Sohrab.Hassan's picture

‘ওয়াদা’ ও ‘শপথ ভঙ্গকারী’ সাংসদেরা

নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত পাঁচটি সংসদ গঠিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদ দিলে চারটি। এ চার সংসদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে আমরা দেখব, পরের সংসদের চেয়ে আগের সংসদটি কিঞ্চিৎ বেশি কার্যকর ছিল। অন্তত বিরোধী দলের অনুপস্থিতির নিরিখে এ কথা বলা যায়।

পরিসংখ্যানে দেখতে পাই, পঞ্চম সংসদে মোট ৪০০ কার্যদিবসের মধ্যে বিরোধী দল বয়কট করেছে ১৩৫ দিন (১৯৯১-১৯৯৫)। সপ্তম সংসদে মোট ৩৮২ কার্যদিবসের মধ্যে বিরোধী দল বর্জন করেছে ১৬৩ দিন (১৯৯৬-২০০১)। অষ্টম সংসদে মোট ৩৭৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিরোধী দল বর্জন করেছে ২২৩ দিন (২০০১-২০০৬)। ২৫ জানুয়ারি তক বর্তমান সংসদে অধিবেশন চলেছে ২৫৫ দিন। বিরোধী দল বর্জন করেছে ২০১ দিন। উপস্থিত ছিল মাত্র ৫৪ দিন। এ ধারা বজায় থাকলে আগামী দেড় বছরে তাদের অনুপস্থিতি ৩০০-এর ঘর ছাড়িয়ে যাবে। আর সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদ অকার্যকর করার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করতে থাকবে। বিরোধী দলে অভিযোগ, বর্তমান সংসদে তারা শত শত মুলতবি প্রস্তাব আনলেও স্পিকার একটি নিয়ে আলোচনা করেননি। স্পিকার বলেছেন, ‘বিরোধী দলের সাংসদেরা মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আনলেও সংসদে আসেন না। অনুপস্থিত সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার বিধান নেই।’

» Topics:
Mainul.Islam's picture

টাকার বেসামাল অবনমন ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ

১৯ জানুয়ারি কয়েকটি পত্রিকায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের অর্থনীতি-সম্পর্কিত একটি জবাবদিহিমূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে; যেখানে দেশের অর্থনীতির গত তিন বছরের অর্জিত সাফল্যের চালচিত্রের পাশাপাশি অর্থনীতির সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকিগুলোর একটি তথ্যনির্ভর বর্ণনা ও বিশ্লেষণ রয়েছে। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রদানের চেয়ে এ ধরনের লিখিত বক্তব্য প্রদান তাঁর জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। কারণ, প্রায়ই তাঁর তাৎক্ষণিক বক্তব্য ও উচ্চারণগুলোকে কিছুটা বিকৃত করে কিংবা আউট অব কনটেক্সট উদ্ধৃত করে কিছু সাংবাদিক তাঁকে সমালোচনার শিকারে পরিণত করার নজির সৃষ্টি রয়েছে। আবার ওগুলোর প্রতিক্রিয়ায় তিনিও মাঝেমধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এমনকি তাঁর কিছু কিছু বক্তব্য পণ্যবাজার, শেয়ারবাজার ও অর্থবাজারে অনভিপ্রেত অভিঘাতও সৃষ্টি করেছে বেশ কয়েকবার। তাঁর এবারের লিখিত প্রবন্ধটি যথেষ্ট বস্তুনিষ্ঠ, সে জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাই। এবার আসা যাক তাঁর বক্তব্যগুলোর মূল্যায়নে।

পুঁজিবাদী বিশ্বের ১৯২৯-৩৫ পর্বের অর্থনৈতিক মহামন্দা থেকে উত্তরণের ‘নিউ ডিল’ নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের অর্থনীতিবিদদের ঠাট্টা করে উচ্চারিত মন্তব্যটি এখনো যথেষ্ট হাস্যরসের উদ্রেক করে: ‘আমার একজন এক হাতওয়ালা অর্থনীতিবিদ প্রয়োজন।’ বিশেষজ্ঞ ও খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে প্রায়ই ‘On the one hand..., and on the other hand...’ কথাটার পুনরাবৃত্তিকে কটাক্ষ করে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এই ঠাট্টাটি করেছিলেন, বোঝাই যাচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী সৎ ব্যক্তি এবং কর্মকর্তাদের সুরক্ষণ

