তৃতীয় বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বেশ ক’টাতেই অসাংবিধানিক শক্তির উন্মেষের ঘটনা অনেকটা স্বীকৃত রাজনীতির অংশ হয়ে গিয়েছে। অনুন্নত অন্য অনেক দেশেও এটা লুকোচাপার কিছু নয়। সামরিক শক্তিবলে ক্ষমতা দখলের পর যুগ যুগ ক্ষমতায় টিকে থাকার নজিরতো আরব বিশ্বেও জানা ঘটনা। তাদের কেউ কেউ প্রথম প্রথম বেশ সুনাম কুড়ালেও পরে গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত। ইন্দোনেশিয়ার জেনারেল সুহার্তো, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার গাদ্দাফী বড় নামের বড় শাসক হলেও ছোট ছোট আরো কত কত রয়েছে। কেউ কেউ সময় বুঝে বেসামরিক এবং গণতান্ত্রিক সাজার চেষ্টা করলেও তাদের সামরিক চরিত্র যথাযথভাবে বহাল ছিল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, কাক ময়ূরপুচ্ছের অধিকারী হলেই যেমন ময়ূর হতে পারে না, তেমনি সামরিক শাসকও কখনো ভোট দিয়ে জয়ী হয়েও পরিপূর্ণ অসামরিক শাসক হতে পারেন না। নেতৃত্বে থেকে এসব সামরিক ব্যক্তি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গণতন্ত্রের লেবাসে রাষ্ট্রীয় ঘর-সংসার শুরু করলেও চিন্তা-চেতনায়, মননে-মেজাজে, কাজ-কর্মে তারা সামরিক আচরণের বাইরে আসতে পারেননি। রাজনৈতিক শক্তির অপকর্মে রুষ্ট জনগণের নিকট এদের কেউ কেউ সাময়িকভাবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে গেলেও পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে এদের ভূমিকা ভিন্ন ধারায় বিবেচিত হয়েছে। পাকিস্তানের জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা, ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, জেনারেল ইয়াহিয়া খান তো শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানই টিকিয়ে রাখতে পারলেন না। তারা এত বড় বড় সামরিক কর্তাব্যক্তি হয়েও নিজ দেশে শেষ পর্যন্ত ‘পরবাসী’ হয়ে গেলেন। কে যে কোথায় হারিয়ে গেলেন তার খোঁজ পরে আর কে রাখলো?

নারী উন্নয়ন : শিক্ষা ও সীমাবদ্ধতা
Thu, 17/05/2012 - 1:26pm | by Lutfar_Rahman_ronoনারীমুক্তির প্রধান একটি শর্ত হলো শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া আত্মসচেতনতা সৃষ্টি হয় না, দারিদ্র্যমুক্তিও ঘটে না। কিন্তু বলা উচিত, শিক্ষা দারিদ্র্যমুক্তির পথ নয়- দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি। যেকোনো অর্থে- লড়াই করাই মানুষের জীবন। আমাদের নারীদের সে শক্তি অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। আত্মোপলব্ধির পথ করে দিতে হবে। আত্মসচেতনতা সৃষ্টি না হলে তার সম্মুখের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করতে পারবে না। কার বিরুদ্ধে লড়াই, কোন কারাপ্রাচীর তাকে বন্দি করে রেখেছে- এসব জানা লড়াই করার জন্য জরুরি।
পরিতাপের বিষয়, শিক্ষার প্রসার আমাদের দেশে সেই কাঙ্ক্ষিত স্তরে এখনো পৌঁছেনি, যাতে দরিদ্র নারীরা, এমনকি দরিদ্র পরিবারের ছেলে-পুরুষরাও শিক্ষার্জনে সক্ষম হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে তা কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক বা অজস্র বিধিব্যবস্থা পেরিয়ে 'সবার জন্য শিক্ষা' কার্যক্রমের যে 'সুফল' প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে, তা অবশেষে খুব ফলপ্রসূ হয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার বেড়েছে, গণনা সূত্রে দেখা যায়। কিন্তু ঝরে পড়ার হারও সে অনুপাতে কমেনি বলে যোগ-বিয়োগে সমান হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের বেলায়। আর সরকারি সহায়তা বস্তুত বোর্ডের বইগুলো ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বই বছরে একবার কিনতে হতো। সেটা দেওয়া হয় বিনা পয়সায়। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর পেছনে ১২ মাস যে অবিরল খরচ করতে হয়, তার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন দরিদ্র অভিভাবকরা। পরিণামে ঝরেপড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সরকারি বই বিতরণের উৎসব আমরা মিডিয়ায় যেমন দেখতে পাই, তা একান্তই তাৎক্ষণিক। তারপর শুরু হয় নোট বা গাইড বই, নতুন ড্রেস, এক ডজন খাতা-কলম, কোচিং, স্যান্ডেল-জুতা, টিফিন, পেনসিল, রং পেনসিল, পরীক্ষার ফি, মাসিক স্কুলের বেতন- আরো কত কী! বছরজুড়ে চাহিদার অন্ত নেই।

