm

বাংলাদেশের চমৎকার বাস্তব চিত্র আঁকা হয়েছে এই কথাগুলো দিয়ে।