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকায় লেখা একটা চিঠির মাধ্যমে জানা গেছে, এই ঢাকা শহরের সন্নিকটে দোহারের আওলিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নয় মাস ধরে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। আগের প্রধান শিক্ষক তদবির করে অন্যত্র বদলি নেওয়ার পর ওই বিদ্যালয়ে নতুন কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ওই স্কুলে ৫০০ ছাত্রের জন্য চারজন শিক্ষক আছেন, এর মধ্যে তিনজন নারী শিক্ষক; এবং এঁদের দুজন এখন ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। ওই স্কুলে লেখাপড়ার অবস্থাটা কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়ার জন্য আর অধিক গবেষণা করার দরকার পড়ে না।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে প্রায় ৬৯ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৭২। সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এবার ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৭ জন অংশ নিয়েছে, এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬৯ জন। অর্থাৎ পাসের হার ৯৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৯২ দশমিক ৩৪ শতাংশ। পাসের হার বিবেচনা করলে খুশি হওয়ার মতো ব্যাপার বটে। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মানে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা কিন্তু কেউ খতিয়ে দেখছেন না। এই গুণগত মানের বিষয়টি কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না, বিশেষত অভিভাবকেরা তো ধরতেই পারবেন না।

» Topics:
Mostafa.Hussain's picture

শিক্ষা যেন পণ্য বলে গণ্য না হয়

সবাই চায় তার সন্তানটি দেশের সেরা স্কুলগুলোর একটিতে ভর্তির সুযোগ পাক। উদ্দেশ্য সেখানে ভর্তি হতে পারলে শিক্ষাসুবিধা নিশ্চিত হবে। আখেরে ভালো ফল করাও সম্ভব হবে। শুধু ফলই নয়, কোনো কোনো স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাতে পারলে অভিভাবক নিশ্চিন্ত হন, অন্তত তাঁর সন্তানটি খারাপ পরিবেশে মেশার তেমন সুযোগ পাচ্ছে না। সংগত এ আকাঙ্ক্ষাকেই কাজে লাগাচ্ছে বড় শহরগুলোর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তারা ভর্তির সময় বিশাল অঙ্কের টাকা আদায় করে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে। আদায়ের সূত্র হিসেবে কখনো বলা হয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কখনো বলা হয় শিক্ষাব্যয় ইত্যাদির কথা। অভিভাবকমহলে এ নিয়ে ক্ষোভ আছে অনেক দিন ধরে। কেউ কিছুই বলতে পারছেন না। যিনি সন্তান ভর্তি করানোর জন্য এনেছেন, তাঁকে তো মুখে তালা দিয়ে রাখতে হচ্ছে। এটা সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে। আর যাঁর সন্তানের পক্ষে ভর্তি হওয়া সম্ভব হলো না, তাঁর আসলে কিছু বলার ক্ষমতাই থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। আবার যাঁর সন্তান ভর্তি করানোর সুযোগ পাননি, তিনি জানেন এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেও কোনো লাভ হবে না। তাঁর সন্তানকে সেখানে ভর্তি করাতে হলে প্রয়োজন হবে নির্ধারিত টাকা। ফলে দেশের ভালো স্কুলগুলোতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে বিত্ত একটি প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিত্তবানরা টাকা দিয়ে ভর্তি করাতে গিয়ে অনেকেই আবার এটাকে স্বাভাবিক ভাবছেন। শুধু তা-ই নয়, নিজের সন্তানকে সেখানে ভর্তি করাতে পারছেন_এটা ভেবেই অধিক তৃপ্তি পান তিনি।