সত্যি, এত লাশের দায় কার?
Thu, 17/05/2012 - 1:23pm | by Ahmed.Rafiqঅবস্থাদৃষ্টে বলতে ইচ্ছা করে, সড়ক তুমি কার? পথচলা মানুষের, না ঘাতক চালকের। বেশ কিছুদিন থেকে বাস-ট্রাকের বিশেষ করে বাসের অনাচারী চালনায় পথচলতি মানুষ লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে। ঘরে নয় মর্গে, পরে গোরস্তানে বা শ্মশানে। কাগজে কাগজে লাল কালির মোটা অক্ষরে মর্মান্তিক শিরোনাম। সেই যে তারেক-মিশুক নিহত হওয়ার সময় থেকে চলছে; এখন তার বিস্তার মানুষকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর আমাদের বোধশক্তি অসাড় হয়ে পড়বে- তখন কিছু আর গায়ে লাগবে না। হাফিজ, মফিজ সব চালকই মনের সুখে পথচারীর প্রাণ কেড়ে নিতে পারবে। প্রতিবাদ হবে না।
কাগজ-পড়া মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যাননি মিনিবাসের হেলপার-চালক কিভাবে ৪৬ ছাত্রকে যমের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল। তা নিয়ে কী তোলপাড়, কত লেখালেখি! আর তারেক-মিশুকদের নিয়ে তো বেশ কিছুদিন ধরে চলছে প্রতিবাদ, মানববন্ধন, কাগজে প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় নিবন্ধ। দাবি উঠেছিল যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগের। তিনি অবশ্য পদত্যাগ করেননি। তখন কাগজে কাগজে সড়ক ব্যবহারকারীদের জীবনের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বেশ কয়টি লেখা ছাপা হয়েছিল।

হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের ওপর সরকারি হামলা
Thu, 17/05/2012 - 1:19pm | by Badruddin.Umarকারও মাথা যখন বিগড়ে যায় তখন তার শেষ অবস্থা। মনে হয় আওয়ামী লীগ এখন সেই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। আজ ১৬ মে সংবাদপত্রে ‘দেয়াল’ নামে হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাস প্রকাশের ওপর হাইকোর্টের এক নিষেধাজ্ঞার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে রাসেলের হত্যা বিষয়ক যে কথা উপন্যাসটিতে লেখা হয়েছে সেটা ভুল। এই ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত উপন্যাসটি হুমায়ূন প্রকাশ করবেন না, হাইকোর্ট এটা আশা করেন। তাদের এই ‘আশা’ করার অর্থ হুকুম জারি। কারণ তাদের আশা অনুযায়ী কাজ না করলে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত বা অন্যভাবে বেইজ্জত হতে হবে।
সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী ও জাহাঙ্গীর হোসেনের দ্বারা গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তারা এই আশা ব্যক্ত করেন (Daily Star-১৬.৫.২০১২)। একটি suo moto রুল জারি করে আদালত এ সম্পর্কিত সব প্রাথমিক দলিলপত্র অর্থাত্ ভাষ্য সংবলিত কাগজপত্র হুমায়ূন আহমেদকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে হুমায়ূন সেগুলোর মাধ্যমে নতুন তথ্য এবং সরকারি ভাষ্য সম্পর্কে অবগত হয়ে অর্থাত্ সত্যের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁর বইটিতে বলা কথা পরিবর্তন করতে পারেন। মহামান্য আদালত কর্তৃক মিথ্যার পরিবর্তে সত্য প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টা প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু এখানে কথা আছে। কথাটি হলো এই যে, ঐতিহাসিক ঘটনাসহ যে কোনো ঘটনার সত্যাসত্য নির্ধারণের মালিকানা কারও নেই। কোনো সরকারের তো নেই-ই। আদালতেরও নেই। ঘটনা বিশ্লেষণের কিছু নিয়মকানুন আছে এবং তার চর্চার মাধ্যমে যে কোনো ব্যক্তির অধিকার আছে নিজের ভাষ্য প্রকাশ করার। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অধিকার কারও নেই। যাই হোক, এ ব্যাপারে পরে আসা যাবে। এখন দেখা যাক হুমায়ূনের এবং সরকারের ভাষ্যে কী বলা হয়েছে।