Dr.Mahbubullah's picture

মসৃণ হোক ক্ষমতার পালাবদল

বাংলাদেশে গণতন্ত্র যে পরিপকস্ফতা অর্জন করতে পারেনি এবং এখানে গণতন্ত্র সন্তোষজনকভাবে বিকশিত হতে পারেনি সে ব্যাপারে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করবেন। আমরা যদি ধরে নেই ১৯৯১ সাল থেকে এখানে রাজনৈতিকভাবে গণতান্ত্রিক পর্বের সূচনা হয়েছে তাহলে দেখব এই পর্বটিও দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে এসেছে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত জরুরি শাসনের ২ বছর বাদ দিলেও এই পর্বটি ১৯ বছরমেয়াদি। মোটামুটিভাবে বলা যায় বাংলাদেশের বয়সের অর্ধেক পরিমাণ সময়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে একটি সুষ্ঠু খাঁজে প্রবাহিত করার জন্য ১৯ বছর সময় কম কিছু নয়। এরই মধ্যে জাতির জীবন থেকে জরুরি শাসনের মধ্য দিয়ে ২ বছরের জন্য গণতন্ত্র ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। এটিও কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ত্রুটিরই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ গণতন্ত্রকে আমরা গত ৪০ বছরেও টেকসই করতে পারলাম না। এই ব্যর্থতার গ্লানি আমাদের খুব ছোট করে ফেলে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে অনেকেই বলেন, প্রথমত এই গণতন্ত্র নিছক ভোটের গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ভোট এলে রাজনীতিবিদরা জনগণের দুয়ারে গিয়ে ভোটভিক্ষা করেন এবং ভোটের পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর যারা ক্ষমতায় যান তারা জনগণের কথা ভুলে যান; ভুলে যান জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি।

» Topics:
Muntasir.Mamun's picture

তেজগাঁও যাওয়ার শর্টকাট রাস্তা এখন আর নেই

সাম্প্রতিক সেনা অভ্যুত্থান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরেই এই চেষ্টা। সুতরাং, দুয়ে দুয়ে যোগ করলেই বোঝা যায় কেন এত জোরের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেত্রী একথা বলেছিলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য না হয় নাই মানলাম। বলতে পারি বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য ও বর্তমান ঘটনা কাকতালীয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এ কথাও বলা জরুরী যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনার অবকাশ কম। তবুও না হয়, খালেদা জিয়াকে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া গেল।

চট্টগ্রামে খালেদা জিয়া কী বলেছিলেন? যদ্দুর মনে পড়ে হঠাৎ তিনি সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ এনেছিলেন বক্তৃতায়। বলেছিলেন, সেনা সদস্যদের গুম করা হচ্ছে। এ ধরনের চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য এর আগে কোন দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা করেননি। তিনি কেন এ উক্তি করেছিলেন? এর কারণ একটিই, তিনি এক ধরনের উত্তেজনা ছড়াতে চেয়েছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি একথাও বলেছিলেন, যারা চাকরিচ্যুত হবে, তাদের বিএনপি চাকরিতে পুনর্বহাল করবে। এর উদ্দেশ্যও একটি। যদি সেনাবাহিনীর কোন সদস্য কোন ঝুঁকি নেয় এবং চাকরিচ্যুত হয় তা হলে বিএনপি তার দায়িত্ব নেবে।

Abdul.Gaffar.Chowdhury's picture

কালো বুশ সাহেব কি ইরানের ওপর হামলা করবেনই?

'কালো বুশ কি শেষ পর্যন্ত ইরানে হামলা চালাবেন?' তেহরানের 'কাইহান' পত্রিকার প্রশ্ন। আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যে বারাক ওবামা সাদা-কালো নির্বিশেষে সারা বিশ্ববাসী দ্বারা অভিনন্দিত হয়েছিলেন, আরেকটি প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে আজ তিনি আগের সর্বজননিন্দিত প্রেসিডেন্ট বুশ জুনিয়রের সঙ্গে তুলিত হচ্ছেন। কেবল ইরানের সংবাদপত্রে নয়, পশ্চিমা কোনো কোনো কাগজেও তাকে 'কালো বুশ' আখ্যা দেওয়া হয়েছে। লন্ডনের 'নিউ স্টেটসম্যান' কাগজের পলিটিক্যাল এডিটর তার এক সাম্প্রতিক নিবন্ধে লিখেছেন, 'আগে ভাবতাম, জর্জ বুশ ছিলেন আমেরিকার নিকৃষ্ট প্রেসিডেন্ট। এখন দেখছি ওবামা তার চাইতেও নিকৃষ্ট।'

ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্বের অনেকেই, এমনকি অনেক উদার মার্কিন বুদ্ধিজীবীও আশা প্রকাশ করেছিলেন, রিপাবলিকান জর্জ বুশের নিউকন সরকার মিথ্যাচার ও প্রতারণা দ্বারা আমেরিকাকে অনাবশ্যক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িত করে তার অর্থনৈতিক ও নৈতিক বিশ্বনেতৃত্বের ভিত্তি যেভাবে নষ্ট করে গেছেন, ওবামার ডেমোক্রেটিক প্রশাসন তা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

Fakir.Abdur.Razzak's picture

পাকিস্তানে ক্ষমতার টানাপড়েন

পাকিস্তান এখন তার স্বাভাবিক পরিণতির দ্বারপ্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন এখন এমন একপর্যায়ে এসে পেঁৗছেছে, সেনাবাহিনী যে কোন সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে। টানাপড়েন শুরু হয়েছিল 'মেমোগেট' নামক ঘটনা থেকে। পাকিস্তানের ভূখ-ে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রবেশ করে যখন গোপন আস্তানা থেকে ওসামা বিন লাদেনকে গ্রেফতার ও হত্যা করা হয় তখন সরকারের পক্ষ থেকে গোপনে মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে সহায়তা চেয়ে পাকিস্তানে যাতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ না করে এবং নির্বাচিত সরকারের যাতে পতন না ঘটে, সে কথা জানানো হয়েছিল। বেশ কয়েক মাস পরে ওই ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার কথা অস্বীকার করা হলেও সেনাবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তারা তা মেনে নিতে পারেনি। সেনাবাহিনীর ওপর সরকারের আস্থা নেই_ সেটাই বিশ্বাস করে সেনাধ্যক্ষরা শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। এতে সরকারের সঙ্গে সেনাধ্যক্ষদের বিরোধ চরমে পেঁৗছে। এমনই একটা অবস্থার খবর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে_ পাকিস্তানে সেনাবাহিনী আবার ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির প্রতি সেনাধ্যক্ষদের যে কোন আস্থা নেই, তা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরবার্তা থেকে অনেক দিন আগেই কৌতূহলী মানুষ বুঝতে পেরেছিল। এবার গোটা সরকারের সঙ্গেই তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদের জরুরি এক অধিবেশন ডেকে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। বিরোধীদলের আস্থা ভোট গ্রহণের দাবি তিনি বাতিল করে দিয়ে বলেছেন, আমার বা আমার সরকারের আস্থা ভোট নেয়ার প্রয়োজন নেই; বরং তাদের অর্থাৎ সরকারের পরিপূর্ণ আস্থা রয়েছে দেশের প্রেসিডেন্টের ওপর।