আমাদের কাঁধে শিক্ষকের লাশ
Thu, 17/05/2012 - 1:12pm | by faruk.wasifএ লেখাটি লেখার সময় আমি ছোট হয়ে যাচ্ছি, স্কুলপড়ুয়া বালক হয়ে যাচ্ছি। বুকে বই চেপে স্কুলে যাচ্ছি। ওই তো, দূর থেকে স্কুলের টিনের চাল দেখা যায়। সাইকেলে চেপে আমাদের পাশ দিয়েই, ওই তো চলে গেলেন প্রধান শিক্ষক। আমার প্রথম হিরো আমাদের সেই মিশন স্কুলের বড় দিদিমণি। দাদাবাড়িতে গ্রামের স্কুলে ক্লাস করেছিলাম ছয় কি সাত মাস। আমার এক চাচাতো ভাই পরে সেই স্কুলের মাস্টার হয়েছিল। আমি আজ সেই স্কুলের বুকে-বই ছাত্র হয়ে গেছি। সেই বালক দেখছে, ঢাকার রাজপথে লাঠিপেটা করা হচ্ছে শিক্ষকদের, কিশোরবেলার নায়কদের। জলকামানের গরম পানি দিয়ে ঝলসে দেওয়া হচ্ছে তাঁদের শরীর। সমাবেশে অংশগ্রহণকারী একজন শিক্ষক বাড়ি ফিরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। শিক্ষকেরা পিতৃতুল্য, আজ আমাদের একজন পিতা মারা গেছেন।
আমার প্রথম শিক্ষক অবসরে গরু চরাতেন। আরেক শিক্ষক প্যান্ট ছেড়ে লুঙ্গি ধরেছেন, চাষবাসও করেন শুনেছি। সাহস হয় না তাঁদের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। সাহস হয় না জানতে, যে শিক্ষক মারা গেলেন তিনি কে? তিনি কি আমার স্কুলগামী বয়সের হিরো? তিনিই কি আমাকে পড়িয়েছেন ছোটবেলায়? কেমন তার মুখ? সেই শিক্ষক, সেই সাহেবের কুকুরের এক ঠ্যাংয়ের সমান মূল্যের মানুষটি আমার কে? আমাদের কে? দেশের কে?

শিকড়ের, না ব্যবসায়ীদের আওয়ামী লীগ?
Thu, 17/05/2012 - 1:10pm | by Sohrab.Hassanবাটি চালান তত্ত্ব বনাম গণতন্ত্র
শূন্য কলস বাজে বেশি। কাজে জোর থাকলে কথার জোরের প্রয়োজন হয় না। সাম্প্রতিককালে মন্ত্রীদের উল্টাপাল্টা বিবৃতি ও বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তাঁদের কাজের জোর একেবারেই কমে গেছে।
ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা মহা-উৎসাহে দিনবদলের কথা বলতেন, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের খোয়াব দেখাতেন। কিন্তু তিন বছর চার মাস পর এখন আর তাঁদের মুখে সেসব আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নেতা-পাতিনেতারা হররোজ বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ছেন। যেকোনো ঘটনার পেছনে কষ্টকল্পিত ষড়যন্ত্র খুঁজছেন। তাঁদের ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব শুনে শৈশবে পড়া রাখাল বালক ও বাঘের গল্পটি মনে পড়ল। সেই রাখাল বালক ‘বাঘ আসছে বাঘ আসছে’ বলে প্রতিদিন গ্রামবাসীকে চিৎকার দিয়ে জাগাত। গ্রামবাসী ঘুম থেকে উঠে দেখত, বাঘের নাম-গন্ধ নেই। বালকটি আসলে গ্রামবাসীর ঘুম ভাঙিয়ে মজা পেত। কিন্তু এরপর সত্যি সত্যি যেদিন বাঘ এল, সেদিন তার শত চিৎকারেও কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে এল না। অগত্যা বালক বাঘের পেটে চালান হয়ে গেল।
দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাঁদের আবার দুঃখ কিসের!!-৫
Thu, 17/05/2012 - 6:50am | by Saeed Mohammed Bhaiগল্প নয়, সত্যিঃ
এক
অফিসের কাজে রাহীন জয়পুরহাটে এসেছে। এখানকার বিভিন্ন এলাকায়, গ্রামগুলোর নলকূপের পানিতে উচ্চ মাত্রার আর্সেনিক আছে। স্থানভেদে এখানকার নলকূপে প্রতি লিটার পানিতে ২০ থেকে ১০০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক পাওয়া গেছে। কিন্তু প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের স্বাভাবিক মাত্রা দশমিক ০৫ গ্রাম। সরজমিনে পরীক্ষা করার জন্য আজ সকালে রাহীন এসেছে কালাই উপজেলার নান্দাইল দীঘি গ্রামে। এখানকার বিভিন্ন নলকূপ থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। মোসাদ্দেক আলীর বাড়ির উঠানে এসে দেখা হল কলমির সাথে, ৮ থেকে ১০ বছরের মেয়ে, হাতে ও পিঠে বেশ কিছু আর্সেনিক আক্রান্তের লক্ষণ দেখতে পেল। ওর সাথে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন এসে হাজির হল। এখানে অনেকেই আর্সেনিকে আক্রান্ত। রহমত মিয়া প্রায় চল্লিশ বছরের একজন মানুষ আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর পায়ে ও সারা শরীরের বিভিন্ন যায়গায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। একটা চেয়ারে বসে এ গ্রামের অনেকের সাথে আলাপ করে জানতে পারে, গত এক যুগেও এর প্রতিকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু সরকার আর্সেনিক মুক্ত প্রকল্পের অধীনে বৈদেশিক সাহায্য পেয়ে থাকে। তাহলে এই টাকা যায় কোথায়? সুফিয়ান ১০ বছরের প্রাণবন্ত একটি শিশু রাহীনের জন্য এক গ্লাস পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু রাহীন এই এক গ্লাস পানি খেতে সাহস করেনা। সে নিজের বেগে বোতল পানি নিয়ে এসেছে ঢাকা থেকে। যে কয়দিন সে এখানে থাকবে এই বোতল পানির উপরই নির্ভর করতে হবে। হাজার হাজার শিশুর মত সুফিয়ানকেও আর্সেনিকে আক্রমণ করেছে কিনা জানা নেই। কারণ তাঁর মত এলাকার কাউকেই কোন পরীক্ষা করা হয়নি। তাঁরা জানে, জেনে শুনেই সবাইকে বিষ পান করতে হচ্ছে। তাছাড়া এলাকার হাজার হাজার মানুষের আর কীইবা করার আছে।

নতুন ব্যাংক, পুরনো ব্যাংক এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা
Wed, 16/05/2012 - 3:52pm | by Mamun.Rashidআমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং পেশায় সম্পৃক্ত থাকায় সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগের একজন সদস্য আমাকে সমাজ ও রাজনীতির সহজ বিষয়গুলোর চেয়ে ব্যাংক খাতের কঠিন ও জটিল বিষয়গুলো নিয়েই বেশি বেশি লেখার অনুরোধ করেছেন। তিনি চাননি যে আমি 'আলু'র মতো সব তরকারিতেই ব্যবহার করা যায় এমনটি করে সব বিষয় নিয়েই লিখব বা কথা বলব। আমি ভাবলাম, তাঁর ধারণা বা প্রস্তাবটি আমার জন্য দৃশ্যত কিছুটা রূঢ় মনে হলেও আমাদের সমাজে অনেকের বেলায় প্রযোজ্য। যাঁরা সব সময়ই সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের আশায় সম্ভাব্য সব আলোচনায় সম্পৃক্ত হতে সচেষ্ট থাকেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি যে ৯টি নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে (প্রবাসে বসবাসরতদের তিনটি এনআরবি ব্যাংক ও স্থানীয় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের ছয়টি), সেগুলো সম্পর্কে আমার মতামত জানতে চাইলেন ওই সাংবাদিক বন্ধু। আমার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল, হ্যাঁ, অনিবাসী বাংলাদেশিরা (এনআরবি) অনেক দিন ধরেই দেশের উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা বা অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন। আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ও বছর তিনেক ধরে অনিবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) একটি বা দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে আসছিলেন। আমিও ভেবেছিলাম, এনআরবিদের হয়তো একটি কিংবা সর্বোচ্চ দুটি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনটি ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন করায় তাতে পরিস্থিতি সব পক্ষের জন্যই হয়তো কিছুটা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

গোলাম আযমের বিচার ইতিহাসের দায়বদ্ধতা
Wed, 16/05/2012 - 3:49pm | by Harun.Habib৪১ বছর বয়সী এই বাংলাদেশের নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার পরও কিছু বড় সাফল্য আছে। এগুলোর একটি হচ্ছে, মানুষ নামের যে প্রাণীগুলো ধর্মের নাম ভাঙিয়ে, হানাদার বর্বর পাকিস্তানি সৈন্যদের সহযোগী হয়ে নির্বিচার গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন-অপহরণসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটিত করেছিল মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে, তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, সারা দেশেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে প্রবল জনমত আছে এবং সবাই এটিই প্রত্যাশা করেন যে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জাতীয় স্বাধীনতার ইতিহাস সমুন্নত করতে দীর্ঘ বিলম্বিত এই বিচারপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হোক।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশের নিজস্ব আইনে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর থেকে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের শীর্ষ নেতা গোলাম আযম, যার বিরুদ্ধে গত ১৩ মার্চ, ২০১২ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট পাঁচ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বলা যায়, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু হয়েছে।

সংলাপের জন্য আর কত অপেক্ষা?
Wed, 16/05/2012 - 3:30pm | by Abu.Sayeed.Khanসবকিছু ছাপিয়ে রাজনৈতিক সংকটই এখন জনজীবনের প্রধান আলোচ্য। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও ঘনীভূত। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো এখন সংঘর্ষ-সংঘাতে মুখোমুখি। এ বিবাদ কেবল সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এর নির্মম শিকার হচ্ছে আমজনতাও। সাম্প্রতিক হরতালে প্রাণ হারিয়েছেন বাস শ্রমিকসহ ৫ ব্যক্তি। সংঘাতময় পরিবেশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সবাই। সংকট যত স্থায়ী হবে, জনজীবনে দুর্ভোগ ততই বাড়বে, শান্তি বিনষ্ট হবে, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উৎপাদন ও বিনিয়োগ হবে ব্যাহত। রাজনীতিকরা এটি আমাদের চেয়ে কম বোঝেন_ এমন নয়। তবে কেন এই সংকট জিইয়ে রাখা হচ্ছে?
এর উত্তর বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়। সমস্যা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো ক্ষমতায় যেতে চায়, সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চে বসতে চায়; বিরোধী আসনে বসতে রাজি নয় তারা। এটি সামন্তবাদী মানসিকতাপ্রসূত। অতীতে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হতো। কোনো রাজাই প্রতিপক্ষকে বরদাশত করতেন না। কেউ বিদ্রোহী হলে তাকে খতম করা হতো। কিন্তু গণতান্ত্রিক বিধানে বিরোধী পক্ষকে স্বীকার করতে হয়। বিরোধী দলকেও সরকারি দলের শাসন মেনে নিয়ে সংসদে বিরোধীদের আসনে বসতে হয়। এটি গণতান্ত্রিক রেওয়াজ। একে অপরকে মানতে না পারাই সংকটের অন্তর্নিহিত কারণ।

Recent comments
2 hours 50 min ago
2 hours 51 min ago
2 hours 52 min ago
2 hours 52 min ago
2 hours 52 min ago
2 hours 53 min ago
2 hours 53 min ago
2 hours 53 min ago
2 hours 54 min ago
2 hours 54 min ago