Rita Roy Mithu's picture

স্মৃতির মুকুরে সরস্বতী পূজা

আজ দেশে সরস্বতী পূজা। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার চলে এলো মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী। প্রবাস জীবনে সারাটাক্ষণ গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই হাঁপিয়ে উঠি। দিনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজ করেতো অভ্যস্ত ছিলামনা আমরা। দেশে থাকতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে কতরকম আনন্দ উৎসবে মেতে থাকতাম আমরা। আমাদের বাংলা সংস্কৃতিতে কত রকমের পালা পার্বণ, কত ধরনের যে উৎসব আছে, তাতো আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। হিন্দুদের বারোমাসে তেরো পার্বণের কথা প্রবাদের মত হয়ে গেছে। তেত্রিশ কোটি দেব দেবী নিয়ে হিন্দুদের জীবন। তেত্রিশ কোটি না হোক, তেত্রিশ দেবতাকে পূজা দিতে গেলেও প্রতি মাসে গড়ে তিনটি করে পূজা পার্বণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হিন্দুদের জীবনের প্রতিটি পর্বে একজন করে নিয়ন্ত্রক (দেব দেবী) থাকেন, যিনি স্বর্গ থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন (হিন্দুদের বিশ্বাস)। শিবঠাকুরতো ভোলানাথ হয়ে সব ভুলে বসে থাকেন, দেবী দূর্গাকেই জাগতিক সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। সব খেয়াল করতে গিয়ে নিশ্চয়ই দেবী দূর্গার মাথাটাই এলোমেলো হওয়ার যোগার হয়েছিল, তাই উনি উনার অধঃস্তনদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করে দিয়েছেন। দপ্তর বন্টন পর্বে কন্যা সরস্বতীকে দিয়েছেন 'শিক্ষা ও শিল্পকলা' দপ্তর। কন্যাটিকে উনি জানিয়ে দিয়েছেন বাংলা বছরের মাঘমাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে যেনো বাংলার মাটিতে একবার করে ঘুরে যান এবং সকল শিক্ষার্থীদের উপর উনার করুণা বর্ষন করে যান। তবে অন্যান্য অধঃস্তনদের কাজের পরিধি কতটুকু নির্ধারন করে দেন তা অজানা থাকলেও দেবী সরস্বতীর কাজের পরিধি একটু বিস্তৃত আকারেই নির্ধারণ করে দেয়া আছে। দেবী সরস্বতীকে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃষ্টান নির্বিশেষে সকলেই সম্মান করে থাকে। কারন জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনটাই বড় কথা, এখানে ধর্ম বিবেচ্য নয়। সেইজন্যই একমাত্র সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘর ছাড়িয়ে বাংলাদেশ, ভারতের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।

Rita Roy Mithu's picture

সরস্বতী বিদ্যাবতী, তোমায় দিলাম খোলা চিঠি

দেবী সরস্বতী শ্রীচরণকমলেষু,
দেবী, আশা করি এই মুহূর্তে তুমি খুবই আনন্দে আছো, কেননা তিথি নক্ষত্রের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর সকালেই তোমাকে নিয়ে তোমার হংসবাহন বাংলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে ও দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে পৌঁছে যাওয়ার কথা। হাতে আছে মাত্র আর একদিন সময়। রাজ্যের গোছগাছ নিশ্চয়ই পড়ে আছে। আসতে গেলেতো তোমাকে অন্ততঃ সাত দিনের সময় হাতে নিয়ে আসতে হবে। শুধু দেশেইতো নয়, প্রবাসেওতো তোমার বাঙ্গালী ছাত্র ছাত্রী একেবারে কম নেই! তাদের দুয়ারেওতো তোমার পদধূলি দিতে হবে। জানি চিঠিখানি পেয়ে তুমি যুগপৎ অবাক ও বিরক্ত হবে। কিনতু আমি নিরুপায় মা। তুমি এই ধরাতে আসই বছরে একটিবার, তাছাড়া একবার এসে পৌঁছালে তোমার ভক্তদের যন্ত্রণায় তোমার কাছে পৌঁছানোই যাবেনা। অথচ তোমার সাথে কথা বলাটা আমার অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে যে! সেই জন্যই তোমাকে সরাসরি চিঠি লেখাটাই যুক্তিযুক্ত মনে হলো।

মাগো, ইনানি বিনানি বাদ দিয়ে আসল কথা শুরু করি। আচ্ছা, স্বর্গে বসে কি বাংলাদেশের সংবাদপত্র পড়তে পারা যায় অথবা অনলাইনের ব্যাপার স্যাপারগুলো কি স্বর্গেও আছে? কি জানি, জানার কোন উপায় নেই, আসলে পৃথিবীতে এত কিছু আবিষ্কার হয়েছে কিনতু স্বর্গ-নরকের ব্যাপারটাই এখনও আবিষ্কৃত হয় নাই। তবে ধারণা করি দেশের কোন খবরই তোমার কানে পৌঁছায়না। পৌঁছালে জানতে পারতে আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে এখন কি চলছে! আমি নিজেওতো ভাল জানিনা, দেশে আগের মত প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা হয় কিনা! পূজা-পার্বন এখন শিকেয় উঠেছে, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে এখন ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই।